রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আহলে বাইতের উপর দুরুদ পাঠ

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর আহলে বাইতের উপর দূরুদ পড়ার ফযিলতঃ

সাহল ইবনে সা’দ থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ

قَدِمَ رَسُولَ الله () فَاءذا بِأبي طَلحَة, فَقامَ إلَيهِ فَتَلَقّاۀ فَقالَ : بِأ بي اَنتَ وَ اُمّي يا رَسُولَ الله إنّي لَأرَي السُّرُورَفي وَجهِکَ , قالَ أتاني جبرئيلُ آفاً فقالَ: يا مُحمّد ! مَن صَلّي عَلَيکَ مَرَّ ةً کَتَبَ اللهُ بِها عَشرَ حَسَناتٍ وَ مَحي عَنهُ عَشرَ سَيِّئاتٍ وَرَ فَعَ لَهُ بِها عَشرَ دَرَجاتٍ

রাসূল (ﷺ) প্রবেশ করলে আবু তালহা তাঁর নিকট দ্রুত পৌঁছলেম এবং তাঁকে অভ্যর্থনা জানালেন এবং বললেনঃ ‘আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার চেহারা আনন্দিত দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেনঃ জিব্রাইল সবেমাত্র আমার নিকট এসেছিলেন ও বললেনঃ হে মুহাম্মাদ (ﷺ) ! যে কেউ একবার আপনার উপর দূরুদ পড়ে মহান আল্লাহ তাকে দশটি হাসানাহ পুরস্কার দেন, দশটি অপকর্ম ও বদ থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তাকে দশ ধাপ উপরে তুলেন। [কানযুল উম্মাল খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৩৬,৪৪৮,খন্ড-২ পৃষ্ঠা-১৭৯]

এ রেওয়ায়েতটি আবু তালহার ভাষায় এরূপ অতিরিক্তি সহকারে এসেছে এবং ফেরশতা তাকে (দূরুদ পাঠকারীকে) সেটিই বলে যা তোমাকে বলা হয়েছে। বললামঃ হে জিব্রাইল! এ ফেরেশতাটিকে ? বললেন ! মহিয়ান, গড়িয়ান আল্লাহ যখন আপনাকে সৃষ্টি করেছেন তখন থেকে আপনার মাবয়ূসের (নবুওয়াতের ঘোষণা দেয়া ) সময় পর্যন্ত দু’টি ফেরেশতা আপনার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। আপনার এমন কোন উম্মত নেই যে দূরুদ পড়েনি আর ফেরেশতা তাকে বলেনিঃ তোমাকেও !মহান আল্লাহ তোমার উপর দূরুদ পাঠিয়েছেন।

[কানযুল উম্মাল খন্ড-১ পৃষ্ঠা-৪৪০,৪৪৯এবং খন্ড-২ পৃষ্ঠা-১৮১।]

এ রেওয়াতেটি সাঈদ ইবনে ওমর আনসারী ও আবু বারদা বিন নাইয়র ও আনাস থেকে ও বর্ণিত হয়েছে।

কানযুল উম্মল খন্ড-১,পৃষ্ঠা-৪৩৮-৪৩৯ এবং ৪৪৮-৪৪৯ সূনানে নাসাঈ খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-৫০ কিতাবুস সালাত। অধ্যায় মাহানবীর উপর দূরুদের ফযিলত। ফারায়িদুল সাযাতিন,খন্ড-১ পৃষ্ঠা-২৪, তারিখে বাগদাদ খন্ড-৮ পৃষ্ঠা-২৮১

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আহলে বাইতের উপর দুরুদ পাঠ।

হাদিস ১

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তােমরা বল, 

“আল্লাহুম্মা ছাল্লি আ’লা মুহাম্মাদিন আব্দিকা ওয়া রাসুলিকা কামা ছাল্লাইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া বারিক আ’লা মুহাম্মাদিন ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আ’লা ইবরাহীমা।”

[সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ৭৩৬]

হাদিস ২: কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত। 

. باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، قَالَ قُلْنَا أَوْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ أَمَرْتَنَا أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ وَأَنْ نُسَلِّمَ عَلَيْكَ فَأَمَّا السَّلَامُ فَقَدْ عَرَفْنَاهُ فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ ‏”‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَآلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏ – صحيح : ق [1] 

তিনি বলেন, একদা আমরা বললাম অথবা লোকজন বললো, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাদেরকে আপনার উপর দরুদ ও সালাম পড়ার আদেশ করেছেন। সালাম পাঠের নিয়ম আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু আপনার উপর দরুদ কিভাবে পাঠ করবো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা বলো-

‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ’’-

অর্থঃ হে আল্লাহ, আপনি মুহাম্মদ, তাঁর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষন করুন যেরূপ রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীমের উপর। আপনি ইবরাহীমকে যেমন বরকত দান করেছেন তেমনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের বরকত দান করুন। নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও মহান।

(১) তিরমিযী, আবওয়াবুস সালাত, বাবু মা জাআ ফি সিফাতিস সালাতি আলান্নাবী (ﷺ), ২:৫২, নং-৪৮৩। 

(২) নাসাঈ, সুনান, কিতাবুস সাহু, ৩:৪৭, নং-১২৮৭। 

(৩) নাসাঈ, সুনানুল কুবরা, ১:৩৮৩, নং-১২১। 

(৪) হুমাইদী, মুসনাদ, ২:৩১০, নং-৭১১। 

(৫) তাবরানী, মুজামুল কাবীর, ১৯:১৩১, নং-২৮৭। 

(৬) ইউসুফ বিন মুসা, মু’তাছারুল মুখতাছার, ১:৫৪।

(৭) সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (كتاب الصلاة), হাদিস নম্বরঃ ৯৭৬

(৮) বুখারী (অধ্যায় : তাফসীর, সূরাহ আল-আহযাব, অনুঃ আল্লাহর বানী : ইন্নাল্লাহা ওয়া মালায়িকাতাহু য়ুসাল্লুনা ‘আল্লান্নাবী ইয়া আইয়ূ হাল্লাযিনা আমানু সল্লু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লিমূ তাসলিমা, হাদিস ৪৭৯৭),

(৯) মুসলিম (অধ্যায় : সলাত, অনুঃ তাশাহহুদের পর নাবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ), কিতাবুস সালাত, খন্ড- ১/৩০৫, হাদীস ৬৬, 

(১০) সুনানে দারামী খন্ড- ১, পৃষ্ঠা-৩০১, 

(১১) সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস ৯০৪,

(১২) মুসনাদে আহমাদ খন্ড- ৪ পৃষ্ঠা- ২৪১-২৪৪। 

(১৩) তাফসীরে তাবারী খন্ড- ২২, পৃষ্ঠা-৩১,

(১৪) তাফসীরে কুরতুবী, খন্ড- ১৪, পৃষ্ঠা- ৩৩৪, 

(১৫) তাফসীরে দূররুল মানসূর খন্ড- ৫, পৃষ্ঠা- ২১৫-২১৬,

(১৬) কাঞ্জুল উম্মাল খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ১৮০, 

(১৭) তাফসীরে ইবনে কাসির খন্ড-৩ পৃষ্ঠা-৫০৭।

হাদিস ৩:ইমাম আবূ দাউদ  (رحمة الله) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনুল ‘আলা তার সনদে ইবনু বিশর ও মিস্‘আরের মাধ্যমে হাকাম হতে হাদীসটি বর্ণনার পর দরূদ পাঠ সম্পর্কে বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ 

. باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ ‏”‏ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ الزُّبَيْرُ بْنُ عَدِيٍّ عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى كَمَا رَوَاهُ مِسْعَرٌ إِلَا أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ ‏”‏ ‏.‏ وَسَاقَ مِثْلَهُ ‏.‏ – صحيح : ق [1

‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা ‘আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’’

ইমাম আবূ দাউদ  (رحمة الله) বলেন, হাদীসটি যুবাইর ইবনু ‘আদী  (رحمة الله) ইবনু আবূ লায়লাহ  (رحمة الله) হতে মিস্‘আরের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে সেখানে শুধু ‘‘কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা’’ এর স্থলে ‘‘কামা সল্লাইতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা’’ কথাটি উল্লেখ করেছেন। হাদীসের অবশিষ্ট অংশ মিস‘আর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

▪ সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (كتاب الصلاة)

হাদিস নম্বরঃ ৯৭৮, তাশাহ্হুদ পড়ার পর নবীজী (ﷺ)-এর উপর দরুদ পাঠ। 

▪ সহীহ : বুখারী ও মুসলিম

হাদিস ৪ : আবূ হুরাইরাহ (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,

 باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حِبَّانُ بْنُ يَسَارٍ الْكِلَابِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو مُطَرِّفٍ، عُبَيْدُ اللهِ بْنُ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ كَرِيزٍ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ الْهَاشِمِيُّ، عَنِ الْمُجْمِرِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَكْتَالَ بِالْمِكْيَالِ الأَوْفَى إِذَا صَلَّى عَلَيْنَا أَهْلَ الْبَيْتِ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ النَّبِيِّ وَأَزْوَاجِهِ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ وَذُرِّيَّتِهِ وَأَهْلِ بَيْتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏ – ضعيف [1

কেউ যদি আমাদের আহলি বাইতের উপর দরূদ পড়ার পুরো সওয়াব পেতে চায় সে যেন এভাবে বলেঃ 

‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মাহাতিল মু‘মিনীনা ওয়া যুররিয়াতিহি ওয়া আহলি বাইতিহি কামা সল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’। 

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রী উম্মাহাতিল মু‘মিনীন, তাঁর সন্তানাদি ও আহলি বাইতের উপর রহমাত বর্ষণ করুন যেমনি রহমাত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহান।’’

▪ সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ ২/ সালাত (كتاب الصلاة), হাদিস নম্বরঃ ৯৮২, তাশাহ্হুদ পড়ার পর নবীজী (ﷺ)-এর উপর দরুদ পাঠ।

▪ বায়হাক্বী ‘সুনান’ (২/৫২৯), হাদিস ৩৯৬৫,

▪ বুখারী ‘আত-তারীখ’ (৩/৮৭), 

▪ সুয়ূতী একে আদ-দুররে মানসূর (৫/২১৬) গ্রন্থে এবং 

▪ তাবরীযীঃ মিশকাত (হাদিস ৯৩২) গ্রন্থে তুলে ধরেছেন। 

▪ ইমাম কাসতালানীঃ আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ (৩য় খণ্ড), পৃ ৩৯১।

হাদিস ৫: আবূ হুমাইদ আস-সাইদী (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত। 

 باب الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم بَعْدَ التَّشَهُّدِ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ سُلَيْمٍ الزُّرَقِيِّ، أَنَّهُ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ، أَنَّهُمْ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ ‏”‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏ ‏.‏ – صحيح : ق [1] 

আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামা  (رحمة الله) … আবূ হুমায়দ সাঈদী  (رحمة الله) বর্ণনা করেন। একবার লোকেরা জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমরা আপনার উপর কিভাবে দরূদ পড়বো? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা বলোঃ

‘‘আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আয্ওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা সল্লাইতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আযওয়াজিহি ওয়া যুররিয়াতিহি কামা বারাকতা ‘আলা ‘আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’’।

“অর্থঃ ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (ﷺ) ও তার সহধর্মিণীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততিগণের উপর রহমত নাযিল করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর উপর রহমত নাযিল করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ, তার সহধর্মিণীগণ এবং তার আওলাদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমনভাবে আপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করেছেন। আপনি অতি প্রশংসিত এবং উচ্চ মর্যাদাশীল।

(১) বুখারী, সহিহ, কিতাবুল আম্বিয়া, বাবু কাউলিল্লাহ ৩:১২৩২, নং ৩১৮৯। আবূ যার (رضي الله عنه) সূত্রে বর্ণিত। হাদীস যমীনে সর্বপ্রথম কোন মাসজিদ স্থাপিত হয়েছে, হাদিস ৩৩৬৯। সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৬৭/ দু’আ (كتاب الدعوات), হাদিস নম্বরঃ ৫৯২০।

(২) মুসলিম, সহিহ, কিতাবুস সালাহ, বাবুস সালাতে আলান্নবী (ﷺ) বাদাত তাশাহহুদ, ১:৩০৬, নং ৪০৬।

(৩) ইবনে মাযাহ, সুনান, কিতাবু ইকামাতিস্ সালামে ওয়াস সুন্নাতে ফিহা, বাবুস সালাতে আলান্নাবী(ﷺ), ১:২৯৩, নং-৯০৫। 

(৪) মালিক, মুয়াত্তা, বাবু মা জাআ ফিস সালাতে আলান্নাবী(ﷺ), ১:১৬৫, নং-৩৯৫। 

(৫) নাসায়ী, সুনানুল কুবরা, ১:৩৮৪ , নং-১২১৭। 

(৬) সুনান আবূ দাউদ, অধ্যায়ঃ সালাত (كتاب الصلاة), হাদিস নম্বরঃ ৯৭৯, তাশাহ্হুদ পড়ার পর নবীজী (ﷺ)-এর উপর দরুদ পাঠ।

হাদিস ৬ : ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (رضي الله عنه) বর্ণিত,

قالُوايارَسُولَ الله ! وَکَيفَ نُيفَ نُصَلّي عَلَيک ؟ قالَ ;قُولُوا: أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما صَلَّيتَ عَلي إبراهيمَ وَ آلِ أبراهيم إنَّکَ حَميدُ مَجيدُ وَبارِک عَل مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَما بارَکتَ عَلي إبراهيمَ وَ عَلي آلِ إبراهيمَ إبَّکَ حَميدُ مَجيدُ

হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা কিরূপে আপনার উপর দূরুদ পাঠ করবো ? তিনি বললেনঃ তোমরা বলবে; হে আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রতি দূরুদ পাঠাও, যেরূপে ইব্রাহীম (عليه السلام) ও আলে ইব্রাহীমের প্রতি দূরুদ পাঠিয়েছ। প্রকৃতপক্ষে আপনি প্রশংসিত সমুন্নত এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরকত দান কর যেরূপে ইব্রাহীম (عليه السلام) ও আলে ইব্রাহীমের উপর বরকত দান করেছ। প্রকৃতপক্ষে আপনি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [ইমাম মুত্তাকী আল-হিন্দীঃ কানযূল উম্মাল]

হাদিস ৭ :আবদুর রাহমান ইবনু আবূ লায়লা (رحمة الله) বর্ণনা করেন, 

” باب الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنَا آدَمُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، حَدَّثَنَا الْحَكَمُ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى، قَالَ لَقِيَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ فَقَالَ أَلاَ أُهْدِي لَكَ هَدِيَّةً، إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ عَلَيْنَا فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ عَلِمْنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ قَالَ ‏ “‏ فَقُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ ‏”‏‏.‏

একবার আমার সঙ্গে কাব ইবনু উজরাহ (رضي الله عنه) এর সাক্ষাত হলো। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে একটি হাদিয়া দেবো না। তা হল এইঃ একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন, তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা আপনাকে কেমন করে সালাম দেব, আমরা আপনার উপর দরুদ কিভাবে পড়বো? তিনি বললেনঃ তোমরা বলবে, 

“ইয়া আল্লাহ আপনি মুহাম্মাদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর খাস রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর পরিবারের উপর খাস রহমাত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, উচ্চ মর্যাদাশীল। ইয়া আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমন আপনি ইববাহীম (عليه السلام) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযীল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত উচ্চ মর্যাদাশীল।”

[সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ দু’আ (كتاب الدعوات), হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৭]

হাদিস ৮ : হযরত আবু মাসউদ আল আনসারী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ

“রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এলেন ও আমাদের সাথে সাদ ইবনে এবাদার মজলিশে বসলেন। বাশির বিন সাদ (অবু নোমান বিন বাশির) তাঁকে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল ! মহান আল্লাহ আপনার উপর দূরুদ পড়ার নিদের্শ দিয়েছেন। আমরা কিরূপে দূরুদ পড়বো? বর্ণনাকারী বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (এতটা) নিরবতা অবলম্বন করলেন যে আমাদের মনে হচ্ছিল যে হায় যদি এমন প্রশ্ন না করতাম। অতঃপর বললেনঃ 

“হে আল্লাহ ! মুহাম্মাদ ও আলে মুহম্মাদের প্রতি দূরুদ পাঠাও, যেমন ভাবে পাঠিয়েছ, মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর প্রতি বরকত দান কর, যেমনভাবে বরকত দান করেছ পৃথিবী বাসীদের মধ্যে ইব্রাহীমকে। প্রকৃতপক্ষে তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। সালামও ঠিক এরমই যা জেনেছ। “

(১) ইবনে মাজাহ, সুনান, কিতাবু ইকামাতেস সালাতে ওয়াস্ সুন্নাতে ফিহা, বাবুস সালাতে আলান্নাবী (ﷺ), ১:২৯৩, নং-৯০৬ ।

(২) আব্দুর রাজ্জাক, মুসান্নাফ, ২:২১৩, নং-৩১০৯। 

(৩) আবু ইয়ালা, মুসনাদ, ৯:১৭৫, নং-৫২৬৭। 

(৪) তাবরানী, মুজামুল কাবীর, ৮:১১৫, নং-৮৫৯৪। 

(৫) বাইহাকী, শুআবুল ঈমান, ২:২০৮, নং-১৫৫০। 

(৬) ইমাম বায়হাকী,আস-সুনানুল কোবরা, ২/৫২৯ পৃ, হা/ ৩৯৬৫, তিনি বলেন- “এ হাদিসটি হাসান, মুত্তাসিল।” 

(৭) সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত খন্ড-১ পৃষ্ঠা-৩০৫, হাদীস ৬৭, অনুঃ নবীজী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠ। 

(৮) সূনানে দারেমী, খন্ড- ১ পৃষ্ঠা- ৩১০, 

(৯) সুনানে আবু দাউদ খন্ড- ১ পৃষ্ঠা- ২৫৮ , হাদীস ৯৮০, 

(১০) সুনানে নাসাঈ, অধ্যায় : সাহু, নবীজী(ﷺ)-এর উপর দরূদ পাঠর নির্দেশ, হাদিস ১২৮৪, মালিক হতে।

(১১) সূনানে তিরমিযী, অধ্যায় : তাফসীর, অনুঃ সূরাহ আল-আহযাব, হাদিস ৩২২০, তিনি বলেন, এই হাদীসটি হাসান সহীহ।

(১২) তাফসীরে সূরা আহযাব খন্ড- পৃষ্ঠা- ৯৫ 

(১৩) মুয়াত্তায়ে মালিক খন্ড- ১, পৃষ্ঠা- ১৬৫ ও ১৬৬, 

(১৪) ইমাম আহমদ, আল-মুসনাদ, ২৮/৩০৪ পৃ. হা/১৭০৭২,

(১৫) কানযুল উম্মাল খন্ড- ২ পৃষ্ঠা- ১৮২,

(১৬) তাফসীরে কুরতুবী খন্ড- ৪, পৃষ্ঠা- ২৩৩। 

(১৭) তাফসীরে দূররুল মানসূর খন্ড-৫ পৃষ্ঠা-২১৬ও২১৭। 

(১৮) তাফসীরে ইবনে কাসির খন্ড-৩ পৃষ্ঠা-৫০৮। 

(১৯) তাফসীরে খাযিন খন্ড-৩ পৃষ্ঠা-৪৭৭, 

(২০) মুস্তাদরাক আল হাকিম আস সহীহাইন খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২৬৮, 

(২১) সহিহ ইবনে হিব্বান, হা/১৯৫৯, 

(২২) সুনানে দারা কুতনী, ২/১৬৮ পৃ. হা/১৩৩৯, তিনি বলেন- হাদিসটি হাসান, মুত্তাসিল।

(২৩) ইমাম কাসতালানীঃ আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহ (৩য় খণ্ড), পৃ ৩৯১।

হাদিস ৯: ইবরাহীম ইবনু হামযা  (رحمة الله) হযরত আবু সাঈদ খুদরী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন,

باب الصَّلاَةِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ، وَالدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا السَّلاَمُ عَلَيْكَ، فَكَيْفَ نُصَلِّي قَالَ ‏ “‏ قُولُوا اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ‏”‏‏.‏ 

একবার আমরা বললামঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ! এই যে ‘আসসালামু আলাইকা’ তা তো আমরা জেনে নিয়েছি। তবে আপনার উপর দরুদ কিভাবে পড়বো? তিনি বললেনঃ তোমরা পড়বে, 

“ইয়া আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দা ও আপনার রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর খাছ রহমত বর্ষণ করুন। যেমন করে আপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর উপর রহমত নাযিল করেছেন। আর আপনি মুহাম্মদ ও তার পরিবারবর্গের উপর বরকত বর্ষণ করুন, যে রকম আপনি ইবরাহীম (عليه السلام) এর উপর এবং ইবরাহীম (عليه السلام) এর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করেছেন।”

▪ সহীহ বুখারী (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ দু’আ (كتاب الدعوات)

হাদিস নম্বরঃ ৫৯১৮।

▪ সহীহ বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, সূরা আহযাব, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-১১৯ এবং 

▪ কিতাবে দাওয়াত খন্ড- ৪পৃষ্ঠা- ৭২।

▪ সূনানে নাসাঈ খন্ড- ৩পৃষ্ঠা- ৪৯।

▪ সূনানে ইবনে মাযাহ খন্ড-১ পৃষ্ঠা-২৯২, হাদীস ৯০২

▪ মুসনাদে আহমাদ খন্ড-৩ পৃষ্ঠা-৪৭।

▪ তাফসীরে দূররুল খন্ড-৫ পৃষ্ঠা-২১৭।

হাদিস ১০:ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত,

অতঃপর বললাম অথবা বললঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনার উপর সালাম সম্পর্কে জেনেছি, কিন্তু আপনার উপর দূরুদ কিরূপে (পড়ে)? বললেনঃ 

“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ পাঠাও, যেরূপ পাঠিয়েছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর। তুমিতো প্রশংসিত ও উন্নত। এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরকত প্রদান কর, যেরূপ বরকত প্রদান করেছে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত।” 

[তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে সূরা আহযাব খন্ড-২২ পৃষ্ঠা-৩১, তাফসীরে দূররুল মনসূর খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-২১৬]

হাদিস ১১: যাইদ ইবনে খারিজাহ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেনঃ

আমার উপর দূরুদ পাঠবে এবং দোয়া করবে ও বলবেঃ 

“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ পাঠাও এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরকত দান কর যেরূপ বরকত দান করেছ ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। [সুনানে নাসাঈ, কিতাবে সাহু খন্ড-৩ পৃষ্ঠা-৪৯]

হাদিস ১২: আবু তালহা (رضي الله عنه)  থেকে বর্ণিত,

قُلنا: يارَسول الله!قَد علمنا کَيفَ السَّلام عَلَيک.فَکَيفَ الصَّلاة عَليکَ ؟قالَ : قولوا: أللّهُمَّ صَلِّ عَلي مُحَمَّدٍ وَ علي آلِ مُحَمَّدٍ وَ بارِک عَلي مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ کَماصَلَّيتَ و بارَکتَ عَلي إبراهيم وعلي آلِ ابراهيم إنَّکَ حَميدُ مَجيدُ

বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! কিরূপে আপনার উপর সালাম বলবো তা জেনেছি। আপনার উপর দূরুদ কিরূপ? বললেনঃ বল, 

“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ পাঠাও এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরকত দান কর যেরূপে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীনের উপর দূরুদ ও বরকত দান করেছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত।”

[কানযুল উম্মাল খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১৭৬, তাফসীরে দূররুল মানসূর খন্ড-৫, পৃষ্ঠা- ২১৬, সুনানে নাসাঈ ও মুসনাদে আহমাদ]

হাদিস ১৩: বারদেয়ে খাযায়ী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) বলেনঃ

বলঃ হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ, রহমতও বরকত দান কর যেরূপে এ গুলো ইব্রাহীমকে দান করেছ। নিশ্চযই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। (মুসনাদে আহমাদ ও সুয়ুতির দূররুল মানসূর)

হাদিস ১৪: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ বিন যাইদ (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) বলেনঃ

বলঃ হে আল্লাহ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ প্রেরণ কর যেরূপভাবে ইব্রাহীম (عليه السلام)-এর উপর দূরুদ পাঠিয়েছ। মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরকত দান কর যেরুপে ইব্রাহীমকে পৃথিবীবাসীর মধ্যে বরক দিয়েছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত সালাম ও সেরূপ যেমন টি জেনেছ। [কানযুল উম্মাল খন্ড- ১, পৃষ্ঠা-৪৪২]

হাদিস ১৫: হযরত ইব্রাহীম (رضي الله عنه) থেকে اِنّ الله وَ ملا کث এ আয়াতের প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছে যে,

قالُوا يا رَسُولَ الله! هذَا السَّلام قَد عَرفناه .فَکَيفَ الصَّلاة عَليکَ ؟ فَقالَ 

তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এ সালামটি জানতাম। আপনার উপর দূরুদ কিরূপ? বললেনঃ বল, 

“হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদের উপর দূরুদ পাঠাও, যেমন ভাবে দূরুদ পাঠিয়েছ ইব্রাহিমের উপর। সত্যিই তুমি প্রশংসিত ও সনুন্নত।”

[ইমাম তাবারীঃ তাফসীরে তাবারী, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-৩২, 

ইমাম সুয়ূতীঃ তাফসীরে দূররে মানসূর খন্ড-৫, পৃষ্ঠা- ২১৬]

হাদিস ১৬:উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা (رضي الله عنه) থেকে থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেনঃ

قالَ اَصحابُ النَّبيّ يا رَسُول الله أُمِرنا أن نکثر الصَّلاةَ عَلَيکَ فِي اللَّيلَةِ الغراء وَ اليَوم الأزهَر وَ أحبّ ما صَلّينا عَلَيکَ کَم تُحِبّ. قالَ

সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাদেরকে আদেশ দেয়া হয়েছে অন্ধকার রাতে ও আলোকিত দিবালোকে আপনার উপর দূরুদ বেশী পড়তে। (তা কতই না সুন্দর যে) আপনার উপর আমাদের দূরুদ এমন হবে যা আপনি পছন্দ করবেন। বললেনঃ বল; 

“হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর দূরুদ পাঠাও, যেরূপ ভাবে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর দূরুদ পাঠিয়েছ এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর রহমত বর্ষণ কর, যেরূপে ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহীমের উপর রহমত করেছো। মুহাম্মাদ (ﷺ) ও আলে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর উপর বরক দাত্ত, যেরুপে বরকত দিয়েছো ইব্রাহীম ও আলে ইব্রাহমকে নিশ্ময়ই তুমি প্রশংসিত ও সমুন্নত। আর সালামের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তো নিজেই জেনেছ। 

[ইমাম মুত্তাকী আল হিন্দীঃ কানযুল উম্মাল খন্ড- ২, পৃষ্ঠা- ১৮২ ও খন্ড- ১, পৃষ্ঠা- ৪৪৩]

হাদিস ১৭:

সূরা-আহযাবে ইরশাদ হয়েছেঃ

“অবশ্যই আল্লাহ তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেছেন। হে ঈমানদারগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করতে থাক।” 

[সূরা-আহযাব, আয়াত ৫৬]

উক্ত আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর সাহাবারা জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه و آله و سلم) আপনার উপর কিভাবে দরুদ পাঠ করতে হবে? উত্তরে নবীজি বলেন :

“আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ, ওয়া আলে মুহাম্মাদ” অতঃপর তিনি বলেন : দেখ, তোমরা যেন আমার উপর লেজ কাটা দরুদ না পড়। 

সাহাবারা বললেন লেজকাটা কেমন? নবীজি উত্তরে বলেন, আমার আহলে বাইত (আলী, ফাতেমা, হাসান ও হোসাইন (رضي الله عنه)-কে বাদ দিয়ে শুধু আমার উপর দরুদ পড়া যেমন “আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ” বলে চুপ থাকা। আমার ‘আলকে’ অবশ্যই সম্পৃক্ত করতে হবে।

[সূত্রঃ মুসনাদে আহমদ, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-৩৫৩; যাখাইরুল উকবা, পৃষ্ঠা-১৯; ইয়া নাবিউল মাওয়াদ্দাত, পৃষ্ঠা-৭; কানযুল উম্মাল, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-১২৪; সাওয়ায়েকুল মুহরিকা, পৃষ্ঠা-৮৭,৭৭১; মাজমাউল বয়ান, খন্ড-৮, পৃষ্ঠা-৩৬৯; ফাজায়েলুল খামছা, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-২০৯]।

এ প্রসঙ্গ ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) বলেন, “ইয়া! আহলে বাইতে রাসূল! আপনাদের মুয়াদ্দাত (আনুগত্যপূর্ণ ভালোবাসা) পবিত্র কোরআনে ফরজ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি নামাজ আপনাদের উপর দরুদ না পড়বে তার নামাজই কবুল হবে না।”

[সূত্রঃ ইবনে হাজার মাক্কীর-সাওয়ায়েকে মোহরেকা পৃষ্ঠা-৮৮]।

হাদিস ১৮:

হযরত ওমর (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, মহানবী (صلى الله عليه و آله و سلم) বলেছেন, দু‘আ ও নামাযসমূহ ততক্ষণ পর্যন্ত আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী স্থানে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে, উপরের দিকে যায় না, যতক্ষণ না নবী করীম (صلى الله عليه و آله و سلم) এর প্রতি দরুদ প্রেরণ করা না হয়।

[সূত্রঃ মাদারেজুন নবুয়াত, খন্ড-২, পৃষ্ঠা-১০৬, (ই.ফা:); জামে আত তিরমিযি, খন্ড-২, হাদিস-৪৫৮; সহীহ তিরমিযি, পৃষ্ঠা-১৭২, হাদিস-৪৮৯, (সকল খণ্ড একত্রে, তাজ কোং)]।

হাদিস ১৯:

ইমাম দারাকুতনী (رحمة الله) ও ইবনে মাযাহ (رحمة الله)  হযরত আবু মাসউদ আনসারী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণনা করেন, 

-“যে নামায পড়লাে আর আমি নবী (ﷺ) এবং আহলে বায়াতের উপর সালাত পড়লাে না তার নামায কবুল হবে না।”

তথ্যসূত্রঃ

১.ইমাম দারাকুতনী, আস-সুনান, ২/১৭০ পূ, হা/১৩৪৩, 

২.ইমাম যায়লাঈ, নাসবুর রায়্যাহ, ১৪২ পৃ., তিনি বলেন- “সনদে জাবের যঈফ রাবী, তার হাদিস নিয়ে অনেক আলােচনা-সমালােচনা রয়েছে।” 

৩.ইমাম শিহাবুদ্দীন আল-কাস্তালানীঃ আল-মাওয়াহিবুল লাদুন্নিয়্যাহঃ ৪র্থ খন্ড, পৃ ১৫৮, সাকলাইন প্রকাশনী।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment