নবীগণ সশরীরে জীবিত

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

নবীগণ
[আলায়হিমুস্ সালাম]
সশরীরে জীবিত
اِنْبَاهُ الْاَذْكِيَاءِ فِىْ حَيَاةِ الْاَنْبِيَآءِ
[عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ]

মূল
ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূত্বী
[রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি]

বঙ্গানুবাদ
অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ
মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল-আযহারী

সম্পাদনা
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান
মহাপরিচালক, আনজুমান রিসার্চ সেন্টার

মুখবন্ধ
বিসমিল্লাহির রাহ্মানির রাহীম
নাহমাদুহু ওয়ানুসাল্লী ওয়া নুসাল্লিমু আলা হাবীবিল করীম
ওয়া ‘আলা-আ-লিহী ওয়া সাহ্বিহী আজমা‘ঈন

নবীকুল সরদার রসূলগণের ইমাম আমাদের আক্বা ও মাওলা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য সকল নবী ও রসূলগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- তাঁরা ওফাত বরণের পরও সশরীরে জীবিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, নবীগণের শরীরকে গ্রাস করা যমীনের উপর আল্লাহ্ তা‘আলা হারাম করে দিয়েছেন। তিনি আরো এরশাদ করেছেন, আমার উপর দুরূদ ও সালাম প্রেরণকারীদের দুরূদ ও সালাম আমি শুনতে পাই। হাদীস শরীফ দ্বারা একথাও প্রমাণিত যে, পূর্ণভক্তি ও ভালবাসা সহকারে দুরূদ-সালাম প্রেরণকারীদের দুরূদ ও সালাম তিনি নিজে শুনেন ও গ্রহণ করেন, আর অন্যান্যদের দুরূদ ও সালাম তাঁর নিকট ফিরিশ্তাগণ পৌছিয়ে দেন। তখন তিনি ইচ্ছা করলে গ্রহণ করেন, নতুবা তা তাঁর পবিত্র দরবারে গ্রহণযোগ্য হয় না। এ দুরূদ ও সালাম পাঠকগণ বিভিন্নভাবে এর বদৌলতে উপকৃত হন। একটি বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ দ্বারা একথা প্রমাণিত হয় যে, জুমার দিনে কিংবা জুমার রাতে নবী করীমের উপর একশ’ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করে একশটা চাহিদা পূরণ হয়, সত্তরটা আখিরাতের এবং ত্রিশটা দুনিয়ার আর একজন ফেরেশতা নিয়োজিত হন, যিনি হুযূর-ই আক্রামের রওযা শরীফে তা এমনভাবে পৌঁছিয়ে থাকেন, যেভাবে পৃথিবীবাসীদের নিকট তাদের প্রতি প্রেরিত হাদিয়া পৌঁছানো হয়, ইত্যাদি। আর অন্যান্য নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর হায়াতও বিশুদ্ধ হাদীসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়। যেমন- হুযূর-ই আক্রাম মি’রাজ শরীফে যাবার সময় হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে প্রথমে তাঁর কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখেছেন। তারপর তিনি বায়তুল মুক্বাদ্দাসে সমস্ত নবীর সাথে হুযূর-ই আক্রামের ইমামতিতে নামায পড়েছেন। তারপর প্রতিটি আসমানে কতিপয় নবী আলায়হিমুস্ সালাম হুযূর-ই আক্রামকে সম্বর্ধনা জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন। ইত্যাদি। একটি হাদীস শরীফে আছে, হুযূর-ই আক্রাম এরশাদ করেন, যখন কেউ তাঁর উপর দুরূদ-সালাম প্রেরণ করে, তখন তাঁর রূহ মুবারককে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে ফিরিয়ে দেন, যেন তিনি ওই দুরূদ পাঠকের সালাত ও সালামের জবাব দেন।
উল্লেখ্য, প্রথমোক্ত সব বিষয়ে বর্ণিত অনেক বিশুদ্ধ হাদীস তো বিশ্ববিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর ‘ইম্বাহুল আযকিয়া ফী হায়াতিল আম্বিয়া’ [নবীগণ (আলায়হিমুস্ সালাম) সশরীরে জীবিত]-তে লিপিবদ্ধ করেছেন। আরো সুখের বিষয় যে, শেষোক্ত হাদীস, যাতে দুরূদ ও সালাম প্রেরণকারীদের দুরূদ ও সালামের জবাব দানের জন্য হুযূর আক্রামের রূহ তাঁকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা এরশাদ হয়েছে, এ মহান বাণীর সর্বমোট ষোলটি হৃদয়গ্রাহী সপ্রমাণ ব্যাখ্যা দু’টি বিশেষ পরিচ্ছেদে দিয়েছেন; যেগুলো প্রতিটি উম্মতের ঈমানকে আরো সজীব করে দেয়-নিঃসন্দেহে।
তাই, ইমাম সুয়ূতীর এ মহা মূল্যবান কিতাবের বঙ্গানুবাদ করে প্রকাশ করা যুগের এক বিশেষ চাহিদা ছিলো। এ চাহিদা পূরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন অধ্যাপক মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আল-আযহারী এবং আনজুমান রিসার্চ সেন্টার ও আন্জুমান-এ রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ।
বলাবাহুল্য, অধ্যাপক মাওলানা আযহারী সাহেব কিতাবটার বঙ্গানুবাদ করেছেন আর রিসার্চ সেন্টার সেটার সম্পাদনা ও কম্পোজ ইত্যাদির ব্যবস্থা করেছে। সর্বোপরি, আনজুমান প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ সেটা সুন্দর অবয়বে প্রকাশ করে অতি সুলভ মূল্যে সম্মানিত পাঠক সমাজের সমীপে উপস্থাপন করছে। কিতাবখানা পাঠক সমাজে বহুলভাবে সংগৃহীত ও সমাদৃত হোক- এটাই একান্তভাবে কামনা করছি। ইতি-
সালামান্তে-

(মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান)
মহাপরিচালক, আন্জুমান রিসার্চ সেন্টার,
আলমগীর খানক্বাহ শরীফ, ষোলশহর, চট্টগ্রাম

হযরতুল আল্লামা ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূত্বী
আলায়হির রাহমাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইমাম হাফেয সুয়ূত্বী রাহিমাহুল্লাহর পূর্ণনাম-‘জালাল উদ্দীন আবদুর রহমান ইবনুল কামাল, আবূ বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সা-বিক্বুদ্দীন ইবনুল ফখর ওসমান ইবনে নাযিরুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে শায়খ হুমাম উদ্দীন। তাঁর জন্ম ১ রজব, ৮৪৯হিজরী রবিবার রাতে হয়েছিলো। ‘খুদ্বায়রী’ ও ‘আস্ সুয়ূত্বী, ‘সুয়ূত্বী’ সংক্ষেপে এ দু’টি সম্পর্কজনিত শব্দও তাঁর নামের সাথে সংযোজন করা হয়।
তাঁর বংশীয় পরম্পরা এক অনারবীয় খান্দান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তিনি তাঁরই লিখিত কিতাব ‘হুসনুল মুহা-দ্বারাহ্ ফী- আখবা-রি মিসর ওয়াল ক্বাহেরাহ্’য় আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘‘আমাকে এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বলেছেন, আমার পিতা রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বর্ণনা করতেন যে, আমাদের পূর্বপুরুষ (বংশের মূল পুরুষ) একজন ‘আজমী’ (অনারবীয়) ছিলেন এবং পূর্বাঞ্চলীয় লোক ছিলেন। ইমাম সুয়ূত্বীর খান্দান মিশরে আসার পূর্বে বাগদাদের মহল্লা ‘খুদ্বায়রিয়্যাহ্’য় বসবাস করতেন। এ মহল্লা বাগদাদের পূর্ব প্রান্তে ইমাম-ই আ’যম রাহিমাহুল্লাহু তা‘আলার মাযার শরীফের নিকটে অবস্থিত। ‘খুদ্বায়রী’ সম্পর্কবাচক উপাধির কারণ এটাই। ইমাম সুয়ূতীর জন্মের কয়েক পুরুষ পূর্বে এ খান্দান ইরাক থেকে মিশর এসেছেন এবং মিশরের ‘আস্য়ূত্ব’ শহরে বসবাস করতেন। সেটার নামও ‘খুদ্বায়রিয়্যাহ্’ রেখে দেন।

ইমাম সুয়ূত্বীর পিতা আস্য়ূত্ব থেকে কায়রো চলে যান। সেখানে তিনি ‘ইবনে তূ¡লূন জামে মসজিদ’-এ খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। সাথে সাথে শায়খূনী জামে মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসায় ‘ফিক্বহ’র ওস্তাদ হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ৮৫৫ হিজরীতে তাঁর ইনতিক্বাল হয়। তখন ইমাম সুয়ূত্বীর বয়স পাঁচ কিংবা ছয় বছর ছিলো। তখন তাঁর অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তাঁর পিতার এক সূফী বন্ধু নিয়েছিলেন। ইমাম সুয়ূত্বী ৮ বছর বয়সে ক্বোরআন করীম হেফয করে নিয়েছিলেন। তারপর তিনি নাহ্ভ ও ফিক্বহ্র ‘মতন’ মুখস্থ করতে মশগুল হন। ইমাম সুয়ূত্বী তাঁর যুগের বহু ওস্তাদ ও মাশাইখ থেকে জ্ঞানার্জন করেন। তাঁদের অধিকাংশের উল্লেখ (আলোচনা) তিনি তাঁর ‘হুসনুল মুহা-দ্বারাহ্’য় করেছেন।
ইমাম সুয়ূত্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর যুগে প্রচলিত সমস্ত আরবী ও ইসলামী বিষয়াদির জ্ঞান অর্জন করেন এবং সেগুলোতে পূর্ণ দক্ষতা লাভ করেন। ওইসব বিষয়ে তাঁর লেখনী (গ্রন্থ-পুস্তক)ও রয়েছে। তাঁর প্রণীত গ্রন্থ পুস্তকাদির আধিক্য ও বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর লেখনী অনুসারে তাঁরপর তাঁর মত আর কাউকে দেখা যায়না; এমনকি পূর্ববর্তীদের মধ্যেও হয়তো তাঁর মতো দু/একজন পাওয়া যায় কিনা সংশয় রয়েছে।
তিনি হাদীস ও হাদীস শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়, তাফসীর ও আল্লাহর কিতাব (ক্বোরআন মজীদ) সম্পর্কিত অন্যান্য বিষয়, ফিক্বহ্ ও এর উসূল, কালাম, জদল, ইতিহাস, অনুবাদ, তাসাওফ, সাহিত্য, অলংকার (মা‘আনী, বয়ান ও বদী’) নাহভ, সরফ, অভিধান ও মানত্বিক বিষয়ে শত-সহস্র কিতাব প্রণয়ন করেন। তিনি তাঁর ‘হুস্নুল মুহাদ্বারাহ্’য় লিখেছেন-
وَبَلغَتْ مُؤَلَّفَاتِىْ الْانَ ثَلاَثَمِائَةِ كِتَابٍ سِوى مَا غَسَلْتُه اَوْ رَجَعْتُ عَنْهُ
অর্থাৎ এ পর্যন্ত আমার লিখিত কিতাবগুলোর সংখ্যা তিনশ’ হয়ে গেছে। এগুলোর মধ্যে ওইসব কিতাব নেই, যেগুলো আমি বিনষ্ট করে ফেলেছি কিংবা যেগুলো আমি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।
কিতাবগুলোর এ সংখ্যা ‘হুস্নুল মুহা-দ্বারাহ্’ লিখার সময়কার ছিলো। আর সম্ভবত এত সংখ্যক কিতাব তিনি পরবর্তীতেও লিখেছেন। ‘মুস্তাশ্রিক্ব ফিলোগুল’ তাঁর লিখিত সমস্ত কিতাব গণনা করেছেন। তাঁর পরিসংখ্যান অনুসারে ইমাম সুয়ূত্বীর লিখিত কিতাবগুলোর সংখ্যা ৫৬১।

তাঁর কিতাবগুলোর মধ্যে এমন বহু কিতাব রয়েছে, যেগুলো কয়েক খণ্ডে বিন্যস্থ। তন্মধ্যে কিছু কিতাব এমনও রয়েছে, যেগুলো ‘দাওয়া-ইরে মা‘আ-রিফ’ (জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সম্ভার)-এর মর্যাদা রাখে। পুস্তক প্রণয়ন ও রচনার ময়দানে আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁকে যেই সুবর্ণ সামর্থ্য দান করেছেন, তা খুব কম সংখ্যক লোকই পেয়েছেন। আরবী ও ইসলামী জ্ঞানের এমন কোন রাজপথ নেই, যাতে তাঁর পদচারণা পাওয়া যায় না। তাঁকে ‘হাত্বিবুল লায়ল’ (যাচাই বিহীন লোক) বলে যাঁরা সমালোচনা করেন তারাও জ্ঞান, গবেষণা ও বিশ্লেষণের উপত্যকায় তাঁর সাহায্য ছাড়া এক কদমও চলতে পারে না। বাস্তবাবস্থা হচ্ছে- বেশীর ভাগ পূর্ববর্তী ইমামগণের মতো ইমাম সুয়ূতীরও দু’টি যোগ্যতাপূর্ণ অবস্থান রয়েছে- একটি হচ্ছে জ্ঞান-ভাণ্ডার ও লেখকের আর অপরটি হচ্ছে- গভীর গবেষক ও বিশ্লষক এবং সুক্ষ্মদর্শী (মুহাক্বক্বিক্ব ও মুদাক্বক্বিক্ব)-এর। ইমাম সুয়ূতীর জন্য সাধারণভাবে ‘হাত্বিবুল লায়ল’ (নির্বিচারে উদ্ধৃতকারী লেখক) উপাধি ব্যবহারকারীগণ তাঁর এ দু’টি মর্যাদাপূর্ণ স্তরের মধ্যে পার্থক্য করতে অক্ষম এবং র্প্বূবর্তী ইমামগণের উন্নত রুচি ও পদ্ধতি সম্পর্কেও কম অবগত।

ইমাম জালাল উদ্দীন সুয়ূত্বী দীর্ঘদিন যাবৎ প্রসিদ্ধ ‘খানক্বাহ্-ই বীবার্সিয়া’র ‘ওয়াক্বফ এস্টেট’-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তদানীন্তনকালে এটা মিশরের সর্বাপেক্ষা বড় খান্ক্বাহ্ ছিলো; কিন্তু যখন সুলতান মুহাম্মদ ক্বাতবাঈ মিশরের শাসন-ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন ভণ্ড সূফীদের একটি দল সুলতানের নিকট ইমাম সুয়ূত্বীর বিপক্ষে কিছু অমূলক অভিযোগ করেছিলো। এতদ্ভিত্তিতে সুলতান তাঁকে উক্ত পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন। এ অপসারণের পর থেকে তিনি দুনিয়া ও এর সমস্ত সম্পর্ক থেকে নিজে নিজে অবসর গ্রহণ করেন এবং লেখালেখিতে আত্মনিয়োগ করেন। এমন একাকীত্বের মধ্যে ইমাম সুয়ূতী তাঁর বেশীরভাগ কিতাব রচনা করেন। তাঁর এ একাক্বীত্ব ও জ্ঞানগত ই’তিকাফ তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। এ বিশ বছর ব্যাপী সময়সীমায় তিনি লোকজনের সাথে মেলামেশা পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এমনকি তাঁর ঘরের নীল নদের দিকে খোলা হয় এমন জানালাগুলোও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইসলামী ও আরবী জ্ঞানচর্চা, এগুলো নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং গ্রন্থ-পুস্তক রচনা ও প্রণয়নের মধ্যে অতিবাহিত করেন। ৯১১ হিজরীতে এ যুগশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ও গুণী ইমামের ইনতিক্বাল হয়েছে। আল্লাহ্ তাঁর উপর রহমতের বারি বর্ষণ করুন।
আ-মী-ন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيْمِ

নবীগণ [আলায়হিমুস্ সালাম] সশরীরে জীবিত
اِنْبَاهُ الْاَذْكِيَاءِ فِىْ حَيَاةِ الْاَنْبِيَآءِ
عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ

لِلْإِمَامِ جَلاَلُ الدِّيْنِ السُّيُوْطِىِّ رَحِمَهُ اللهُ تَعَالى

الحمد لله وسلام على عباده الذين اصطفى . وقع السؤال : قد اشتهر أن النبي صلى الله عليه وسلم حي في قبره وورد أنه صلى الله عليه وسلم قال : عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللَّهُ عَلَيَّ رُوحِي حَتَّى أَرُدَّ  عَلَيْهِ السَّلَامَ. ( ) فظاهره مفارقة الروح [ له ] في بعض الأوقات فكيف الجمع ؟ وهو سؤال حسن يحتاج إلى النظر والتأمل .

সকল প্রশংসা আল্লাহ্ তা‘আলার নিমিত্তে। সালাম ও তাঁর ওই সমস্ত বান্দার উপর, যাদেরকে তিনি চয়ন করে নিয়েছেন। সকলের নিকট একথা প্রসিদ্ধ যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম নিজ রওযা শরীফে জীবিত; কিন্তু অন্য একটি বর্ণনায় দেখা যায- প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: “যখন কোন ব্যক্তি আমার প্রতি সালাম প্রেরণ করে তখন আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতি আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিই।”
এ হাদীসের বাহ্যিক অর্থ দ্বারা বুঝা যায় যে, প্রিয়নবীর রূহ মুবারক তাঁর দেহ মুবারক থেকে কখনও কখনও পৃথক ও বিচ্ছিন্ন হয়।
সুতরাং এ উভয় হাদিসের মধ্যকার সমন্বয় সাধন কিভাবে হবে?
ইমাম সুয়ূতী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এ প্রশ্নের উত্তরে বলছেন,
‘‘এটি খুব সুন্দর একটি প্রশ্ন, যা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করা জরুরী।

فأقول : حياة النبي صلى الله عليه وسلم في قبره هو وسائر الأنبياء معلومة عندنا علما قطعيا لما قام عندنا من الأدلة في ذلك وتواترت [به] الأخبار، وقد ألف البيهقي جزءا في حياة الأنبياء في قبورهم ، فمن الأخبار الدالة على ذلك:

সুতরাং আমি বলছি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবী-রাসূলগণের নিজ নিজ রওযা শরীফে জীবিত থাকার বিষয়টি আমাদের সকলের নিকট সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত ও সর্বজন স্বীকৃত। কেননা এ বিষয়ে আমাদের নিকট অনেক দলীল ও প্রমাণ বিদ্যমান এবং এ ক্ষেত্রে প্রমাণিত দলীলগুলো ‘মুতাওয়াতির’ পর্যায়ের। অর্থাৎ যেগুলো এত অধিক সংখ্যক রাভী (বর্ণনাকারী) বর্ণনা করেছেন, যাতে কোন ধরনের সন্দেহের অবকাশ থাকে না।
আর ইমাম বাইহাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হিও নবীগণ আলায়হিস্ সালাম নিজেদের রওযা শরীফে জীবিত থাকার প্রমাণ স্বরূপ একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। পুস্তিকাটির নাম হল: حَيَاةُ الْاَنْبِيَآءِ عَلَيْهِمُ السَّلاَمُ فِىْ قُبُوْرِهِمْ (হায়াতুল আম্বিয়া আলাইহিমুস্ সালামু ফী ক্বূবূরিহিম।)
এ বিষয়ের প্রমাণ স্বরূপ বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্য থেকে নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা গেলঃ

ما أخرجه مسلم عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : أَتَيْتُ – وفي رواية : مررت – عَلَى مُوسَى لَيْلَةً أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ. ( )

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহতে সাহাবী হযরত আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “যে রাত্রিতে আমাকে ইসরা ও মি’রাজ করানো হলো, ওই রাত্রিতে আমি এলাম, অন্য এক বর্ণনায় আছে আমি, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর কবর শরীফের পাশ দিয়ে গেলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম লাল বর্ণের টিলার পাশে স্বীয় কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন।”

وأخرج أبو نعيم في الحلية عن ابن عباس . اَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِقَبْرِ مُوْسى عَلَيْهِ السَّلاَمُ وَهُوَ قَآئِمٌ يُصَلِىّْ فِيْهِ ( )

আবূ নু‘আয়ম ইস্পাহানী তাঁর রচিত ‘হুলয়াতুল আওলিয়া’ নামক প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রন্থে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন:
“নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম গমন করেছেন হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম-এর কবর শরীফের পাশ দিয়ে। আর তিনি নিজ কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন।”

وأخرج أبو يعلى في مسنده، والبيهقي في كتاب حياة الأنبياء عن أنس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اَلْأَنْبِيَآءُ اَحْيَآءٌ فِىْ قُبُوْرِهِمْ يُصَلُّوْنَ

আবূ ইয়া’লা তাঁর ‘মুসনাদ’-এ এবং ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর ‘‘হায়াতুল আন্বিয়া” নামক কিতাবে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম নিজেদের কবর শরীফে জীবিত এবং তাঁরা সেখানে নামায আদায় করেন।

وأخرج أبو نعيم في الحلية قَالَ : يُوسُفُ بْنُ عَطِيَّةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ ثَابِتًا، يَقُولُ لِحُمَيْدٍ الطَّوِيلِ : ” هَلْ بَلَغَكَ -يَا أَبَا عُبَيْدٍ- أَنَّ أَحَدًا يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ إِلا الأَنْبِيَاءَ؟ ” قَالَ : لا. ( )

আবূ নু‘আয়ম তাঁর ‘হুল্য়াতুল আউলিয়া’তে ইয়ূসুফ ইবনে আ’ত্বিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, “আমি হযরত সাবেত আল্-বুনানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে হুমাইদ আত্ত্বাভীলকে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি: আপনার নিকট কি এমন কোন তথ্য আছে, যা প্রমাণ করে যে, নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম ব্যতীত অন্য কেউ নিজ কবরে নামায পড়েন?’’ তিনি বললেন, ‘‘না’’।

وأخرج أبو داود والبيهقي عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ ، فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ ، كَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ ؟ – يَعْنِى بَلِيتَ – فَقَالَ : إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ.

ইমাম আবূ দাঊদ এবং ইমাম বাইহাক্বী রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হযরত আওস ইবনে আওস আস্ সাক্বাফী থেকে বর্ণনা করেন:
“প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, নিশ্চয় তোমাদের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো- জুমার দিন। সুতরাং এদিনে তোমরা আমার প্রতি অধিক পরিমাণে দুরূদ শরীফ প্রেরণ কর। কেননা, তোমাদের দুরূদ শরীফগুলো আমার নিকট পেশ করা হয়। সাহাবীগণ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুম বললেন, ‘‘এয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার নিকট আমাদের সালাত কিভাবে পেশ করা সম্ভব? কেননা আপনি তো ইন্তিকাল করবেন এবং আপনার দেহ মাটি খেয়ে ফেলবে?’’ তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাদের এ ভুল ধারণাকে সংশোধন করে দিয়ে বললেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা হারাম করে দিয়েছেন মাটির উপর নবীগণের দেহ মুবারককে গ্রাস করা।’’

وأخرج البيهقي في شعب الإيمان ، والأصبهاني في الترغيب عَنِ الأَعْمَشِ , عَنْ أَبِي صَالِحٍ , عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – أَنَّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ نَائِيًا مِنْهُ أُبْلِغْتُهُ “

ইমাম বায়হাক্বী ‘শু‘আবুল ঈমান’ গ্রন্থে এবং ইস্পাহানী “আত্ তারগীব” নামক কিতাবে হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেনÑ
“হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি আমার কবরের নিকট উপস্থিত থেকে আমার উপর সালাত পাঠ করে, আমি তার সালাত শুনতে পাই (ও জবাব দিই)। আর যে অনুপস্থিত থেকে আমার প্রতি সালাত (সালাম) প্রেরণ করে তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়।

وأخرج البخاري في تاريخه عن عَمَّارَ بْنَ يَاسِرٍ , يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : “إِنَّ اللَّهَ أَعْطَانِي مَلَكًا مِنَ الْمَلَائِكَةَ يَقُومُ عَلَى قَبْرِي إِذَا أَنَا مِتُّ فَلَا يُصَلِّي عَبْدٌ عَلَيَّ صَلَاةً إِلَّا قَالَ : يَا مُحَمَّدُ , فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ يُصَلِّي عَلَيْكَ يُسَمِّيهِ بِاسْمِهِ وَاسْمِ أَبِيهِ ، فَيُصَلِّي اللَّهُ مَكَانَهَا عَشْرًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” ( )

ইমাম বোখারী তাঁর ‘তারিখ-এ কাবীর’ গ্রন্থে হযরত আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ‘‘নিশ্চয় আমাকে আল্লাহ তা‘আলা এমন একজন ফেরেশতা দিয়েছেন, যে আমার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে যখন আমি ইনতিকাল করবো তখন থেকে, অতঃপর যে কোন বান্দা আমার উপর সালাত পাঠ করবে, সাথে সাথে সে আমাকে তা বলে দেবে, ‘হে আল্লাহর মহা প্রশংসিত মাহবূব! অমুকের পুত্র অমুক, আপনার প্রতি দুরূদ প্রেরণ করছে। ওই ফিরিশতা দুরূদ প্রেরণকারীর নাম ও তার পিতার নামসহ উল্লেখ করবে, অতঃপর আল্লাহ্ তা‘আলা সেটার বিনিময়ে দশটি রহমত নাযিল করবেন। আল্লাহ্ তাঁর প্রতি সালাম-সালাম নাযিল করুন।

وأخرج البيهقي في حياة الأنبياء، والأصبهاني في الترغيب عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال : إن أقربكم مني يوم القيامة في كل موطن أكثركم عليَّ صلاة في الدنيا ، من صلى عليَّ في يوم الجمعة وليلة الجمعة مائة مرة قضى الله له مائة حاجة، سبعين من حوائج الآخرة ، وثلاثين من حوائج الدنيا ، ثم يوكل الله بذلك ملكا يدخله في قبري كما يدخل عليكم الهدايا. ( )

ইমাম বায়হাক্বী ‘হায়াতুল আন্বিয়া’তে এবং ইমাম ইস্পাহানী ‘আত্ তারগীব’-এ হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর জুমার দিনে ও রাতে একশ’ বার দুরূদ পাঠ করবে এর বিনিময়ে তার একশ’টি চাহিদা পূরণ করা হবে- সত্তরটি তার আখিরাতের চাহিদা ও প্রয়োজন এবং ত্রিশটি তার দুনিয়ার চাহিদা ও প্রয়োজন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা এর জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োগ করবেন, যে আমার নিকট দুরূদসমূহ ওইভাবে পেশ করবে, যেভাবে দুনিয়াতে তোমাদের নিকট উপহার-উপঢৌকন পেশ করা হয়। নিশ্চয় আমার জ্ঞান আমার ইন্তিকালের পরও ওইরূপ সচল বিদ্যমান ও অক্ষুন্ন থাকবে যেভাবে আমার যাহেরী হায়াতে আছে।

ولفظ البيهقي : يخبرني من صلى علي باسمه ونسبه ، فأثبته عندي في صحيفة بيضاء. ( )
আর ইমাম বায়হাক্বীর বর্ণনা মতে- “আমার নিকট ওই ব্যক্তির নাম এবং পিতার নামও উল্লেখ করা হবে, যে আমার উপর দুরূদ পাঠ করবে। অত:পর তা আমি আমার নিকট রক্ষিত শ্বেত সহীফায় (খাতায়) লিপিবদ্ধ করে রাখি।”

وأخرج البيهقي عَنْ ثَابِتٍ , عَنْ أَنَسٍ , رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لا يُتْرَكُونَ فِي قُبُورِهِمْ بَعْدَ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً , وَلَكِنَّهُمْ يُصَلُّونَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يُنْفَخَ فِي الصُّورِ “( )
ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলাইহি হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
“নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন: নবীগণ আলায়হিমুস্ সালামকে তাঁদের ইন্তিকালের পর কবরে চল্লিশ রাতের বেশী রাখা হয়না, বরং তাঁরা আল্লাহ তা‘আলার কুদরতের সামনে নামায আদায় করতে থাকেন- ক্বিয়ামতের পূর্বে শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার আগ পর্যন্ত।

فَقَدْ رَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ , فِي الْجَامِعِ ، قَالَ : قَالَ شَيْخٌ لَنَا , عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، قَالَ : ” مَا مَكَثَ نَبِيُّ فِي قَبْرِهِ أَكْثَرَ مِنْ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً حَتَّى يُرْفَعَ. ( )
হযরত সুফিয়ান সাওরী তাঁর ‘আল্ জা’মে’তে লিখেন: একজন শায়খ আমার নিকট হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করে বলেন: কোন নবী তাঁর কবরে চল্লিশ দিনের বেশী অবস্থান করেননি; বরং তাঁরা তাঁদের কবর থেকে উত্তোলন পর্যন্ত জীবিতই থাকবেন।”

قال البيهقي : فَعَلى هَذَا يَصِيرُونَ كَسَائِرِ الأَحْيَاءِ , يَكُونُونَ حَيْثُ يُنْزِلُهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ “.
ইমাম বায়হাক্বী বলেন, “উপরোক্ত বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা ইন্তিক্বালের পরও অন্যান্য জীবিতদের ন্যায় জীবিত, আল্লাহ্ তাদেরকে যেখানে অবস্থান করাবেন, তাঁরা সেখানে অবস্থান করতে থাকবেন।”
ثم قال البيهقي وَلِحَيَاةِ الأَنْبِيَاءِ بَعْدَ مَوْتِهِمْ صَلَوَاتُ اللَّهِ عَلَيْهِمْ شَوَاهِدُ مِنَ الأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةِ مِنْهَا .، فذكر قصة الإسراء في لقيه جماعة من الأنبياء وكلمهم وكلموه. ( )
অত:পর ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেন, “নিশ্চয় নবীগণ আলায়হিমুস্ সালাম-এর ইন্তিক্বালের পরও জীবিত থাকার স্বপক্ষে অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়।” প্রমাণ স্বরূপ তিনি ইসরা ও মি’রাজের ঘটনা এবং এ রাতে নবীগণের সাথে তাঁর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কথা এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাঁদের আলায়হিস্ সালাম কথা বলার বিশুদ্ধ ঘটনা ও রেওয়ায়াতগুলো বর্ণনা করেন।

وأخرج حديث أبي هريرة في الإسراء وفيه: عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : (… وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنَ الأَنْبِيَاءِ فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّى فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَإِذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَائِمٌ يُصَلِّى أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ – يَعْنِي : نَفْسَهُ – فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَأَمَمْتُهُمْ . ( )

ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি প্রিয় নবীর ইসরা ও মি’রাজের ঘটনা বর্ণনার ক্ষেত্রে হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-এর রেওয়ায়তটি উল্লেখ করেন। তাতে রয়েছেÑ “আমি আমাকে দেখতে পেলাম একদল সম্মানিত নবীর দলে। আর হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে দেখলাম তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। দেখলাম তিনি উপমাযোগ্য ব্যক্তি। তাঁর চুল কোঁকড়ানো দেখে মনে হচ্ছিল- তিনি ‘শানুয়া’ সম্প্রদায়ের লোক।
আবার দেখলাম হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। ওদিকে হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালামও দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছেন। তিনি আলায়হিস্ সালাম দেখতে প্রায় আমার মতই। অত:পর নামাযের সময় এল। আর আমি তাঁদের সকলের ইমাম হিসেবে নামায আদায় করলাম।”

وأخرج حديث : ” عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” إِنَّ النَّاسَ يُصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ . ” ( )
ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আনহু নিম্নের হাদীসের আলোকে বলেছেন: প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনÑ“ক্বিয়ামতের দিনে মানুষ সংজ্ঞাহীন হয়ে যাবে। তখন আমিই সর্বপ্রথম সজাগ হবো।”

وقال : هذا إنما يصح على أن الله رد على الأنبياء أرواحهم وهم أحياء عند ربهم كالشهداء ، فإذا نفخ في الصور النفخة الأولى صعقوا فيمن صعق ثم لا يكون ذلك موتا في جميع معانيه إلا في ذهاب الاستشعار ، انتهى .
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেনÑ এ হাদীস শরীফ একথাও প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তা‘আলা নবীগণের প্রতি তাঁদের রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে জীবিত, শহীদগণের ন্যায়। অত:পর যখন শিঙ্গায় প্রথম ফুঁক দেয়া হবে তখন তাঁরাও অন্যান্যদের ন্যায় সংজ্ঞাহীন হয়ে যাবেন। এটি কোন দিক থেকেই মৃত্যু নয়; বরং শুধু অনুভূতি শক্তি লোপ পাওয়া মাত্র।
وأخرج أبو يعلى عن أبي هريرة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول “وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَيَنْزِلَنَّ عِيسَى بْنُ مَرْيَمَ ثُمَّ لَئِنْ قَامَ عَلى قَبْرِي فَقَالَ : يَا مُحَمَّدُ ! لأُجِيبَنَّهُ ( )
আবূ ইয়া’লা তাঁর মুসনাদে হযরত আবূ হোরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- “যে মহান রবের ক্বুদরতের হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ করে বলছি- নিশ্চয় হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম অবতরণ করবেন। অত:পর তিনি যদি আমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে আমাকে “হে হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা!’’ বলে আহ্বান করেন, তাহলে আমি নিশ্চয় তাঁর আহ্বানে সাড়া দেব।

وأخرج أبو نعيم في دلائل النبوة عن سَعِيد بْنَ الْمُسَيَّبِ يَقُولُ: لقد رأيتني ليالي الْحَرَّة وما في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم أحدٌ غيري ، ما يأتي وقت صلاةٍ إلا سمعت الآذان مِن القبْر. ( )

হযরত আবূ নু‘আয়ম ইস্পাহানী তাঁর “দালায়েলুন্ নুবূয়্যাত”-এ হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনÑ ‘হাররা’-এর রাতগুলোতে আমি মসজিদে নবভী শরীফে আশ্রয় নিলাম। তখন মসজিদে নবভী শরীফে আমি ছাড়া আর কেউ ছিল না। কিন্তু যখনই নামাযের সময় হতো, তখন আমি প্রিয়নবীর কবর শরীফ থেকে আযান শুনতে পেতাম।
وأخرج زبير بن بكار في “أخبار المدينة” عن سعيد بن المسيب، قال: لم أزل أسمع الأذان والإقامة من قبر رسول الله صلى الله عليه وسلم أيام الحرة حتى عاد الناس. ( )
হযরত যুবাইর ইবনে বাক্কার তাঁর ‘আখ্বারুল মাদিনা’তে হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেন : তিনি বলেন, আমি ‘র্হারা’-এর রাতগুলোতে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর কবর শরীফে প্রতিটি নামাযের সময় আযান ও ইক্বামত শুনতে পেতাম। যতদিন পর্যন্ত মানুষ মদিনায় ফিরে আসেনি ততদিন পর্যন্ত তা শুনতে পেয়েছি।

وأخرج ابن سعد في الطبقات عن سعيد بن المسيب أنه كان يلازم المسجد أيام الحرة والناس يقتتلون قال : فَكُنْتُ إِذَا حَانَتِ الصَّلاَةُ أَسْمَعُ أَذَاناً يَخْرُجُ مِنَ الْقَبْرِ الشَّرِيفِ”. ( )

ইমাম ইবনে সা’দ তাঁর ‘আত্ ত্বাবাক্বাত’ নামক কিতাবে হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব থেকে বর্ণনা করেন: “তিনি র্হারা-এর দিনগুলোতে যখন অকাতরে মানুষ হত্যা করা হচ্ছিল তখন মসজিদে নববী শরীফে আত্মগোপন করেন। তিনি বলেন- যখনি নামাযের সময় উপস্থিত হতো তখন আমি কবর শরীফ থেকে আযানের শব্দ বের হতে শুনতাম।

وأخرج الدارمي في مسنده: عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، قَالَ: ” لَمَّا كَانَ أَيَّامُ الْحَرَّةِ لَمْ يُؤَذَّنْ فِي مَسْجِدِ النَّبِيِّ ثَلَاثًا، وَلَمْ يُقَمْ وَلَمْ يَبْرَحْ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ الْمَسْجِدَ، وَكَانَ لَا يَعْرِفُ وَقْتَ الصَّلَاةِ إِلَّا بِهَمْهَمَةٍ يَسْمَعُهَا مِنْ قَبْرِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم “، فَذَكَرَ مَعْنَاهُ . ( )
ইমাম দারেমী তাঁর ‘মুসনাদে দারেমী’তে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন-আমাদের নিকট মারওয়ান ইবনে মুহাম্মদ সা‘ঈদ ইবনে আবদুল আযীয-এর সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “আইয়্যামুল হাররা-এর ঘটনার সময় মসজিদে নবভী শরীফে আযান, ইক্বামত দেয়া হয়নি। হযরত সা‘ঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব এদিন-রাতগুলোতে মসজিদে নবভী শরীফের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছিলেন। তিনি নামাযের সময় সম্পর্কে কিছুই জানতে পারছেন না (অন্ধকার ও দরজাগুলো বন্ধ থাকার কারণে); কিন্তু যখনি নামাযের সময় হতো তখন প্রিয় নবীর রাওযা শরীফ থেকে একটি অস্পষ্ট শব্দ শুনতে পেতেন।
فهذه الأخبار دالة على حياة النبي صلى الله عليه وسلم وسائر الأنبياء.
উপরোল্লেখিত হাদীস ও বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং অপরাপর নবী-রাসূলগণ আলায়হিস্ সালাম তাঁদের নিজ নিজ কবর শরীফে সশরীরে জীবিত।

وقد قال تعالى في الشهداء : وَلاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُواْ فِي سَبِيلِ اللّهِ أَمْوَاتاً بَلْ أَحْيَاء عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ (آل عمران. الاية ১৬৯) والأنبياء أولى بذلك ، فهم أجل وأعظم ، وما نبي إلا وقد جمع مع النبوة وصف الشهادة ، فيدخلون في عموم لفظ الآية .
আল্লাহ তা‘আলা শহীদগণ সম্পর্কে পবিত্র ক্বোরআনে এরশাদ করেছেন: “যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত মনে কর না, বরং তারা জীবিত এবং তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তারা জীবিকা প্রাপ্ত।[সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১৬৯] আর নবীগণ আলায়হিস্ সালাম এ ক্ষেত্রে আরও অধিক যোগ্য ও হক্বদার। কেননা তাঁরা আলায়হিমুস্ সালাম শহীদদের থেকে অনেক বেশি সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। অন্যদিকে প্রায় সব নবীর মাঝে নুবূয়তের পাশাপাশি শাহাদাতের মর্যাদা এবং গুণাবলীও বিদ্যমান। (খুব কম নবীই আছেন, যাঁরা শাহাদাত বরণ করেন নি,) সুতরাং তাঁরা এ আয়াতের ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত।
وأخرج أحمد، وأبويعلى ، والطبراني، والحاكم في المستدرك، والبيهقي في دلائل النبوة عن ابن مسعود قال : لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ تِسْعًا إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قُتِلَ قَتْلا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ وَاحِدَةً، وَذَلِك بِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ اتَّخَذَهُ نَبِيًّا ، وَجَعَلَهُ شَهِيدًا . ( )

হযরত ইমাম আহমদ, আবূ ইয়া’লা ও ত্বাবরানী তাঁদের নিজ নিজ গ্রন্থে এবং হাকেম তাঁর ‘মুসতাদরাক’-এ ও বায়হাক্বী তাঁর ‘দালায়েলুন্ নুবূয়্যাত’-এ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
“প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে শহীদ করা হয়েছে এ মর্মে নয়বার শপথ করা আমার নিকট অধিক প্রিয় হবে, ‘তাঁকে শহীদ করা হয়নি’ মর্মে একবার শপথ করা থেকেও। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে যেমন নবী হিসেবে গ্রহণ করেছেন ঠিক তেমনি শহীদ হিসেবেও গ্রহণ করেছেন।

وأخرج البخاري ، والبيهقي: قَالَ عُرْوَةُ : كَانَتْ عَائِشَةُ ، تَقُولُ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي مَرَضِهِ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ : ” يَا عَائِشَةُ ، لَمْ أَزَلْ أَجِدُ أَلَمَ الطَّعَامِ الَّذِي أَكَلْتُ بِخَيْبَرَ ، فَهَذَا أَوَانُ انْقِطَاعِ أَبْهَرِي مِنْ ذَلِكَ السُّمِّ “( )

ইমাম বুখারী ও ইমাম বায়হাক্বী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বর্ণনা করেন, হযরত ওরওয়াহ্ বলেছেন, হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহা বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওই অসুস্থতার অবস্থায় বলছিলেন, যে অসুস্থতায় তিনি ইন্তিক্বাল করেছেন, হে আয়েশা, আমি এখনও ওই বিষমাখা খাদ্যের ব্যাথা অনুভব করছি, যা আমি খাইবারে খেয়েছিলাম। আর এটা হলো ওই বিষের কারণে আমার ঘাড়ের রগগুলোর বিচ্ছিন্ন হবার সময়।
فثبت كونه صلى الله عليه وسلم حيا في قبره بنص القرآن ، إما من عموم اللفظ ، وإما من مفهوم الموافقة.
এটা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম নিজ কবর শরীফে জীবিত- পবিত্র ক্বোরআনের সরাসরি ‘নাস্’ বা আয়াত দ্বারা অথবা শব্দের ব্যাপকতা দ্বারা অথবা অর্থের আনুকূল্য দ্বারা।

قال البيهقي في كتاب الاعتقاد : الأنبياء بعدما قبضوا ردت إليهم أرواحهم فهم أحياء عند ربهم كالشهداء.
ইমাম বায়হাক্বী ‘কিতাবুল ই’তিক্বাদ’-এ লিখেছেন, নবীগণ আলায়হিমুস্ সালামকে তাঁদের রূহগুলো কব্জ করার পর ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তাই তাঁরা শহীদগণের মতো আল্লাহর নিকট জীবিত।
وقال القرطبي في التذكرة في حديث الصعقة نقلا عن شيخه : الموت ليس بعدم محض ، وإنما هو انتقال من حال إلى حال. ( )
ইমাম কুরত্বুবী তাঁর “আত্ তায্কিরাহ্” কিতাবে ‘অজ্ঞান হওয়া’ (সা’ক্বাহ্) সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের আলোকে তাঁর শায়খ থেকে বর্ণনা করেন:
“মৃত্যু মানে একেবারে নি:শেষ, নিশ্চিহ্ণ বা অস্তিত্বহীন হয়ে যাওয়া নয়, বরং মৃত্যু হলো এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত হওয়া।

ويدل على ذلك أن الشهداء بعد قتلهم وموتهم أحياء يرزقون فرحين مستبشرين وهذه صفة الأحياء في الدنيا ، وإذا كان هذا في الشهداء فالأنبياء أحق بذلك وأولى.
তার প্রমাণ হলো- শহীদগণ তাঁদের কতল ও মৃত্যু হবার পরও তাঁরা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, রিযিকপ্রাপ্ত, আনন্দিত ও প্রফুল্ল, যা মূলত: পৃথিবীতে যারা বেঁচে আছে তাদেরই বৈশিষ্ট্য। আর যদি শহীদগণের এ সম্মান ও অবস্থা হয়, তাহলে নবীগণ এর আরও অধিক হক্বদার ও যোগ্য।”

وقد صح أن الله عز وجل قد حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء عليهم السلام. ( )
বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, মাটি নবীগণের দেহ মুবারককে স্পর্শ করে না।

وأنه صلى الله عليه وسلم اجتمع بالأنبياء ليلة الإسراء في بيت المقدس وفي السماء، ورأى موسى قائما يصلي في قبره وأخبر صلى الله عليه وسلم بأنه يرد السلام على كل من يسلم عليه.
আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মি’রাজ রজনীতে নবীগণের সাথে বাইতুল মুকাদ্দাস ও আসমানে সমবেত হয়েছেন। আবার তিনি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে দেখেছেন, তিনি স্বীয় কবর শরীফে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। আরও বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর কেউ যদি তাঁকে সালাম প্রদান করেন তিনি তার সালামের জবাব দেন।

إلى غير ذلك مما يحصل من جملته القطع بأن موت الأنبياء إنما هو راجع إلى أن غيبوا عنا بحيث لا ندركهم وإن كانوا موجودين أحياء، وذلك كالحال في الملائكة فإنهم موجودون أحياء ولا يراهم أحد من نوعنا إلا من خصه الله بكرامته من أوليائه ، انتهى.
এ ছাড়াও আরও অনেক হাদীস ও বর্ণনা পাওয়া যায়, যেগুলো দ্বারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, নবীগণের ওফাত হলো মূলত: আমাদের চক্ষু থেকে গোপন ও অদৃশ্য হয়ে যাওয়া। যার ফলে আমরা তাঁদেরকে দেখিনা, যদিওবা তাঁরা বিদ্যমান, জীবিত। যে অবস্থাটি ফেরেশতাদের ক্ষেত্রেও লক্ষ্যণীয়। তাঁরা মওজুদ আছেন ও জীবিত আছেন; কিন্তু তাঁদেরকে আমাদের শ্রেণীর কোন সাধারণ লোক দেখতে পায়না, একমাত্র যাঁদেরকে আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় অনুগ্রহ দ্বারা বিশেষিত করেছেন এমন আউলিয়ায়ে কেরামই একমাত্র ফেরেশতাদের দেখতে পান।
وسئل البارزي عن النبي صلى الله عليه وسلم هل هو حي بعد وفاته ؟ فأجاب : إنه صلى الله عليه وسلم حي.
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ইমাম বারেযীকে জিজ্ঞেস করা হলো: নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর ওফাতের পরও জীবিত? তিনি জবাবে বললেনÑ নিশ্চয় তিনি জীবিত।

قال الأستاذ أبو منصور عبد القاهر بن طاهر البغدادي الفقيه الأصولي شيخ الشافعية في أجوبة مسائل “الجاجر ميين” قال : المتكلمون المحققون من أصحابنا أن نبينا صلى الله عليه وسلم حي بعد وفاته ، وأنه يسر بطاعات أمته ويحزن بمعاصي العصاة منهم ، وأنه تبلغه صلاة من يصلي عليه من أمته ،
ইমাম আবূ মনসুর আবদুল ক্বাহের ইবনে তাহের আল্ বাগদাদী, যিনি একজন ফক্বীহ ও উছুল শাস্ত্রবিদ এবং শাফে‘ঈ মাজহাবের প্রসিদ্ধ শেখ ছিলেন, তিনি তাঁর “ইনজানুম্ মুবীন” নামক কিতাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে গিয়ে বলেন:
“আমাদের সাথীদের মধ্যে যাঁরা কালাম শাস্ত্রবিদ ও মুহাক্কিক, তাঁরা সকলে একথা বলেন যে, আমাদের নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওফাতের পরও জীবিত। তিনি উম্মতদের ভাল কাজে খুশী হন এবং তাদের থেকে অবাধ্যদের অপকর্মে দু:খ পান। তাঁর নিকট তাঁর উম্মতদের দেয়া সালাম পৌঁছে যায়।

وقال : إن الأنبياء لا يبلون ولا تأكل الأرض منهم شيئا، وقد مات موسى في زمانه وأخبر نبينا صلى الله عليه وسلم أنه رآه في قبره مصليا ، وذكر في حديث المعراج أنه رآه في السماء الرابعة وأنه رأى آدم في السماء الدنيا ، ورأى إبراهيم وقال له : مرحبا بالابن الصالح والنبي الصالح ، وإذا صح لنا هذا الأصل قلنا : نبينا صلى الله عليه وسلم قد صار حيا بعد وفاته وهو على نبوته ، هذا آخر كلام الأستاذ .

তিনি বলেন, নিশ্চয় নবীগণের দেহ মুবারক ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না এবং তাঁদের দেহের কোন অংশকেই মাটি স্পর্শ করে না। হযরত মূসা আলায়হিস্ সালাম ইন্তিকাল করেছেন অনেক সহস্রাব্দি পূর্বে, কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলছেন। তিনি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে নিজ কবর শরীফে নামায পড়তে দেখেছেন। আবার মি’রাজের হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, রাসূল কারীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চতুর্থ আসমানে দেখেছেন এবং হযরত আদম আলায়হিস্ সালামকে পৃথিবীর (প্রথম) আসমানে। হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালামকে দেখার পর তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেনÑ
مرحبا بالابن الصالح والنبى الصالح অর্থাৎ মারহাবা, হে প্রিয় সৎকর্মপরায়ন সন্তান এবং সৎ যোগ্য নবী ও রাসূল! যেহেতু উপরোক্ত হাদীসগুলো বিশুদ্ধ ও সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে সেহেতু বলা যায়, আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ওফাতের পর পুনর্জীবিত হয়ে গেছেন এবং তিনি স্বীয় নুবূয়তী দায়-দায়িত্বও পালন করছেন। এটি ছিল ইমাম আবদুল কাহের বাগদাদীর সর্বশেষ ভাষ্য।
وقال الحافظ شيخ السنة أبو بكر البيهقي في كتاب الاعتقاد : الأنبياء عليهم السلام بعدما قبضوا ردت إليهم أرواحهم فهم أحياء عند ربهم كالشهداء ، وقد رأى نبينا صلى الله عليه وسلم جماعة منهم وأمهم في الصلاة وأخبر – وخبره صدق – أن صلاتنا معروضة عليه ، وأن سلامنا يبلغه ، وأن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء.

*হযরত হাফেয শাইখুস্ সুন্নাহ আবূ বকর বায়হাক্বী রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি তাঁর ‘কিতাবুল ই’তিক্বাদ’ এ লিখেছেন:
“নবীগণ আলাইহিমুস্সালাম-এর রূহ মুবারক কব্জ করার পর তাঁদের নিকট আবার তাদের রূহকে ফেরত দেয়া হয়। ফলে তাঁরা আল্লাহ তা‘আলার নিকট জীবিত, শহীদগণের ন্যায়। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম মি’রাজে সকল নবীর সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং তিনি তাঁদের ইমামত করেছেন, তিনি সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন (তাঁর সংবাদ নি:সন্দেহে সত্য ও বাস্তব) যে, আমাদের দুরূদ তাঁর নিকট প্রেরণ করা হয়। আমাদের সালাম তাঁর নিকট পেশ করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন নবীগণের দেহ মুবারককে গ্রাস করাকে।
قال : وقد أفردنا لإثبات حياتهم كتابا
অত:পর ইমাম বায়হাক্বী রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেন- আমি হায়াতুল আন্বিয়া বা নবীগণের হায়াত সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছি।
قال : وهو بعد ما قبض نبي الله ورسوله وصفيه وخيرته من خلقه صلى الله عليه وسلم.
তিনি বলেন, কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের পরও আল্লাহ তা‘আলার নবী, রাসূল, চয়নকৃত ও সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে বিদ্যমান রয়েছেন।
اللهم أحينا على سننه وأمتنا على ملته واجمع بيننا وبينه في الدنيا والآخرة ، إنك على كل شيء قدير ، انتهى جواب البارزي .
হে আল্লাহ! আমাদেরকে জীবিত রাখ তাঁর সুন্নাতের উপর এবং মৃত্যু দান কর তাঁর মিল্লাতের উপর। আর আমাদেরকে মিলিত কর তাঁর সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে। কেননা, তুমি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।
وقال الشيخ عفيف الدين اليافعي : الأولياء ترد عليهم أحوال يشاهدون فيها ملكوت السماوات والأرض وينظرون الأنبياء أحياء غير أموات كما نظر النبي صلى الله عليه وسلم إلى موسى عليه السلام في قبره ،
শেখ আফীফুদ্দীন ইয়াফে‘ঈ রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেন: “আউলিয়ায়ে কেরামের উপর এমন কিছু অবস্থা ও হালের অবতারণা ঘটে যে অবস্থায় তাঁরা সচক্ষে অবলোকন করতে পারেন আসমান ও যমীনের মালাকুত বা ফেরেশতাদের জগতকে এবং তাঁরা নবীগণকে দেখতে পান জীবিতাবস্থায়, মৃত নয়। যেমনিভাবে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দেখেছেন হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামকে স্বীয় কবর শরীফে।
قال : وقد تقرر أن ما جاز للأنبياء معجزة جاز للأولياء كرامة بشرط عدم التحدي ، قال : ولا ينكر ذلك إلا جاهل ، ونصوص العلماء في حياة الأنبياء كثيرة فلنكتف بهذا القدر( )
তিনি আরও বলেন, একথা প্রমাণিত যে, যা নবীগণের জন্য ‘মুজিযা’ হিসেবে প্রযোজ্য, তা আউলিয়ায়ে কেরামের জন্য ‘কারামত’ হিসেবেও প্রযোজ্য। শর্ত হলো: ওলীগণের কারামতের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ থাকতে পারবে না।
সেটাকে একমাত্র জাহেল ছাড়া অন্য কেউ অস্বীকার করতে পারে না। আর নবীগণের হায়াত বা জীবিত থাকার বিষয়ে আলিমদের নিকট অসংখ্য নাস্ বা ক্বোরআন হাদীসের দলীলাদি রয়েছে। তাই এখানে এতটুকুই যথেষ্ট মনে করি।

পরিচ্ছেদ (فصل)

وأما الحديث الآخر فأخرجه أحمد في مسنده ، وأبو داود في سننه ، والبيهقي في شعب الإيمان من طريق أبي عبد الرحمن المقري عن حيوة بن شريح عن أبي صخر عن يزيد بن عبد الله بن قسيط عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : ما من أحد يسلم علي إلا رد الله إلي روحي حتى أرد عليه السلام( ) .

অন্য হাদিসটি বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমদ তার মুসনাদে, আবূ দাঊদ তাঁর সুনানে এবং বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমানে। আবদুর রহমান আল মুক্বরী বর্ণনা করেছেন হায়ওয়াত ইবনে শুরাইহ্ থেকে, তিনি আবূ সাখর থেকে, তিনি ইয়াযীদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ক্বাসীত্ব থেকে, তিনি হযরত আবূ হোরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, যে কেউ আমার প্রতি সালাম পেশ করলো আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতি আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের জবাব দিই।”
ولا شك أن ظاهر هذا الحديث مفارقة الروح لبدنه الشريف في بعض الأوقات وهو مخالف للأحاديث السابقة، وقد تأملته ففتح علي في الجواب عنه بأوجه :
নিশ্চয় এ হাদীসটির যাহেরী দিক প্রমাণ করে যে, কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রিয়নবীর দেহ মুবারক থেকে তাঁর রূহ মুবারক পৃথক বা বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে; যা পূর্ববর্তী হাদীসগুলোর সাথে বিরোধপূর্ণ। তাই আমি এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করলাম, ফলে আমার নিকট কয়েকটি জবাব উন্মোচিত হলোঃ

الأول – وهو أضعفها – أن يدعي أن الراوي وهم في لفظة من الحديث حصل بسببها الإشكال ، وقد ادعى ذلك العلماء في أحاديث كثيرة ولكن الأصل خلاف ذلك فلا يعول على هذه الدعوى .

প্রথম জবাব: (যা সবচেয়ে দুর্বল) তা হলোÑ হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে রাভীগণের শব্দের মধ্যে ভিন্নতার কারণেই মূলত এ সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে; যা অনেক ওলামা দাবী করেছেন; যদিওবা তা আসলের সাথে বিরোধপূর্ণ। তাই তাঁদের এ দাবীর প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

الثاني : وهو أقواها ولا يدركه إلا ذو باع في العربية أن قوله : ” رَدَّ اللهُ جملة حالية ، وقاعدة العربية أن جملة الحال إذا وقعت فعلا ماضيا قدرت فيها قد كقوله تعالى : أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَنْ يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ (سورة النساء-৯০) والآية بكاملها: إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَىٰ قَوْمٍ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُم مِّيثَاقٌ أَوْ جَاءُوكُمْ حَصِرَتْ صُدُورُهُمْ أَن يُقَاتِلُوكُمْ أَوْ يُقَاتِلُوا قَوْمَهُمْ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَسَلَّطَهُمْ عَلَيْكُمْ فَلَقَاتَلُوكُمْ ۚ فَإِنِ اعْتَزَلُوكُمْ فَلَمْ يُقَاتِلُوكُمْ وَأَلْقَوْا إِلَيْكُمُ السَّلَمَ فَمَا جَعَلَ اللَّهُ لَكُمْ عَلَيْهِمْ سَبِيلًا ) أي : قد حصرت ،

দ্বিতীয় জবাব: (যা সর্বাধিক শক্তিশালী), যা আরবী ভাষার পন্ডিত ব্যক্তিবর্গ ব্যতিরেকে অন্যরা অনুধাবন করতে পারে না। আর তা হলোঃ এখানে প্রিয় নবীর কথা رَدَّ الله (আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দেন) বাক্যটি ‘জুমলায়ে হালিয়া’ (অবস্থার বর্ণনাসূচক বাক্য)। আর আরবী কায়েদা হলো- যদি জুমলায়ে হালিয়া فعل ماضى (অতীতকাল সূচক ক্রিয়া) হয়, তাহলে এতে একটি قَدْ উহ্য থাকে; যেমন আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন,
جَآءُ وْكُمْ حَصِرَتْ صُدُوْرُهُمْ
তরজমা: যারা তোমাদের নিকট এমন অবস্থায় আগমন করে যখন তাদের মন তোমাদের সাথে অথবা তাদের সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করতে সংকুচিত হয়। [নিসা: ৯০] وكذا تقدر هنا والجملة ماضية سابقة على السلام الواقع من كل أحد
অনুরূপ, উপরোক্ত হাদীসেও قَدْ উহ্য রয়েছে। এ বাক্যটিও (رُدَّتْ) অতীতকাল বাচক। এরূহ্ ফিরিয়ে দেওয়া কারো সালাম দেওয়ার পূর্বে সংঘঠিত হয়েছে।
وحتى ليست للتعليل ، بل مجرد حرف عطف بمعنى الواو ،
অর্থাৎ আর حتى এখানে تعليل বা কারণ বুঝানোর জন্য নয়; বরং তা ‘হরফে আত্ফ’, যা واو বা ‘এবং’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

فصار تقدير الحديث : ما من أحد يسلم علي إلا قد رد الله علي روحي قبل ذلك فأرد عليه ،
সুতরাং এ হাদীসের প্রকৃত অর্থ দাঁড়াল: ‘যে কেউ আমার প্রতি সালাম পেশ করবে অথচ তার পূর্বেই আল্লাহ তা‘আলা আমার রূহকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমি তার সালামের উত্তর দিই।’’

وإنما جاء الإشكال من ظن أن جملة رد الله علي بمعنى الحال أو الاستقبال ، وظن أن حتى تعليلية ، وليس كذلك ، وبهذا الذي قررناه ارتفع الإشكال من أصله
অর্থাৎ তখন সন্দেহের সৃষ্টি হবে, যখন কেউ মনে করে থাকে যে, رَدَّ اللهُ عَلَىَّ (আল্লাহ আমাকে রূহ ফিরিয়ে দেন) বাক্যটি ‘হাল’ (বর্তমানকাল বাচক) অথবা ‘ইস্তিক্ববাল (ভবিষ্যৎকাল বাচক) হয় আর মনে করে থাকে যে, এখানে حتى (হাত্তা) শব্দটিتعليلية বা কারণের বর্ণনাসূচক; অথচ এ রূপ নয়। বস্তুত, আমি যা বর্ণনা করেছি, তা দ্বারা সকল সন্দেহ দূরীভূত হয়ে যায়।

، وأيده من حيث المعنى أن الرد ولو أخذ بمعنى الحال والاستقبال لزم تكرره عند تكرر المسلمين ، وتكرر الرد يستلزم تكرار المفارقة ، وتكرار المفارقة يلزم عليه محذوران :
আর অর্থের দিক দিয়ে এর সমর্থনে বলা যায় যে, যদি رَدَّ اللهَ -এর অর্থ বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল ধরে নেয়া হয়, তাহলে একথা অনিবার্য হয়ে যাবে যে, যত বারই মুসলমানগণ সালাম দেবে ততবারই রূহ ফিরিয়ে দেয়া হবে। আবার ফিরিয়ে নেয়া হবে। রূহের এ নেওয়া-দেওয়ার ফলে হুযূর-ই আক্রামের রূহ্ মুবারক তাঁর নূরানী দেহ্ মুবারক থেকে বারংবার বের হওয়াও অনিবার্য হয়ে যায়। এটাও কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ এতে কয়েক ধরনের বিপদ ও ভয়াবহতা আরোপিত হবেঃ

أحدهما تأليم الجسد الشريف بتكرار خروج الروح منه أو نوع ما من مخالفة التكريم إن لم يكن تأليم ،
এক. তাঁর দেহ মুবারকে বারবার ব্যাথা অনুভূত হওয়া, রূহ মুবারককে বার বার দেওয়া ও নওয়ার কারণে। অথবা এ ধরণের কাজ প্রিয় নবীর সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সম্মানের বিপরীত, যদিও বা ব্যাথা অনুভূত না হয়।

والآخر مخالفة سائر الناس الشهداء وغيرهم ، فإنه لم يثبت لأحد منهم أن يتكرر له مفارقة الروح وعودها في البرزخ ، والنبي صلى الله عليه وسلم أولى بالاستمرار الذي هو أعلى رتبة ،
দুই. তা শহীদগণ ও অন্যান্য নেক বান্দাদের শানের বিপরীত। কেননা তাঁদের কারও ক্ষেত্রে এ কথা প্রমাণিত নয় যে, বরযখে (কবরে) তাঁদের রূহ্ তাদের দেহ থেকে বারংবার পৃথক করা হয়, আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়। আর তাঁদের রূহ তাঁদের দেহে সর্বদা বিদ্যমান থাকে। বস্তুত: নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ্ মুবারক সর্বদা বিদ্যমান থাকার বেশী উপযোগী, যিনি তাঁদের চেয়ে মর্যাদায় অনেক ঊর্ধ্বে।

ومحذور ثالث وهو مخالفة القرآن فإنه دل على أنه ليس إلا موتتان وحياتان ، وهذا التكرار يستلزم موتات كثيرة وهو باطل.
তিন. তা পবিত্র ক্বোরআনেরও বিপরীত। কেননা ক্বোরআনুল করীম প্রমাণ করে যে, দুইটি মৃত্যু এবং দুইটি হায়াত। আর এখানে বারংবার রূহ মুবারকের আসা-যাওয়া অসংখ্য-অগণিত মৃত্যু ও হায়াতকে আবশ্যক করবে। এটা অগ্রহণযোগ্য।

ومحذور رابع وهو مخالفة الأحاديث المتواترة السابقة وما خالف القرآن والمتواتر من السنة وجب تأويله ، وإن لم يقبل التأويل كان باطلا ; فلهذا وجب حمل الحديث على ما ذكرناه .
চার. এটা পূর্ববর্তী হাদীসে মুতাওয়াতিরের বিপরীত। আর যা ক্বোরআন ও হাদীসে মুতাওয়াতিরের সাথে বিরোধপূর্ণ হয়, তা অবশ্য পূর্ণ তাবীল বা ভিন্ন ব্যাখ্যার উপযোগী। আর যদি তা’ভীল বা ভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে তা বাতিল বা অগ্রহণযোগ্য।

তাই উপরোক্ত হাদীসকে পূর্বোল্লেখিত নিয়মে বাখ্যা করতে হবে।
الوجه الثالث : أن يقال أن لفظ الرد قد لا يدل على المفارقة ، بل كنى به عن مطلق الصيرورة كما قيل في قوله تعالى حكاية عن شعيب عليه السلام : قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُم بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا ۚ (الأعراف-৮৯)
তৃতীয় জবাব: এখানে رَدَّ (রাদ্দা) শব্দটি পৃথক বা বিচ্ছিন্ন হওয়ার অর্থ বুঝায় না বরং তা দ্বারা শুধু ‘হয়ে যাওয়া’ বুঝায়; যে ভাবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হযরত শোয়াইব আলায়হিস্ সালাম এর ঘটনার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে-
(قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُم بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا ۚ)
অর্থাৎ “যদি আমরা তোমাদের ধর্মের অনুসারী হয়ে যাই, তাহলে তো আমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করলাম এরপর যে, আল্লাহ্ আমাদেরকে তা থেকে নাজাত দিয়েছেন। [আ’রাফ: ৮৯]

إن لفظ العود أريد به مطلق الصيرورة لا العود بعد انتقال ; لأن شعيبا عليه السلام لم يكن في ملتهم قط ،
এখানে عُدْنَا শব্দটি عاد يعود থেকে। যার অর্থ হলো ফিরে যাওয়া, কিন্তু এখানে সে অর্থে ব্যবহৃত হয়নি; বরং ‘রূপান্তরিত হওয়া বা হয়ে যাওয়া’ ইত্যাদি বুঝায়, ফিরে যাওয়া নয়। কেননা হযরত শোয়াইব আলায়হিস্ সালাম কখনও তাদের ধর্মে ছিলেন না।
وحسن استعمال هذا اللفظ في هذا الحديث مراعاة المناسبة اللفظية بينه وبين قوله : ” حتى أرد عليه السلام ” ، فجاء لفظ الرد في صدر الحديث لمناسبة ذكره في آخر الحديث .
এখানেও এ رَدَّ শব্দটি ব্যবহার করার নান্দনিকতা হলো- এ শব্দ এবং পরবর্তী শব্দ أَرُدَّ উভয়ের মধ্যকার শব্দগত মিল রয়েছে। তাই অর্থের দিক থেকে একই না হবার পরও উল্লেখের সৌন্দর্য্যরে জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তাই رد শব্দটি হাদীসের শুরুতে এসেছে হাদীসের শেষের দিকেও এসেছে এ শব্দটি ইতোপূর্বে ব্যবহৃত হবার কারণেই।
الوجه الرابع : وهو قوي جدا ، أنه ليس المراد برد الروح عودها بعد المفارقة للبدن ،

চতুর্থ জবাব: (এটি অত্যন্ত শক্তিশালী)। এখানে رد الروح মানে এ অর্থ নয় যে, রূহটি দেহ থেকে পৃথক হবার পরে আবার তা ফিরিয়ে দেয়া হয়; বরং তার মূল অর্থ বা উদ্দেশ্য হলোÑ
وإنما النبي صلى الله عليه وسلم في البرزخ مشغول بأحوال الملكوت مستغرق في مشاهدة ربه كما كان في الدنيا في حالة الوحي وفي أوقات أخر ، فعبر عن إفاقته من تلك المشاهدة وذلك الاستغراق برد الروح ،
কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর বরযখী জীবনে অবস্থান করছেন। সেখানে তিনি মালাকুতী (উর্ধ্ব) জগতের নানা অবস্থাদি নিয়ে ব্যস্ত। তিনি স্বীয় রবের দিদার ও মোশাহাদায় সর্বদা নিমজ্জিত আছেন; যেমনি ভাবে তিনি ব্যস্ত ও মশগুল থাকতেন দুনিয়াতেও, যখন তাঁর প্রতি ওহী নাযিল হচ্ছিলো, তখন এবং বিশেষ বিশেষ অবস্থায়। তাই এখানে তাঁর ওই খোদায়ী দর্শন (মোশাহাদা) ও মালাকুতী জগতে মশগুল ও নিমজ্জিত থাকার অবস্থা থেকে, এদিকে (অর্থাৎ সালামের জবাবের দিকে) মনোনিবেশ করাকে رد الروح বা রূহ ফিরে আসা হিসেবে ব্যক্ত করা হয়েছে।

ونظير هذا قول العلماء في اللفظة التي وقعت في بعض أحاديث الإسراء وهي قوله : ” فاستيقظت وأنا بالمسجد الحرام. ( )
তার প্রমাণ স্বরূপ মি’রাজ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো উপস্থাপন করা যায়। যেখানে রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
فاستيقظت وأنا بالمسجد الحرام
(আমি জাগ্রত হয়ে দেখলাম আমি মসজিদে হারামে উপস্থিত)।

” ليس المراد الاستيقاظ من نوم فإن الإسراء لم يكن مناما ، وإنما المراد الإفاقة مما خامره من عجائب الملكوت.
এ ক্ষেত্রে ওলামায়ে কেরামের ভাষ্য হলোÑ এখানে استيقاظ বা জাগ্রত হওয়া মানে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়া নয়; কেননা মি’রাজ নিদ্রাবস্থায় সংঘটিত হয়নি বরং জাগ্রতাবস্থায় হয়েছে। তাই হাদীসে বর্ণিত শব্দটির অর্থ হবে মি’রাজ রজনীতে সৃষ্টির নানা আজব ও চিত্তাকর্ষক দৃশ্যাবলীতে বিভোর হওয়া থেকে জাগ্রত হওয়া বা এদিকে মনোনিবেশ করা।

، وهذا الجواب الآن عندي أقوى ما يجاب به عن لفظة الرد ، وقد كنت رجحت الثاني ثم قوي عندي هذا .
এখন এ উত্তরটি আমার নিকট অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। ردّ শব্দ নিয়ে যে উত্তরগুলো পেশ করা হয়েছে, তার চেয়েও এ উত্তর আমার নিকট অধিক মজবুত। আমি ইতোপূর্বে দ্বিতীয় উত্তরটিকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার নিকট এখন এটিই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য ও মজবুত মনে হচ্ছে।
الوجه الخامس : أن يقال إن الرد يستلزم الاستمرار ; لأن الزمان لا يخلو من مصل عليه في أقطار الأرض فلا يخلو من كون الروح في بدنه .

পঞ্চম জবাব: এ ক্ষেত্রে বলা যায়, ‘রূহ ফিরিয়ে দেওয়া’ বাক্যটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রূহ মুবারক সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর দেহ মুবারকে বিদ্যমান ও অব্যাহত থাকাকে অনিবার্য করে। কেননা, এমন কোন সময় নেই যখন, বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে, কোননা কোন ব্যক্তি প্রিয় নবীর প্রতি দুরূদ-সালাম পেশ করছেনা। অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তে, প্রতিক্ষণে প্রিয়নবীর প্রতি সদা-সর্বদা দুরূদ ও সালাম অব্যহত রয়েছে। কোন ধরনের বিরতি নেই। তাই সদা-সর্বদা তাঁর রূহ মুবারকও তাঁর দেহ মুবারকে বিদ্যমান। কোন অবস্থাতেই তা পৃথক বা বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না।
السادس : قد يقال : إنه أوحي إليه بهذا الأمر أولا قبل أن يوحى إليه بأنه لا يزال حيا في قبره ، فأخبر به ثم أوحي إليه بعد بذلك ، فلا منافاة لتأخير الخبر الثاني عن الخبر الأول ،

ষষ্ঠ জবাব: বলা যেতে পারে, এ বিষয়ে প্রিয় নবীকে প্রথমে বলা হয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর নিকট ওহী প্রেরণ করে জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তিনি সার্বক্ষণিকভাবে তাঁর কবর শরীফে জীবিত থাকবেন।
সুতরাং এতে কোন বিরোধ থাকছেনা; বরং প্রথমটি হবে মানসুখ এবং শেষোক্ত হবে নাসিখ।
هذا ما أفتح الله به من الأجوبة ولم أر شيئا منها منقولا لأحد ، ثم بعد كتابتي لذلك راجعت كتاب “الفجر المنير فيما فضل به البشير النذير” للشيخ تاج الدين بن الفاكهاني المالكي فوجدته قال فيه ما نصه :
উপরোক্ত জবাবগুলো আল্লাহ তা‘আলা আমার জন্য উন্মোচিত করে দিয়েছেন। যে বিষয়ে কারও নিকট থেকে কোন ধরনের বর্ণনা আমি পায়নি।
আমার এ উত্তর লিখার পর আমি যখন শেখ তাজুদ্দিন ইবনে ফাকেহানী আল মালেকী রচিত “আল্ ফাজ্রুল মুনীর ফীমা ফুদ্ব্দ্বিলা বিহিল বাশীরুল নাযীর” কিতাবটি অধ্যয়ন করলাম, তখন দেখলাম তিনি সেখানে লিখেছেন, যা হুবহু নিম্নরূপÑ
روينا في الترمذي قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتى أرد عليه السلام . ( )
আমরা তিরমিযীতে বর্ণনা পেয়েছি যে, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “যখন কোন ব্যক্তি আমার প্রতি সালাম পেশ করে তখন আল্লাহ তা‘আলা আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন, যাতে আমি তার সালামের জবাব দিই।”

يؤخذ من هذا الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم حي على الدوام ، وذلك أنه محال عادة أن يخلو الوجود كله من واحد مسلم على النبي صلى الله عليه وسلم في ليل أو نهار

এ হাদীস শরীফ থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সার্বক্ষনিক ভাবে জীবিত। কেননা স্বাভাবিক ভাবে এটা অসম্ভব যে, রাত-দিনের এমন কোন মুহূর্ত খালি থাকা যে মুহূর্তে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাত সালাম পাঠ করা হচ্ছে না।

، فإن قلت : قوله عليه السلام : ” إلا رد الله إلي روحي ” لا يلتئم مع كونه حيا على الدوام بل يلزم منه أن تتعدد حياته ووفاته في أقل من ساعة ، إذ الوجود لا يخلو من مسلم يسلم عليه كما تقدم ، بل يتعدد السلام عليه في الساعة الواحدة كثيرا.
যদি প্রশ্ন কর যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর বাণী “আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন” একথাটি নবী করীমের সার্বক্ষণিকভাবে জীবিত থাকার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং তা দ্বারা ক্ষণিক সময়ের মধ্যে তাঁর অনেক বার হায়াত ও ইন্তিকাল করা প্রমাণ করে। কেননা কোন একটি মুহূর্তও খালি যাচ্ছে না তাঁর উপর দুরূদ-সালাম প্রেরণ করা থেকে। এমনকি একটি মাত্র মুহূর্তে তাঁর উপর অসংখ্যবার সালাত-সালাম প্রেরণ করা হচ্ছে।

فالجواب والله أعلم أن يقال : المراد بالروح هنا النطق مجازا ، فكأنه قال عليه السلام : إلا رد الله إلي نطقي وهو حي على الدوام ، لكن لا يلزم من حياته نطقه ، فالله سبحانه يرد عليه النطق عند سلام كل مسلِّم ،
উত্তরে বলা যায়, (আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন) এখানে রূহ থেকে রূপকভাবে النطق (কথা বলা) বুঝানো উদ্দেশ্য। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায়, আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার কথা বলার শক্তিকে ফিরিয়ে দেন। তিনি সদা-সর্বদা জীবিত। কিন্তু তাঁর জীবিত থাকা তাঁর কথা বলাকে আবশ্যক করে না। অতএব, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর উপর কথা বলার শক্তিকে ফিরিয়ে দেন যখন কেউ তাঁর উপর সালাম পাঠ করে।

وعلاقة المجاز أن النطق من لازمه وجود الروح كما أن الروح من لازمه وجود النطق بالفعل أو القوة ، فعبر عليه السلام بأحد المتلازمين عن الآخر ، ومما يحقق ذلك أن عود الروح لا يكون إلا مرتين عملا بقوله تعالى :
আর এখানে রূপক অর্থ নেয়ার কারণ হলোÑ কথা বলার শক্তি রূহ থাকাকে আবশ্যক করে; যেমনিভাবে রূহের আবশ্যকতাগুলোর মধ্যে একটি হলো, কথা বলার শক্তি। বাস্তবে হোক কিংবা শক্তির দিক থেকে হোক। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এখানে দুইটি পরস্পর আবশ্যিক (রহূ ও কথা) থেকে একটির উল্লেখ করেছেন। কখনও এটিও প্রমাণিত হয় যে, রূহ ফিরিয়ে দেয়াটা মাত্র দুইবার হয়ে থাকে তার চেয়ে বেশী নয়। যা পবিত্র কোরআন দ্বারা প্রমাণিত।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন
قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَىٰ خُرُوجٍ مِّن سَبِيلٍ (غافر-১১( هذا لفظ كلام الشيخ تاج الدين
“তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদেরকে মৃত্যু দিয়েছ দু’বার এবং জীবিত করেছ দু’বার। (গাফির: ১১) এটুকু ছিল শেখ তাজুদ্দিনের বক্তব্য।

ইমাম সুয়ূতী বলেন
وهذا الذي ذكره من الجواب ليس واحدا من الستة التي ذكرتها. فهو إن سلم – جواب سابع –
শেখ তাজুদ্দিন যে উত্তরটি দিয়েছেন সেটি উপরোক্ত ছয়টি উত্তরের কোন একটি নয়, যদি এ উত্তরটি যথাযথ হয় তাহলে এটাকে সপ্তম জবাব হিসেবে ধরে নেয়া যায়, যেগুলো আমি দিয়েছি।

وعندي فيه وقفة من حيث إن ظاهره أن النبي صلى الله عليه وسلم مع كونه حيا في البرزخ يمنع عنه النطق في بعض الأوقات ويرد عليه عند سلام المسلم عليه ، وهذا بعيد جدا بل ممنوع، فإن العقل والنقل يشهدان بخلافه ،
তবে শেখ তাজুদ্দিনের জবাবের ক্ষেত্রে আমার কিছু বক্তব্য রয়েছে। কেননা তাঁর বক্তব্য বাহ্যিকভাবে প্রমাণ করে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বরযখে জীবিত থাকলেও কিছু কিছু সময়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। শুধুমাত্র কেউ তাঁর উপর সালাম পেশ করলে তখনই তিনি সালামের জবাব দিতে পারেন ও কথা বলতে পারেন। অন্য সময় নয়।

এ বক্তব্যটি বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে, বরং বর্জনীয় ও পরিত্যাজ্য। কেননা আক্বল ও নক্বল কোনটাই এ বক্তব্য সমর্থন করে না। কারণ-
أما النقل فالأخبار الواردة عن حاله صلى الله عليه وسلم وحال الأنبياء عليهم السلام في البرزخ مصرحة بأنهم ينطقون كيف شاءوا لا يمنعون من شيء ، بل وسائر المؤمنين كذلك الشهداء وغيرهم ينطقون في البرزخ بما شاءوا غير ممنوعين من شيء ، ولم يرد أن أحدا يمنع من النطق في البرزخ إلا من مات عن غير وصية ،
প্রথমত: নক্বল (্উদ্ধৃতি) হলো: রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এবং অন্যান্য নবী ও রাসূলগণ আলায়হিস্ সালাম এর বরযখী অবস্থা বিশুদ্ধ বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্ট এবং প্রমাণিত যে, তাঁরা যেভাবে চান সেভাবে কথা বলতে পারেন। তাঁদেরকে কোন কিছু তা থেকে বিরত করতে পারে না; বরং সকল মু’মিন, সকল শহীদ এবং অন্যান্যরাও তাদের বরযখী জীবনে যেভাবে চান সেভাবে কথা বলতে পারেন। এতে কোন বাধা নেই।
একমাত্র যে ওসীয়ত করা ব্যতিরেকে মারা গেছে সেই কবরে কথা বলতে পারবে না।

أخرج أبو الشيخ بن حيان في كتاب الوصايا عن قيس بن قبيصة قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من لم يوص لم يؤذن له في الكلام مع الموتى ، قيل : يا رسول الله وهل يتكلم الموتى ؟ قال : نعم ويتزاورون . ( )
যা আবুশ শাইখ তাঁর ‘‘আল ওসায়া’’ নামক কিতাবে হযরত ক্বায়স ইবনে ক্বাবীসাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেনÑ “যে ব্যক্তি ওসীয়ত করেনি (মৃত্যুর পূর্বে ওসীয়ত না করে মারা যায়) তাকে মৃত ব্যক্তিদের ন্যায় কথা বলার অনুমতি দেয়া হবে না। জিজ্ঞেস করা হলো- এয়া রাসূলাল্লাহ্! মৃত ব্যক্তিরা কি কথা বলতে পারে? বললেন, ‘‘হাঁ’’। তারা কথাও বলতে পারে এবং পরস্পর সাক্ষাতও করতে পারে।”

وقال الشيخ تقي الدين السبكي : حياة الأنبياء والشهداء في القبر كحياتهم في الدنيا، ويشهد له صلاة موسى في قبره ، فإن الصلاة تستدعي جسدا حيا ، وكذلك الصفات المذكورة في الأنبياء ليلة الإسراء كلها صفات الأجسام ، ولا يلزم من كونها حياة حقيقة أن تكون الأبدان معها كما كانت في الدنيا من الاحتياج إلى الطعام والشراب ، وأما الإدراكات كالعلم والسماع فلا شك أن ذلك ثابت لهم ولسائر الموتى، انتهى. ( )
শেখ তক্বী উদ্দিন আস্সুব্কী বলেন: “নবীগণ ও শহীদগণের কবরের জীবন ঠিক তাঁদের দুনিয়ার জীবনের মতই, যার প্রমাণ হলো- হযরত মুসা আলায়হিস্ সালাম এর নিজ কবরে নামায আদায়। কেননা নামাযের জন্য দেহ জীবিত থাকা আবশ্যক। অনুরূপভাবে, মি’রাজ রজনীতে নবীগণের অবস্থাও ছিল ঠিক তাই। অর্থাৎ দেহসহ তাঁদের উপস্থিতি ও নামায আদায় করা।
আবার তাঁদের বরযখের জীবন ‘হাক্বীক্বী হায়াত’ হওয়াটা একথা আবশ্যক করে না যে, দুনিয়াতে দেহ যেভাবে খাদ্য ও পানীয়ের প্রতি মুখাপেক্ষী। অনুরূপভাবে বরযখেও।
আর অনুভূতি শক্তি তথা কথা বলা, জানা, শোনা ইত্যাদি বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, এ বিষয়টি তাঁদের জন্যও প্রমাণিত এবং অন্যান্য সাধারণ মৃতদের ক্ষেত্রেও প্রমাণিত সত্য। এখানে ইমাম সুবকীর বক্তব্য শেষ।

وأما العقل فلأن الحبس عن النطق في بعض الأوقات نوع حصر وتعذيب ، ولهذا عذب به تارك الوصية ، والنبي صلى الله عليه وسلم منزه عن ذلك ، ولا يلحقه بعد وفاته حصر أصلا بوجه من الوجوه كما قال لفاطمة رضي الله عنها في مرض وفاته : ثَابِتٌ الْبُنَانِيُّ قَالَ : لَمَّا ثَقُلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ضَمَّتْهُ فَاطِمَةُ إِلَى صَدْرِهَا ، وَجَعَلَ يَتَغَشَّاهُ الْكَرْبُ ، وَجَعَلَتْ فَاطِمَةُ تَقُولُ : يَا كَرْبَاهُ لِكَرْبِ أَبَتَاهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم : ” لا كَرْبَ عَلَى أَبِيكِ بَعْدَ الْيَوْمِ” ( )
দ্বিতীয়ত: আক্বল, আর তা হলো- কেননা কিছু সময়ের জন্য হলেও কথা বলার শক্তি কেড়ে নেয়া বা বাকরুদ্ধতা এক প্রকার সীমাবদ্ধকরণ ও কষ্ট দেওয়া। এ কারণে, এ ধরনের শাস্তি দেয়া হয়েছে একমাত্র ওসীয়াত ত্যাগকারীকে। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় পুত:পবিত্র। সুতরাং তাঁর ওফাতের পর তাঁর উপর কোন ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপিত হবে না। যেমনিভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাতের সময় হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহাকে বলেছিলেনÑ “আজকের পর তোমার পিতার উপর আর কোন ধরনের মুসীবত বা বিপদ নেই।”

وإذا كان الشهداء وسائر المؤمنين من أمته إلا من استثنى من المعذبين لا يحصرون بالمنع من النطق فكيف به صلى الله عليه وسلم ،
তাঁর উম্মতের মধ্যে এক শ্রেণীর শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যতিরেকে যদি সকল শহীদগণ ও ঈমানদারগণকে বাকরুদ্ধ করার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা না হয়, তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে কিভাবে তা করা হতে পারে?
، نعم يمكن أن ينتزع من كلام الشيخ تاج الدين جواب آخر ويقرر بطريق أخر، وهو أن يراد بالروح النطق وبالرد الاستمرار من غير مفارقة على حد ما قررته في الوجه الثالث
হাঁ, তবে শেখ তাজুদ্দীনের বক্তব্য থেকে অন্য একটি জবাব খুঁজে বের করা যায় এবং অন্যভাবে এ বক্তব্যটি ব্যক্ত করা যায়। আর তা হলোÑ
‘রূহ’ দ্বারা কথা বলা এবং ‘ফিরিয়ে দেয়া’ দ্বারা পৃথক হওয়া ব্যতিরেকে সার্বক্ষণিকভাবে অব্যাহত থাকার অর্থ নেয়া যায়; যা আমি আমার তৃতীয় জবাবে উল্লেখ করেছি।

ويكون في الحديث على هذا مجازان : مجاز في لفظ الرد ، ومجاز في لفظ الروح ، فالأول استعارة تبعية ، والثاني مجاز مرسل ، وعلى ما قررته في الوجه الثالث يكون فيه مجاز واحد في الرد فقط .
এ হিসেবে অত্র হাদিসে দুইটি মজায বা রূপক রয়েছে। একটি হলো الرد শব্দে, অপরটি হলো الروح শব্দে। তাই প্রথমটি استعارة تبعيه ; অপরটিمجاز مرسل; আর আমি যা তৃতীয় জবাবে প্রমাণ করেছি এতে মাজায مجاز হলো মাত্র একটি; তা হলো الردّ শব্দে।

ويتولد من هذا الجواب جواب آخر وهو أن يكون الروح كناية عن السمع ، ويكون المراد أن الله يرد عليه سمعه الخارق للعادة بحيث يسمع المسلم وإن بعد قطره ويرد عليه من غير احتياج إلى واسطة مبلغ
এ উত্তর থেকে আরও একটি উত্তরের সূত্রপাত হয়, আর তা হলো: এখানে الروح (রূহ) শব্দ দ্বারা السمع (শ্রবণশক্তি) বুঝানো হয়েছে। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে এমন এক শ্রবণশক্তি দান করেন, যা সম্পূর্ণরূপে অস্বাভাবিক, যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে সালাম প্রদানকারীর সালাম শুনতে পান, কোন ধরনের মাধ্যমের সাহায্য ছাড়াই।
وليس المراد سمعه المعتاد ، وقد كان له صلى الله عليه وسلم في الدنيا حالة يسمع فيها سمعا خارقا للعادة بحيث كان يسمع أطيط السماء كما بينت ذلك في كتاب المعجزات. ( )
এটা দ্বারা তাঁর স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তিকে বুঝায় না। কেননা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর দুনিয়াতেও এমন কিছু অবস্থার অবতারণতা হতো, যে অবস্থায় তিনি এমনভাবে শুনতেন, যা ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও সাধারণ নিয়মের বিপরীত। এমনকি তিনি আসমানে বিরজমান শব্দগুলোও শুনতে পেতেন।
وهذا قد ينفك في بعض الأوقات ويعود لا مانع منه ،
যে শ্রবণশক্তি কখনও পৃথক হলেও আবার তা ফিরে আসে, যাতে কোন প্রকার বাধা নেই।
وحالته صلى الله عليه وسلم في البرزخ كحالته في الدنيا سواء
আর প্রিয় নবীর বরযখের অবস্থা তাঁর দুনিয়ার অবস্থার মতে কোন ধরণের পার্থক্য নেই।

وقد يخرج من هذا جواب آخر وهو أن المراد سمعه المعتاد ، ويكون المراد برده إفاقته من الاستغراق الملكوتي ، وما هو فيه من المشاهدة فيرده الله تلك الساعة إلى خطاب من سلم عليه في الدنيا ، فإذا فرغ من الرد عليه عاد إلى ما كان فيه
এ থেকে আরও একটি জবাবের সূত্রপাত হয়। আর তা’হল: এখানে তাঁর শ্রবণ থেকে স্বাভাবিক শ্রবণ শক্তি বুঝানো হয়েছে। আর এখানে رد (রদ) থেকে বুঝানো হয়েছেÑ তাঁর ঊর্ধ্বজাগতিক ধ্যানে মগ্ন থাকা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা। যে অবস্থায় তিনি মালাকুতী দর্শন মুশাহাদায় ব্যস্ত ও বিভোর ছিলেন। অত:পর যখন কোন ব্যক্তি তাঁর প্রতি সালাম পেশ করে তখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ওই ব্যক্তির সালামের জবাব দেয়ার জন্য এ অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। আর যখন ওই ব্যক্তির সালামের জবাব থেকে অবসর হন তখন আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যান।
ويخرج من هذا جواب آخر وهو أن المراد برد الروح : التفرغ من الشغل وفراغ البال مما هو بصدده في البرزخ من النظر في أعمال أمته والاستغفار لهم من السيئات ، والدعاء بكشف البلاء عنهم ، والتردد في أقطار الأرض لحلول البركة فيها ، وحضور جنازة من مات من صالح أمته
এ থেকে আরও একটি জবাবের সূত্রপাত হয়, আর তা হল: এখানেردّ الروح বা রূহ ফিরিয়ে দেয়া মানেÑ ব্যস্ততা থেকে অবসর নেয়া। মনযোগ নিবদ্ধ করা ও মুক্তমনা হওয়া। কেননা প্রিয়নবী তাঁর বরযখী জীবনেও সর্বদা ব্যস্ত থাকেন উম্মতদের নিয়ে। তাঁর উম্মতদের আমলগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে মুক্ত করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা র দরবারে এস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তাদের থেকে বালা-মুসীবত দূর করার জন্য দো‘আ করেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তকে বরকত দ্বারা ধন্য করার উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বের নানা স্থানে ভ্রমণ করেন ও তাঁর নেককার-পূণ্যবান উম্মতদের কেউ মারা গেলে তার জানাযায় উপস্থিত হন।
فإن هذه الأمور من جملة أشغاله في البرزخ كما وردت بذلك الأحاديث والآثار
এ কাজ-কর্মগুলোই হলো তাঁর বরযখী জীবনের ব্যস্ততার মূল কারণ, যার সমর্থনে অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিস ও বর্ণনা বিদ্যমান।
فلما كان السلام عليه من أفضل الأعمال وأجل القربات اختص المسلم عليه بأن يفرغ له من أشغاله المهمة لحظة يرد عليه فيها تشريفا له ومجازاة ،
যেহেতু তাঁর প্রতি সালাম পেশ করা একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত ও তাঁর নৈকট্য লাভের অন্যতম উপায়, সেহেতু তাঁর প্রতি সালাম পেশকারীকে এমন এক মহান নি’মাত দ্বারা ধন্য করা হয় যে, তার সালামের প্রতিদান স্বরূপ ও তাঁর সম্মানার্থে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয়নবীকে কিছু সময়ের জন্য তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কর্মব্যস্ততা থেকে অবসর দেন, যাতে তিনি তাঁর প্রতি সালাম প্রদানকারীর সালামের জবাব দিতে পারেন।
فهذه عشرة أجوبة كلها من استنباطي ، وقد قال الجاحظ : إذا نكح الفكر الحفظ ولد العجائب .
উপরোক্ত দশটি উত্তর পেশ করা হলো, যার সবই ছিল আমার ব্যক্তিগত চিন্তা-গবেষণা দ্বারা উদ্ভাবিত। জাহেয বলেছেন: “যখন স্মরণ শক্তির সাথে চিন্তাশক্তির সমন্বয় ঘটে, তখন জন্ম নেয় নানা আশ্চর্য।”

ثم ظهر لي جواب حادي عشر وهو أنه ليس المراد بالروح روح الحياة ، بل الارتياح كما في قوله تعالى: فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ (الواقعة-৮৯) فإنه قرئ فروح – بضم الراء –
অত:পর আমার নিকট উদ্ভাবিত হলো একাদশ উত্তর। আর তা হলো: এখানে রূহ মানে জীবন বা হায়াত নয়; বরং রূহ মানে ইরতিয়াহ্ বা আনন্দ ও প্রফুল্লতা। যেমন পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা‘আলার বাণী فَرَوْحٌ وَّ رَيْحَانٌ (অত:পর রয়েছে আনন্দ ও সুবাশ) [সূরা: ওয়াক্বেআ আয়াত-৮৯] এখানে শব্দটি رَوْحٌ পেশ সহকারেও পাঠ করা হয়ে থাকে।

والمراد أنه صلى الله عليه وسلم يحصل له بسلام المسلم عليه ارتياح وفرح وهشاشة لحبه ذلك ، فيحمله ذلك على أن يرد عليه.
সুতরাং তার অর্থ দাঁড়ায়- তাঁর প্রতি যখন কোন ব্যক্তি সালাম দেয় তখন তিনি তাতে আনন্দিত, সন্তুষ্ট, প্রফুল্ল, খুশি ও পুলকিত হন, সালামের প্রতি তাঁর ভালবাসা ও আগ্রহের কারণে; যার ফলে তিনি ওই ব্যক্তির সালামের জবাব দিতে উৎসাহী হন।

ثم ظهر لي جواب ثاني عشر وهو : أن المراد بالروح الرحمة الحادثة من ثواب الصلاة
অত:পর আমার নিকট দ্বাদশ জবাব উন্মোচিত হলো, আর তা হলো: এখানে ‘রূহ’ দ্বারা ওই ‘রহমত’ বুঝানো হয়েছে, যা অর্জিত হয়ে থাকে তাঁর উপর সালাত ও সালাম পাঠ করার ফলে।
قال ابن الأثير في النهاية : تكرر ذكر الروح في الحديث كما تكرر في القرآن ووردت فيه على معان ، والغالب منها أن المراد بالروح الذي يقوم به الجسد ، وقد أطلق على القرآن والوحي والرحمة وعلى جبريل ، انتهى .
ইবনুল আসীর তাঁর ‘আন্ নিহায়া’ নামক কিতাবে উল্লেখ করেন যে, الروح (রূহ) শব্দটি হাদীস শরীফে অনেক স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমনিভাবে অনেকবার উল্লেখ করা হয়েছে পবিত্র ক্বোুরআনেও। এসব স্থানগুলোতে الروح শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সর্বাধিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ওই ‘রূহ্’-এর অর্থে, যা প্রতিটি জীবের মধ্যে বিদ্যমান।
আবার কখনও রূহ শব্দটি দ্বারা ক্বোরআন, ওহী, রহমত এবং জিবরাঈল বুঝানো হয়।

وأخرج ابن المنذر في تفسيره عن الحسن البصري أنه قرأ قوله تعالى : فروح وريحان بالضم ، وقال : الروح الرحمة
ইবনুল মুনযির তাঁর তাফসীর গ্রন্থে ইমাম হাসান বসরী রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর নিকট যখন روح وريحان (রূহুন ওয়া রায়হান) পেশ সহকারে পাঠ করা হল, তখন তিনি বলেছেন: এখানে ‘রূহুন’ শব্দটির অর্থ হলÑ রহমত।

وقد تقدم في حديث أنس أن الصلاة تدخل عليه صلى الله عليه وسلم في قبره كما يدخل عليكم بالهدايا. ( )
ইতিপূর্বে হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেখানে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন যে, তাঁর প্রতি প্রেরিত সালাত-সালামসমূহ তাঁর কবর শরীফে ওইভাবে পৌঁছে, যেভাবে তোমাদের নিকট তোমাদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত উপহার-উপঢৌকন ও পুণ্য বা সাওয়াবসমূহ পৌঁছে থাকে।
والمراد ثواب الصلاة ، وذلك رحمة الله وإنعاماته.
এখানে সাওয়াব হলো যা সালাত-সালামের বিনিময়ে পৌঁছে থাকে। আর এটি হলো আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও নি’মতরাজিই।
ثم ظهر لي جواب ثالث عشر وهو : أن المراد بالروح الملك الذي وكل بقبره صلى الله عليه وسلم يبلغه السلام ،
অত:পর আমার নিকট আরও একটি জবাব প্রকাশ পেল, ত্রয়োদশ জবাব হিসেবে। আর তা হলো: এখানে ‘রূহ’ দ্বারা ঐ ফেরেশতা বুঝানো হয়েছে, যাকে তাঁর (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) কবর শরীফে সালাত-সালাম পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যিনি তাঁর কবর শরীফের নিকট সদা উপস্থিত থাকেন।
والروح يطلق على غير جبريل أيضا من الملائكة، قال الراغب : أشراف الملائكة تسمى أرواحا ، انتهى .
আর ‘রূহ’ শব্দটি যেভাবে হযরত জিবরাঈল আলায়হিস্ সালাম-এর জন্য ব্যবহৃত হয়, সেভাবে অন্যান্য ফেরেশতাদের জন্যও ব্যবহৃত হয়। রাগেব ইস্পাহানী বলেন: ফেরেশতাদের মধ্যে যাঁরা সর্বাধিক অভিজাত ও সম্মানিত, তাঁদের প্রত্যেককে ‘রূহ’ বলা হয়।
ومعنى ” رد الله إلي روحي ” أي : بعث إلي الملك الموكل بتبليغي السلام ، هذا غاية ما ظهر والله أعلم .
সুতরাং ‘‘আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহকে ফিরিয়ে দেন।” এ বাক্যটির অর্থ হলো: আমার নিকট সালাত-সালাম পাঠানোর দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাকে আমার নিকট প্রেরণ করেন, যাতে তিনি আমার নিকট পঠিত সালাত-সালাম পৌঁছে দিতে পারে। এতটুকুই আমার নিকট প্রতীয়মান হয়েছে।

تنبيه :মনযোগ আকর্ষণ
وقع في كلام الشيخ تاج الدين أمران يحتاجان إلى التنبيه عليهما ،
শেখ তাজুদ্দিনের বক্তব্যে এমন দু’টি বিষয় আলোচিত হয়েছে, যে ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখা উচিতঃ
أحدهما : أنه عزا الحديث إلى الترمذي ، وهو غلط ، فلم يخرجه من أصحاب الكتب الستة إلا أبو داود فقط كما ذكره الحافظ جمال الدين المزي في الأطراف ،
প্রথমত : তিনি এ হাদীস শরীফের সূত্র বর্ণনায় তিরমিযী শরীফের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, আসলে তা ভুল। কেননা এ হাদীস সেহাহ্ সিত্তার কিতাবগুলোর মধ্যে একমাত্র আবূ দাউদ শরীফ ছাড়া অন্য কোন কিতাবে উল্লেখ করা হয়নি। যে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাফেয মিয্যী তাঁর রচিত ‘আল্ আত্বরাফ’ কিতাবে।
الثاني : أنه أورد الحديث بلفظ ” رد الله علي ” وهو كذلك في سنن أبي داود ، ولفظ رواية البيهقي رد الله إلي [ روحي ] وهي ألطف وأنسب ، فإن بين التعديتين فرقا لطيفا ، فإن ” رد ” يتعدى بعلى في الإهانة ، وبإلى في الإكرام ، قال في الصحاح : رد عليه الشيء إذا لم يقبله ، وكذلك إذا خطأه ، ويقول رده إلى منزله ورد إليه جوابا أي : رجع ،
দ্বিতীয়ত : তিনি হাদীসটি رَدَّ اللهُ عَلىَّ তথা عَلى শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন, যা আবূ দাউদ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু ইমাম বায়হাক্বী রাহ্মাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হাদীসটি إلىَّ শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেছেন। আর মূলত: এটাই সর্বাধিক শোভনীয় ও মার্জিত। কেননা উভয় সেলাহ বা যোজন-এর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে, কারণ ردّ শব্দটি যখন على দ্বারা মুতা‘আদ্দী হয়, তখন এহানত বা অপমানের অর্থ বুঝায়। আর إلى দ্বারা ইকরাম বা সম্মানসূচক অর্থ বুঝায়।
‘সিহাহ’ নামক কিতাবে বলেছেন: ردَّ عليه الشئَ তখন ব্যবহার হয়, যখন কোন কিছু গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেয়া হয়। অনুরূপ, ردَّ عليه বলা হয় যখন তা ভুল প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে ردّ الى منزله এবং ردّ اليه جوابا তখন বলা হয় যখন শব্দটি গ্রহণ করা হয় এবং যখন চিঠির উত্তর দেয়া হয়।
، وقال الراغب : من الأول قوله سبحانه وتعالى : ( يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا الَّذِينَ كَفَرُوا يَرُدُّوكُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ فَتَنْقَلِبُوا خَاسِرِينَ ) آل عمران/১৪৯. رُدُّوهَا عَلَيَّ ۖ فَطَفِقَ مَسْحًا بِالسُّوقِ وَالْأَعْنَاقِ ۖ (سورة ص-৩৩) قُلْ أَنَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنْفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَىٰ أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا اللَّهُ (الأنعام-৭১)
প্রথমটির উদাহরণ স্বরূপ রাগেব ইস্পাহানী বলেন: يَرُدُّوْكُمْ عَلى أَعْقَابِكُمْ অর্থাৎ তাহলে তারা তোমাদেরকে বিপরীত দিকে ফিরিয়ে দেবে।
[আলে ইমরান: ১৪৯] ردوها علىَّ অর্থাৎ এগুলোকে পুনরায় আমার সম্মুখে আনায়ন কর।
[সূরা সোয়াদ, আয়াত-৩৩] نُـردُّ على أعـقابنا অর্থাৎ আমাদের কি আমাদেরকে উল্টো পদে ফিরিয়ে দেয়া হবে? [সূরা আন্‘আম, আয়াত- ৭১] ومن الثاني : فَرَدَدْنَاهُ إِلَى أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ (القصص-১৩) وَلَئِنْ رُدِدْتُ إِلَىٰ رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِنْهَا مُنْقَلَبًا(الكهف-৩৬) ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ(الجمعة-৯৪) ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ ۚ (الأنعام-৬২) .
আর দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো:-
إلى أُمِّـه فَرَدَدْنَاهُ অর্থাৎ আমি তাকে তার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছি।
[সূরা ক্বাসাস, আয়াতÑ১৩] رددتُ الى ربى لاجدن خيرا منها منقلبا অর্থাৎ আর যদি আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হই, তবে আমি তো নিশ্চয় তা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব। [সূরা কাহাফ, আয়াত-৩৬] ثم تردون الى عالم الغيب والشهادة অর্থাৎ অত:পর তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতার নিকট।
[সূরা তাওবা, আয়াতÑ৯৪] ثم ردوا الى الله مولاهم الحق অর্থাৎ অত:পর তাদের প্রকৃত প্রতিপালক আল্লাহর দিকে তারা প্রত্যানীত হয়। [আন‘আম, আয়াতÑ৬২]

পরিচ্ছেদ: (فصل)
قال الراغب : من معاني الرد التفويض ، يقال : رددت الحكم في كذا إلى فلان أي : فوضته إليه ، قال تعالى فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً )النساء৫৯ 🙁 انتهى
রাগেব ইস্পাহানী বলেন: الرد -এর অন্য একটি অর্থ হলোÑ التفويض (ন্যস্ত করা, সমর্পণ করা, সোপর্দ করা)। যেমন বলা হয়ে থাকে رددت الحكم فى كذا الى فلان অর্থাৎ আমি এ বিষয়ের ফয়সালা অমুকের নিকট ন্যস্ত করলাম।
আল্লাহ তা‘আলা এরশাদ করেন:
فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللّهِ وَالرَّسُولِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً (النساء ৫৯) : انتهى .
“যদি কোন বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয় তাহলে তা ন্যস্ত কর আল্লাহ ও রাসূলের নিকট। [সূরা নিসা, আয়াত- ৫৯] আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র এরশাদ করেন: ولوردوه الى الرسول والى اولى الامر منهم “যদি তারা তা রাসূল কিংবা তাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী তাদের গোচরে আনত…। ” [সূরা নিসা, আয়াত- ৮৩]

ويخرج من هذا جواب رابع عشر عن الحديث وهو : أن المراد فوض الله إلي رد السلام عليه ، على أن المراد بالروح الرحمة ، والصلاة من الله الرحمة ، فكان المسلم بسلامه تعرض لطلب صلاة من الله تحقيقا لقوله صلى الله عليه وسلم : عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرَ صَلَوَاتٍ ، وَحَطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ ” . ( )
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আলোচ্য হাদীসের চতুর্দশ আরও জবাবের উৎপত্তি হয়, আর তা হলো: এখানে رد শব্দটি تفويض অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ “আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতি সালাম প্রেরণকারীর সালামের জবাব প্রদানের বিষয়টি আমার নিকট ন্যস্ত ও সমর্পণ করেন।
আর এখানে روح (রূহ) মানে رحمة (রহমত)। আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে صلاة (সালাত)-এর অর্থ হল রহমত।
সুতরাং অর্থ দাঁড়ালÑ সালাম প্রদানকারী তার সালামের বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে রহমত তলবের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।
প্রিয় নবীর এ বাণীর বাস্তবায়ন স্বরূপ, তিনি (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার সালাত প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার বিনিময়ে ঐ ব্যক্তির উপর দশবার রহমত প্রেরণ করবেন ও তার দশটি পাপ মোছন করে দেবেন।
والصلاة من الله الرحمة ، ففوض الله أمر هذه الرحمة إلى النبي صلى الله عليه وسلم ليدعو بها للمسلم فتحصل إجابته قطعا ، فتكون الرحمة الحاصلة للمسلم إنما هي ببركة دعاء النبي صلى الله عليه وسلم له وسلامه عليه ، وينزل ذلك منزلة الشفاعة في قبول سلام المسلم والإثابة عليه ، وتكون الإضافة في روحي لمجرد الملابسة ، ونظيره قوله في حديث الشفاعة : فيرده هذا إلى هذا، وهذا إلى هذا، حتى يرجع إلى الأول. ( )
আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে صلوة-এর অর্থ হলোÑ রহমত। এটি আল্লাহ তা‘আলা এ রহমতের দায়িত্বভার প্রিয়নবীর নিকট অর্পণ করেন, যাতে তিনি ওই সালাম প্রেরণকারীর জন্য দো‘আ করেন। ফলে তাঁর দো‘আ ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে কবূল হয়ে যাবে নিসন্দেহে।
সুতরাং সালাম প্রদানকারীর ভাগ্যে যে রহমতসমূহ জুটল তা মূলত প্রিয়নবীর দো‘আর বরকতেই এবং তা সালাম প্রদানকারীর সালাম কবুল হওয়া ও তার বিনিময়ে তাকে সাওয়াব প্রদান করার জন্য প্রিয়নবীর পক্ষ থেকে শাফা‘আত বা সুপারিশের ন্যায়।
আর এখানে فى روحى-এর মধ্যে যে ইযাফতটি (সম্বন্ধ) রয়েছে তা শুধুমাত্র ‘মুলাবাসাহ্’ বা বাক্যের পরস্পর ঘনিষ্ঠতার কারণে। যেমনটি শাফা‘আত সংক্রান্ত হাদীসে বিদ্যমান। فيرد هذا الى هذا وهذا الى …. “শাফা‘আতের বিষয়টি ইনি ওনার নিকট ন্যস্ত করবেন। ইনি ওনি হতে হতে সর্বশেষ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফার নিকট বিষয়টি সমর্পণ করা হবে।
وفي حديث الإسراء : عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ :” لَقِيتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي إِبْرَاهِيمَ ، وَمُوسَى ، وَعِيسَى ” ، قَالَ : ” فَتَذَاكَرُوا أَمْرَ السَّاعَةِ ، فَرَدُّوا أَمْرَهُمْ إِلَى إِبْرَاهِيمَ ، فَقَالَ : لَا عِلْمَ لِي بِهَا ، فَرَدُّوا الْأَمْرَ إِلَى مُوسَى ، فَقَالَ : لَا عِلْمَ لِي بِهَا ، فَرَدُّوا الْأَمْرَ إِلَى عِيسَى. ( )
মি’রাজ সংক্রান্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “মি’রাজের রাত্রিতে হযরত ইবরাহীম, হযরত মূসা ও হযরত ঈসা আলায়হিমুস্ সালাম-এর সাথে আমার সাক্ষাত হলো, তাঁরা সকলে ক্বিয়ামতের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তাঁরা বিষয়টি হযরত ইবরাহীম আলায়হিস্ সালাম-এর নিকট সোপর্দ করলেন। তিনি উত্তরে বললেন, এ বিষয়ে আমার জ্ঞান নেই। অত:পর বিষয়টি হযরত মূসা আলায়হিস্ সালামএর নিকট সোপর্দ করা হলে তিনিও উত্তরে বললেন: এ বিষয়ে আমার কোন জ্ঞান নেই। অত:পর সবশেষে বিষয়টি হযরত ঈসা আলায়হিস্ সালাম-এর নিকট ন্যস্ত করা হলো।
والحاصل أن معنى الحديث على هذا الوجه : إلا فوض الله إلي أمر الرحمة التي تحصل للمسلم بسببي ، فأتولى الدعاء بها بنفسي بأن أنطق بلفظ السلام على وجه الرد عليه في مقابلة سلامه والدعاء له.
মোদ্দকথা হলো, এদিক থেকে হাদীস শরীফটির অর্থ দাঁড়ায়Ñ আল্লাহ্ তা‘আলা আমার নিকট ঐ রহমতের বিষয়টি ন্যস্ত করবেন, যা সালাম প্রদানকারীর নিকট আমার কারণে ও বরকতে অর্জিত হয়। অত:পর আমি নিজেই এর বিনিময়ে দো‘আ করার দায়িত্ব গ্রহণ করব। ফলে আমি তার সালামের বিনিময়ে তার জবাব দেবার জন্য وَعَلَيْكُمُ السَّلاَمُ বলে মুখ খুলব এবং তার জন্য দো‘আ করব।
ثم ظهر لي جواب خامس عشر وهو : أن المراد بالروح الرحمة التي في قلب النبي صلى الله عليه وسلم على أمته والرأفة التي جبل عليها ، وقد يغضب في بعض الأحيان على من عظمت ذنوبه أو انتهك محارم الله ، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم سبب لمغفرة الذنوب كما في حديث : إذن تكفى همك ويغفر ذنبك. ( )
অত:পর আমার নিকট পঞ্চদশ জবাব উন্মোচিত হলো, আর তা হলোÑ এখানে روح (রূহ) থেকে উদ্দেশ্য হল ওই রহমত, যা প্রিয়নবীর হৃদয় মুবারকে স্বীয় উম্মতদের জন্য বিদ্যমান এবং ঐ স্বভাবজাত দয়া ও স্নেহ, যার উপর তাঁকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি কখনও কখনও রাগান্বিতও হয়ে থাকেন তার উপর, যার অপরাধ অত্যন্ত জঘন্য এবং যে আল্লাহ তা‘আলা নির্ধারিত সীমানা ও নিষেধকে লংঘন করে।
আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর উপর সালাত-সালাম পাপ মার্জনার অন্যতম কারণ। যেভাবে হাদীস শরীফে উল্লেখ রয়েছেÑ “এ অধিকহারে দুরূদ পাঠের ফলে তোমার সকল চিন্তা-পেরেশানী দূর হয়ে যাবে এবং তোমার গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যাবে।”
فأخبر صلى الله عليه وسلم أنه ما من أحد يسلم عليه وإن بلغت ذنوبه ما بلغت إلا رجعت إليه الرحمة التي جبل عليها حتى يرد عليه السلام بنفسه ، ولا يمنعه من الرد عليه ما كان منه قبل ذلك من ذنب ، وهذه فائدة نفيسة وبشرى عظيمة ، وتكون هذه فائدة زيادة من الاستغراقية في أحد المنفي الذي هو ظاهر في الاستغراق قبل زيادتها ، نص فيه بعد زيادتها بحيث انتفى بسببها أن يكون من العام المراد به الخصوص .
অন্যত্র প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন: “কেউ যদি তাঁর উপর সালাম পাঠ করে, আর তার গুনাহ যতই হোক না কেন, তার প্রতি ওই রহমতটুকু তাঁর (সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম) নুরানী হৃদয়ে জাগ্রত হবে, যা তাঁর স্বভাবজাত; ফলে তিনি ওই ব্যক্তির সালামের জবাব নিজেই দেবেন। পূর্বে তার অনেক গুনাহ থাকলেও তার সালামের জবাবে কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি হবে না।
এটা নি:সন্দেহে একটি খুবই উন্নত উপকার এবং মহান সুসংবাদ।

هذا آخر ما فتح الله به الآن من الأجوبة وإن فتح بعد ذلك بزيادة ألحقناها ، والله الموفق بمنه وكرمه ، ثم بعد ذلك رأيت الحديث المسئول عنه مخرجا في كتاب حياة الأنبياء للبيهقي بلفظ : إلا وقد رد الله علي روحي فصرح فيه بلفظ : ” وقد ” ، فحمدت الله كثيرا وقوي أن رواية إسقاطها محمولة على إضمارها ، وأن حذفها من تصرف الرواة وهو الأمر الذي جنحت إليه في الوجه الثاني من الأجوبة ،

এটা সর্বশেষ জবাব, যা আল্লাহ তা‘আলা আমার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। এর চেয়ে আরও অধিক কোন জবাব যদি আমার নিকট উন্মোচিত হয় তাহলে তাও এখানে সংযোজন করব। সকল তাওফীক্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ।
অত:পর আমি উপরোক্ত হাদীস ইমাম বায়হাক্বী রচিত حياة الانبياء (হায়াতুল আন্বিয়া) নামক কিতাবে إلا وقد ردّالله علىّ روحى এভাবে দেখতে পেলাম। তিনি সেখানে وَقَدْ শব্দটি দ্বারা সরাসরি বর্ণনা করেছেন। তা দেখে আমি আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করলাম এবং আমার নিকট খুব দৃঢ়ভাবে সাব্যস্ত হলো যে, অন্যান্য রেওয়ায়তে وَقَدْ শব্দটা বাদ দেয়া হয়েছে; কারণ এটা উহ্য আছে। অথবা তা বাদ দেয়াটা বর্ণনাকরীর পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়েছে। যে সম্পর্কে আমার দ্বিতীয় জবাবে আলোচনা করেছি।

وقد عدت الآن إلى ترجيحه لوجود هذه الرواية فهو أقوى الأجوبة ، ومراد الحديث عليه الإخبار بأن الله يرد إليه روحه بعد الموت فيصير حيا على الدوام ، حتى لو سلم عليه أحد رد عليه سلامه لوجود الحياة فيه ، فصار الحديث موافقا للأحاديث الواردة في حياته في قبره ، وواحدا من جملتها لا منافيا لها البتة بوجه من الوجوه ، ولله الحمد والمنة.

কিন্তু বর্তমানে আমার নিকট এ জবাবটি খুবই শক্তিশালী জবাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এর সমর্থনে প্রমাণিত হয়েছে সরাসরি রেওয়ায়াত। তাই এটাকে আমি অন্যান্য উত্তরের উপর প্রাধান্য দিচ্ছি।
অতএব, উপরোক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে এ হাদীসের উদ্দেশ্য (মর্মার্থ) হলোÑ মহান আল্লাহ প্রিয়নবীর ইন্তিকালের পর তাঁর রূহ মুবারককে স্থায়ীভাবে তাঁর দেহ মুবারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই তিনি সদা-সর্বদা স্বীয় কবর শরীফে জীবিত। এমনকি কেউ তাঁর প্রতি সালাম পেশ করলে তিনি তার উত্তর দিয়ে থাকেন। কারণ তিনি তো জীবিত।
সুতরাং এ হাদীস তাঁর কবর শরীফে জীবিত থাকার বিষয়ে বর্ণিত অন্যান্য হাদিসগুলোর সাথে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ওই হাদিসগুলোরই একটি। এগুলোর সাথে এ হাদীসের কোন বিরোধ নেই।
وقد قال بعض الحفاظ : لو لم نكتب الحديث من ستين وجها ما عقلناه. ( )
কতেক হাফেযে হাদীস বলেছেন: আমরা যদি কোন একটি হাদীসকে ৬০ (ষাট)টি সূত্র থেকে বর্ণনা না করি, তবে তা আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারিনা।
وذلك لأن الطرق يزيد بعضها على بعض تارة في ألفاظ المتن ، وتارة في الإسناد ، فيستبين بالطريق المزيد ما خفي في الطريق الناقصة والله تعالى أعلم .
কেননা বিভিন্ন ধারার বর্ণনা পরস্পর পরস্পরকে মজবুত করে এবং এতে নতুন কতগুলো বিষয় সংযোজিত হয়। কখনও ‘মতন’-এর শব্দগুলোর দিক থেকে, আবার কখনও ‘সনদসমূহের’ দিক থেকে। ফলে অধিক সংখ্যক সূত্র ও ধারায় বর্ণিত হাদীস দ্বারা এমন কিছু দিক উন্মোচিত ও প্রকাশিত হয়, যা কম সংখ্যক বা অসম্পূর্ণ সনদে লুক্কায়িত বা অস্পষ্ট ছিল। আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।
এখানেই إنباه الأذكياء فى حياة ألانبياء কিতাবটি সমাপ্ত হলো।

والحمد لله وحده والصلاة والسلام على من لانبي بعده سيدنا ومولانا محمد وعلى اله وأصحابه واولاده وازواجه وذريته واهل بيته رضوان الله تعالى عليهم اجمعين- والحمد لله رب العالمين-

সমাপ্ত

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment