বিদআত যখন মুস্তাহাব হয়, তখন তা বিদআতে হাসানা- ইবনে তাইমিয়া।

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

বিদআত যখন মুস্তাহাব হয়, তখন তা বিদআতে হাসানা- ইবনে তাইমিয়া।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া তার কিতাব “ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউসসুলি ওয়াল ওসিলা” তে লিখেছেন,

وكل بدعة ليست واجبة ولامستحبة فهي بدعة سيئة، وهي ضلالة باتفاق المسلمين، ومن قال في بعض البدع إنها بدعة حسنة فإنما ذلك إذا قام دليل شرعي على أنها مستحبة، فأما ما ليس بمستحب ولا واجب فلا يقول أحد من المسلمين إنها من الحسنات التى يتقرب بها إلى الله. اهـ.

“প্রত্যেক বিদআত যা মুস্তাহাব কিংবা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, তা বিদআতে সাইয়্যা (নিন্দনীয় বিদআত)। আর এটি উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মতিক্রমে ভ্রষ্টতা। কোন কোন বিদআতের ক্ষেত্রে যারা বলেন যে, এটি বিদআতে হাসানা, এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রমাণিত হবে যে, তা মুস্তাহাব। আর যখন কোন বিদআত এমন হবে যে, তা মুস্তাহাব বা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, সেটিকে কোন মুসলমান বিদআতে হাসানার অন্তর্ভূক্ত করে না, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়”।
[সূত্রঃ ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাউসসুলি ওয়াল ওসিলা, পৃষ্ঠা ৪৬ (মাকতাবায়ে শামেলা)]।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া তদীয় মাজমুউল ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন,

إذًا البدعة الحسنة – عند من يقسّم البدع إلى حسنةٍ وسيّئةٍ – لا بدّ أن يستحبّها أحد من أهل العلم الّذين يقتدى بهم ويقوم دليل شرعيّ على استحبابها وكذلك من يقول: البدعة الشّرعيّة كلّها مذمومة لقوله صلّى الله عليه وسلّم في الحديث الصّحيح: {كلّ بدعةٍ ضلالة} ويقول قول عمر في التّراويح: ” نعمت البدعة هذه ” إنّما أسماها بدعةً: باعتبار وضع اللّغة. فالبدعة في الشّرع عند هؤلاء ما لم يقم دليل شرعيّ على استحبابه اهـ

যারা বিদআতকে হাসানা ও সাইয়্যা হিসেবে ভাগ করেছেন, তাদের নিকট আবশ্যক হলো বিদআতে হাসানা হতে হলে অনুসরণীয় কোন আলেম একে মুস্তাহাব মনে করেন, এবং এটি মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের দলীল পাওয়া যায়। আর যারা বলে যে, শরীয়তে সকল বিদআতই নিন্দনীয়; কেননা রাসূল (صلى الله عليه وآله وصحبه وسلم) সহীহ্ হাদিসে বলেছেন, “প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা”, আর তারাবীহের ক্ষেত্রে হযরত উমর (রাঃ) যে বলেছেন, “এটি উত্তম একটি বিদআত” তিনি শাব্দিক অর্থে বিদআত বলেছেন, এদের নিকটও বিদআত হল, এমন আমল যার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের কোন দলীল নেই”।
[সূত্রঃ মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ২৭, পৃষ্ঠা ১৫২]।

আরো পড়ুনঃ
ইবাদাত ও বিদা’আত পরিচয়ঃ
▆ ইবাদাত কাকে বলে? উদাহরণসহ পর্যালোচনা।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1817512341897536

▆ সামান্য কাজও সামান্য নয়; আল্লাহর ইবাদাতের পরিচয়।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1817354771913293

▆ সব জিনিসের ব্যাপারেই মৌল নীতি হচ্ছে– তা মুবাহ (বৈধ)।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1819353201713450

▆ ইসলামের বিধান সমূহের শ্রেণীবিভাগ, ‘মুবাহ (Permissible)’-এর স্থান ও আমাদের করণীয়।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1819896818325755
________
▆ বিদ’আত : البدعة��
https://www.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1697780273870744
___________
কথায় কথায় যারা বেদ’আত বলে, তাদেরকে বলছি। ইবনে তাইমিয়্যাহ একজন বেদ’আতী; ইবনুল কায়্যিম জাওযী আরেকজন বেদ’আতী’।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1864116597237110
_____________
লা-মাযহাবীদের শায়েখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এর মৃত্যু : শিরক বেদ’আতের জব্বর আড্ডাখানা!
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1831560320492738
__________
প্রশ্ন: বিদআত সম্পর্কীয় আপত্তির জবাব।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1914573185524784
___________
প্রচলিত বেদ’আতী দোয়া ‘হাফিযাহুল্লাহ’; রাসূলুল্লাহ্(صلى الله عليه و آله وسلم)কিংবা কুরুনে ছালাছায় একজনও এই বেদাতী দোয়া পড়ে কারো নাম বলতেন মর্মে কোন প্রমাণ নেই।
https://mbasic.facebook.com/hasan.mahmud/posts/1904662896515813
______________

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment