দরুদ শরীফের ফযীলত

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

♦দরুদ শরীফের ফজিলত কতই না মহান, যাহার মর্তবার শেষ নাই!!

★১. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন, আর যে আঁমার উপর দশবার দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহ্তা আলা তার প্রতি একশত রহমত নাযিল করেন। যে আঁমার উপর একশবার দরূদে পাক প্রেরণ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার উভয় চোখের মধ্যখানে লিপিবদ্ধ করে দেন, এ বান্দা নিফাক ও দোযখের আগুণ থেকে মুক্ত। আর কিয়ামতের দিন তাকে শহীদদের সাথে রাখবেন।”
[মুজামুল আওসাত, ৫ম খন্ড, ২৫২ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২৭৩৫]

★২. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর সারা দিনে পঞ্চাশ বার দরূদ শরীফ পড়ে, আঁমি কিয়ামতের দিন তার সাথে মুসাফাহা করব (অর্থাৎ- হাত মিলাব)।”
[আল কুরবাতু ইলা রব্বিল আলামীন, লি ইবনে বশিকওয়াল,৯০ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ৯০]

★৩. নূরে মুজাস্সাম, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি আঁমার উপর সারা দিনে এক হাজার বার দরূদে পাক পাঠ করে, সে যতক্ষণ না নিজের স্থান জান্নাতের মধ্যে দেখে নেবে,ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।”
[আত্তারগীব ফি ফাযায়িলিল আমাল লি ইবনে শাহিন,১৪ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ১৯]

★৪. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর জুমার দিন দরূদ শরীফ পড়বে আঁমি কিয়ামতের দিন তার জন্য সুপারিশ করব।”
[জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী,৭ম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ২২৩৫২]

★৫.নূরে মুজাস্সাম রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর জুমার রাত ও জুমার দিনে একশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার একশটি হাজত পূরণ করবেন। ৭০টি আখিরাতের আর ৩০টি দুনিয়ার।”
[শুয়াবুল ঈমান,৩য় খন্ড,১১১ পৃষ্ঠা,হাদিস নং ৩০৩৫]

★৬. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি আঁমার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনার্থে দরূদ শরীফ পেশ করে,আল্লাহ পাক সেই দরূদ শরীফ দ্বারা একজন ফেরেশতা তৈরি করেন,যার একটি পাখা থাকবে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে আর একটি পাখা থাকবে পশ্চিম প্রান্তে,তার পদযুগল জমিনের স্প্তম স্তরে (যা সর্ব নিম্ন স্তর) দন্ডায়মান হবে। আর তার গর্দান আরশের ছায়াতলে পৌঁছবে,আল্লাহ পাক সেই ফেরেস্তাকে বলবেন,তুমি আঁমার বান্দার প্রতি দরূদ প্রেরণ করতে থাক, যেমন সে আঁমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর প্রতি দরূদ শরীফ প্রেরণ করেছে। অত:পর সে কিয়ামত পর্যন্ত সে ব্যক্তির প্রতি দরূদ পেশ করতে থাকবে।”

[দালায়েলুল খায়রাত,বঙ্গানুবাদ,গাউসিয়া পাবলিকেশন্স, লেখক, আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মোহাম্মদ ইবনে সোলায়মান যাজুলী (রহ), অনুবাদ- মাও. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, পৃষ্ঠা-১২]

★৭. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন।”
[মুসলিম, ২১৬ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৪০৮]

★৮. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আঁমার নিকটতম ব্যক্তি সেই হবে,যে দুনিয়ায় আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়েছে।”
[তিরমিযী,২য় খন্ড,২৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৪৮৪]

★৯. রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পড়ে,আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন এবং তার আমল নামায় দশটি নেকী লিখে দেন।”
[তিরমিযী, ২য় খন্ড,২৮ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৪৮৪]

★১০. হুজুরপূর নূর ﷺ ইরশাদ করেন: “মুসলমান যতক্ষণ পর্যন্ত আঁমার উপর দরূদে পাক পড়তে থাকে,ফিরিশতারা তার উপর রহমতরাজি নাযিল করতে থাকে, এখন বান্দার মর্জি সে কম পড়ুক–কিংবা বেশি।”
[ইবনে মাজাহ,১ম খন্ড, ৪৯০ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৯০৭]

★১১. আল্লাহর হাবীব হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ ফরমান,“আঁমার উপর অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর,নিশ্চয় আঁমার উপর তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা তোমাদের জন্য পবিত্রতা।”
[মুসনাদে আবি ইয়ালা,৫ম খন্ড,৪৫৮ পৃষ্ঠা, হাদিস-৬৩৮৩]

★১২. হযরত সায়্যিদুনা উবাই বিন কা’ব (রা:) আরজ করলেন যে,আমি (সমস্ত ভির্দ, ওয়াজিফা ছেড়ে দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করাতে ব্যয় করব। তখন রাসূল ﷺ ইরশাদ করলেন: “তা তোমার পেরেশানী সমূহ দূর করার জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।”
[তিরমিযী,৪র্থ খন্ড,২০৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ২৪৬৫]

★১৩. নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর সকালে দশ বার ও সন্ধ্যায় দশ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ নসীব হবে।”
[মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ১০ম খন্ড, ১৬৩ পৃষ্ঠা, হাদীস- ১৭০২২]

★১৪. রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন নিশ্চয় জিব্রাইল (আ:) আঁমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁপনি صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এঁর উপর দরূদ শরীফ পড়ে,আল্লাহ তাআলা তার উপর রহমত নাযিল করেন।আর যে আঁপনি صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এঁর উপর সালাম প্রেরণ করে,আল্লাহ্ তাআলা তার উপর নিরাপত্তা নাযিল করেন।”

[মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ১ম খন্ড, ৪০৭ পৃষ্ঠা,হাদিস- ১৬৬৪]

★১৫. আবার এরকম বর্ননাও রয়েছে। হযরত আবু তালহা (রাঃ), রাসূল ﷺ থেকে বর্ণনা করেন- তিঁনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বললেন, হযরত জিব্রাইল (আ:) এ মাত্র আঁমার নিকট এসে বলেন- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন- হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আঁপনি কি একথায় আনন্দিত হবেন না যে,আঁপনার কোন উম্মত যদি আঁপনার প্রতি একবার দুরূদ শরীফ পড়ে,তাহলে আঁমি তাঁর উপর ১০টি রহমত নাযিল করি।আর যদি একবার আঁপনাকে সালাম দেয়,তাহলে আঁমি তার উপর ১০টি সালামতি (নিরাপত্তা বিধান) নাযিল করি।
[আহমদ-৪র্থ খন্ড,পৃষ্টা-৩০,বাগাভী- ৩য় খন্ড,পৃষ্টা-১৯৬]

★১৬. হুজুরপূর নূর ﷺ ইরশাদ করেন: “যে এটা বলে: اَللّٰهُمَّ صَلِّى عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ المُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ তার জন্য আঁমার সুপারিশ ওয়াজিব হয়ে যাবে।”
[মুজাম কবীর,৫ম খন্ড,২৫ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৪৪৮০]

অনুবাদ: হে আল্লাহ্! হযরত মুহাম্মদ এঁর উপর রহমত নাযিল করুন এবং তাঁকে কিয়ামতের দিন আঁপনার দরবারে নৈকট্যতম স্থান প্রদান করুন।

★১৭. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরামﷺ ইরশাদ করেছেন:“যে (ব্যক্তি) কিতাবে আঁমার উপর দরূদ পাক লিখেছে, যতক্ষণ পর্যন্ত আঁমার নাম তাতে থাকবে,ফিরিশতারা তার জন্য ইস্তিগফার (অর্থাৎ- ক্ষমা প্রার্থনা) করতে থাকবে।”
[মুজাম আওসাত,১ম খন্ড, ৪৯৭ পৃষ্ঠা, হাদিস-১৮৩৫]

★১৮. রাহমাতুল্লীল আলামীন নবিজী ﷺ ইরশাদ করেন: “হে লোকেরা! নিশ্চয় কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা এবং হিসাব নিকাশ থেকে তাড়াতাড়ি মুক্তি পাবে সেই ব্যক্তি,যে তোমাদের মধ্যে আঁমার উপর দুনিয়াতে অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকে।”
[আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব, ৫ম খন্ড,২৭৭ পৃষ্ঠা,হাদিস-৮১৭৫]

★১৯. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আঁমার প্রতি অধিক হারে দরূদ শরীফ পাঠ কর,নিশ্চয় আঁমার প্রতি তোমাদের দরূদ শরীফ পাঠ করা, তোমাদের গুনাহের জন্য মাগফিরাত স্বরূপ।”
[ইবনে আসাকির,৬১তম খন্ড,৩৮১ পৃষ্ঠা]

★২০. নূরে মুজাস্সাম,রাসূলে খোদা ﷺ ইরশাদ করেন: জিব্রাইল (আ:) আঁমাকে আরজ করলেন যে,আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন: “হে মুহাম্মদ! আঁপনি কি এ কথার উপর সন্তুষ্ট নন যে,আঁপনার উম্মত আঁপনার উপর এক বার সালাম প্রেরণ করবে,আর আঁমি তার উপর দশ বার সালাম প্রেরণ তথা শান্তি বর্ষণ করব?”
[নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা,হাদিস-১২৯২]

★২১. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করে,আল্লাহ্ তাআলা তার উপর দশটি রহমত বর্ষণ করেন,দশটি গুনাহ ক্ষমা করেন এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।”
[নাসায়ী, ২২২ পৃষ্ঠা,হাদিস-১২৯৪]

★২২. রাহমাতুল্লীল আলামীন নবীজী ﷺ ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ্ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা পোষণকারী যখন দু’জন বন্ধু পরস্পর সাক্ষাত করে। ও মুসাফাহা করে (অর্থা- হাত মিলায়) আর প্রিয় নবী,রাসুলে আরবী দেব আর) নিজের পরিপূর্ণ সময় দরূদ শরীফ পাঠ করতে ব্যয় করব। তখন ছরকারে মদীনা ﷺ এঁর উপর দরূদ পাক পাঠ করে, তবে তারা উভয়ে পরস্পর পৃথক হবার পূর্বে আগের ও পরের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।”
[মুসনাদে আবি ইয়ালা,৩য় খন্ড, ৯৫ পৃষ্ঠা,হাদীস-২৯৫১]

★২৩. আল্লাহ পাকের প্রিয় মাহবুব, হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেন “নামাযের পর হামদ,সানা ও দরূদ শরীফ পাঠকারীকে বলা হয়: দোয়া কর,কবুল করা হবে। প্রার্থনা কর, প্রদান করা হবে।”
[নাসায়ী,২২০ পৃষ্ঠা,হাদিস- ১২৮১]

★২৪. অদৃশ্যের সংবাদ দাতা,নবী করীম রাউফুর রাহীম ﷺ ইরশাদ করেন “যে ব্যক্তি আঁমার প্রতি ভালবাসা ও আগ্রহের কারণে প্রতিটি দিন ও রাতে তিন তিন বার করে দরূদ শরীফ পাঠ করবে,আল্লাহ তা’আলা তার বদান্যতার দায়িত্বে একথা অপরিহার্য করে নেন যে, তিঁনি তার ওই দিন ও রাতের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।”
[মু’জামুল কবীর,১৮ তম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৯২৮]

★২৫. রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) একথা পছন্দ করে যে,আল্লাহ তা‘আলার মহান দরবারে পেশ হবার সময় আল্লাহ্ তাআলা তার উপর সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন,তবে তার উচিত আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করা।”
[ফিরদৌসুল আখবার,বিমাসুরিল খাত্তাব, ২য় খন্ড,২৮৪ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৬০৮৩]

★২৬. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম,নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর এক বার দরূদে পাক পাঠ করে, আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য এক ‘ক্বীরাত’ পরিমাণ সাওয়াব লিখে দেন। ক্বীরাত হচ্ছে: উহুদ পর্বতের সম-পরিমাণ।”
[মুসান্নিফে আবদুর রাজ্জাক,১ম খন্ড,৩৯ পৃষ্ঠা,হাদিস-১৫৩]

★২৭. আল্লাহ পাকের প্রিয় মাহবুব,হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেন “ফরয হজ্ব আদায় করো,নিশ্চয় এটির সাওয়াব বিশটি যুদ্ধে (গাযওয়া) অংশগ্রহণ করার চেয়েও বেশি,আর আঁমার উপর এক বার দরূদ শরীফ পাঠ করা,এটার সমপরিমাণ সাওয়াব।”
[ফিরদৌসুল আখবার,বিমাসুরিল খাত্তাব,১ম খন্ড, ৩৩৯ পৃষ্ঠা, হাদিস- ২৪৮৪]

★২৮. সুলতানে দো-আলম,নূরে মুজাস্সাম ﷺ ইরশাদ করেন: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলার আরশের ছায়া ব্যতীত আর কোন ছায়া থাকবে না।তিন ব্যক্তি (ঐ দিন) আল্লাহ তা‘আলার আরশের ছায়ায় থাকবে। আরজ করা হল: ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ তারা কারা হবে? তিঁনি ইরশাদ করলেন:

*(ক.) ঐ ব্যক্তি যে আঁমার উম্মতের পেরেশানী দূর করে।
*(খ.) আঁমার সুন্নাতকে জীবিতকারী
*(গ.) আঁমার উপর অধিক পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠকারী।”

[আল বাদূরুস সাফিরাতু লিস্ সূয়ুতী,১৩১ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৩৬৬]

★২৯. রহমতে আলম,হুজুরপূর নূর ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি এটা বলে: جَزَ اللهُ عَنّا مُحَمَّدًا مَّا هُوَ اَهْلُه ৭০ জন ফিরিশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত তার জন্য নেকী লিখতে থাকে।”
[মুজাম আওসাত,১ম খন্ড, ৮২ পৃষ্ঠা,হাদিস- ২৩৫]

অনুবাদ: আল্লাহ্ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদকে এমন প্রতিদান প্রদান করুন,যেটার তিনি উপযুক্ত।

★৩০. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “আঁমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করো, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর রহমত নাযিল করবেন।”
[আল কামিলু লিইবনে আছি,৫ম খন্ড, ৫০৫ পৃষ্ঠা]

★৩১. নূরে মুজাস্সাম ﷺ ইরশাদ করেন: “যখন তোমরা রাসুলগণদের عَلَيْهِمُ السَّلَام উপর দরূদ পাক পড়ো, তখন আঁমার উপরও দরূদ শরীফ পাঠ করো,নিশ্চয় আঁমি সমস্ত জাহানের প্রতিপালকের রাসুল।”
[জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী,১ম খন্ড, ৩২০ পৃষ্ঠা, হাদিস- ২৩৫৪]

★৩২. একদা হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবূ বকর শিবলী (রহ:) বাগদাদ শরীফের বিজ্ঞ আলিম হযরত সায়্যিদুনা আবূ বকর মুজাহিদ (রহ:) এর নিকট তাশরীফ নিলেন। হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর মুজাহিদ (রহ:) তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর কপালে চুমু দিয়ে খুবই সম্মানের সাথে নিজের পাশে বসালেন। সেখানে উপস্থিত লোকেরা আরয করলেন: হে সায়্যিদী! আপনি ও বাগদাদের অধিবাসীরা এতদিন যাবৎ তাঁকে পাগল বলে আসছেন কিন্তু আজকে কেন তাঁকে এমন সম্মান দেখালেন?

জবাবে বললেন: আমি এমনিতেই এরূপ করিনি। الحمد لله عزوجل ! আজ রাতে আমি স্বপ্নে এরূপ ঈমান তাজাকারী দৃশ্য দেখেছি যে, হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর শিবলী (রহ:) বারগাহে রিসালাত ﷺ এ উপস্থিত হয়েছেন,তখন ছরকারে দো-আলম, নূরে মুজাস্সাম,নবী করীম ﷺ দাঁড়িয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন আর কপালে চুমু দিয়ে তাঁর পাশে বসালেন। আমি আরয করলাম ইয়া রাসুলাল্লাহ ﷺ শিবলীর প্রতি এরূপ দয়া প্রদর্শনের কারণ কি?

আল্লাহর মাহবুবﷺ (অদৃশ্যের সংবাদ দিয়ে) বললেন: সে প্রত্যেক নামাযের পর এ আয়াত পাঠ করে:

لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

আয়াত পাঠ করার পর আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে।
[আল কাওলুল বদী, ৪৬ পৃষ্ঠা, মু’সিসাতুর রাইয়ান, বৈরুত]

★৩৩. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে (ব্যক্তি) কুরআন পড়লো এবং আপন প্রতিপালকের প্রশংসা করলো,অতঃপর আঁমার উপর দরূদে পাক পড়লো,তারপর নিজ প্রতিপালক থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করল, তবে সে মঙ্গলকে সেটার জায়াগা থেকে তালাশ করে নিলো।”
[শুয়াবুল ঈমান,২য় খন্ড,৩৭৩ পৃষ্ঠা, হাদিস-২০৮৪]

★৩৪. হযরত ওমর ফারুক (রা:) বলেন, “দু’আ আসমান ও যমীনের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে! তা থেকে কিছুই ওপরে যায়না (অর্থাৎ দু‘আ কবুল হয় না) যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি আপন নবীর উপর দুরূদ পাঠ কর।”
[জামে তিরমিযী,২য় খন্ড,পৃ:২৮, হাদিস নং-৪৮৬]

★৩৫. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “আঁমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে তোমরা তোমাদের মজলিশ সমূহকে সজ্জিত করো,কেননা তোমাদের দরূদে পাক পাঠ করা কিয়ামতের দিন তোমাদের জন্য নূর হবে।”
[ফিরদৌসুল আখবার,১ম খন্ড,৪২২ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ৩১৪৯]

★৩৬. হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আহমদ ইবনে মনসুর (রহ:) যখন ওফাত প্রাপ্ত হন, তখন একজন শীরাযবাসী তাঁকে স্বপ্নে দেখলেন-তিনি শীরাযের জামে মসজিদের মেহরাবে দাঁড়ানো।আর তাঁর পরনে ছিলো উন্নতমানের পোশাক। মাথার উপর মুক্তা খচিত তাজ শোভা পাচ্ছিলো।স্বপ্নে যে দেখেছে সে স্বপ্নদ্রষ্টা আরয করল,“হযরত কেমন আছেন?”

তিনি বললেন, “আল্লাহ তা’আলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমার উপর দয়া করেছেন। আমাকে তাজ পরিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছেন।” লোকটি বললো, “কি কারণে?” বললেন, আমি তাজেদারে মদীনা হযরত মুহাম্মদ ﷺ এঁর উপর বেশি পরিমাণে দরূদে পাক পড়তাম, বস্তুত: এই আমলটা কাজে এসেছে।”
[আল কাউলূল বদী,পৃ: ২৫৪]

♦দরুদ শরীফের ফজিলত কতই না মহান, যাহার মর্তবার শেষ নাই!!-৭ম পর্ব দেখুন

★৩৭. আল্লাহর মাহবুব,হযরত মুহাম্মদ ﷺ ইরশাদ করেন “যে ব্যক্তি আঁমার উপর প্রতিদিন হাজার বার দুরুদে পাক পাঠ করলো, সে যতক্ষণ পর্যন্ত আপন ঠিকানা জান্নাতকে না দেখবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবেনা।”
[আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব,২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩২৮ পৃঃ ২২নং হাদীস]

★৩৮. অসাধারণ মাদানী মুন্নী
হযরত সায়্যিদুনা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সোলায়মান জাযুলী (রহ:) বলেন: আমি সফরে ছিলাম। এক স্থানে আসার পর নামাযের সময় হয়ে গেল। সেখানে একটি কূপ ছিল, কিন্তু বালতি আর রশি ছিল না। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম, তখনি একটি ঘরের উপর হতে এক মাদানী মুন্নী আমাকে আড়াল হতে দেখছিল,আর জিজ্ঞাসা করল: আপনি কী খুঁজছেন? আমি বললাম: কন্যা, রশি আর বালতি। সে জিজ্ঞাসা করল: আপনার নাম? বললাম: মুহাম্মদ ইবনে সোলায়মান জাযুলী।

মাদানী মুন্নীটি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলল: আচ্ছা! আপনিই কি সেই ব্যক্তি, যার প্রসিদ্ধির ডঙ্কা বাজছে চারদিকে। অথচ আপনার অবস্থা এই যে, কূপ থেকে পানিও নিতে পারছেন না! এ কথা বলেই সে কূপে থুথু ফেলল। মুহুর্তেই পানি উপরের দিকে উঠে গেল এবং পানি কুপ থেকে উপচে পড়তে লাগল। তিনি জাযুলী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِ ওযু করার পর সেই অসাধারণ মাদানী মুন্নীকে বললেন: কন্যা! তুমি সত্যি করে বল তো, এ অসাধারণ ক্ষমতা তুমি কিভাবে অর্জন করেছ?

সে বলল: আমি দরূদ শরীফ পাঠ করে থাকি আর তার বরকতেই এই দয়া হয়েছে। তিনি বলেন: এই অসাধারণ মাদানী মুন্নীর কথায় প্রভাবিত হয়ে আমি সেখানেই সংকল্প করলাম যে, দরূদ শরীফের উপর কিতাব লিখব।

[সা’আদাতুদ দারাইন,পৃষ্ঠা-১৫৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া বৈরুত]

অতঃপর শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলায়মান জাযুলী (রহঃ) দরূদ শরীফের কিতাব রচনা করেন।যেটি সর্বজন গৃহীত হয়েছে আর সেই কিতাবের নাম হল “দালায়িলুল খায়রাত”।

তাছাড়াও শায়খ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সুলায়মান জাযুলী (রহঃ) হলেন এমন একজন ব্যক্তিত্ব যিনি বিশ হাজার মুহাদ্দিস ও ফকীহদের ওস্তাদ এবং ১২৬৩৬ জন আওলিয়ায়ে কেরামের শায়খ বা পীরে কামিল ছিলেন।

বালিকার পঠিত দরূদ শরীফটির নাম “ছালাতু বীর”।দরূদ শরীফটি হল- “আল্লাহুম্মা সাল্লি আ’লা সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন অ’য়ালা আলি সায়্যিদিনা মুহাম্মাদিন ছালাওয়াতান দায়িমাতাম মাকবুলাতান তুওয়াদ্দিবিহা আ’ন্না হাক্কাহুল আ’যীম”।

★৩৯. নূরে মুজাস্সাম নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে আঁমার প্রতি ভালবাসা ও ভক্তি সহকারে তিনবার করে দরূদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা’আলার উপর (নিজ বদান্যতায়) দায়িত্ব যে, তিঁনি তার ঐ দিন ও ঐ রাতের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
[আল মুজামুল কবীর লিখিত তিবরানী,১৮তম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস-৯২৮]

★৪০. রাসুলদের সরদার,হুযুর পুরনূর ﷺ ইরশাদ করেছেন:“যে (ব্যক্তি) কুরআন পড়লো,আপন প্রতিপালকের প্রশংসা করলো,অতঃপর নবী ﷺ এঁর উপর দরূদ পড়লো,তারপর নিজ প্রতিপালক থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করলো,তবে সে মঙ্গলকে সেটার জায়গা থেকে তালাশ করে নিলো।”
[শুয়াবুল ঈমান,২য় খন্ড,৩৭৩ পৃষ্ঠা, হাদিস- ২০৮৪]

★৪১. অপর বর্ননায় হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে:

وَعَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ كَعْبِ بن عُجْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا النَّبِيُّ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ عَلِمْنَا كَيْفَ نُسَلِّمُ عَلَيْكَ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ قَالَ: «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجيدٌ . اَللهم بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجْيدٌ» . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ মুহাম্মদ কা‘ব ইবনে ‘উজরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একদা) আমাদের নিকট এলে। আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আঁপনার প্রতি কিভাবে সালাম পেশ করতে হয় তা জেনেছি, কিন্তু আঁপনার প্রতি দরূদ কিভাবে পাঠাব?’ তিনি বললেন, “তোমরা বলোঃ- ‘আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’

****দলিল****
*১. বুখারী -৩৩৭০,৪৭৯৭,৬৩৫৭,
*২. মুসলিম-৪০৬
*৩. তিরমিযী-৪৮৩
*৪. নাসায়ী,১২৮৭-১২৮৯
*৫. আবূ দাউদ ৯৭৬
*৬. ইবনু মাজাহ ৯০৪
*৭. আহমাদ-১৭৬৩৮,১৭৬৩১, ১৭৬৬৭
*৮. দারেমী-১৩৪২

★৪২. হযরত তোফায়েল ইবন উবাই ইবন কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন,আমি জিজ্ঞেস করলাম,হে আল্লাহর রাসূল! আমি আঁপনার প্রতি অধিকহারে দরূদ পড়তে চাই, অতএব আমার দু‘আর মধ্যে আঁপনার দরূদের জন্য কতটুকু অংশ রাখব? তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও।কা‘ব (রা:) বলেন, আমি বললাম,এক চতুর্থাংশ? তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও। তবে যদি তুমি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম,অর্ধেক?

তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। কা‘ব (রা:) বলেন, আমি বললাম, তাহলে দুই তৃতীয়াংশ? তিঁনি বললেন : তুমি যতটুকু চাও। তবে তুমি যদি বেশি পড় তা তোমার জন্য উত্তম হবে। আমি বললাম, আমার দু‘আর পুরোটা জুড়েই শুধু আঁপনার দরূদ রাখব। তিঁনি বললেন : তাহলে তা তোমার ঝামেলা ও প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
[তিরমিযী : ২৬৪৫ ও হাকেম : ৭৬৭৭]

★৪৩. রাসূল ﷺ বলেছেন,”আল্লাহ তা’আলা বিরাটাকারে এক ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন,যার এক বাহু ভূমণ্ডল পূর্ব প্রান্তে এবং অপর বাহু পশ্চিম প্রান্তে।মস্তক আরশে আযিম এর সন্নিকটে এবং পদদ্বয় সাত তবক জমিন অতিক্রম করেছে । তাকে সমগ্র জগতসম পাখা-পালক দ্বারা সুসজ্জিত করা হইয়াছে ।আঁমার কোন উম্মত যখন আঁমার উপর দুরুদ শরীফ পাঠ করে,তখন উক্ত ফেরেশতা আল্লাহ পাকের আরশের নীচে অবস্থিত নূরের সমুদ্রে ডুব দেয়।

অতঃপর আল্লাহর নির্দেশে সে ফেরেশতা নূরের সমুদ্র থেকে বের হয়ে সর্বশরীর ঝাড়া দেয়।ফলে তার অগণিত পাখা ও পালক থেকে অসংখ্য পানির ফোঁটা ঝরে পরে।তা থেকে আল্লাহর কুদরতে এক একজন ফেরেশতা সৃষ্টি হয়।এ অসংখ্য-অগণিত ফেরেশতা কেয়ামত পর্যন্ত দরূদ পাঠকারীর মাগফেরাত জন্য দোয়া করতে থাকে।
[মুকাশাফাতুল কুলূব গ্রন্থের ৩৪ নং এর ১]

★৪৪. রহমাতুল্লিল আলামীন, শফীউল মুযনীবিন,হুযুর পুরনূর ﷺ ইরশাদ করেন: “তোমরা অধিক হারে আঁমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করো,নিশ্চয় এটা তোমাদের জন্য পবিত্রতা।”
[মুসনাদে আবি ইয়ালা,৫ম খন্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা,হাদিস-৬৩৮৩]

★৪৫. তাবেয়ী বুযুর্গ হযরত সায়্যিদুনা কাবুল আহবার (রহ:) বলেন: আল্লাহ্ তা’আলা হযরত সায়্যিদুনা মুসা কলিমুল্লাহ্ عَلَيْهِ السَّلَام এর নিকট এ মর্মে ওহী পাঠালেন: হে মুসা عَلَيْهِ السَّلَام! তুমি কি কিয়ামতের দিনের পিপাসা থেকে রক্ষা পেতে চাও? আরয করলেন: হে আমার প্রতিপালক! হ্যাঁ! আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করলেন: فَاَكْثِرِ الصَّلَاةَ عَلٰى مُحَمَّدٍ অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এঁর উপর বেশি পরিমানে দরূদ শরীফ পড়ো।
[ইবনে আসাকির, ৬১তম খন্ড,১৫০ পৃষ্ঠা, সংক্ষিপ্ত]

★৪৬. এক ব্যক্তি স্বপ্নে ভয়ানক বিপদ দেখতে পেল। ভীত হয়ে সে জিজ্ঞাসা করল: তুমি কে? বিপদটি বলল: আমি হলাম তোমার খারাপ আমল। লোকটি জিজ্ঞাসা করল: তোমার থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় আছে কি? সে জবাব দিল: অধিকহারে দরূদ শরীফ পাঠ করা।

[আল কওলুল বদী,২২৫ পৃষ্ঠা, মুয়াস্সাসাতুর রাইয়ান,বৈরুত]

★৪৭.অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে।

وَعَنْ أَبي مَسعُودٍ البَدرِي رضي الله عنه، قَالَ: أَتَانَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحنُ في مَجْلِسِ سَعدِ بن عُبَادَةَ رضي الله عنه، فَقَالَ لَهُ بَشْيرُ بْنُ سَعدٍ رضي الله عنه : أَمَرَنَا الله تَعَالَى أَنْ نُصَلِّيَ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، فَكَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، حَتَّى تَمَنَّيْنَا أَنَّهُ لَمْ يَسْأَلْهُ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْت عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، إنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وَالسَّلاَمُ كَمَا قَدْ عَلِمْتُمْ» . رواه مسلم

আবূ মাসঊদ বদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সায়াদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মজলিসে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলে। বাশীর ইবনে সা‘আদ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আমাদেরকে আঁপনার প্রতি দরূদ পড়তে আদেশ করেছেন, কিন্তু কিভাবে আঁপনার উপর দরূদ পড়ব?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরুত্তর থাকলেন। পরিশেষে আমরা আশা করলাম, যদি (বাশীর) তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তো ভাল হত)। ক্ষণেক পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা বলো, ‘আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আ-লি মুহাম্মদ, কামা বা-রাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম। ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।’ আর সালাম কেমন,তা তো তোমরা জেনেছ।”

****দলিল****
*১. মুসলিম-৪০৫
*২. তিরমিযী-৩২২০
*৩. নাসায়ী ১২৮৫,১২৮৬
*৪. আবূ দাউদ ৯৭৯
*৫. আহমাদ ১৬৬১৯,১৬৬২৪, ২১৮৪৭
*৬. মুওয়াত্তা মালিক-৩৯৮
*৭. দারেমী-১৩৪৩

★৪৮. হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি আঁমার উপর একদিনে হাজার বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে,বেহেশতে তার স্থান না দেখা পর্যন্ত সে মৃত্যু বরণ করবে না।
[সা’দাতুদ দারাইন,আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ,তুরস্ক, পৃ-১১৫]

★৪৯. হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক (রা:) বলেন: “নবী করীম, রাউফুর রাহীম ﷺ এঁর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা গুনাহ সমূহকে এত দ্রুত মিটিয়ে দেয় যে,পানিও আগুণকে তত দ্রুত নিভাতে পারে না, আর রাসুলুল্লাহ ﷺ এঁর উপর সালাম প্রেরণ করা গর্দান সমূহ (অর্থাৎ- গোলামদেরকে) আযাদ করার চেয়েও উত্তম।”
[তারিখে বাগদাদ,৭ম খন্ড,১৭২ পৃষ্ঠা]

★৫০. হযরত সায়্যিদুনা আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) বলেন: “তোমরা তোমাদের মজলিশ সমূকে আল্লাহর নবী,রাসুলে আরবী ﷺ এঁর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করে সজ্জিত করো।”
[তারিখে বাগদাদ,৭ম খন্ড,২১৬ পৃষ্ঠা]

★৫১. হযরত সায়্যিদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস (রা:) বলেন: “যে (ব্যক্তি) নবী পাক,সাহিবে লাওলাক, হুযুর পুরনূর ﷺ এঁর উপর এক বার দরূদে পাক পাঠ করবে, তার উপর আল্লাহ্ তাআলা এবং তার ফিরিশতারা ৭০ বার রহমত প্রেরণ করবেন।”
[মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ২য় খন্ড,৬১৪ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৬৭৬৬]

★৫২. অপর হাদিস শরীফে বর্নিত হয়েছে।

وَعَنْ أَبي حُمَيدٍ السَّاعِدِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ ؟ قَالَ: «قُولُوا: اَللهم صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى أَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إبْرَاهِيمَ إنَّكَ حَميدٌ مَجِيدٌ» . متفقٌ عَلَيْهِ

আবূ হুমাইদ সায়েদী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা কিভাবে আপনার প্রতি দরূদ পেশ করব?’ তিনি বললেন, “তোমরা বলো, “আল্লা-হুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আযওয়া-জিহি অযুর্রিয়্যাতিহি কামা স্বাল্লাইতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, অবা-রিক আলা মুহাম্মাদিঁউ অআলা আযওয়া-জিহি অযুর্রিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”
****দলিল****
*১. সহীহুল বুখারী-২৩৬৯,৬৩৬০
*২. মুসলিম-৪০৭
*৩. নাসায়ী-১২৯৪
*৪. আবূ দাউদ-৯৭৯
*৫. ইবনু মাজাহ-৯০৫
*৬. আহমাদ-২৩০৮৯
*৭. মুওয়াত্তা মালিক-৩৯৭

★৫৩. ফাযালা বিন উবায়দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপবিষ্ট ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামায আদায় করল, এরপর দু’আ করল: “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে মাফ করে দাও, তুমি আমাকে রহম কর’।তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে নামাযী! তুমি বেশ তাড়াহুড়া করে ফেললে।তুমি নামায আদায় করে যখন বসবে তখন আগে আল্লাহর যথোপযুক্ত প্রশংসা করবে, আঁমার ওপর দরুদ পড়বে। এরপর আল্লাহর কাছে দু’আ করবে।”
[সুনানে তিরমিযি, ৩৪৭৬]

★৫৪. অপর রেওয়ায়েতে এসেছে।
“যখন তোমাদের কেউ নামায শেষ করবে তখন আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি শুরু করবে। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়বে।অতঃপর যা ইচ্ছা দোয়া করবে”।বর্ণনাকারী বলেন: এরপর অপর এক লোক নামায আদায় করল।সে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়ল।তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওহে নামাযী! দোয়া কর, আল্লাহ তোমার দোয়া কবুল করবেন”
[সুনানে তিরমিযি ৩৪৭৭]

★এছাড়া ও নাসীর উদ্দীন আলবানী ও সহিহুত তিরমিযি গ্রন্থে (২৭৬৫), (২৭৬৭) হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

★৫৫. ইমাম ইবনে শাহীন (রহঃ) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, হুজুরপূর নূর,নবী করীম রাউফুর রাহীম ﷺ ইরশাদ করেন- নিশ্চয় আঁমার প্রতি দুরূদ পড়াটা পুলছিরাতে নূর হিসেবে থাকবে। আর যে ব্যক্তি জুমাআর দিনে ৮০ বার দুরূদ শরীফ পাঠ করবে তার ৮০ বৎসরের গুণাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
****দলিল****
*১. সা’দাতুদ দারাইন,আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ,তুরস্ক,পৃ:১০৩
*২. আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব,২য় খন্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৩৮১৪

★৫৬. হযরত আওস ইবনে আউস (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

ﺇﻥ ﻣﻦ ﺃﻓﻀﻞ ﺃﻳﺎﻣﻜﻢ ﻳﻮﻡ
ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ … ﻓﺄﻛﺜﺮﻭﺍ ﻋﻠﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ
ﻓﻴﻪ، ﻓﺈﻥ ﺻﻼﺗﻜﻢ ﻣﻌﺮﻭﺿﺔ ﻋﻠﻲ …

নিশ্চয়ই জুমার দিন শ্রেষ্ঠতম দিনগুলোর অন্যতম। … সুতরাং সেদিন তোমরা আঁমার
উপর বেশি বেশি দরূদ পড়। নিশ্চয় তোমাদের দরূদ আঁমার কাছে পেশ করা হয়।
*****দলিল*****
*১. সুনানে আবু দাউদ,হাদিস:১০৪৭
*২. মুসনাদে আহমদ,হাদিস,১৬১৬২
*৩. সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৯১০
[হাদিসটির সনদ সহীহ]

★৫৭. হযরত আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

ﺃﻛﺜﺮﻭﺍ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻋﻠﻲ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ
ﻭﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ، ﻓﻤﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻲ
ﺻﻼﺓً ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻋﺸﺮﺍً .

তোমরা জুমার রাত ও জুমার দিনে আঁমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর। যে ব্যক্তি আঁমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তাআলা তার উপর দশবার রহমত
নাযিল করেন।
*****দলিল*****
*১. আসসুনানুল কুবরা,বায়হাকী ৩/২৪৯
*২. ফাযাইলুল আওকাত,বায়হাকী- ২৭৭
*৩. আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, ইবনুস সুন্নী ৩৭৯।
[সনদ হাসান পর্যায়ের।]

★৫৮. অন্য হাদিসে শরীফে বর্নিত হয়েছে।

ﺃﻛﺜﺮﻭﺍ ﻋﻠﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ
ﺟﻤﻌﺔ، ﻓﺈﻥ ﺻﻼﺓ ﺃﻣﺘﻲ ﺗﻌﺮﺽ
ﻋﻠﻲ ﻓﻲ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺟﻤﻌﺔ، ﻓﻤﻦ ﻛﺎﻥ
ﺃﻛﺜﺮﻫﻢ ﻋﻠﻲ ﺻﻼﺓ ﻛﺎﻥ ﺃﻗﺮﺑﻬﻢ ﻣﻨﻲ
ﻣﻨﺰﻟﺔ .
প্রত্যেক জুমার দিনে তোমরা আঁমার উপর অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ কর। কারণ আঁমার উম্মতের দরূদ প্রতি জুমার দিন আঁমার কাছে পেশ করা হয়। আর তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আঁমার উপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পাঠ করে সে অন্যদের তুলায় আঁমার বেশি নিকটবর্তী।
[সুনানে বায়হাকী ৩/২৪৯,সনদ হাসান]

★৫৯. নির্ভরযোগ্য সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকে বর্ণিত।তিনি তার এক শাগরিদ যায়েদ বিন ওয়াহাবকে নসীহত করেছেন-

ﻳﺎ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﻭﻫﺐ! ﻻ ﺗﺪﻉ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﻮﻡ
ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﺃﻥ ﺗﺼﻠﻲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ
ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻟﻒ ﻣﺮﺓ ﺗﻘﻮﻝ :
ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺻﻞ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺍﻷﻣﻲ.

হে যায়েদ বিন ওয়াহাব! জুমার দিন তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর প্রতি এক হাজার বার দরূদ পড়তে ভুল করো না। এভাবে বলবে-

ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺻَﻞِّ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺍﻟْﺄُﻣِّﻲِّ.

*****দলিল*****
*১. আততারগীব ওয়াত তারহীব,আবুল কাসেম আততাইমী ১৬৫৪
*২.যিকরু আখবারি আসবাহান,আবু
নুয়াইম ২/১৭১

★৬০. নূরে মুজাস্সাম ﷺ ইরশাদ করেন: “জুমার রাত এবং জুমার দিন আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পড়ো, কেননা তোমাদের দরূদে পাক আঁমার নিকট পেশ করা হয়।”
[মুজাম আওসাত,১ম খন্ড, ৮৩ পৃষ্ঠা,হাদিস- ২৪১]

★৬১. হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত। জুমার দিন যোহর থেকে আছর পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে আল্লাহ তা’আলা হাওয়া (আ:)কে- আদম(আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর বাম পাজর থেকে সৃষ্টি করলেন,আর তখন তিঁনি ঘুমিয়ে ছিলেন।আদম(আ:) যখন হাওয়া(আ:)-এঁর নিকট গেলেন তখন ফেরেশতারা মোহরানা আদায় করতে বললেন,তখন আদম (আ:) বললেন তার মোহরানা কী? তখন ফেরেশতারা বললেন আঁপনি হযরত মুহাম্মদ(সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর উপর তিনবার দরুদ শরীফ পড়ুন।”

*********দলিল********
*১. ইমাম কোস্তালানী,মাওয়াহেবে লাদুন্নিয়া-১/৭৬পৃঃ,মাকতাবাতুল ইসলাম,বৈরুত, লেবানন।
*২. ইবনে কাসীর,বেদায়া ওয়ান নেহায়াঃ১/৭৪পৃঃ
*৩. আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী,আল মাওয়ারিদুর রাভী ফি মওলুদুন্নবী-১৫ পৃঃ

★৬২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত।রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন- যখন বৃস্পতিবার রাত আসে তখন আল্লহ এমন কতগুলো ফেরেশতা প্রেরণ করেন যাদের হাতে রুপার কাগজ ও স্বর্ণেরও কলম থাকে,যা দ্বারা বৃস্পতিবার দিন ও শুক্রবার রাতে দরূদ শরীফ পাঠকারীদের দরূদ শরীফ সমূহ লিখতে থাকে।

[সা’দাতুদ দারাইন,আল মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ, তুরস্ক,পৃ-৯২]

★৬৩. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, রাসূলে আকরাম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “জুমার দিন ও জুমার রাতে (অর্থাৎ- বৃহস্পতিবার ও জুমার মধ্যবর্তী রাতে) আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করো।কেননা যে এমনটি করবে,আঁমি কিয়ামতের দিন তার সুপারিশকারী ও সাক্ষী হবো।”
[শুয়াবুল ঈমান,৩য় খন্ড, ১১১ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৩০৩৩]

★৬৪. নবী করীম ﷺ ইরশাদ করেন “যখন বৃহম্পতিবার আসে আল্লাহ্ তা’আলা ফিরিশতাদেরকে প্রেরণ করেন। তাদের নিকট রূপার কাগজ ও সোনার কলম থাকে, তারা লিপিবদ্ধ করে-কে বৃহস্পতিবার ও জুমার রাতে আঁমার উপর বেশি পরিমাণে দরূদ শরীফ পাঠ করে।”

[আল ফিরদৌস বিমাসুরিল খাত্তাব,১ম খন্ড,১৮৪ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৬৮৮]

★৬৫. নূরে মুজাস্সাম ﷺ ইরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি জুমার দিন আঁমার উপর একশত বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, যখন সে কিয়ামতের দিন আসবে, তখন তার সাথে এমন একটি নূর থাকবে যে, যদি তা সমস্ত সৃষ্টিকে বন্টন করে দেয়া হয়, তবে তা সবার জন্য যথেষ্ট হবে।”
[হিলয়াতুল আউলিয়া, ৮ম খন্ড, ৪৯ পৃষ্ঠা]

★৬৬. সুলতানে দো-আলম,নূরে মুজাস্সাম ﷺ ইরশাদ করেন: “যে (ব্যক্তি) আঁমার উপর জুমার দিন ২০০ বার দরূদ শরীফ পাঠ করে, তার ২০০ বছরের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যাবে।”
[জমউল জাওয়ামি লিস্ সূয়ুতী,৭ম খন্ড, ১৯৯ পৃষ্ঠা]

★৬৭. রহমতে আলম,নূরে মুজাস্সাম, হুজুরপূর নূর ﷺ ইরশাদ করেছেন: “যে ব্যক্তি জুমার রাত ও জুমার দিন আঁমার উপর একশত বার দরূদ শরীফ পড়বে, আল্লাহ্ তা’আলা তার ১০০টি অভাব পূরণ করবেন। (তার মধ্যে) ৭০টি আখিরাতে আর ৩০টি দুনিয়াতে।”

[তারিখে দামেশক লি ইবনে আসাকির, ৫৪তম খন্ড, ৩০১ পৃষ্ঠা, দারুল ফিকর বৈরুত]

★৬৮. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত।রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে আঁমার রওজামোবারকের সামনে এসে দরূদ পড়লো আঁমি নিজ কানে তার দরূদ শরীফ শুনতে পাই। আর যে আঁমার প্রতি দূর থেকে দরূপ পাঠ করলো আঁমাকে তা পৌঁছানো হয়।’
[শুয়াবুল ঈমান লিল বায়হাকী,পৃ : ১৫৮৩]

★৬৯. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত।নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ আঁমাকে সালাম দিলে আল্লাহ আঁমার মধ্যে রূহ ফিরিয়ে দেন এবং আঁমি সালামকারীকে সালামের উত্তর দেই।
[আবু দাউদ শরীফ, হাদিস : ২০৪১]

★আবার এরকম বর্ননাও রয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত।রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন:

مَا مِنْ أَحَدٍ يُسَلِّمُ عَلَيَّ إِلَّا رَدَّ اللهُ عَلَيَّ رُوحِي حتَّى أرُدَّ عَلَيْهِ السَّلامَ

“যে কেউ আঁমার প্রতি সালাম প্রেরণ করবে, আল্লাহ তা‘আলা আঁমার রূহ ফিরিয়ে দিবেন,তখন আঁমি তার সালামের উত্তর প্রদান করবো।”

[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২০৪১/বাইহাকী-সুনানে কুবরা, হাদিস নং ১০২৭০]

★এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ -এঁর নিকট তাঁর রওজা মুবারকে দরূদ ও সালাম কী উপায়ে পৌঁছবে-এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে,রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন

إِنَّ لِلَّهِ مَلائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الأَرْضِ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِيَ السَّلامَ

“নিশ্চয় আল্লাহর অনেক বিচরণকারী ফেরেশতা রয়েছেন-যারা আঁমার নিকট আঁমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন।”

[সুনানে নাসায়ী, ২য় খণ্ড, ২৪১ পৃষ্ঠা/ সহীহ ইবনে হাব্বান, হাদীস নং ৯১৪/ মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং ৪২১২]

★৭০. হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ عِنْدَ قَبْرِي سَمِعْتُهُ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيَّ بَعِيْدًا أُعْلِمْتُه

“যে কেউ আঁমার রওযা শরীফের নিকটে এসে আঁমার প্রতি দরূদ পড়বে, আঁমি তা নিজেই শুনবো এবং যে দূর থেকে আঁমার প্রতি দরূদ পড়বে, তা আঁমাকে জানানো হবে।”

[আল-কাওলুল বাদী‘ লিল-সাখাবী, ৩য় খণ্ড, ৯২৯ পৃ্‌ষ্ঠা/ আল-লাআলী লিল-সুয়ূতী, ১ম খণ্ড, ২৮৩ পৃষ্ঠা/ ফাতহুল বারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৭৯ পৃষ্ঠা]

★৭১. হযরত সুলাইম সুহাইম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে জিজ্ঞাসা করলাম,হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা আঁপনার কাছে আসে এবং আঁপনাকে সালাম প্রদান করে। আঁপনি কী তাদের সালাম বুঝতে পারেন? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, আঁমি তাদের সালামের উত্তর পর্যন্ত দিয়ে থাকি।
[আল-মাকাসিদুল হাসানাহ, পৃ : ১৪৮, আশ-শাজারাহ, পৃ : ১৩৩]

উক্ত হাদিসের স্বপক্ষে আরেকটি দলিল দেখুন:

রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “নিশ্চয় আঁমার দু’চোখ ঘুমায় আঁমার কলব ঘুমায়না।”
[সহীহ বুখারী-১/১৫৪]

★৭২. হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন।

وَصَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّ صَلاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ

“আঁমার প্রতি দরূদ পড়ো।কেননা, তোমাদের দরূদ আঁমার নিকট পৌঁছে তোমরা যেখানেই থাকো।”

[মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, ২য় খণ্ড, ৩৭৫ পৃষ্ঠা/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ৮৫৮৬ / তাবরানী কাবীর, হাদীস নং ২৮২৯]

★৭৩. অপর হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

عن أبي الدرداء قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( أكثروا الصلاة علي يوم الجمعة . فإنه مشهود تشهده الملائكة . وإن أحدا لن يصلي علي إلا عرضت علي صلاته حتى يفرغ منها ) قال قلت وبعد الموت ؟ قال ( وبعد الموت . إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء (سنن ابن ماجه، كتاب الجنائز، باب ذكر وفاته صلى الله عليه و سلم، رقم الحديث-1637)

হযরত আবু দারদা (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন-তোমরা জুমআর দিন বেশি বেশি করে দরুদ পড়। নিশ্চয় ফেরেস্তারা এর উপর স্বাক্ষ্যি থাকে। আর যখন কেউ আঁমার উপর দরুদ পড়ে তখনই তা আঁমার নিকট পেশ করা হয়। আবু দারদা (রা:) বলেন-আমি জিজ্ঞাসা করলাম-ইন্তিকালের পরেও কি তা পেশ করা হবে? উত্তরে তিঁনি বললেন-হ্যাঁ!, কেননা আল্লাহ তায়ালা জমিনের জন্য নবীদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।

*****দলিল******
*১. ইবনে মাজাহ,হা/১৬৩৬,১৬৩৭ *২. সুনানুস সাগীর লিল বায়হাকী, হা/৪৬৯
*৩. আল মুজামুল আওসাত,হা/৪৭৮০
*৪. সুনানে দারেমী,হা/১৫৭২
*৫. মুসনাদুল বাজ্জার,হা/৩৪৮৫
*৬. মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হা/৫৭৫৯

👌এ হাদিস দ্বারা সুষ্পষ্ট প্রমাণীত যে, নবীগণ রওজায়(কবর শরীফ) জীবিত।নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ﷺ উঁনাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে,আঁপনার নিকটবর্তী, দূরবর্তী এবং পরবর্তীতে আগন্তুকদের পবিত্র দুরূদ শরীফ সমূহের অবস্থা কি হবে? তদুত্তরে তিঁনি ইরশাদ মুবারক করেন-
ﺍﺳﻤﻊ ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻫﻞ ﻣﺤﺒﺘﻰ ﻭﺍﻋﺮﻓﻬﻢ

অর্থ: আঁমার সঙ্গে মুহাব্বত ধারণকারীদের পবিত্র দরূদ শরীফ আঁমি স্বংয় নিঁজে শুনি এবং আঁমি তাদের পরিচয় পাই।
[দালাইলুল খায়রাত,মাতালিউল মুসাররাত]

✌নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ﷺ বলেন –
ﻓِﻲ ﺭِﻭَﺍﻳَﺔِ ﺍﻟْﺤَﻨَﻔِﻲِّ ﻗَﺎﻝَ : ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ: ” ﻣَﻦْ
ﺻَﻠَّﻰ ﻋَﻠَﻲَّ ﻋِﻨْﺪَ ﻗَﺒْﺮِﻱ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪ ،

অর্থ : “যে ব্যক্তি আঁমার পবিত্র রওযা
মুবারকের নিকটে এসে আঁমার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে আঁমি অবশ্যই উনার পবিত্র দরূদ শরীফ শুনতে পাই।”
[বাইহাক্বী শরীফ,মিশকাত শরীফ/৮৭]

👏হাদিস শরীফের মধ্যে আরও ইরশাদ হয়েছে
ﺍﺻﺤﺎﺑﻰ ﺍﺧﻮﺍﺗﻰ ﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻓﻰ ﻛﻞ ﻳﻮﻡ ﺍﻻﺛﻨﻴﻦ ﻭﺍﻟﺠﻤﻌﺔ ﻓﺎﻧﻰ ﺍﺳﻤﻊ
ﺻﻠﻮﺗﻜﻢ ﺑﻼ ﻭﺍﺳﻄﺔ .

অর্থ : “হে আঁমার সাহাবীগণ,হে আঁমার উম্মতগণ! আপনারা আঁমার প্রতি প্রত্যেক ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার ও ইয়াওমুল জুমুয়া বা শুক্রবার
পবিত্র দরূদ শরীফ পাঠ করুন। নিশ্চয়ই আপনাদের সেই পবিত্র দরূদ শরীফ আঁমি বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পাই।”
[মিশকাত শরীফ]

✌উক্ত হাদিস শরীফে ব্যাখ্যায় কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে

ﺳﻤﻌﺘﻪ ﺳﻤﻌﺎ ﺣﻘﻴﻘﻴﺎ ﺑﻼ ﻭﺍﺳﻄﺔ .

অর্থ: “(নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিঁনি বলেন),আঁমি হাক্বীক্বীভাবে বিনা মধ্যস্থতায় তা শুনতে পাই।”
[মিরকাত শরীফ ২য় খন্ড, ৩৪৭ পৃষ্ঠা]

👌জালালুদ্দীন সুয়ূতি আল-হাভী গ্রন্থে নবী করীম [ﷺ] কর্তৃক রওযা মোবারক থেকে ৫টি দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করেছেন।তার মধ্যে দুটি হলোঃ-“উম্মাতের যাবতীয় আমল প্রত্যক্ষ করা এবং ওলী-আল্লাহদের জানাযায় শরিক হওয়া।”

✌ওয়াহাবী নেতা ইবনে কাইয়েম রচিত “জাল্লাউল আফহাম” নামক গ্রন্থে একখানা হাদিস এরূপ বর্ণিত হয়েছে “আনা আছমাউ ছালাতাকুম আলাইয়া বিলা ওয়াছিতাতিন” – অর্থাৎ,“আঁমি ফেরেশতাদের মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তোমাদের সালাম শুনতে পাই।” (মূল নোছখা)

👍🌾বুঝা গেল,করীম [ﷺ] সদা জাগ্রত এবং প্রেমিকদের সালাম সরাসরি শুনেন।ফেরেশতাগণ তাদের ডিউটি হিসাবে পরে তা পৌঁছান।মোহাদ্দেসীনগণ এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন -“মহব্বতের সালাম তিনি নিজে শুনেন এবং মুখের সালাম ফেরেশতারা পৌঁছায়।
[আবূ দাঊদ ২০৪২; নাসায়ী:১২৮২; জা-আলহক]

🌴🌴রহমতে আলম নূরে মুজাস্সাম,নবী করীম [ﷺ] তাঁর প্রেমিকদের (উম্মতদের) সালাম হাক্বীক্বীভাবে বিনা মধ্যস্থতায় তা শুনতে পান এ কথাটি প্রমানের জন্য কিছু হাদিস তুলে ধরার চেষ্টা করবো যা উক্ত হাদিসখানাকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রমান করে:

★১. আল্লামা ইমাম জালালউদ্দিন সুয়ুতী (রহ:) তাঁর লিখিত ‘আল হাবী লিল ফাতাওয়া’ নামক কিতাবের ২য় জিলদের ১৫৩ পৃষ্ঠা,‘আম্বাউল আযকিয়া ফি হায়াতিল আম্বিয়া’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেন-

النظر فى اعمال امته والاستغفارلهم من السيئات والدعاء بكشف البلاء عنهم والتردد فى اقطار الارض لحلول البركة فيها وحضور جنازة من مات من صالح امته فان هذه الامور من جملة اشغاله فى البرزخ كما وردت بذلك الاحاديث والاثار-

অর্থাৎ ‘হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ দুনিয়াতে পাঁচটি কাজ রয়েছে।যথা:

*(ক.) উম্মতের আমলের প্রতি নজর বা দৃষ্টি মোবারক রয়েছে।অর্থাৎ আল্লাহর হাবীব উম্মতের আমলসমূহ দেখছেন।

*(খ.) উম্মতের জন্য আল্লাহর হাবীব ইস্তেগফার করেন অর্থাৎ আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে উম্মতের গুনাহ মাফের জন্য সুপারিশ করছেন।

*(গ.) উম্মত যেন গোনাহের কারণে বালা মুসিবতে পতিত না হয় সেজন্য আল্লাহর হাবীব আল্লাহ পাকের শাহানশাহী দরবারে দোয়া করছেন।

*(ঘ.) আল্লাহর হাবীব পৃথিবীর সর্বত্র পরিভ্রমণ করে সর্বত্র (শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ,এলাকা,আতরাফ সব জায়গায় নিঁজ হাত মোবারক দ্বারা খায়র ও বরকত প্রদান করে থাকেন।

*(ঙ.) নিঁজ উম্মতের নেকবান্দার ওফাত হলে আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জানাযাতে অংশগ্রহণ করে আল্লাহ পাকের শাহানশাহী দরবারে এ জানাযাকে কবুল ও মঞ্জুর করিয়ে নিন।

🌾এগুলোই হচ্ছে আমলে বরযখে অর্থাৎ রওজা মোবারকে অবস্থান করে আল্লাহর হাবীব এ সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকেন।হাদিস ও আসার থেকে এ সব কাজের পূর্ণ সমর্থন বিদ্যমান রয়েছে।’

লক্ষ্য করুন: উম্মতের আমলের প্রতি যাঁর নজর বা দৃষ্টি মোবারক রয়েছে। তাহলে তিনি কি তাঁর উম্মতের দরুদ শরীফ পাঠ সরাসরিভাবে শুনতে পারেন না!!

👏যেমনটি হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে। রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন:

ﺇﻧّﻰ ﺃﺭﻯ ﻣﺎﻻ ﺗﺮﻭﻥَ ﻭﺃﺳﻤﻊُ ﻣﺎﻻ ﺗﺴﻤﻌﻮﻥَ

আঁমি সেসব কিছু শুনতে পাই যা তোমরা শুনতে পাওনা এবং সেসব কিছু দেখতে পাই যা তোমরা দেখতে পাওনা।
*****দলিল*****
*১. তিরমিযি -জামেউস সহীহ, আবওয়াবুয যুহুদ ৪/১৪৫,হাদীস ২৩১২
*২. ইবনে মাজাহ-আস সুনান ৪/৫০৫
*৩. কিতাবুয যুহুদ,হাদীস নং ৪১৯০
*৪. মাসনাদু আহমদ ৫/১৭৩
*৫. মাসনাদু বাযযার ৯/৩৫৮,হাদীস নং ৩৯২৫
*৬. মুসতাদরাক ২/৫১০, হাদীস নং ৮৬৩৩,৮৭২৬।
*৭. বায়হাকী-সুনানে কুবরা ৭/৫২
*৮. নাসির উদ্দীন আলবানী; সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহা ৪/২৯৯,হাদীস নংঃ১৭২২

🌴গত পর্বে আলোচনা করেছিলাম রহমতে আলম নূরে মুজাস্সাম করীম [ﷺ] তাঁর প্রেমিকদের (উম্মতদের) সালাম হাক্বীক্বী ভাবে বিনা মধ্যস্থতায় তা শুনতে পান।আজকে সে আলোচনার বাকি অংশটুকু আলোচনা করবো:

★২. হযরত ছওবান (রা:) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে:

اِنَّ اللهَ زَوى لِىَ الْاَرْضَ فَرَءَيْتُ مَشَارِقَ الْاَرْضِ وَمَغَارِبَهَا

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আঁমার সম্মুখে গোটা পৃথিবীকে এমনভাবে সঙ্কুচিত করেছেন, যে আঁমি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্ত ও পশ্চিমপ্রান্ত সমূহ স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।

[মিশকাত শরীফের ‘ফযায়েলে সায়্যিদুল মুরসালীন’ শীর্ষক অধ্যায়,
মুসলিম শরীফ]

★৩. হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে

ﻭ ﺍﻥ ﻣﻮﺍﻋﺪﻛﻢ ﺍﻟﻀﻮﺽ ﻭ ﺍﻧﻲ ﻻﻧﻈﺮ ﺍﻟﻴﻪ ﻭ ﺍﻧﺎ ﻓﻲ ﻣﻘﺎﻣﻲ
“নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে আঁমার পরবর্তী স্বাক্ষাত হবে হাওজে কাওসারে।নিশ্চয়ই আঁমি এ স্থান হতে হাওজে কাওসার প্রতিনিয়ত অবলোকন করছি।”
[আল হাদিস,সহীহ বুখারী ২য় খন্ড, ২৭৯ পৃঃ]

★৪. প্রাচ্যের বুখারী খ্যাত শেখ আব্দুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (রহ:) বর্ণনা করেছেন :

ﺍﮔﺮ ﺑﻌﺪ ﺍﺯﺍﻥ ﮔﻮﯾﻨﺪ ﮐﮧ ﺣﻖ ﭘﻌﺎﻟﯽ ﺟﺴﺪ ﺷﺮﯾﻒ ﺭﺍﺣﺎﻟﺘﮯ ﻭﻗﺪﺭ ﺗﮯ ﺑﺨﺸﯿﺪﮦ ﺍﺳﺖ ﮐﮧ ﺩﺭ ﮬﺮ ﻣﮑﺎﻧﮯ ﮐﮧ ﺧﻮﺍﮬﺪ ﺗﺸﺮﯾﻒ ﺑﺨﺸﺪ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺜﺎﻝ ﺑﻤﺜﺎﻟﮯ ﺧﻮﮦ ﺑﻌﯿﻨﯿﮧ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺮ ﺍﺳﻤﺎﻥ ﺧﻮﺍﮦ ﺑﺮ ﺯﻣﯿﻦ ﺧﻮﺍﮦ ﺩﺭ ﻗﺒﺮ ﯾﺎ ﻏﯿﺮﻭﻋﮯ ﺻﻮﺭﺗﮯ ﺩﺍﺭﺩﺑﺎ ﺟﻮ ﺩﺛﺒﻮﺕ ﻧﺴﺒﺖ ﺧﺎﺹ ﺑﻘﺒﺮ ﺩﺭﮬﻤﮧ ﺣﺎﻝ

যদি বলা হয় যে আল্লাহ তা’আলা হুজুর ﷺ এঁর পবিত্র শরীরে এমন এক অবস্হার সৃষ্টি করেছেন ও এমন এক শক্তি দান করেছেন যে তিঁনি কোন শরীর ধারণ করে অনায়াসে গমন করতে পারেন,কবরের মধ্যে হোক বা আসমানের উপর হোক,এ ধরণের কথা সঠিক ও বাস্তবসম্মত।তবে সর্বাবস্হায় কবরের সাথে সম্পর্ক বজায় থাকে।
[মাদারেজুন নবুয়ত,২য় খন্ড,পৃ: ৪৫০]

★৫. সহীহ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাকার আল্লামা ইমাম কাস্তলানী (রা:) ‘মাওয়াহিবে লাদুনিয়া’ নামক কিতাবের ২য় জিলদের ১৯২ পৃষ্ঠায় ‘তিবরানী শরীফ’ থেকে একখানা হাদিস শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন-

اخرج الطبرانى عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله قد رفع لى الدنيا فانا انظر اليها والى ما هو كائن فيها الى يوم القيامة كانما انظر الى كفى هذه-

অর্থাৎ ‘হযরত ইবনে আব্বাস (রা:) হতে বর্ণিত রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তা’য়ালা আঁমার জন্য সারা বিশ্বজগতকে উঠিয়ে রাখছেন,(জাহির করেছেন) সুতরাং আঁমি সারা বিশ্বজগতকে দেখছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু এ জগতে হবে দেখতে থাকব।যেমন হাতের তালুকে দেখছি।

✌আবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ফারুক (রাঃ) এর বর্ননাতেও তা প্রকাশ পায়।

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ٳن الله قد رفع لى الدنيا فأنا أنظر ٳليها وٳلى ما هو كائن فيها ٳلى يوم القيامة كأنما أنظر ٳلى كفى هذه

অর্থাৎঃ- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা আঁমার জন্য দুনিয়ার পর্দা সমূহ তুলে দিয়েছেন। অতঃপর আঁমি দুনিয়া এবং তাতে কিয়ামত পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে সব বিষয়কে এভাবে দেখছি, যেভাবে এই আঁমার হাতের তালুকে দেখছি।”
[যুরকানী আলাল মাওয়াহিব]

✌আল্লামা জুরকানী (রা:) তাঁর লিখিত ‘জুরকানী শরীফ’ নামক কিতাবের ৭ম জিলদের ২০৫ পৃষ্ঠায় উক্ত হাদিস শরীফের ব্যাখ্যায় লিখেছেন-

اى اظهر وكشف لى الدنيا بحيث بجميع ما فيها فانا انظر اليها (الخ) اشارة على انه نظر حقيقى دفع انه اريد بالنظر العلم ولايراد انه اخبار عن مشاهدة-

ভাবার্থ::‘আল্লাহ পাক আঁমার সামনে সারা দুনিয়াকে উঠিয়ে রাখছেন অর্থাৎ সারা দুনিয়াকে আঁমার জন্য জাহির ও কশ্ফ করে খুলে দিয়েছেন এভাবে যে,আঁমার আয়াত্বাদীনে সারা দুনিয়ার বস্তুকে করে দিয়েছেন। সুতরাং আঁমি সারা বিশ্বজগতকে দেখছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত দেখতে থাকব।

✌আল্লামা জুরকানী (রা:) বলেন রাসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খোদাপ্রদত্ত ক্ষমতা বলে নিঁজ চোখ মোবারক দ্বারা হাকিকী নজরে দেখছেন, এখানে নজরে ইলিমও মুরাদ লওয়া যাবে না এবং তা দেখার সংবাদও মুরাদ লওয়া হবে না। (এ মর্মে আরো হাদীস শরীফ রয়েছে)।

👏যেমনটি নবিজী ﷺ বলেছেন

ﻓﻮ ﺍﻟّﺬﻯ ﻧﻔﺴﻰ ﺑﻴﺪﻩِ ﺍﻧﻰ ﻷﺭﺍﻛﻢ ﻣﻦ ﺧﻠﻔﻰ ﻛﻤﺎ ﺃﺭﺍﻛﻢ ﻣﻦ ﺑﻴﻦ ﻳﺪﻱَّ

যেই মহান সত্তার হাতে আঁমার প্রান তার শপথ,আঁমার পিছন থেকে আঁমি তোমাদেরকে ঠিক সেরকমই দেখতে পাই যেরকম আঁমার সামনে থেকে দেখতে পাই।
****দলিল*****
*১. সুনান নাসাঈ-কিতাবুল ইমামাহ, হাদীস নং ৮১৪
*২. নাসাঈ-সুনানে কুবরা ১/২৮৮, হাদীস নং ৮৮৭
*৩. মসনাদে আবু ইয়ালা ৬/৪৬,২২৮ হাদীস নং ৩২৯১,৩৫১৪
*৪. দালায়িলুন নবুওয়াহ-আবু নাঈম *৫. খাসায়েসুল কুবরা ১ম খন্ড ৬১ পৃঃ
*৬. মুসলিম শরীফ ২য় খন্ড ১১৬ পৃষ্ঠাও দেখতে পারেন

★৬. হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেন-

كان رسول الله صلى الله صلى عليه وسلم يرى فى الظلماء كما يرى فى الضوء

অর্থাৎঃ- “হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনি ভাবে আলোতে দেখতে পান, তেমনিই অন্ধকারেও দেখতে পান।”
[খাসায়েসুল কুবরা ১ম খন্ড ৬১ পৃঃ]

★৭. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন-

إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال هل ترون قبلتى ههنا فوالله ما يخفى على ركوعكم ولاخشوعكم إنى لأراكم من وراء ظهرى (بخارى شريف)

অর্থাৎঃ- “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কি আঁমার মুখ কিবলার দিকেই দেখছ? আল্লাহর কসম! আঁমার কাছে না তোমাদের রুকু লুকায়িত, আর না তোমাদের একাগ্রতা ও নম্রতা। নিশ্চয়ই আঁমি তোমাদেরকে আঁমার পিছন হতেও দেখি।”
[বুখারী ১ম খন্ড ৫৯ পৃঃ]

★৮. উম্মুল মু’মিনীন হযরত মায়মূনা (রাঃ) বলেন,একরাত্রে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার হুজরায় উপস্থিত ছিলেন। তিঁনি যথারীতি তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য উঠলেন এবং অযু করার জন্য গমন করলেন। অতঃপর আমি শুনতে পেলাম যে, তিঁনি অযু খানায় তিনবার “লাব্বাইক” (আঁমি তোমার কাছে উপস্থিত) এবং তিনবার “নুসিরতা” (তোমাকে সাহায্য করা হল) ফরমায়েছেন। যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অযু করে বের হলেন তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি শুনতে পেলাম- আঁপনি অযু খানায় তিনবার ‘লাব্বাইকা’ এবং তিনবার ‘নুসিরতা’ বলেছেন। যেন আঁপনি কোন মানুষের সাথে কথা বলছিলেন। আঁপনার কাছে আমি ব্যতীত কেউ ছিল কি? তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফরমালেন- ইতি রাজেয, আঁমার কাছে ফরিয়াদ করছে। উল্লেখ্য যে, তখন রাজেয ছিল মক্কায়, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মদীনায়। কিন্তু নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ফরিয়াদ শুনেছেন এবং তাকে সাহায্য করেছেন।

👍আল্লামা যুরকানী (রা:) উক্ত হাদিসের ব্যখ্যায় বলেন-

لا بعد فى سماعه صلى الله عليه وسلم من مسيرة ثلاث فقد كان يسمع أطيط السماء

অর্থাৎঃ- “হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন মাসের দুরুত্বের পথে একজন ফরিয়াদির ফরিয়াদ শুনা তো অসম্ভব নয়। কারণ তিঁনি যমীনে বসে আসমানের চড় চড় শব্দও শুনে থাকেন।” বরং আরশের নীচে চন্দ্রের সিজদাবনত হওয়ার আওয়াজ পর্যন্তও শুনছিলেন।

👏আ’লা হযরত চমৎকার বলেছেন-

دور و نزدیک کے سننے والے وہ کان – کان لعل کرامت پہ لاکھوں سلام

অর্থাৎঃ- “সেই কর্ণ মুবারক দুরে ও নিকটে সমান ভাবে শ্রবণকারী। সেই মুক্তাময় কর্ণের অলৌকিক শক্তির প্রতি লাখো সালাম।”

✋দালায়েলুন খায়রাত শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

أسمع صلٰوة أهل محبتى وأعرفهم

অর্থাৎঃ- “আঁমি আঁমার মুহাব্বত সম্পন্ন লোকদের দরূদ স্বয়ং শুনি এবং তাদেরকে চিনি।”[দলায়েলুল খয়রাত]

★৯. মিশকাত শরীফের ‘মাসাজিদ’ অধ্যায়ে হযরত আবদুর রহমান ইবন আয়েশ (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ-আঁমি আল্লাহ তা’আলাকে সুন্দরতম আকৃতিতে দেখেছি। তিঁনি স্বীয় কুদরতের হাতখানা আঁমার বুকের উপর রাখলেন, যার শীতলতা আঁমি স্বীয় অন্তঃস্থলে অনুভব করেছি। ফলে, আসমান যমীনের সমস্ত বস্তু সম্পর্কে অবগত হয়েছি।

✋মিশকাত শরীফের মাসাজিদ অধ্যয়ে তিরমিযী শরীফের উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণিত আছেঃ
فَتَجَلَّى لِىْ كُلُّ شَيْئٍ وَعَرَفْتُ

তখন প্রত্যেক কিছু আঁমার কাছে উন্মুক্ত হয়েছে এবং আঁমি এগুলো চিনতে পেরেছি।

👍শরহে মাওয়াহেবে লাদুনিয়ায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা:) এঁর একটি রেওয়াতে বলা হয়েছে।রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন:

اِنَّ اللهَ رَفَعَ لِىْ الدُّنْيَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلَيْهَا وَاِلى مَهُوَ كَائِنٌ فِيْهَا اِلى يَوْمِ الْقِيَمَةِ كَاَنَّمَا اَنْظُرُ اِلَى كَفِّىْ هذَا

অর্থাৎঃ আল্লাহ তা’আলা আঁমার সামনে সারা দুনিয়াকে তুলে ধরেছেন।তখন আঁমি এ দুনিয়াকে এবং এতে কিয়ামত পর্যন্ত যা’কিছু হবে এমন ভাবে দেখতে পেয়েছি, যেভাবে আঁমি আঁমার নিঁজ হাতকে দেখতে পাচ্ছি।

★১০. আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে এভাবে উল্লেখ করেছেন-
مازاغ البصر وما طغى

অর্থাৎঃ- “মে’রাজ রজনীতে তাঁর চক্ষু (দৃষ্টি) আল্লাহর নিদর্শনাবলী অবলোকনে বিভ্রম ও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি।”[সুরা-নজম,আয়াত নং ১৭]

👏সুতরাং যেই রাসুলের নিকট আমাদের রুকু-সিজদা লুকায়িত নয়,যিঁনি আমাদের আমল প্রত্যক্ষ করতেছেন,যাঁর নিকট আল্লাহ তা’আলা জগতটাকে হাতের তালুর মত করে দিয়েছেন।সেই মহান রাসূল কি আল্লাহ পাকের প্রদত্ত ক্ষমতা বলে তাঁর উম্মতের দরুদ-সালাম হাকিকীভাবে বিনা মধ্যস্থতায় শুনতে পারেন না।হ্যাঁ অবশ্যই শুনতে পারেন।এখন আল্লাহ সেই ক্ষমতা দিলে কারও আপত্তি থাকার কথা নয়।

*যেমনটি বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের ৫৮৫ পৃ: তে বলা হয়েছে “আল্লাহ পাক হলেন সত্বাগত ক্ষমতার অধিকারী অর্থাৎ আল্লাহ কোন মাধ্যম ছাড়াই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী আর নবীজী ﷺ হলেন প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী অর্থাৎ আল্লাহ পাকের দানে প্রদত্ত ক্ষমতার অধিকারী” আল্লাহ পাক যদি রাসূলকে সম্মান,কর্তৃত্ব, পদ-মর্যাদা দান করেন এতে তো কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

👌আবার কেউ হয়ত বলবেন; ভাই এটাতো কিছু হাদিসে অতীত কাল প্রকাশ করছে।তাহলে আমার প্রশ্ন হল: আল্লাহ পাক তো ঘোষনা দিয়েছেন “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা জান্নাতী।” তাহলে এখানে কী শুধু যারা অতীতে ঈমানে এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারাই জান্নাতে যাবে নাকি এখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত বুঝায়।আপনারাই বিবেচনা করুন।

[আর মানা,না মানা সবার নিজস্ব ব্যাপার]

★৭৫. মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন:

﴿اِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّوْنَ عَلىٰ النَّبِيِّ- يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْ تَسْلِيْمًا﴾ {الاحزاب:٥٦ }

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহতা’লা এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবী ﷺ -এঁর মহব্বতে ও সম্মানে দরূদ-সালামের মজলিশ করছেন এবং অব্যাহতভাবে করতে থাকবেন; হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবী ﷺ-এঁর সম্মানে ও মহব্বতে আদবের সঙ্গে দরূদ ও সালামের মজলিশ কর।

🌴আবার এভাবেও বলা যেতে পারে
“নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা’আলা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এঁর ওপর দরূদ পড়েন, হে ঈমানদারগণ!তোমরাও তাঁর (ﷺ) ওপর দরূদ পড় এবং অতীব সম্মানের সাথে সালাম পেশ কর।”

[সূরা আহযাব,আয়াত নং ৫৬]

👏লক্ষ্য করুন👏

✌১ম দৃষ্টিকোন: পবিত্র কোরআনুল কারীমের উপরোক্ত আয়াতটি আরবী ব্যাকরণিক (মুযারি’সিগা) মর্ম অনুযায়ী অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে অর্থবহ করে। আয়াতটি বহুবচনাত্নক এবং দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে মহান আল্লাহ তা’লা ও তাঁর ফেরেশতাগণ; অন্যভাগে ঈমানদার মুসলমানগণ। আয়াতটিতে নবী করীমের ﷺ মহব্বত ও সম্মানে দরূদ ও সালামের আদেশ করা হয়েছে। কিন্তু দরূদ ও সালামের এ আদেশটি কীভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে? তা বলা হয়নি।তবে বিষয়বস্তু বহুবচনাত্নক এবং ঈমানদারদের অর্থাৎ,একাধিক ব্যক্তিকে দরূদ-সালাম অনুশীলনের আদেশ করা হয়েছে।

✌২য় দৃষ্টিকোন: স্বয়ং আল্লাহ পাক তাঁর ফেরেশতাদের নিয়ে রাসূল ﷺ এঁর দরুদ -সালাম পাঠ করেন তথা গুন বর্ননা করেন।আর আল্লাহ তা’আলা খালেক হয়ে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকের উপর দরুদ পড়েন।তা কি আশ্চর্যান্বীত হওয়ার কথা নয়?আল্লাহ কী পরিমান ভালোবাসেন তাঁর প্রিয় মাহবুবকে!! একটিবার ভাবুন।আবার দেখুন! ফেরেশতাদের তো কোন গোনাহ নেই, তারাও তো দরুদ-সালাম পেশ করেন।

আবার আ’মভাবে বা সরাসরি সকল মুসলমানকে না বলে শুধুমাত্র ঈমানদার মুসলমানদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে তোমরা আঁমার হাবীবের উঁপর দরুদ শরীফ ও সালাম পেশ কর পরিপূর্ণ তথা অত্যান্ত আদব সহকারে।বেয়াদবির বিন্দুমাত্র লেশও যেন না থাকে।

✌৩য় দৃষ্টিকোন: পবিত্র কোরআনে নামায, রোজা,হজ্ব,যাকাত ইত্যাদির ব্যপারে ব্যাপক আলোচনার করা হয়েছে,যেখানে তা ফরজ বলে ঘোষনা করা হয়েছে বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে।এখন প্রশ্ন হল সকল ঈবাদত করার পূর্বে বারবার বলা হয়েছে তোমরা ঈমান আননয়ন কর।তাহলে ঐ ঈমান কি পরিপূর্ন হবে,যদি রাসূলকে পরিপূর্ণভাবে না মানা হয়।সমস্ত উম্মত এতে একমত পোষন করবে শুধু মুনাফিক,ইয়াজিদের বন্ধুবর, উবাইয়র ইবনে সলুলের দোষর, মালাউন ছাড়া।

*তাহলে নামায,রোজা ইত্যাদি যেরকম আল্লাহর ঘোষনা হওয়ায় তা ফরজ হয়ে গেল। দরুদ শরীফ কি আল্লাহর ঘোষনা নয়।তবে তফাৎ হল এটা পচন্দ করবে শুধু ঈমানদার। আর যেখানে অন্যান্য বিশেষ ঈবাদত পচন্দ করবে ঢালাওভাবে সবাই।তাই এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই,যেহেতু উক্ত আয়াত আল্লাহ শুধু ঈমানদারদের উদ্দশ্যে নাযিল করেছেন।আর এজন্যই উক্ত আয়াতে কারীমা ঈমাদারগনের জন্য এক বিশেষ নেয়ামত সরুপ।কেননা এতে ঈমানদার খুশি হবে,মুনাফিক অসন্তুুষ্ট হবে।

✌৪র্থ দৃষ্টিকোন: ইমাম ইবনে কাসীর (রহ:) বলেন-অত্র আয়াতের উদ্দেশ্য হলো,আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাহদেরকে তাঁর প্রিয়তম বান্দা ও নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালায়ে আ’লায় তাঁর নিকট যে মর্যাদা রয়েছে তা জানিয়ে দিয়েছেন। কেননা তিঁনি (রাব্বুল আলামীন) তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদেরও সামনে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গুণ বর্ণনা করেন। আর সকল ফেরেশতা নবীজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর উপর দরূদ পড়েন।অতঃপর মহান আল্লাহ তা’আলা জগতবাসীকে তাঁর প্রিয় হাবীবের উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে উচ্চ জগতবাসী ও নিন্ম জগতবাসীর পক্ষ থেকে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এঁর প্রতি প্রেরিত গুণগান একত্র হয়ে যায়।

[তাফসীরুল কুরআনিল আযী-ম, খন্ড-০৩, পৃ.৪৩২]

👏দরুদ শরীফ না পড়ার শাস্তি👏

★১. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ না পড়া পর্যন্ত যে কোন দোয়া আটকে থাকে”

[আল-মুজাম আল-আওসাত (১/২২০), নাসীর উদ্দীন আলবানী ‘সহিহুল জামে’ গ্রন্থে (৪৩৯৯) হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেছেন]

★২. মালেক বিন হুয়াইরিস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ মিম্বরে উঠেন, প্রথম সিঁড়িতে উঠে আমীন বলেন। অতঃপর দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, আমীন। অতঃপর তৃতীয় সিঁড়িতে উঠে বললেন, আমীন। অতঃপর বললেন, আঁমার নিকট জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ (ﷺ) ! যে ব্যক্তি রমযান মাসে উপনীত হওয়ার পরও তার জীবনের গোনাহকে ক্ষমা করাতে পারল না, আল্লাহ তাকে রহমত থেকে দূর করুন। আঁমি তা শুনে বললাম, আমীন। তারপর বলেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে অথবা তাদের একজনকে পেল, অথচ (তাদের সাথে সদ্ব্যহার না করে) জাহান্নামে প্রবেশ করল, আল্লাহ তা‘আলা তাকেও তাঁর রহমত থেকে দূর করুন। আঁমি বললাম, আমীন।

অতঃপর বললেন, যে ব্যক্তির সামনে আঁপনার নাম উচ্চারিত হওয়ার পর আঁপনার উপর দরূদ পাঠ করল না, সেও আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে দূর হোক। আঁমিও তাতে বললাম, আমীন’।

*****দলিল******
*(ক.) সহীহ ইবনু হিববান,২য় খন্ড,পৃ: ৩০৮, হা/৪১০,৩য় খন্ড,পৃ: ৩০৪, হা/৯০৯
*(খ.) সহীহ আত-তারগীব,হা/৯৯৬

★৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত।তিনি বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,কোন সম্প্রদায় এমন কোন মজলিস বসলো,যাতে না আল্লাহর যিকর করলো,না আপন নবীর উপর দরুদ শরীফ পড়লো,ওই মজলিস তাদের জন্য অনুশোচনা হবেই।মহান রব চাইলে তাদেরকে তজ্জন্য শাস্তি দেবেন,চাইলে ক্ষমা করে দেবেন।

*****দলিল****
*১. তিরমিযী শরীফ,৫ম খন্ড,২৪৭ পৃ: হাদিস- ৩৩৯১
*২. মিশকাত শরীফ,বাবে যিকিরিল্লাহ অধ্যায়, হাদিস নং-২১৬৫

★৪. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যার কাছে আঁমার আলোচনা হল,আর সে আঁমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, তবে সে জান্নাতের রাস্তা ভুলে গেল।”
[মুজাম কবীর,৩য় খন্ড,১২৮ পৃ: হাদিস- ২৮৮৭]

★৫. শেরে খোদা,মাওলা আলী (রা:) বলেন: “হুযুর হযরত মুহাম্মদصَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এবং আওলাদে মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَاٰلِہٖ وَسَلَّم এঁর উপর দরূদ পাক পাঠ করার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া পর্দার (আড়ালে) থাকে।”
[মুজাম আওসাত,১ম খন্ড,২১১ পৃষ্ঠা, হাদীস- ২৭১]

★৬. হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অভিশাপ দিলেন যে, “সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আঁমার নাম উল্লেখ করা হল, অথচ সে (আঁমার নাম শুনেও) আঁমার প্রতি দরূদ পড়ল না।” (অর্থাৎ ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলল না।) (তিরমিযী হাসান)
[তিরমিযী ৩৫৪৫, আহমাদ ৭৪০২]

★৭. হাদিস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে

وَعَنْ عَلِيّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «البَخِيلُ مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ، فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিঁনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আঁমি উল্লিখিত হলাম (আঁমার নাম উচ্চারিত হল), অথচ সে আঁমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।” (তিরমিযী, হাসান সহীহ)
[তিরমিযী ৩৫৪৬, আহমাদ ১৭৩৮]

✋দরুদ শরীফ না পড়ার শাস্তি✋

★৮. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে লোক নিজেদের মজলিশ থেকে আল্লাহ্তা আলার যিকির এবং হুযুর ﷺ এঁর উপর দরূদ শরীফ পাঠ করা ব্যতীত উঠে যায়,তবে সে দুর্গন্ধময় লাশ থেকে উঠল।”
[শুয়াবুল ঈমান, ২য় খন্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা, হাদিস- ১৫৭০]

★৯. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তির) নিকট আঁমার আলোচনা হল, আর সে আঁমার উপর দরূদ শরীফ পড়ল না, তবে সে জুলুম করল।”
[মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক,২য় খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৩১২৬]

★১০. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে সব লোক কোন মজলিশে বসল, আল্লাহ্ তাআলার যিকির এবং হুযুর ﷺ এঁর উপর দরূদ শরীফ পড়ানো হয় না, ঐ সব লোক কিয়ামতের দিন যখন তাদের পরিণাম দেখবে তবে তাদের উপর চরম অনুশোচনা সৃষ্টি হবে। যদিও তারা জান্নাতে প্রবেশ করে।”
[মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল, ৩য় খন্ড, ৪৮৯ পৃষ্ঠা, হাদীস- ৯৯৭২]

★১১. রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন “যে (ব্যক্তির) নিকট আঁমার আলোচনা হল, আর সে আঁমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করল না, সে নিশ্চিত দূর্ভাগা হয়ে গেল।”
[আমলুল ইয়াউম ওয়াল লাইলাতি ইবনিস সুন্নতী, ৩৩৬ পৃষ্ঠা, হাদিস- ৩৮১]

★১২. হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে

وَعَنْ فَضَالَةَ بنِ عُبَيْدٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ الله تَعَالَى، وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبيِّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : «عَجِلَ هَذَا» ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ – أَوْ لِغَيْرِهِ -: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ سُبْحَانَهُ، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ» . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

ফাযালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লোককে নামাযে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এঁর উপর দরূদও পড়েনি। এ দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “লোকটি তাড়াহুড়ো করল।” অতঃপর তিঁনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, “যখন কেউ দো‘আ করবে, তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা বর্ণনা যোগে ও আঁমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে দো‘আ আরম্ভ করে, তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।” (আবু দাউদ, তিরমিযী)

******দলিল******
*১. আবূ দাউদ ১৪৮১
*২. তিরমিযী ৩৪৭৬, ৩৪৭৭
*৩. নাসায়ী ১২৮৪
*৪. আহমাদ ২৩৪১৯

★১৩. হযরত উমর ফারুক (রা:) বলেন: “নিশ্চয় দোয়া জমীন ও আসমানের মধ্যখানে ঝুলন্ত থাকে এবং তা থেকে কোন বস্তু উপরের দিকে যায় না, যতক্ষণ তোমরা নিজেদের নবীয়ে আকরাম ﷺ এঁর উপর দরূদ পাক পড়ে না নাও।”
[তিরমিযী,২য় খন্ড,২৮ পৃষ্ঠা,হাদিস- ৪৮৬]

★১৪. ইমাম ইবনে মাজাহ (রহঃ) হযরত আব্দুল্লা ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করেন, হুজুর ﷺ ইরশাদ করেন- যে ব্যক্তি আঁমার উপর দরূদ শরীফ পড়া ভুলে গেছে মূলত সে জান্নাতের পথই ভুলে গেছে।
[ইবনে মাজাহ,পৃ: নং-৬৫]

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment