হায়াতুল আম্বিয়া (নবীগণ জীবিত তাঁদের রওযাসমূহে)

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ইমাম বায়হাক্বী প্রণীত হায়াতুল আম্বিয়া
[حَيَاةِ الْاَنْبِيَآءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ فِىْ قُبُوْرِهِمْ]
[নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম
জীবিত তাঁদের রওযাসমূহে]

মূল
ইমাম আবূ বকর আহমদ
ইবনে হোসাঈন ইবনে আলী ইবনে মূসা
খোরাসানী বায়হাক্বী [রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি]

বঙ্গানুবাদ
অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল-আযহারী

সম্পাদনা
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান
মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার

মুখবন্ধ
বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম
নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লøী ওয়া নুসাল্লিমু ‘আলা হাবীবিহিল করীম ওয়া ‘আলা- আ-লিহী ওয়া সাহবিহী আজমা‘ঈন
আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নবী ও রসূলগণকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করেছেন। তাঁদের কোন বৈশিষ্ট্য কোন সাধারণ মানুষের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বিশেষত নবী ও রসূলকুল সরদার হুযূর-ই আক্রাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম একেবারে অনুপম, অনন্য ও অতুলনীয়। তিনি হলেন নূরের তৈরী। বশরিয়াত তথা বাহ্যিকভাবে মানবীয় আকৃতিতে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন, যাতে পার্থিব সৃষ্টিকুল তাঁর সান্নিধ্যে গিয়ে ফয়ূয ও বরকাত হাসিল করতে পারে এবং তাঁকে সম্ভাব্য সব বিষয়ে মডেল বা আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।
বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও অন্যান্য নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর ‘হায়াত’ বা ‘জীবন’ও অনন্য-অতুলনীয়। তাঁরা পার্থিব জীবদ্দশা এ ধরাবুকে অতিবাহিত করে ওফাত বা ইন্তিক্বাল বরণের পরও তাঁদের পার্থিব জীবদ্দশার মতো, বরং আরো বেশী শক্তি ও শান-শওকত সহকারে জীবিত। তাঁরা আপন আপন রওযা শরীফে তাঁদের হায়াত বা শানদার জীবন নিয়ে অবস্থান করেন, কিংবা আল্লাহর ইচ্ছানুসারে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে ইবাদত-বন্দেগী পালন করেন ও আল্লাহ্র বান্দাদের সাহায্য করেন ইত্যাদি। এসব বিষয় পবিত্র ক্বোরআন মজীদ ও বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ এবং ইসলামের চর্তুদলীল দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।
বিশুদ্ধ হাদীস শরীফে খোদ্ আল্লাহর হাবীব এরশাদ করেছেন, নবীগণ তাঁদের রওযা শরীফে জীবিত। তাঁদের নূরানী শরীর মুবারককে গ্রাস করা মাটির উপর আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম করে দিয়েছেন। তাঁদেরকে রিয্ক্ব দেওয়া হয়। তাঁরা ইন্তিক্বালের পর নামায পড়েন, হজ্বের মৌসুমে হজ্ব করেন ইত্যাদি। আল্লাহ্ তা‘আলার বিশেষ অনুগ্রহ ও ক্ষমতায় তাঁরা ওফাতের পরও প্রয়োজনে তাঁদের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। ইত্যাদি।
অতি আনন্দের বিষয় যে, আহলে সুন্নাতের এ বিষয়ে অনুসৃত পাক-পবিত্র আক্বীদার সপক্ষে বিশ্ববিখ্যাত ইমাম ও মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাক্বী ‘হায়াতুল আম্বিয়া’ (নবীগণের হায়াত বা জীবিত থাকা) -এর পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যক বিশুদ্ধ (সহীহ্) হাদীস শরীফ সম্বলিত একটি পুস্তক (حَيَاةُ الْاَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ فِىْ قُبُوْرِهِمْ) ‘হায়াতুল আম্বিয়া-ই আলায়হিমুস্ সালাম ফী-ক্বুবূরিহিম’ (নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম তাঁদের কবরসমূহে জীবিত) শিরোনামে প্রণয়ন করেছেন। এ পুস্তকে তিনি নবীগণের হায়াত সম্পর্কিত যে সহীহ্ হাদীসগুলো সন্নিবিষ্ট করেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে অধ্যয়ন ও হৃদয়ঙ্গম করলে এ সম্পর্কে একেবারে স্বচ্ছ ধারণা এবং আক্বীদায় অধিকতর দৃঢ়তা, পরিপক্কতা ও ঈমানী তৃপ্তি অর্জন করা যাবে- এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
পুস্তকখানা, সাদার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, দক্ষ আলিম-ই দ্বীন মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন আল-আযহারী সরল বাংলায় অনুবাদ করেছেন এবং সেটা হৃদয়গ্রাহী অবয়বে প্রকাশ করেছেন ‘আনজুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট’, চট্টগ্রাম।
মোটকথা, পুস্তকখানা বর্তমানকার আক্বীদাগত ও আমলগত এ ফিৎনার যুগে একটি অতি জরুরী বিষয়ে সঠিক দিক-নির্দেশনা ও জ্ঞানগত তত্ব ও তথ্য পরিবেশনে ফলপ্রসূ ও উপকারী ভূমিকা পালন করবে। আল্লাহ্ তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সম্মানিত নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর ওসীলায় আমাদের এ প্রয়াসকে কবূল করুন। আ-মী-ন।

(মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান)
মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার
আলমগীর খানকাহ্ শরীফ, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
ইমাম বায়হাক্বী
রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
ইমামুল মুহাদ্দিসীন, হাফেযুল হাদীস, শায়খুল ফুক্বাহা ইমাম আবূ বকর বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বিভিন্ন ভলিয়ম সম্বলিত অনেক অনবদ্য গ্রন্থের রচয়িতা এবং ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিক্বহ্ এর পথিকৃৎ। তাঁর পূর্ণনাম হলো- আহমদ ইবনে হোসাঈন ইবনে আলী ইবনে মূসা। তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) আবূ বকর। উপাধি খোরাসানী ও বায়হাক্বী।
জন্ম: তিনি নিশাপুরের ‘বায়হাক্ব’ অঞ্চলের খুসরাওযিরদ নামক স্থানে ৩৮৪ হিজরীর শা’বান মাসে জন্ম গ্রহণ করেন। ইসলামের তৃতীয় খলীফা হযরত ওসমান ইবনে আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর খেলাফতকালে নিশাপুর ইসলামী খেলাফতের করায়ত্ব হয়েছিলো।
শিক্ষাজীবন: জীবনী গ্রন্থাবলীতে ইমাম বায়হাক্বীর পরিবার সম্পর্কে তেমন কোন তথ্য পাওয়া যায়না। যতটুকু জানা যায়, তাহলো- তিনি শৈশবকাল থেকে জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করেন এবং পনের বছর বয়স থেকেই হাদীস শরীফ শিক্ষা ও গবেষণায় ব্রতী হন।
শিক্ষা অর্জন: ইমাম বায়হাক্বী জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিখ্যাত জ্ঞানকেন্দ্রগুলোতে সফর করে যুগশ্রেষ্ঠ ফক্বীহ্, মুহাদ্দিস, দার্শনিক ও সূফীগণের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি প্রথমে খোরাসান, ত্বূস, হামদান ও নুক্বানসহ নিজ মাতৃভূমির পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সফর করে যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদদের সান্নিধ্যে এসে নিজেকে আলোকিত করেন। অতঃপর তিনি পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা মুর্কারামাহ্ ও মদীনা মুনাওয়ারায় সফর করেন এবং এ দু’টি বরকতময় নগরীর প্রসিদ্ধ আলিমগণের নিকট থেকে ইল্মে দ্বীন অর্জন করেন।
হজ্ব ও যিয়ারত শেষে তিনি জ্ঞানের রাজধানী বলে খ্যাত বাগদাদ ও কূফা এবং এ দু’-এর পার্শ¦বর্তী নগরীগুলোতে ইল্ম অর্জনে আত্মনিয়োগ করেন। জ্ঞানার্জনের এ দীর্ঘ পরিক্রমা শেষে তিনি নিজ জন্মভূমি বায়হাক্বে ফিরে আসেন এবং কিতাব রচনায় রত হন।
শিক্ষকমন্ডলী: ইমাম বায়হাক্বীর শিক্ষকমন্ডলীর সংখ্যা প্রচূর। কারণ তিনি খুব অল্প বয়স থেকে জ্ঞানার্জনের সূচনা করেন। ইমাম সুব্কীর ভাষ্য মতে তাঁর শিক্ষকগণের সংখ্যা শতাধিক।

তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেনঃ
১. আবূ আবদুল্লাহ্ হাকিম আন-নিশাপুরী (ওফাত-৪০৫হি.)। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে বায়হাক্বীর শিক্ষার্জনের প্রাথমিক দিকে। তাঁর থেকে তিনি সর্বাধিক উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি তাঁর রচিত ‘আস্সুনান আল-কুব্রা’তে ৮,৪৯১টি হাদীস রেওয়ায়ত করেছেন।
২. আবুল ফাত্হ আল মারূযী আশ্ শাফে‘ঈ। তিনি ছিলেন শাফে‘ঈ মাযহাবের যুগশ্রেষ্ঠ ইমাম এবং ফাত্ওয়া ও মুনাযারায় প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব। তাঁর থেকে ইমাম বায়হাক্বী ইল্মে ফিক্বহ্ অর্জন করেন। তিনি ছিলেন তাঁর ফিক্বহ্-এর ওস্তাদ। তাঁর থেকে তিনি হাদীসও সংগ্রহ করেছেন এবং তাঁর ‘সুনানে কুবরা’য় তাঁর থেকে ৬৫টি হাদীসও বর্ণনা করেছেন।
৩. আবদুল ক্বাহের আল বাগদাদী। তিনি ছিলেন তাঁর যুগের একজন প্রসিদ্ধ আলেম এবং শাফে‘ঈ মাযহাবের দিকপাল। তিনি প্রসিদ্ধ কিতাব الفرق بين الفِرق -এর রচয়িতা।
৪. আবূ সা‘ঈদ ইবনুল ফদ্বল আস্-সায়রফী। তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য তথা সেক্বাহ্ রাভী। ইমাম বায়হাক্বী তাঁর সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেন এবং অনেক হাদীস সংকলন করেন। ১১০৪টি হাদীস তিনি তাঁর থেকে ‘সুনানে কুবরা’য় বর্ণনা করেছেন।
৫. আবূ বকর ইবনে ফুরক। তাঁর থেকে তিনি ইলমে কালাম শিক্ষা করেন।
৬. আবু আলী আর রোযবারী। তিনি ছিলেন তাসাওফের একজন প্রসিদ্ধ শায়খ। তাঁরই হাতে তিনি বায়‘আত গ্রহণ করেন এবং ইলমে তরীক্বত ও তাসাওফের দীক্ষা লাভ করেন।
৭. ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম। আবূ ইসহাক্ব আল ইস্ফারাঈনী (ইন্তিক্বাল: ১০ মুহাররম, ৪১৮হি)
৮. ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহীম ইবনে ইয়ূসুফ আবূ ইসহাক্ব আল ফক্বীহ্। (ওফাত: রজব, ৪১১হি.)
৯. ইবরাহীম ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আবূ ইসহাক্ব আল আরমভী। (ওফাত: শাওয়াল, ৪১৮হি.)
১০. আহমদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আহমদ ইবনে জানজাল। আবুল আব্বাস আস্ র্সারাম আল-মা’দিল আল-হামদানী। (ওফাত: রবিউল আওয়াল, ৪১৬হি.)
এ ছাড়াও প্রায় শতাধিক যুগশ্রেষ্ঠ আলেমের তিনি শিষ্য।
ছাত্রবৃন্দ: তিনি তাঁর অসংখ্য রচনাবলীর পাশাপাশি গর্ব করার যোগ্য অসংখ্য শিষ্যও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উপহার দিয়ে গেছেন, যাঁরা তাঁর জ্ঞানের গভীর সাগর থেকে মুক্তা আহরণ করে মুসলিম সমাজে বিতরণ করেছেন অকাতরে। তাঁদের মধ্যে:
১. ইমাম আবূ আবদিল্লাহ্ আন্ নিশাপূরী আশ-শাফে‘ঈ (ওফাত: ৫৩০হি.), তিনি ইমাম বায়হাক্বীর অন্যতম শিষ্য এবং তাঁর কিতাব ‘দালা-ইলুন্ নুবূওয়ত’ ‘আদ্ দাওয়াত আল কাবীর’ ও ‘আল বা’স’-এর গ্রহণযোগ্য বর্ণনাকারী।
২. ইমাম আবুল মা‘আ’লী মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আল ফারেসী সুম্মা আন্- নিশাপুরী। তিনিও ছিলেন ইমাম বায়হাক্বীর শিষ্যদের একজন। তিনি তাঁর থেকে ‘সুনানে কুবরা’ শ্রবণ করেন, তিনি ছিলেন যুগের একজন প্রসিদ্ধ সেক্বাহ্ মুহাদ্দিস। তাঁর থেকে ইমাম ইবনুল আসাকির শেখ আবূ সা‘ঈদ আস- সাম‘আনীসহ অনেক প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস হাদীস বর্ণনা করেন।
রচনাবলী: ইমাম বায়হাক্বী বাল্যকাল থেকেই ছিলেন জ্ঞান পিপাসু ও কঠোর পরিশ্রমী। জ্ঞান অন্বেষণের লক্ষ্যে পৃথিবীর প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়ানোর পাশাপাশি তাঁর প্রখর মেধা ও ধী-শক্তি তাঁকে বিশ্ববরেণ্য লেখকদের প্রথম সারিতে অবস্থান করে নিতে সাহায্য করেছে। তাঁর রেখে যাওয়া বিভিন্ন ভলিয়মের সহ¯্রাধিক গ্রন্থ পুস্তক ভান্ডার আজ বিশ্ব মুসলমানের জন্য অমূল্য সম্পদ ও গ্রন্থাগারগুলোর গৌরবের উপাদান। তিনি তাঁর গবেষণামূলক ক্ষুরধার লেখনীর বিরাট সংখ্যক পুস্তক রচনা করে চিরকালের জন্য বিশ্ব মুসলিমকে ঋণী করে রেখেছেন।

নি¤েœ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হলঃ
১. (السنن الكبرى) ‘আস্সুনান আল-কুবরা’। এটা ইমাম বায়হাক্বীর সর্ব বৃহদাকারের গ্রন্থাবলীর অন্যতম, যা হাদীস শরীফের কিতাবগুরোর মধ্যে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে রেখেছে। বিশ্ববিখ্যাত অনেক মুহাদ্দিস এ গ্রন্থটি নিজেও শ্রবণ করেছেন এবং অন্যদেরকেও পাঠ করে শুনিয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিসগণ এ কিতাবটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ইমাম ইবনুস্ সালাহ্ (ইন্তেক্বাল: ৬৪৩হি.) কিতাবটিকে হাদীস শাস্ত্রে লিখিত কিতাবগুলোর ধারাবাহিকতায় ষষ্ঠ স্থানে রেখেছেন। এমনকি ‘সুনানে ইবনে মাজাহ্’-এর উপরে স্থান দিয়েছেন। যেমন- ১. বোখারী, ২. মুসলিম, ৩. আবূ দাঊদ, ৪. তিরমিযী ও ৫. নাসা‘ঈ শরীফ এরপর ‘সুনানে কুবরা’-এর স্থান।
ইমাম সুবকী (ওফাত: ৭৭১হি.) এ কিতাবের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন,
اَمَّا السُّنَنُ الْكُبْرى فَمَا صُنِّفَ فِىْ عِلْمِ الْحَدِىْثِ مَثْلَه تَهْذِيْبًا وَتَرْتِيْبًا وَجُوْدَةً অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্রে, ঐতিহ্যগত, বিন্যাসগত ও মানগত দিক দিয়ে ‘সুনানে কুবরা’র মতো কিতাব প্রণয়ন করা হয়নি। মোটকথা, বিন্যাস, ধারাবাহিকতা ও গুণগতমানের দিক থেকে ইমাম বায়হাক্বীর ‘সুনানে কুবরা’ হাদীস শাস্ত্রে এক অতুলনীয় কিতাব। কিতাবটি ১০ (দশ) খন্ড সম্বলিত।
২. السنن والاثار (আস্সুনান ওয়াল আ-সা-র)। কিতাবটি ৪ (চার) খন্ডবিশিষ্ট
৩. الاسماء والصفات (আল-আসমা ওয়াস্ সিফাত)। এটা ২ (দুই) খৃবিশিষ্ট
৪. المعتقد (আল-মু’তাক্বাদ)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
৫. البعث (আল-বা’স)। এটা ১ (এক) খণ্ডে প্রণীত
৬. الترغيب والترهيب (আত্তারগীব ওয়াত্ তারহীব)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
৭. الدعوات (আদ্দা’ওয়াত)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
৮. الزهد (আয্ যুহ্দ)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
৯. الخلافيات (আল-খিলা-ফিয়াত)। এটা ৩ (তিন) খণ্ডে লিখিত
১০. نصوص الشافعى (নুসূসুশ্ শাফে‘ঈ)। এটা ২ (দুই) খণ্ডে লিখিত
১১. دلائل النبوة (দালা-ইলুল্ নুবূয়ত)। এটা ৪ (চার) খণ্ডে লিখিত
১২. السنن الصغير (আস্ সুনানুস্ সগীর)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
১৩. شعب الايمان ( শু’আবুল ঈমান)। এটা ২ (দুই) খণ্ড বিশিষ্ট
১৪. المدخل الى السنن (আল্-মাদ্খাল ইলাস্ সুনান)। এটা ১ (এক) খণ্ডবিশিষ্ট
১৫. الاداب ( আল-আদাব): এটা ১ (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
১৬. فضائل الاوقات (ফাদ্বা-ইলুল আওক্বাত)। এটা (দুই) খণ্ড সম্বলিত
১৭. الاربعين الكبير (আল আরবা‘ঈনুল কবীর)। এটা ২ (দুই) খণ্ডের কিতাব
১৮. الاربعين الصغير (আল-আরবা‘ঈনুস্ সগীর)। এটা ১ (এক) খণ্ডবিশিষ্ট
১৯. الرؤية ( আর রু’ইয়াহ্)। এটা ১ (এক) খণ্ডবিশিষ্ট
২০. الاسراء (আল-ইসরা)। এটা ১ (এক) খণ্ড সম্বলিত
২১. مناقب الشافعى ( মানাক্বিবুশ্ শাফে‘ঈ। ১ (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
২২. مناقب احمد ( মানাক্বিবে আহমদ)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
২৩. فضائل الصحابة ( ফাদ্বা-ইলুস্ সাহাবা)। এটা (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
২৪. احاديث الشافعى (আহা-দী-সুশ্ শাফে‘ঈ)। এটা ১ (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
২৫. ألف مسألة (আলফু মাস্আলাহ্)। এটা ১ (এক) খণ্ডে লিখিত
২৬. بيان خطأ من أخطأ على الشافعى (বয়ানু খাত্বাই মান্ আখত্বাআ আলাশ শাফে‘ঈ)। এটা ১ (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
২৭. تخريج احاديث الام (كتاب الام للشافعى) (তাখরীজু আহা-দী-সিল উম্ম্ (কিতাবুল উম্ম, ইমাম শাফে‘ঈ কৃত)। এটা ১ (এক) খণ্ড বিশিষ্ট
২৮. معالم السنن (মা‘আ-লিমুস্ সুনান) العقائد (আল-আক্বাইদ) اثبات عذاب القبر (ইসবাতু আযাবিল কবর) القراءة خلف الامام (আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম)
২৯. القضاء والقدر (আল-কাদ্বা ওয়াল ক্বদর) الاعتقاد والهداية الى سبيل الرشاد (আল ই’তিক্বাদু ওয়াল হিদায়াতু ইলা-সাবীলির রাশাদ) الايمان (আল-ঈমান)
৩০. احكام القران (আহকা-মুল ক্বোরআন) حياة الانبياء فى قبورهم بعد وفاتهم (হায়াতুল আম্বিয়া) ইত্যাদি।
—০—

حَيَاةُ الأَنْبِيَآءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ فِىْ قُبُوْرِهِمْ
لِلْإِمَامِ الْبَيْهَقِىِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالى

ইমাম বাইহাক্বী প্রণীত
হায়াতুল আম্বিয়া
[আলায়হিস্ সালাম]

بسم الله الرحمن الرحيم

رقم الحديث: ১
أَخْبَرَنَا أَبُو سَعْدٍ أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْخَلِيلِ الصُّوفِيُّ ، رَحِمَهُ اللَّهُ ، قَالَ : أنبأ أَبُو أَحْمَدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَدِيٍّ الْحَافِظُ , قَالَ : ثنا قُسْطَنْطِينُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّومِيُّ , قَالَ : ثنا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ , قَالَ : حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ قُتَيْبَةَ الْمَدَائِنِيُّ , ثنا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ , عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ الأَسْوَدِ , عَنْ ثَابِتٍ الْبُنَانِيِّ , عَنْ أَنَسٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” الأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ ” , هَذَا حَدِيثٌ يُعَدُّ فِي إِفْرَادِ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ الْمَدَائِنِيِّ ، وَقَدْ رُوِيَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي بُكَيْرٍ ، عَنِ الْمُسْتَلِمِ بْنِ سَعِيدٍ ، عَنِ الْحَجَّاجِ ، عَنْ ثَابِتٍ ، عَنْ أَنَسِ . ( )

হাদীস নং-১
হযরত সাবেত আল্ বুনানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ালিহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, নবীগণ তাঁদের কবর শরীফে জীবিত, তাঁরা সেখানে নামায আদায় করেন।

رقم الحديث : ২
وَهُوَ فِيمَا أَخْبَرَنَا الثِّقَةُ , مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ ، قَالَ : أنبأ أَبُو عَمْرِو بْنُ حَمْدَانَ , قَالَ : أنبأ أَبُو يَعْلَى الْمَوْصِلِيُّ , ثنا أَبُو الْجَهْمِ الأَزْرَقُ بْنُ عَلِيٍّ , ثنا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ , ثنا الْمُسْتَلِمُ بْنُ سَعِيدٍ , عَنِ الْحَجَّاجِ , عَنْ ثَابِتٍ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” الأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ ” . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ وَجْهِ آخَرَ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَوْقُوفًا . بْنِ مَالِكٍ. ( )

হাদীস নং-২
হযরত সাবেত আল্ বুনানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “নবীগণ তাঁদের নিজ নিজ কবর শরীফে জীবিত, তাঁরা নামায আদায় করেন।”

رقم الحديث: ৩
أَخْبَرَنَاهُ أَبُو عُثْمَانَ الإِمَامُ , رَحِمَهُ اللَّهُ ، أنبأ زَاهِرُ بْنُ أَحْمَدَ , ثنا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مُعَاذٍ الْمَالِينِيُّ , ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ , ثنا مُؤَمَّلٌ , ثنا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي حُمَيْدٍ الْهُذَلِيُّ , عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , قَالَ : ” الأَنْبِيَاءُ فِي قُبُورِهِمْ أَحْيَاءٌ يُصَلُّونَ ” ( )

হাদীস নং-৩
হযরত আবুল মালীহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “নবীগণ তাঁদের কবর শরীফে জীবিত, তাঁরা (সেখানে) নামায আদায় করেন।”

رقم الحديث: ৪
وَرُوِيَ كَمَا , أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , ثَنَا أَبُو حَامِدٍ أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الْحَسْنَوِيُّ ، إِمْلاءً , ثنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ الْعَبَّاسِ الْحِمْصِيُّ ، بِحِمْصَ, ثنا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ , ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ يَزِيدَ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى , عَنْ ثَابِتٍ , عَنْ أَنَسٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لا يُتْرَكُونَ فِي قُبُورِهِمْ بَعْدَ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً , وَلَكِنَّهُمْ يُصَلُّونَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يُنْفَخَ فِي الصُّورِ ” . وَهَذَا إِنْ صَحَّ بِهَذَا اللَّفْظِ , فَالْمُرَادُ بِهِ ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ ، لا يُتْرَكُونَ لا يُصَلُّونَ إِلا هَذَا الْمِقْدَارَ , ثُمَّ يَكُونُونَ مُصَلِّينَ فِيهَا بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ , كَمَا رُوِّينَا فِي الْحَدِيثِ الأَوَّلِ وَقَدْ يُحْتَمَلُ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِهِ رَفْعَ أَجْسَادِهِمْ مَعَ أَرْوَاحِهِمْ . ( )

হাদীস নং-৪
হযরত সাবেত আল্ বুনানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “নিশ্চয় নবীগণ আলাইহিমুস্ সালামকে তাঁদের কবর শরীফে চল্লিশ রাত্রির পর আর রাখা হয় না, বরং তাঁরা মহান আল্লাহ্র কুদরতের সামনে নামায পড়তে থাকেন, যতক্ষণ না সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে।”
এ হাদীস শরীফ যদি উপরোক্ত বাক্যে হুবহু সহীহ হয়, তা’হলে এর মর্মার্থ আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। তবে হতে পারে শুধু এ যাবতকাল সময়ে তাঁরা তাঁদের কবর শরীফে নামায আদায় করতে পারেন না; কিন্তু এ নির্ধারিত সময়ের পর তাঁরা আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা’র মহান ক্বুদরতের সমীপে সদা-সর্বদা নামায পড়তে থাকেন, যা আমরা প্রথম হাদীসে উল্লেখ করেছি।
আবার কখনও তার উদ্দেশ্য এও হতে পারে যে, তাঁদের রূহ সহ দেহ মুবারক ঊর্ধ্ব জগতে উত্তোলিত হয়।

رقم الحديث: ৫
فَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ , فِي الْجَامِعِ ، قَالَ : قَالَ شَيْخٌ لَنَا , عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، قَالَ : ” مَا مَكَثَ نَبِيُّ فِي قَبْرِهِ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً حَتَّى يُرْفَعَ ، فَعَلَى هَذَا يَصِيرُونَ كَسَائِرِ الأَحْيَاءِ , يَكُونُونَ حَيْثُ يُنْزِلُهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ” . كَمَا رُوِّينَا فِي حَدِيثِ الْمِعْرَاجِ وَغَيْرِهِ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” رَأَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلامُ قَائِمًا يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ ، ثُمَّ رَآهُ مَعَ سَائِرِ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلامُ فِي بَيْتِ الْمَقْدِسِ ، ثُمَّ رَآهُمْ فِي السَّمَوَاتِ ” , وَاللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى فَعَّالٌ لِمَا يُرِيدُ وَلِحَيَاةِ الأَنْبِيَاءِ بَعْدَ مَوْتِهِمْ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ شَوَاهِدُ مِنَ الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ مِنْهَا ( )

হাদীস নং৫
হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, কোন নবী আলায়হিস্ সালাম নিজ কবর শরীফে চল্লিশ রাতের বেশী অবস্থান করেন না; বরং তাঁদেরকে উত্তোলন করা হয়। ফলে তাঁরা হয়ে যান অন্যান্য জীবিতদের ন্যায়। তাঁরা বিচরণ করতে থাকেন ওই সকল স্থানগুলোতে, যেখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁদেরকে অবতরণ করান। যেভাবে আমরা মিরাজ ও অন্যান্য হাদীসে তার বর্ণনা পেয়েছি। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মি’রাজ রজনীতে দেখতে পেলেন যে, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। আবার কিছুক্ষণ পর তাঁকে অন্যান্য নবীগণের আলায়হিস্ সালাম সাথে ‘বাইতুল মুকাদ্দাস’ শরীফে সমবেতভাবে উপস্থিত দেখতে পেলেন। আবার ওই সকল নবীÑরাসূলকে বিভিন্ন আসমানেও দেখতে পেলেন। আল্লাহ তা‘আলা যা চান তাই করেন।
নিশ্চয় নবীগণ আলায়হিস্ সালাম যে তাঁদের নিজ নিজ কবর শরীফে জীবিত এ সম্পর্কে অসংখ্য দলীল ও প্রমাণ বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ থেকে পাওয়া যায়। তৎমধ্যে:

رقم الحديث: ৬
(حديث مرفوع) مَا أَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بِشْرَانَ بِبَغْدَادَ , أنبأ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ , ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الدَّقِيقِيُّ , ثنا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ , ثنا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنَّ بَعْضَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ مَرَّ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلامُ وَهُوَ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ ” . ( )

হাদীস নং-৬
হযরত সুলাইমান আত্ তাইমী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর কয়েকজন সম্মানিত সাহাবী সংবাদ দিয়েছেন যে, “যে রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে মি’রাজ করানো হল সে রাতে তিনি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর পাশ দিয়ে গমন করার সময় দেখতে পেলেনÑ তিনি (আলায়হিস্ সালাম) নিজ কবর শরীফে নামায পড়ছেন।”

رقم الحديث: ৭
حديث مرفوع) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ عَلِيُّ بْنُ بِشْرَانَ , أنبأ إِسْمَاعِيلُ , أنبأ أَحْمَدُ بْنُ مَنْصُورِ بْنِ سَيَّارٍ الرَّمَادِيُّ , ثنا يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَكِيمٍ , ثنا سُفْيَانُ يَعْنِي الثَّوْرِيَّ ، ثنا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ ( ) ” .

হাদীস নং-৭
হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আমি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর পাশ দিয়ে গমন করেছি, আর তিনি নিজ কবরে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন।

رقم الحديث: ৮
(حديث مرفوع) أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ , ثنا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُنَادِي , ثنا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمُؤَدِّبُ , ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , ثنا سُلَيْمَانُ التَّيْمِيُّ , وَثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” أَتَيْتُ عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الأَحْمَرِ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ ” . أَخْرَجَهُ أَبُو الْحُسَيْنِ مُسْلِمُ بْنُ الْحَجَّاجِ النَّيْسَابُورِيُّ رَحِمَهُ اللَّهُ ، مِنْ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْهُمَا , وَأَخْرَجَهُ مِنْ حَدِيثِ الثَّوْرِيِّ وَعِيسَى بْنِ يُونُسَ , وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ الْحَمِيدِ , عَنِ التَّيْمِيِّ . ( )

হাদীস নং-৮
হযরত সাবিত আল বুনানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মি’রাজ রজনীতে আমি একটি লাল বালির টিলার নিকট আসলাম, যেখানে হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম এর কবর শরীফ অবস্থিত, আর দেখলাম- হযরত মুসা আলায়হিস্ সালাম তাঁর নিজ কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন।

رقم الحديث: ৯
حديث مرفوع) أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي عَلِيٍّ الْحَرَشِيُّ , أنبا حَاجِبُ بْنُ أَحْمَدَ , ثنا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى , ثنا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ الْوَهْبِيُّ , ثنا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ , عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ الْهَاشِمِيُّ , عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَأَنَا أُخْبِرُ قُرَيْشًا عَنْ مَسْرَايَ ، فَسَأَلُونِي عَنْ أَشْيَاءَ مِنْ بَيْتِ الْمَقْدِسِ لَمْ أُثْبِتْهَا ، فَكَرُبْتُ كَرْبًا مَا كَرُبْتُ مِثْلَهُ قَطُّ , فَرَفَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِي أَنْظُرُ إِلَيْهِ ، مَا يَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلا أَنْبَأْتُهُمْ بِهِ , وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ , فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلَّى ، فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رَجُلٍ شَنُوءَةَ ، وَإِذَا عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ قَائِمٌ يُصَلِّي أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ ، يَعْنِي نَفْسَهُ ، فَحَانَتِ الصَّلاةُ ، فَأَمَمْتُهُمْ ، فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنَ الصَّلاةِ ، قَالَ لِي قَائِلٌ : يَا مُحَمَّدُ هَذَا مَالِكٌ صَاحِبُ النَّارِ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ ، فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلامِ ” ( )

হাদীস নং-৯
হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ইসরা ও মি’রাজ শেষে ফিরে এসে ক্বোরাইশদের নিকট এ ঘটনা বর্ণনার এক পর্যায়ে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি আমাকে ‘হিজর’ (কা’বার অদূরে) নামক স্থানে দেখতে পেলাম যখন আমি ক্বোরাইশদের নিকট আমার ইসরা ও মি’রাজের ঘটনা বর্ণনা করছিলাম। তখন তারা আমাকে বায়তুল মুক্বাদ্দাস বিষয়ক এমন কিছু প্রশ্ন করলো যে সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। তাই আমি চিন্তিত হয়ে গেলাম। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা বাইতুল মুক্বাদ্দাসকে আমার জন্য উন্মোচিত করে দিলেন, যাতে আমি তা দেখতে পাই। সুতরাং তারা বায়তুল মুক্বাদ্দাস নিয়ে যে কোন প্রশ্ন করল আমি তার যথাযথ উত্তর দিলাম।
এ রজনীতে আমি আমাকে নবীগণ আলায়হিস্ সালাম-এর একটি সমাবেশে দেখতে পেলাম। আবার দেখতে পেলাম যে, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। তিনি কোঁকড়ানো চুলধারী উপমাযোগ্য সুদর্শন পুরুষ, যাঁকে দেখতে শানুয়া গোত্রের লোকদের মত মনে হয়।
ওদিকে হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলায়হিস্ সালামও দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন, যিনি আকৃতির দিক থেকে ওরওয়া ইবনে মাস‘ঊদ আস-সাক্বাফীর সদৃশ।
আবার দেখতে পেলাম, হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালামকে, তিনিও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন, যিনি দেখতে তোমাদের সাথে যিনি আছেন (অর্থাৎ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সদৃশ।
অত:পর নামাযের সময় হলো, আমি তাঁদের ইমামতি করলাম। আমি যখন নামায থেকে অবসর হলাম তখন আমাকে কেউ বলল, হে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা! উনি হলেন ‘মালেক’, জাহান্নামের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা। তাঁর সাথে সালাম আদান-প্রদান করুন। আমি যখন তার দিকে ফিরলাম তখন তিনি আমাকে প্রথমে সালাম দিলেন।
এ হাদীস ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ মুসলিম’-এ আবদুল আযীয থেকে বর্ণনা করেন।
وَفِي حَدِيثِ أَبِي ذَرٍّ وَمَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ فِي قِصَّةِ الْمِعْرَاجِ أَنَّهُ لَقِيَهُمْ فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ فِي السَّمَوَاتِ ، وَكَلَّمَهُمْ وَكَلَّمُوهُ ، وَكُلُّ ذَلِكَ صَحِيحٌ لا يُخَالِفُ بَعْضُهُ بَعْضًا , فَقَدْ يَرَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلامُ قَائِمًا يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ , ثُمَّ يُسْرَى بِمُوسَى وَغَيْرِهِ إِلَى بَيْتِ الْمَقْدِسِ كَمَا أُسْرِيَ بِنَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَرَاهُمْ فِيهِ ، ثُمَّ يُعْرَجُ بِهِمْ إِلَى السَّمَوَاتِ كَمَا عُرِجَ بِنَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَرَاهُمْ فِيهَا كَمَا أَخْبَرَ ، وَحُلُولُهُمْ فِي أَوْقَاتٍ بِمَوَاضِعَ مُخْتَلِفَاتٍ جَائِزٌ فِي الْعَقْلِ ، كَمَا وَرَدَ بِهِ خَبَرُ الصَّادِقِ , وَفِي كُلِّ ذَلِكَ دَلالَةٌ عَلَى حَيَاتِهِمْ , وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى ذَلِكَ .
হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব ও অন্যান্যদের বর্ণনা মতে- নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য নবীগণ আলায়হিস্ সালাম-এর সাথে বায়তুল মুক্বাদ্দাস-এর মসজিদে মিলিত হন। আর হযরত আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু ও মালেক ইবনে সা’সা‘আহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণিত মি’রাজ সংক্রান্ত হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছেÑ নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য নবীগণের সাথে আসমানগুলোতে সাক্ষাত করেন এবং তিনি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সাথে কথা বলেন তাঁরাও তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন।
উপরোল্লেখিত সব হাদীসই সহীহ ও বিশুদ্ধ। এগুলোর পরস্পরের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। তিনি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে এদিকে নিজ কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখেছেন, আবার আসমান ও বাইতুল মুক্বাদ্দাসেও। অর্থাৎ তিনি নিজ কবর শরীফে নামাজ আদায় করার পর তাঁকে অন্যান্য নবীগণের সাথে বায়তুল মুক্বাদ্দাস-এ পরিভ্রমণ করানো হয় যেভাবে আমাদের প্রিয় নবীকে রাতের সামান্য সময়ের মধ্যে বায়তুল মুক্বাদ্দাস শরীফে উপস্থিত করা হয়। তাই তিনি তাঁদেরকে সেখানে দেখতে পান। অত:পর তাঁদেরকে আসমানের দিকে ঊর্ধ্বগমন করানো হয় যেভাবে আমাদের প্রিয়নবীকে মি’রাজ বা ঊর্ধ্বগমন করানো হয়েছে। তাই তিনি তাঁদেরকে সেখানেও দেখতে পান, যা বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
সুতরাং তাঁদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হওয়াটা যুক্তি ও বিবেকের দিক থেকে স্বাভাবিক, কোন অবস্থাতে অসম্ভব নয়; যার সমর্থনে সর্বাধিক সত্যবাদী নবীর অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
উপরোক্ত সকল হাদীস ইন্তিক্বালের পর নবীগণ আলায়হিস্ সালাম-এর সশরীরে জীবিত থাকার অকাট্য প্রমাণবহ। এ বক্তব্যের সমর্থনে নিম্নের হাদীস শরীফও প্রমাণ স্বরূপ পেশ করা যায়-

رقم الحديث: ১০
مَا أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى , ثنا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ ، ثنا أَبُو جَعْفَرٍ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ الْحَارِثِيُّ , ثنا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ , ثنا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ , عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ , عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِيِّ قَالَ : قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَفْضَلُ أَيَّامِكِمْ يَوْمُ الْجُمُعَةِ : فِيهِ خُلِقَ آدَمُ, وَفِيهِ قُبِضَ , وَفِيهِ النَّفْخَةُ , وَفِيهِ الصَّعْقَةُ , فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ” ، قَالُوا : وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟ يَقُولُونَ بَلِيتَ ، فَقَالَ : ” إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلامُ ” ، أَخْرَجَهُ أَبُو دَاودَ السِّجِسْتَانِيُّ فِي كِتَابِ السُّنَنِ . ( )

হাদীস নং-১০:
হযরত আওস ইবনে আওস আস-সাক্বাফী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলোÑ জুমার দিন, এ দিনে হযরত আদম আলায়হিস্ সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনে তাঁর ইন্তিক্বাল হয়েছে, এ দিনেই (ক্বিয়ামতের) সিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং এ দিনেই সকলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে। তাই তোমরা এ দিনে আমার প্রতি অধিকহারে দুরূদ-সালাম পাঠ কর। কেননা তোমাদের সালাত-সালাম আমার নিকট পেশ করা হয়। তাঁরা বললেন, এয়া রাসূলাল্লাহ! কিভাবে আপনার প্রতি আমাদের সালাত-সালাম পেশ করা হবে, অথচ আপনি ইন্তিক্বাল করবেন এবং আপনার দেহ মুবারক ক্ষয়প্রাপ্ত ও জীর্ণ হয়ে যাবে? তখন উত্তরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা হারাম বা নিষেধ করে দিয়েছেন মাটির উপর নবীগণ আলায়হিস্ সালাম-এর দেহ মুবারককে স্পর্শ করা বা গ্রাস করাকে।” এ হাদীস ইমাম আবূ দাঊদ তাঁর সুনানে উদ্ধৃত করেছেন।

رقم الحديث: ১১
حديث مرفوع) وَلَهُ شَوَاهِدُ مِنْهَا مَا ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ الله الْحَافِظُ , ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ إِسْحَاقَ الْفَقِيهُ , أنا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيٍّ الأَبَّارُ , ثنا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بَكَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ , ثنا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ , حَدَّثَنِي أَبُو رَافِعٍ , عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ , عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الأَنْصَارِيِّ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : ” أَكْثِرُوا الصَّلاةَ عَلَيَّ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ , فَإِنَّهُ لَيْسَ يُصَلِّي عَلَيَّ أَحَدٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلا عُرِضَتْ عَلَيَّ صَلاتُهُ ” . ( )

হাদীস নং-১১:
হযরত আবূ মাস‘ঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, তোমরা আমার প্রতি জুমার দিন অধিক পরিমাণে সালাত-সালাম প্রেরণ করো, কেননা যে কেউ আমার প্রতি জুমার দিনে দুরূদ-সালাম পাঠ করবে তার ওই দুরূদ সালাম আমার প্রতি অবশ্যই পেশ করা হবে।

رقم الحديث: ১২
حديث مرفوع) وَأَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدَانَ الْكَاتِبُ , ثنا أَحْمَدُ بْنُ عُبَيْدٍ الصَّفَّارُ , ثنا الْحَسَنُ بْنُ سَعِيدٍ , ثنا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَجَّاجِ , ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ , عَنْ مَكْحُولٍ الشَّامِيِّ , عَنْ أَبِي أُمَامَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” أَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاةِ فِي كُلِّ يَوْمِ جُمُعَةٍ , فَإِنَّ صَلاةَ أُمَّتِي تُعْرَضُ عَلَيَّ فِي كُلِّ يَوْمِ جُمُعَةٍ , فَمَنْ كَانَ أَكْثَرَهُمْ عَلَيَّ صَلاةً كَانَ أَقْرَبَهُمْ مِنِّي مَنْزِلَةً ( )

হাদীস নং-১২:
হযরত আবূ উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, আমার প্রতি প্রত্যেক জুমার দিনে অধিক পরিমাণে দুরূদ সালাম প্রেরণ করো, কেননা আমার উম্মতের সালাত-সালামসমূহ আমার নিকট প্রত্যেক জুমাবারে পেশ করা হয়। সুতরাং আমার উম্মতের মধ্যে যে আমার প্রতি সর্বাধিক সালাত-সালাম প্রেরণকারী হবে, সে ক্বিয়ামতের দিন আমার সর্বাধিক নিকটবর্তী হবে।

رقم الحديث: ১৩
حديث مرفوع) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحَسَنِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ السِّقَاءُ الإِسْفَرَائِينِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي وَالِدِي أَبُو عَلِيٍّ , ثنا أَبُو رَافِعٍ أُسَامَةُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ سَعِيدٍ الرَّازِيُّ ، بِمِصْرَ , ثنا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سَالِمٍ الصَّائِغُ , حَدَّثَتْنَا حَكَّامَةُ بِنْتُ عُثْمَانَ بْنِ دِينَارٍ , أَخِي مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ ، قَالَتْ : حَدَّثَنِي أَبِي عُثْمَانُ بْنُ دِينَارٍ , عَنْ أَخِيهِ مَالِكِ بْنِ دِينَارٍ , عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ , خَادِمِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” إِنَّ أَقْرَبَكُمْ مِنِّي يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي كُلِّ مَوْطِنٍ أَكْثَرُكُمْ عَلَيَّ صَلاةً فِي الدُّنْيَا ، مَنْ صَلَّى عَلَيَّ مِائَةَ مَرَّةٍ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ وَلَيْلَةِ الْجُمُعَةِ قَضَى اللَّهُ لَهُ مِائَةَ حَاجَةٍ ، سَبْعِينَ مِنْ حَوَائِجِ الآخِرَةِ وَثَلاثِينَ مِنْ حَوَائِجِ الدُّنْيَا , ثُمَّ يُوَكِّلُ اللَّهُ بِذَلِكَ مَلَكًا يُدْخِلُهُ فِي قَبْرِي كَمَا يُدْخِلُ عَلَيْكُمُ الْهَدَايَا ، يُخْبِرُنِي مَنْ صَلَّى عَلَيَّ بِاسْمِهِ وَنَسَبِهِ إِلَى عَشِيرَتِهِ ، فَأُثْبِتُهُ عِنْدِي فِي صَحِيفَةٍ بَيْضَاءَ. ( )

হাদীস নং-১৩:
প্রিয়নবীর খাদিম হযরত আনাস ইবনে মালেক রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিনের সকল স্থানে তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তিই আমার সর্বাধিক নিকটতম স্থানে থাকবে, যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আমার প্রতি সর্বাধিক সালাত-সালাম প্রেরণকারী ছিল। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি প্রত্যেক জুমার দিনে ও জুমার রাতে একশত বার দুরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা‘আলা ওই ব্যক্তির একশ’টি চাহিদা পূরণ করবেন- সত্তরটি আখিরাতের প্রয়োজন ও চাহিদা এবং ত্রিশটি দুনিয়ার চাহিদা ও প্রয়োজন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা ওই সালাত- সালাম সংরক্ষণ ও পৌঁছানোর জন্য এক ফেরেশতা নিয়োজিত করবেন, যিনি তা আমার কবর শরীফে ওইভাবে প্রবেশ করাবে, যেভাবে তোমাদের কারও নিকট হাদিয়া-উপঢোকনসমূহ প্রবেশ করানো হয়। আর ওই ফেরেশতা আমাকে সংবাদ দেবেন যে ব্যক্তি আমার প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণ করেছে তার নাম, তার পিতা, বংশ, গোত্র, অঞ্চলসহ সমুদয় বিষয়ে। অত:পর তা আমি আমার নিকট রক্ষিত শ্বেত বালামে লিপিবদ্ধ করে রাখি।

رقم الحديث: ১৪
حديث مرفوع) وَفِي هَذَا الْمَعْنَى الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرُّوذْبَارِيُّ , أنبأ أَبُو بَكْرِ بْنُ دَاسَةَ , ثنا أَبُو دَاودَ , ثنا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ , قَالَ : قَرَأْتُ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَافِعٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي اِبْنُ أَبِي ذِئْبٍ , عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” لا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا , وَلا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا ، وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ ” . ( )

হাদীস নং-১৪:
হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের ঘরকে কবরে পরিণত করো না এবং আমার কবর শরীফকে ঈদে রূপান্তর করো না; বরং তোমরা আমার প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণ করো, কেননা তোমরা যেখানে হওনা কেন তোমাদের সালাত-সালাম আমার প্রতি প্রেরণ করা হয়।

رقم الحديث: ১৫
(حديث مرفوع) وَفِي هَذَا الْمَعْنَى الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِيُّ , بِبَغْدَادَ ، ثنا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ , ثنا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِيُّ , ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ , ثنا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ , عَنْ أَبِي صَخْرٍ , عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُسَيْطٍ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، أن رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلا رَدَّ اللَّهُ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلامَ ” ( )، وَإِنَّمَا أَرَادَ وَاللَّهُ أَعْلَمُ إِلا وَقَدْ رَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ عَلَيْهِ السَّلامَ .

হাদীস নং-১৫:
হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে কেউ আমার প্রতি সালাম প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তখন আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি ওই ব্যক্তির সালামের জবাব দিতে পারি।
এ হাদীসের মর্মার্থ (আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন): ‘‘আল্লাহ তা‘আলা-এর অনেক পূর্বে আমার দেহে আমার রূহকে ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাই আমি সালাম প্রদানকারীর সালামের উত্তর দিই।

رقم الحديث: ১৬
حديث مرفوع) وَفِي هَذَا الْمَعْنَى الْحَدِيثُ الَّذِي أَخْبَرَنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ الطَّهْمَانِيُّ ، ثنا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَارِزِيُّ ، ثنا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ , ثنا أَبُو نُعَيْمٍ , ثنا سُفْيَانُ , عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ , عَنْ زَاذَانَ , عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” إِنَّ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مَلائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الأَرْضِ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلامَ ” . ( )

হাদীস নং-১৬:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলার এমন কিছু ফেরেশতা আছে। যারা সর্বদা সারা বিশ্বে বিচরণ করে। তারা আমার প্রতি আমার উম্মতদের সালাত-সালামসমূহ পৌঁছিয়ে দেয়

رقم الحديث: ১৭
حديث مرفوع) وَأَخْبَرَنَا أَبُو الْحُسَيْنِ بْنُ بِشْرَانَ , وَأَبُو الْقَاسِمِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ , قَالا : أنبأ حَمْزَةُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْعَبَّاسِ , ثنا أَحْمَدُ بْنُ الْوَلِيدِ , ثنا أَبُو أَحْمَدَ الزُّبَيْرِيُّ , ثنا إِسْرَائِيلُ , عَنْ أَبِي يَحْيَى , عَنْ مُجَاهِدٍ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ : ” لَيْسَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّى عَلَيْهِ صَلاةً إِلا وَهِي تَبْلُغُهُ , يَقُولُ لَهُ الْمَلَكُ : فُلانٌ يُصَلِّى عَلَيْكَ كَذَا وَكَذَا صَلاةً ( )

হাদীস নং-১৭:
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা বলেন, হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর যে কোন উম্মত তাঁর প্রতি সালাত-সালাম পেশ করবে, অবশ্যই তা তাঁর নিকট প্রেরণ করা হবে। সালাত-সালামের জন্য নিয়োজিত ফেরেশতা তাঁকে (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) গিয়ে বলেন, ‘‘এয়া রাসূলাল্লাহ! অমুক ব্যক্তি আপনার প্রতি এ এ পরিমাণ সালাত-সালাম প্রেরণ করেছে।’’

رقم الحديث: ১৮
حديث مرفوع) أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بِشْرَانَ , أنبأ أَبُو جَعْفَرٍ الرَّزَّازُ , ثنا عِيسَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّيَالِسِيُّ , ثنا الْعَلاءُ بْنُ عَمْرٍو الْحَنَفِيُّ , ثنا أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ , عَنِ الأَعْمَشِ , عَنْ أَبِي صَالِحٍ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : ” مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا مِنْهُ أُبْلِغْتُهُ ( )
أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَذَا هُوَ مُحَمَّدُ بْنُ مَرْوَانَ السُّدِّيُّ فِيمَا أَرَى وَفِيهِ نَظَرٌ , وَقَدْ مَضَى مَا يُؤَكِّدُهُ .

হাদীস নং-১৮
হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার রাওযা শরীফে উপস্থিত হয়ে আমার প্রতি সালাত-সালাম পেশ করে আমি তা শুনতে পাই। আর যখন কোন ব্যক্তি অনুপস্থিত থেকে আমার প্রতি সালাত-সালাম পেশ করে তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়।

رقم الحديث: ১৯
وَأَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , أنبأ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الصَّفَّارُ , ثنا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي الدُّنْيَا , حَدَّثَنِي سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ , حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي الرِّجَالِ , عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ سُحَيْمٍ , قَالَ : ” رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي النَّوْمِ ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَأْتُونَكَ فَيُسَلِّمُونَ عَلَيْكَ ، أَتَفْقَهُ سَلامَهُمْ ؟ قَالَ : ” نَعَمْ ، وَأَرُدُّ عَلَيْهِمْ ” . ( )

হাদীস নং-১৯:
হযরত সুলাইমান ইবনে সুহায়ম রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে স্বপ্নে দেখলাম, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম এয়া রাসূলাল্লাহ! যে সমস্ত লোক আপনার রওযা পাকে উপস্থিত হয়ে আপনাকে সালাম প্রদান করেন আপনি কি তাদের সালাম বুঝতে পারেন? রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন, হাঁ, আমি শুনতে পাই ও বুঝতে পারি এবং তাদের সালামের উত্তরও দিই।

رقم الحديث: ২০
حديث مرفوع) وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى حَيَاتِهِمْ مَا أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ , أَخْبَرَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ الْمُزَنِيُّ , ثنا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِيسَى , ثنا أَبُو الْيَمَانِ , أنبأ شُعَيْبٌ , عَنِ الزُّهْرِيِّ , قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ , وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيِّبِ , أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ , قَالَ : اسْتَبَّ رَجُلانِ رَجُلٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَرَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ , فَقَالَ الْمُسْلِمُ : وَالَّذِي اصْطَفَى مُحَمَّدًا عَلَى الْعَالَمِينَ فَأَقْسَمَ بِقَسَمٍ ، فَقَالَ الْيَهُودِيُّ : وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْعَالَمِينَ , فَرَفَعَ الْمُسْلِمُ عِنْدَ ذَلِكَ يَدَهُ فَلَطَمَ الْيَهُودِيَّ , فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَأَخْبَرَهُ بِالَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِهِ وَأَمْرِ الْمُسْلِمِ , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” لا تُخَيِّرُونِي عَلَى مُوسَى ، فَإِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ , فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ ، فَإِذَا مُوسَى بَاطِشٌ مُتَعَلِّقٌ بِجَانِبِ الْعَرْشِ فَلا أَدْرِي أَكَانَ فِيمَنْ صُعِقَ فَأَفَاقَ قَبْلِي ، أَوْ كَانَ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ” رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ فِي الصَّحِيحِ عَنْ أَبِي الْيَمَانِ , وَرَوَاهُ مُسْلِمٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَغَيْرِهِ ، عَنْ أَبِي الْيَمَانِ . ( )

হাদীস নং-২০:
হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু বলেন, একদা দু’ ব্যক্তির মধ্যে ঝগড়া লাগল- একজন মুসলমান আর অপরজন ইয়াহুদী।
মুসলিম লোকটি বলল, ওই আল্লাহ তা‘আলার শপথ, যিনি হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সারা বিশ্ববাসীর জন্য চয়ন করে নিয়েছেন। এ কথার দৃঢ়তা প্রকাশের জন্য ওই ব্যক্তি নানা ধরনের ক্বসম ও শপথ করে বসেছে। অন্যদিকে ইয়াহুদী লোকটি বলল, ওই আল্লাহর শপথ, যিনি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে বিশ্ববাসীর জন্য চয়ন করে নিয়েছেন।
একথা শুনে মুসলিম লোকটি ইয়াহুদী লোকটিকে একটি চড় মেরে দিল। তখন ওই ইয়াহুদী রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তার এবং ওই মুসলমানের মধ্যে যা ঘটেছিল তা বিস্তারিতভাবে বললো। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা আমাকে হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর উপর শ্রেষ্ঠত্ব বা প্রাধান্য দিওনা। কেননা, ক্বিয়ামত দিবসে মানুষদেরকে সংজ্ঞাহীন করে ফেলা হবে। তখন আমিই সর্বপ্রথম সংজ্ঞা ফিরে পাব, দেখবো হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম আরশের পায়া ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানিনা, তিনি কি যারা সংজ্ঞাহীন হয়েছে তাদের সাথে সংজ্ঞাহীন হয়ে আমার পূর্বেই আবার সংজ্ঞা ফিরে পেয়েছেন, নাকি আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এ সংজ্ঞাহীনতা থেকে রেখেছেন?
এ হাদীস ইমাম বোখারী তাঁর সহীহ্ বোখারীতে হযরত আবুল ইয়াশান ও ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ্তে হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণনা করেছেন।

رقم الحديث: ২১
حديث مرفوع وَفِي الْحَدِيثِ الثَّابِتِ عَنِ الأَعْرَجِ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : ” لا تُفَضِّلُوا بَيْنَ أَنْبِيَاءِ اللَّهِ تَعَالَى , فَإِنَّهُ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ إِلا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى ، فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ بُعِثَ ، أَوْ فِي أَوَّلِ مَنْ بُعِثَ فَإِذَا مُوسَى آخِذٌ بِالْعَرْشِ , فَلا أَدْرِي أَحُوسِبَ بِصَعْقَةِ يَوْمِ الطُّورِ أَمْ بُعِثَ قَبْلِي ” . ( )

হাদীস নং-২১:
হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা আল্লাহর নবীগণের মধ্যে কাউকে অন্য কারও উপর প্রাধান্য দিওনা। কেননা যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন আসমান ও যমীনের সকলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়বে, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা যাদের চান তারা ছাড়া। অত:পর এতে পুনরায় ফুঁক দেয়া হবে। তখন আমিই সর্বপ্রথম সজাগ হবো, অথবা আমি সর্বপ্রথম যারা জাগ্রত হবে তাদের দলে থাকবো। হঠাৎ আমি দেখতে পাবো যে, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম আরশে ‘আযীমকে ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাই আমি জানিনা তিনি কি তূর পাহাড়ে যে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেছিলেন তার কারণে এখানে সংজ্ঞাহীন হননি, নাকি তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে আমার আগেই জাগ্রত হয়ে গেছেন?।

وَهَذَا إِنَّمَا يَصِحُّ عَلَى أَنَّ اللَّهَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ رَدَّ إِلَى الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلامُ أَرْوَاحَهُمْ فَهُمْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ كَالشُّهَدَاءِ , فَإِذَا نُفِخَ فِي الصُّورِ النَّفْخَةَ الأُولَى صَعِقُوا فِيمَنْ صَعِقَ ، ثُمَّ لا يَكُونُ ذَلِكَ مَوْتًا فِي جَمِيعِ مَعَانِيهِ إِلا فِي ذَهَابِ الاسْتِشْعَارِ , فَإِنَّ كَانَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلامُ مِمَّنِ اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِقَوْلِهِ : إِلا مَنْ شَاءَ اللَّهُ( سورة النمل آية ৮৭ )، فَإِنَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لا يَذْهَبُ بِاسْتِشْعَارِهِ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ وَيُحَاسِبُهُ بِصَعْقَةِ يَوْمِ الطُّورِ وَيُقَالُ : إِنَّ الشُّهَدَاءَ مِنْ جُمْلَةِ مَا اسْتَثْنَى اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِقَوْلِهِ : إِلا مَنْ شَاءَ اللَّهُ سورة النمل آية ৮৭، وَرُوِّينَا فِيهِ خَبَرًا مَرْفُوعًا , وَهُوَ مَذْكُورٌ مَعَ سَائِرِ مَا قِيلَ فِيهِ فِي كِتَابِ الْبَعْثِ وَالنُّشُورِ.

এ হাদীস শরীফ প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা নবীগণ আলায়হিস্ সালাম এর নিকট তাঁদের রূহকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফলে তাঁরা মহান আল্লাহর নিকট জীবিত, শহীদগণের ন্যায়। অত:পর যখন শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেয়া হবে তখন তাঁরাও অন্যান্যদের ন্যায় সংজ্ঞাহীন হয়ে যাবেন।
অতএব, এটা কোন অবস্থাতেই মৃত্যু হতে পারে না; বরং তা হলো অনুভূতি শক্তি হারিয়ে ফেলা মাত্র। আর হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে এ সংজ্ঞাহীনতা থেকে আল্লাহ তা‘আলা মুক্ত রেখেছেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন, “কিন্তু আল্লাহ যাকে চান সে ছাড়া।” [সূরা নামল, আয়াত-৮৭] সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা এ অবস্থায় হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর অনুভূতি শক্তি নিয়ে নেবেন না, বরং তূর পাহাড়ের ওই সংজ্ঞাহীনতাকে এখানে গণ্য করা হবে।
বলা হয়ে থাকে যে, ‘সূরা নামল’-এর আয়াতের ভাষ্য মতে- শহীদগণও এ সংজ্ঞাহীনতা থেকে মুক্ত থাকবেন এবং যার সমর্থনে মরফূ’ পর্যায়ের হাদীস শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যার পূর্ণ বর্ণনা كتاب البعث والنشور-এ বিবৃত হয়েছে।

تَمَّتْ بِالْخَيْرِ وَبِاللَّهِ التَّوْفِيقُ

সহায়ক গ্রন্থাবলী:
১. সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: যাহাবী খ-১৮, পৃ. ১৬৪-১৬৯
২. মা’রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আ-সার: বায়হাক্বী খ-০১, পৃ.-২১২
৩. আল্ মাওসুয়া’ আশ্ শামিলা (ইমাম বায়হাক্বী পর্ব)
৪. ওয়াফাইয়াতুল আ’য়ান: ইবনে খাল্লিকান ১/৭৫
৫. ত্বাবাকাতুশ্ শাফে‘ইয়্যাহ্: ইমাম সুবকী ১/১২৪
৬. আল ওয়াফী বিল ওয়াফাইয়্যাত: সুফদী ২/৩১৬
৭. আল্ বিদায়াহ্ ওয়ান্ নিহায়াহ্: ইবনে আসীর ১২/১২-১৩
৮. তারীখুল ইসলাম: যাহাবী
৯. মুখতারুল ই’তিক্বাদ লিল ইমাম বায়হাক্বী: ইমাম আবদুল ওয়াহ্হাব আশ শারানী, পৃ. ১৭-১৮
১০. আল্ জানিবুল আক্বদী ইনদাল ইমাম আল-বায়হাক্বী (পি.ইইচ.ডি গবেষণা পত্র): আবদুল্লাহ্ মুহাম্মদ আহমদ…
১১. মু’জামুল ভিলদান: ইয়াক্বুত আল হামুভভী।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment