প্রশ্নঃ ইসলামে দুই ঈদ ছাড়া আর কোন ঈদ নাই। তৃতীয় ঈদ হিসেবে মিলাদুন্নবী (ﷺ) কোথায় পেলেন?

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

দুই ঈদ সহ বছরে প্রায় ৫৮টি ঈদ রয়েছে,যা নিম্নে উপস্হাপন করা হলো।

  • ১.জুমার দিন ঈদের দিন

🕋 রাসুলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

إِنَّ هَذَا يَومٌ جَعَلَهُ اللَّهُ عِيدًا لِلْمُسْلِمِينَ فَاغْتَسِلُوا , وَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ طِيبٌ فَلا يَضُرَّهُ أَنْ يَمَسَّ مِنْهُ , وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ 

“নিশ্চয়ই জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন। অত:পর এই দিনে তোমরা গোসল করো এবং যার কাছে সুগন্ধি আছে সে যেন সুগন্ধি লাগায় এবং সে যেন মেসওয়াক করে।”

📌[সুনান ইবনে মাজাহ- কিতাবু ইকামাতিস সালাত,বাবু মাজাআ ফিয যিনাতি ইয়াউমিল জুমআ,হাদীস নং ১১৫২]

২.আরাফার দিন, ইয়াউমে নহর,আইয়্যামে তাশরীক ঈদের দিনঃ

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَوْمُ عَرَفَةَ، وَيَوْمُ النَّحْرِ، وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ، وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ» 

🕋 রাসুলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়্যামে তাশরীক তথা জিলহজ্বের ১১,১২,১৩ তারিখ আমাদের ইসলামের অনুসারীদের জন্য ঈদের দিন এবং সে দিনগুলো খাওয়া ও পান করার দিন।

📌

১.আবু দাউদ -কিতাবুস সাওম, বাবু সিয়ামি আইয়্যামিত তাশরীক, হাদীস নং ২৪২০;

২.তিরমিযি-কিতাবুস সাওম, বাবু মাজাআ ফি কারাহিয়াতিস সাওমে ফি আইয়্যামিত তাশরীক, হাদীস নং ৭৭৮;

৩.আয়াত নাজিলের দিন ঈদের দিনঃ

عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ قَالَ قَرَأَ ابْنُ عَبَّاسٍ: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا} وَعِنْدَهُ يَهُودِيٌّ فَقَالَ لَوْ أُنْزِلَتْ هَذِهِ عَلَيْنَا لاَتَّخَذْنَا يَوْمَهَا عِيدًا. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَإِنَّهَا نَزَلَتْ فِي يَوْمِ عِيدٍ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ وَيَوْمِ عَرَفَةَ. 

🕋 হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) তিনি একবার সুরা মায়েদার ৩নং আয়াত –”আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ন করে দিলাম” এ আয়াত শরীফ খানা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন। তখন উনার নিকট এক ইহুদী ছিল সে বলে উঠলো, যদি এমন আয়াত শরীফ আমাদের ইহুদী সম্প্রদায়ের প্রতি নাযিল হতো, আমরা আয়াত শরীফ নাযিলের দিনটিকে ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করতাম !’ এটা শুনে হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) বললেন, এ আয়াত শরীফ সেই দিন নাযিল হয়েছে যেদিন একসাথে দুই ঈদ ছিলো (১) জুমুয়ার দিন এবং (২) আরাফার দিন।

📌[তিরমিযি-কিতাবু তাফসীরুল কোরআন,বাবু ওয়ামিন সুরাতি মায়েদা,হাদীস নং ৩৩১৮]

عن طارق بن شهاب قال قالت اليهود لعمر لو علينا معشر يهود نزلت هذه الآية اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الإسلام دينا نعلم اليوم الذي أنزلت فيه لاتخذنا ذلك اليوم عيدا قال فقال عمر فقد علمت اليوم الذي أنزلت فيه والساعة وأين رسول الله صلى الله عليه وسلم حين نزلت نزلت ليلة جمع ونحن مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بعرفات. 

🕋 তারিক ইবনু শিহাব (رحمة الله) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়াহুদী লোকেরা হযরত উমার (رضي الله عنه)কে বললো, আপনারা এমন একটি আয়াত পাঠ করে থাকেন তা যদি আমাদের সম্পর্কে নাযিল হতো, তবে এ দিনটিকে আমরা ঈদের দিন হিসাবে গ্রহণ করতাম। হযরত উমার (رضي الله عنه) বললেন, আমি জানি, ঐ আয়াতটি কখন (কোথায়) ও কোন দিন নাযিল হয়েছিল। আর যখন তা নাযিল হয়েছিল তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় কোথায় অবস্থান করছিলেন (তাও জানি)। আয়াতটি আরাফার দিন নাযিল হয়েছিল; রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তখন আরাফাতেই অবস্থান করছিলেন।” 

📌[মুসলিম শরীফ – কিতাবুত তাফসীর, বাবু বাবুত তাফসীর হাদীস নং ৭২১০]

🕋 একটু ভিন্ন শব্দে সহীহ সনদে ইমাম তিরমিযিও হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন-

عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْيَهُودِ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ لَوْ عَلَيْنَا أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا} لاَتَّخَذْنَا ذَلِكَ الْيَوْمَ عِيدًا. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِنِّي أَعْلَمُ أَيَّ يَوْمٍ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ أُنْزِلَتْ يَوْمَ عَرَفَةَ فِي يَوْمِ جُمُعَةٍ. 

قَالَ أَبُو عِيسَى: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ. 

📌[তিরমিযি-কিতাবু তাফসীরুল কোরআন,বাবু ওয়ামিন সুরাতি মায়েদা,হাদীস নং ৩৩১৭]

আসুন আমরা এখানে মোট ঈদ সংখ্যা হিসাব করি —

বছরে ৫২ টি শুক্রবার +ঈদুল ফিতর ১দিন আরাফার ১দিন +কোরবানীর ১দিন+ আইয়্যামে তাশরীক ৩ দিন। (৫২+১+১+১+৩=৫৮)

আমরা পেয়ে গেলাম বছরে শুধু দুইটা ঈদ নয় বরং সর্বমোট প্রায় ৫৮টি ঈদ রয়েছে।তাই যারা ঈদে মিলাদুন্নাবীকে অস্বীকার করতে গিয়ে বলে থাকে দুইটা ঈদ ছাডা আর কোন ঈদ নাই, তারা মুলত ইসলামের শত্রু।

৪.এমনকি কোরআনে আরো একটা ঈদ পাওয়া যায়

قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيدًا لِّأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِّنكَ ۖ 

🕋 মরিয়ম তনয় ঈসা (عليه السلام) আরয করলেন, ‘হে আমাদের রব! আমাদের উপর আকাশ থেকে একটা ‘খাদ্য-ভর্তি খাঞ্চা’ অবতারণ করুন, যা আমাদের জন্য ঈদ হবে-আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্য এবং তা হবে আপনার নিকট থেকে নিদর্শন।

📌[কেরআন-সুরা মায়েদা, আয়াত নং ১১৪]

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment