তারাবীর ৪১ টি মাসায়েল

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

১। তারাবীহ্ প্রত্যেক বিবেকবান ও বালেগ ইসলামী ভাই ও ইসলামী বোনের জন্য সুন্নতে মুআক্কাদাহ। (দুররুল মুখতারঃ ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৩) সেটা বর্জন করা জায়িয নেই।

২। তারাবীর নামায বিশ রাকাআত। সায়্যিদুনা ফারুকে আযম رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ এর শাসনামলে বিশ রাকাতই পড়া হতো। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী: ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৯৯, হাদিস নং ৪৬১৭ নং হাদিস)

৩। তারাবীর জামাআত সুন্নতে মুআক্কাদাহ আলাল কেফায়া। সুতরাং যদি মসজিদের সবাই ছেড়ে দেয় তবে সবাই তিরস্কারযোগ্য কাজ করলো। (অর্থাৎ মন্দ কাজ করলো)। আর যদি কয়েকজন লোক জামাআত সহকারে পড়ে, তবে যারা একাকী পড়েছে, তারা জামাআতের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। (হেদায়া ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭০)

৪। তারাবীর নামাযের সময় হল এশার ফরয নামায পড়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এশার ফরয আদায় করার পূর্বে পড়ে নিলে বিশুদ্ধ হবে না। (আলমগিরী, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৫)

৫। এশার ফরয ও বিতরের পরও তারাবী পড়া যায়। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৪) যেমন, কখনো ২৯ শে রমযান চাঁদ দেখার সাক্ষী পেতে দেরী হলে এমনই ঘটে থাকে।

৬। মুস্তাহাব হচ্ছে- তারাবীতে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করা। যদি অর্ধ রাতের পরেও পড়ে তবুও মাকরূহ হবে না। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)

৭। তারাবীহ ছুটে গেলে তার কাযা নেই। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, ৪৯৪ পৃষ্ঠা)

৮। উত্তম হচ্ছে- তারাবীর বিশ রাকআত নামায দুই দুই রাকআত করে দশ সালাম সহকারে সম্পন্ন করা। (দুররে মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৫)

৯। তারাবীর ২০ রাকাআত নামায এক সালাম সহকারে সম্পন্ন করা যায়, কিন্তু এমন করা মাকরুহ। প্রতি দু’রাকআত পর কাদাহ করা (বসা) ফরয। প্রত্যেক কাদায় (আত্তাহিয়্যাত) এর পর দুরুদ শরীফ ও পড়বে। আর বিজোড় রাকআত অর্থাৎ ১ম, ৩য়, ৫ম, ইত্যাদিতে সানা পড়বে, আর ইমাম আউযু বিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহও পড়বেন। (আদ্দুররুল মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৬)

১০। যখন দু’ দু’ রাকাআত করে পড়ছে, তখন প্রতি দু’রাকাআতে পৃথক পৃথক নিয়্যত করবে। আর যদি বিশ রাকাআতের একসাথে নিয়্যত করে নেয়, তবেও জায়িয। (আদ্দুররুল মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৪)

১১। বিনা ওযরে তারাবী বসে পড়া মাকরুহ। বরং কোন কোন সম্মানিত ফকীহ رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِمْ  মতে তো নামাযই হবে না। (আদ্দররুল মুখতার, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৯৯)

১২। তারাবী জামাআত সহকারে মসজিদে আদায় করা উত্তম। যদি জামাআত সহকারে ঘরে পড়ে নেয়, তবে জামাআত বর্জনের গুনাহ হবেনা। কিস্তু ওই সাওয়াব পাবেনা, যা মসজিদে পড়লে পেত। (আলমগীরি, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৬) মসজিদে এশার নামায জামাআত সহকারে আদায় করে ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে তারাবী নামাজ আদায় করা যাবে। যদি শারয়ী গ্রহণ যোগ্য ওজর ব্যতীত ঘরে বা অন্য কোথাও এশার ফরজ নামাজের জামাআত আদায় করা হয় তাহলে ওয়াজিব তরক করার গুনাহ্ হবে।

১৩। না বালেগ ইমামের পেছনে শুধু না বালেগরাই তারাবী পড়তে পারবে।

১৪। বালেগের তারাবী (বরং যেকোন নামায, এমনকি নফলও) না বালেগের পেছনে আদায় হবে না।

১৫। তারাবীতে কমপক্ষে একবার কোরআন পাক পড়া ও শুনা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। (সংশোধিত ফতোয়ায়ে রযাবীয়্যাহ, ৭ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪৫৮)

১৬। যদি শর্তাবলী বিশিষ্ট হাফিয পাওয়া না যায় কিংবা অন্য কোন কারণে খতম করা সম্ভব না হয়, তবে তারাবীতে যেকোন সূরা পড়তে পারবে। তবে সূরা ফীল থেকে সূরা নাস পর্যন্ত দু’বার পড়ে নিন, এভাবে বিশ রাকাআত স্মরণ রাখা সহজ হবে।

১৭। একবার بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ উচ্চ আওয়াজে পড়া সুন্নাত। প্রত্যেক সুরার শুরুতে আস্তে পড়া মুস্তাহাব। পরবর্তী যুগের ফকীহগণ  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عَلَيْهِمْ  খতমে তারাবীতে তিনবার কুল হুয়াল্লাহু শরীফ পড়া মুস্তাহাব বলেছেন। তাছাড়া উত্তম হচ্ছে, খতম করার তারিখে সর্বশেষ রাকাআতে আলিফ লাম মীম থেকে মুফলিহুন পর্যন্ত পড়া। (বাহারে শরীআত, খন্ড-৪র্থ, পৃ-৩৭)

১৮। যদি কোন কারণে তারাবীর নামায ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে যেই পরিমাণ কোরআন মজীদ ওই রাকাআতগুলোতে পড়েছিলো সে পরিমাণ পুনরায় পড়বে, যাতে খতম অসম্পূর্ণ থেকে না যায়। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৮)

১৯। ইমাম ভুলবশতঃ কোন আয়াত কিংবা সূরা ছেড়ে আগে বেড়ে গেলে, তখন মুস্তাহাব হচ্ছে সেটা প্রথমে পড়ে নেবে, তারপর সামনে বাড়বে। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৮)

২০। পৃথক পৃথক মসজিদে তারাবীহ পড়তে পারে, যদি খতমে কোরআনের ক্ষতি না হয়। উদাহরণ স্বরূপ, তিনটি মসজিদ এমনি যে, সে গুলোতে প্রতিদিন সোয়া পারা পড়া হয়, সুতরাং তিনটিতেই পালা পালা করা যেতে পারে।

২১। দু রাকাআতের পর বসতে ভুলে গেলে। তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত তৃতীয় রাকাআতের সাজদা করবে না, বরং বসে যাবে এবং শেষভাগে ‘সাজদাই সাহু’ করবে। আর যদি তৃতীয় রাকাআতের সিজদা করে নেয় তবে চার রাকাআত পূর্ণ করবে, কিন্তু এগুলো দুরাকাআত হিসেবে গণ্য হবে। অবশ্য যদি দু রাকাআত পড়ে কাদাহ করতো, তবে চার রাকাআত বলে গণ্য হতো। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৮)

২২। তিন রাকাআত পড়ে সালাম ফেরালো। যদি দ্বিতীয় রাকাআতে না বসে থাকে, তবে কিছুই হলো না। এগুলোর পরিবর্তে দু’রাকাআত পুনরায় পড়বে। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৮)

২৩। সালাম ফেরানোর পর কেউ বলছেন দু’রাকাআত হয়েছে। আবার আর কেউ বলছে তিন রাকাআত হয়েছে। এমতাবস্থায় ইমামের যা স্মরণ পড়বে, তাই গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি ইমামও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন, তবে তাদের মধ্যে যার কথার উপর নির্ভর করা যায় তার কথা মেনে নেবে। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৭)

২৪। যদি মুসল্লীদের সন্দেহ হয়। বিশ রাকাআত হলো? না আঠার রাকাআত। তাহলে দুরাকাআত পৃথক পৃথকভাবে পড়ে নেবেন। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৭)

২৫। উত্তম হচ্ছে- প্রতি দুরাকাআত সমান হওয়া। এমন না হলেও কোন ক্ষতি নেই। অনুরূপভাবে প্রতি দু’রাকাআতে প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাআতের কিরাআত সমান হবে। দ্বিতীয় রাকাআতের কিরাআত প্রথম রাকাআত অপেক্ষা বেশী না হওয়া চাই।

২৬। ইমাম ও মুক্তাদী প্রতি দু রাকাআতের প্রথম রাকাআতে সানা পড়বেন। (ইমাম আউযু বিল্লা এবং বিসমিল্লাহও পড়বেন)

২৭। যদি মুক্তাদীদের উপর ভারী অনুভুত হয় তাহলে তাশাহহুদের পর اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاٰلِه এর উপর সংক্ষিপ্ত করবেন। (দুররে মুখতার, খন্ড-২য়, পৃ-৪৯৯)

২৮। যদি ২৭ তারিখ (কিংবা এর পূর্বে) কোরআন পাক খতম হয়ে যায়, তবুও রমযানের শেষ দিন পর্যন্ত তারাবীহ পড়তে থাকবেন। এটা সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৮)

২৯। প্রতি চার রাকাআতের পর ততটুকু সময় পর্যন্ত বিশ্রামের জন্য বসা মুস্তাহাব, যতক্ষণ সময় চার রাকাআত পড়তে লেগেছে। এ বিরতিকে ‘তারভীহা’ বলে। (আলমগীরী, খন্ড-১ম, পৃ-১১৫)

৩০। তারভীহ এর মধ্যভাগে ইখতিয়ার রয়েছে- চাই নিশ্চুপ বসে থাকুক, কিংবা যিকর, দুরূদ ও তিলাওয়াত করুক অথবা একাকী নফল পড়ুক । (দুররে মুখতার, খন্ড-২য়, পৃ-৪৯৭) 

তারাবী

৩১। বিশ রাকআত শেষ হয়ে যাওয়ার পর পঞ্চম তারভীহরও (বসা) মুস্তাহাব। যদি লোকজন তা ভারী মনে করেন তবে পঞ্চমবার বসবেন না। (আলমগীরি ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৫)

৩২। কিছু সংখ্যক মুক্তাদী বসে থাকে। যখন ইমাম রুকুতে যাবার নিকটে হন তখন দাঁড়িয়ে যায়। এটা মুনাফিকদের মতো কাজ। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন, وَاِذَا قَامُوْا اِلٰى الصَّلٰوةِ  قَامُوْا كُسَالٰى

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং (মুনাফিক) যখন নামাযে দণ্ডায়মান হয় তখন দাঁড়ায় অলসভাবে।

(সূরা-নিসা, আয়াত-১৪২, পারা-৫)

ফরযের জামাআতেও যদি ইমাম রুকু থেকে উঠে যায়, তবে সিজদা ইত্যাদিতে তাৎক্ষণিকভাবে শরীক হয়ে যাবেন। অনুরূপভাবে, ইমাম যদি কাদায়ে উলা (প্রথম বা মধ্যবর্তী বৈঠক) এ থাকেন তবুও তাঁর দাঁড়ানোর অপেক্ষা করবেন না, বরং শামিল হয়ে যাবেন। যদি ক্বাদায় শামিল হন, কিন্তু ইমাম দাঁড়িয়ে গেলেন, তাহলে ‘আত্তাহিয়্যাত’ পূর্ণ না করে দাঁড়াবেন না। (বাহারে শরীআত, ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬ / গুনীয়াতুল মুজাআল্লা পৃষ্ঠা ৪১০)

৩৩। রমাযান শরীফে বিতর জামাআত সহকারে পড়া উত্তম। কিন্তু যে ব্যক্তি এশার ফরয জামা’আত ছাড়া পড়ে সে যেন বিতরও একাকী পড়ে।

৩৪। এক ইমামের পেছনে এশার ফরয, দ্বিতীয় ইমামের পেছনে তারাবীহ এবং তৃতীয় ইমামের পেছনে বিতর পড়লে ক্ষতি নেই।

৩৫। হযরত সায়্যিদুনা ওমর ফারুকে আযম  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  ফরয ও বিতরের জামাআত পড়াতেন আর হযরত উবাই ইবনে কাব  رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ তারাবীহ পড়াতেন। (আলমগীরি ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ১১৬)

হে আমাদের প্রিয় আল্লাহ তাআলা! আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণ, নিষ্ঠাবান ও বিশুদ্ধভাবে পড়েন এমন হাফেয সাহেবের পেছনে নিষ্ঠা ও দৃঢ়চিত্তে প্রতি বছর তারাবী আদায় করার সৌভাগ্য দান করুন এবং কবূল করুন!

আমীন বিজাহিন্নাবিয়্যিল আমিন ﷺ

__________________________

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ عَزَّوَجَلّ রমযানুল মুবারকে যেখানে আমরা অগণিত নে’মত পেতে পারি, সেগুলোর মধ্যে ‘তারাবীর সুন্নত’ও রয়েছে। সুন্নতের মহত্ত্বের কথা কি বলবো? আমিনার বাগানের সুবাসিত ফুল, আল্লাহর প্রিয় রসূল হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর জান্নাতরূপী বাণী, “যে ব্যক্তি আমার সুন্নতকে ভালবাসে, সে আমাকে ভালবাসে, আর যে আমাকে ভালবাসে, সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।” (জামে তিরমিযী, খন্ড-৪র্থ, পৃ-৩১০, হাদীস নং-২৬৮৭)

ফয়যানে তারাবীহ

রমযানে ৬১ বার খতমে কোরআন

তারাবীহ সুন্নতে মুআক্কাদাহ। তাতে কমপক্ষে একবার খতমে কুরআনও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। আমাদের ইমামে আযাম আবু হানীফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , ” রমযানুল মুবারকে ৬১ বার কুরআন করীম খতম করতেনঃ ত্রিশ খতম দিনে, ত্রিশ খতম রাতে আর একবার তারাবীহের নামাযে। তাছাড়া, তিনি  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  , ” ৪৫ বছর ইশার ওযু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন। (বাহারে শরীআত, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ-৩৭)

এক বর্ণনায় অনুযায়ী ইমাম আযম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه , ” জীবনে ৫৫ বার হজ্ব করেছেন আর যে স্থানে তিনি ইন্তিকাল করেছেন সেখানে তিনি সাত হাজার বার কুরআন মজিদ খতম করেছেন। (উকুদুন হিমান, পৃ-২২১)

কুরআন তিলাওয়াত ও আহলুল্লাহ

আমার আকা আলা হযরত رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه বর্ণনা করেন, “ঈমামদের ঈমাম সায়্যিদুনা ইমাম আযম আবু হানিফা  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه   পূর্ণ ৩০ বছর পর্যন্ত প্রতি রাতে এক রাকাআতে কুরআন মজিদ খতম করতেন।” (সংশোধিত ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-৭ম, পৃ-৪৭৬)

ওলামায়ে কিরাম  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم  বলেন, সলফে সালেহীনদের পূর্ববর্তী বুযুর্গদের দের  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم  এর মধ্যে কোন কোন ঈমাম রাত ও দিনে ২ খতম দিতেন। কেউ কেউ চার খতম কেউ কেউ আট খতম দিতেন। ইমাম আব্দুল ওহাব শারানী  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর মিযানুশ শরীয়াহ এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, সায়্যিদী মওলা আলী رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  একরাত একদিনে ৩ লাখ ৬০ হাজার বার কুরআন খতম করতেন। (আল মিজানুশ শরীয়াতুল কুবরা, খন্ড-১ম, পৃ-৭৯)

হাদিসে পাকে উল্লেখ আছে, আমিরুল মু’মিনীন হযরত শেরে খোদা رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ  বাম পা রেকাবে (ঘোড়ার পা দানীতে) রেখে কুরআন মজীদ শুরু করতেন আর ডান পা রেকাবে পৌঁছার পূর্বেই কুরআন খতম হয়ে যেত। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্ সংশোধিত, খন্ড-৭ম, পৃ-৪৭৭)

হাদীস শরীফে মদীনার তাজেদার হযরত মুহাম্মদ ﷺ  এর ইরশাদ করেন যে , “হযরত সায়্যিদুনা দাউদ عَلَيْهِ السَّلَام নিজ সাওয়ারী প্রস্তুত করতে বলতেন এবং এর উপর জীন (বসার গদি) দেওয়ার পূর্বে তিনি যাবুর শরীফ খতম করে ফেলতেন।” (সহীহ বুখারী, খন্ড-২য়, পৃ-৪৪৭, হাদীস নং-৩৪১৭)

প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! কোন কোন ইসলামী ভাইয়ের এই ধারণা আসতে পারে যে, একদিনে কয়েকবার নয় বরং মুহুর্তের মধ্যে কুরআনে পাক বা যাবুর শরীফ খতম কেমন করে সম্ভব? তার উত্তর এই যে, এটা আউলিয়ায়ে কিরাম رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليهم এর কারামত ও হযরত দাউদ  عَلَيْهِ السَّلَام  এর মু’জিযা। আর মুজিযা ও কারামত হচ্ছে তা, যা স্বভাবগত ভাবে অসম্ভব।

হরফ চিবুনো

আফসোস! আজকাল ধর্মীয় বিষয়াদিতে অলসতার ছড়াছড়ি। সাধারণতঃ তারাবীহ’র মধ্যে কুরআন মজীদ একবারও বিশুদ্ধ অর্থে খতম হচ্ছে না। কুরআনে পাক ‘তারতীল’ সহকারে, অর্থাৎ থেমে থেমে পড়া চাই। কিন্তু বর্তমান অবস্থা হচ্ছে যদি কেউ এমনি করে তবে লোকেরা তার সাথে তারাবীহ পড়ার জন্য প্রস্তুতও থাকে না। এখন ওই হাফিযকে পছন্দ করা হয়, যে তারাবীহ থেকে তাড়াতাড়ি অবসর করে দেয়। মনে রাখবেন, তারাবীহ ছাড়াও তিলাওয়াতে হরফ চিবুনো হারাম। যদি তাড়াতাড়ি পড়ার মধ্যে হাফিয সাহিব পূর্ণ কুরআন মজীদ থেকে শুধু একটা হরফও চিবিয়ে ফেলে, তবে খতমে কুরআনের সুন্নত আদায় হবে না।

সুতরাং কোন আয়াতে কোন হরফ ‘চিবিয়ে’ ফেলা হলে কিংবা সেটার আপন ‘মাখরাজ’ (উচ্চারণের স্থান) থেকে উচ্চারিত না হয়, তবে লোকজনকে লজ্জা না করে পুনরায় পড়ে নেবেন। আর শুদ্ধ করে পড়ে নিয়ে তারপর সামনে বাড়বেন। অন্য এক আফসোসের ব্যাপার রয়েছে যে, হাফিযদের কিছু সংখ্যক এমনও রয়েছে যে, যারা তারতীল সহকারে পড়তেই জানে না। তাড়াতাড়ি না পড়লে বেচারা ভুলে যায়। এমন হাফিযদের খিদমতে সমবেদনামূলক মাদানী পরামর্শ রইলো যেন তাঁরা লোকজনকে লজ্জা না করেন, বরং তাজভীদ সহকারে পড়ান এমন কোন কারী সাহিবের সাহায্য নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপন হিফয দুরস্ত করে নিন।

‘মদ্দে লীন’* এর প্রতি খেয়াল রাখা জরুরী। তাছাড়া মদ্দ, গুন্নাহ, ইযহার, ইখফা ইত্যাদির প্রতিও যত্নবান হোন। ‘বাহারে শরীয়ত’ প্রণেতা সদরুশরীয়া, খলীফায়ে আলা হযরত আল্লামা মওলানা মুফতী মুহাম্মদ আবু উলা আমজাদ আলী আযমী রযবী رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه বলেন, “ফরয নামাযগুলোতে থেমে থেমে কিরআত সম্পন্ন করবেন। আর তারাবীহতে মাঝারী ধরণের, আর রাতের নফলগুলোকে তাড়াতাড়ি পড়ার অনুমতি রয়েছে; কিন্তু এমনি পড়বেন যেন বুঝা যায়। অর্থাৎ কমপক্ষে ‘মদ্দ’ এর যে পর্যায় কারীগণ রেখেছেন, তা আদায় করবেন। অন্যথায় হারাম। কেননা, তারতীল সহকারে (অর্থাৎ খুব থেমে থেমে) কুরআন পড়ার নির্দেশ রয়েছে। (দুররে মুখতার, রদ্দুল মুহতার, খন্ড-২য়, পৃ-২৬২)

আল্লাহ রব্বুল আলামীনের বাণী:-

وَرَتِّلِ الْقُراٰنَ تَرْتِيْلًا۝

কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ:- আর কুরআনকে খুব থেমে থেমে পড়ো। (সূরা-মুয্যাম্মিল, আয়াত-৪, পারা-২৯)

আমার আকা আলা হযরত  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  জালালাইন শরীফের হাশিয়া কামালাইন এর বরাত দিয়ে তারতিল এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বর্ণনা করেন, “অর্থাৎ কুরআন মজীদ এভাবে ধীরে ধীরে থেমে থেমে পাঠ করুন যাতে শ্রোতা তার আয়াত ও শব্দ গুনতে পারে।” (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্ সংশোধিত, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃ-২৭৬)

এছাড়াও ফরয নামাযে এমনভাবে পৃথক পৃথকভাবে পাঠ করতে হবে যাতে প্রতিটি বর্ণ বুঝা যায়। তারাবীর নামাযকে মধ্যমভাবে আর রাতের নফল নামায সমূহে এতটুকু দ্রুত পড়তে পারবে যাতে সে নিজে বুঝতে পারে।

(দুররে মুখতার, খন্ড-১ম, পৃ-৮০)

*وَاو এর পূর্বে পেশ, يا এর পূর্বে যের এবং الف এর পূর্বে যবর হলে সেটাকে মদ্দে লীন বলে।

‘মাদারেকুত তানযিল’ এ উল্লেখ আছে যে, কুরআনকে ধীরে ধীরে থেমে থেমে পড়ুন” তার অর্থ এই যে প্রশাান্তির সাথে প্রতিটি হরফকে পৃখক পৃথক ভাবে ওয়াকফকে ঠিক রেখে এবং সকল হরকত আদায় করার ব্যাপারে বিশেষ দৃষ্টি রাখা।” তারতীল শব্দটি এই মাসআলার উপর জোর দিচ্ছে যে, এই কথা তিলাওয়াতকারীদের স্মরণ রাখা জরুরী। (তাফসীরে মাদারেকুত তানযীল, খন্ড-৪র্থ, পৃ-২০৩, সংশোধিত ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-৬ষ্ঠ, পৃ-২৭৮ ও ২৭৯)

তারাবীহ পারিশ্রমিক ছাড়া পড়াবেন

যিনি পড়বেন ও যিনি পড়াবেন উভয়ের মধ্যে ইখলাস থাকা জরুরী। যদিহাফিয নিজের দ্রুততা দেখানো, সুন্দর কণ্ঠের বাহবা পাবার এবং নাম ফুটানোর জন্য কুরআন পাক পড়ে, তবে সাওয়াবতো দূরের কথা, উল্টো রিয়াকারীর গুনাহে নিমজ্জিত হবে। অনুরূপভাবে, পারিশ্রমিকের লেনদেনও না হওয়া চাই। বেতন সাব্যস্ত করাকে পারিশ্রমিক বলেনা, বরং এখানে তারাবীহ পড়ানোর জন্য এজন্যই আসে যে, এখানে কিছু পাওয়া যায় একথা জানা আছে, যদিও আগেভাগে সাব্যস্ত না হয়; সুতরাং এটাও পারিশ্রমিক নেয়া হলো। পারিশ্রমিক টাকারই নাম নয়, বরং কাপড় কিংবা ফসল ইত্যাদির সুরতে পারিশ্রমিক নিলে তাও পারিশ্রমিক হয়ে থাকে। অবশ্য, যদি হাফিয সাহিব বিশুদ্ধ নিয়্যত সহকারে পরিস্কার ভাষায় বলে দেন, “আমি কিছুই নেবোনা”, কিংবা যিনি পড়াবেন তিনি বলে দেন, “কিছুই দেবোনা” তারপর হাফিয সাহিবের খিদমত করেন, তাহলে কোন ক্ষতি নেই।

বরকতময় হাদীসে আছে, اَنَّمَا الاَعْمَالُ بِالنِّيَّات অর্থাৎ “কাজ তার নিয়্যতের উপর নির্ভর করে।” (সহীহ বোখারী, খন্ড-১ম, পৃ-৬, হাদীস নং-০১)

তিলাওয়াত, যিকির ও না’ত এর পারিশ্রমিক হারাম

আমার আকা, আ’লা হযরত ইমামে আহলে সুন্নত, মওলানা শাহ আহমদ রযা খান رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর দরবারে পারিশ্রমিক দিয়ে মৃতের ঈসালে সাওয়াবের জন্য খতমে কুরআন এবং আল্লাহ তাআলার যিকর কুরআনের বিধান সম্পর্কে যখন ফাতওয়া চাওয়া হলো, তখন তদুত্তরে ইরশাদ করলেন, “তিলাওয়াতে কুরআন ও যিকরে ইলাহী এর উপর পারিশ্রমিক দেয়া ও নেয়া উভয়ই হারাম। লেনদেনকারী উভয়ই গুনাহগার হবে। যখন এ লেনদেনকারী উভয়ই হারাম সম্পাদনকারী হলো, তখন কোন্ জিনিষের সাওয়াব মৃতের জন্য পাঠাবেন? গুনাহের কাজের উপর সাওয়াবের আশা করা আরো বেশি জঘণ্য ও মারাত্মক হারাম।

যদি লোকেরা চায় যে, ঈসালে সাওয়াব হোক, শরীয়তসম্মত বৈধ পন্থাও অর্জিত হোক, তবে সেটার পদ্ধতি হচ্ছে এই যারা পড়ছে তাদেরকে ঘন্টা/দুঘন্টার জন্য চাকুরে হিসেবে নিয়োগ করে নিন। যেমন, যিনি পড়াবেন তিনি বললেন, “আপনাকে আমি আজ অমুক সময় থেকে অমুক সময়ের জন্য এ বেতনে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করলাম। আমি যে কাজই চাই আপনার দ্বারা সম্পন্ন করাবো।” সে বলবে, “আমি গ্রহণ করলাম।” এখন সে ততটুকু সময়ের জন্য ‘কর্মচারী’ নিয়োজিত হয়ে গেলো। এখন তিনি যে কাজই চান, করাতে পারেন। এরপর তাকে বলবেন, “অমুক মৃতের জন্য কুরআন করীম থেকে এতটুকু কিংবা এতবার কলেমা-ই-তায়্যিবা অথবা দুরূদে পাক পড়ে দিন।” এটা হচ্ছে, বৈধ পন্থা। (ফাতাওয়ায়ে রযবীয়্যাহ্, খন্ড-১০ম, পৃ-১৯৩-১৯৪)

তারাবীহর পারিশ্রমিক নেয়ার শরীয়ত সম্মত হীলা

এ বরকতময় ফাতাওয়ার আলোকে তারাবীহর জন্য হাফিয সাহেবের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে। উদাহরণ স্বরূপ, মসজিদের কমিটির লোকেরা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে হাফেয সাহেবকে মাহে রমাযানুল মুবারকে এশার নামাযের ইমামতির জন্য নিয়োগ করে নেবেন। আর হাফেয সাহেব আনুসঙ্গিকভাবে তারাবীহও পড়িয়ে দেবেন। কেননা, রমাযানুল মুবারকে তারাবীহও এশার নামাযের সাথেই শামিল থাকে। অথবা এমন করুন! মাহে রমযানুল মুবারকে প্রতিদিন তিন ঘন্টার জন্য (যেমন রাত ৮-০০টা থেকে ১১-০০ পর্যন্ত) হাফেয সাহেবকে চাকুরীর প্রস্তাব দিয়ে বলবেন, আমরা যে কাজই করতে বলি তা করতে হবে। বেতনের অংকও বলে দেবেন। যদি হাফিয সাহিব মঞ্জুর করেন, তাহলে তিনিতো কর্মচারীই হয়ে গেলেন। এখন প্রতিদিন হাফেয সাহেবের ওই তিন ঘন্টার ভিতর ডিউটি লাগিয়ে দেবেন। তিনি তারাবীহও পড়িয়ে দেবেন।

একথা মনে রাখবেন যে, ইমামত হোক কিংবা খেতাবত হোক। অথবা মুআযযিনের কাজ কিংবা অন্য কোন ধরণের মজদুরী কাজের জন্য পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নিয়োগদানের সময় একথা জানা থাকবে যে, এখানে পারিশ্রমিক কিংবা বেতনের লেনদেন নিশ্চিত তাহলে আগেভাগেই পারিশ্রমিকের অংক নির্ধারণ করে নেয়া ওয়াজিব। অন্যথায় লেনদেনকারী উভয়ই গুনাহগার হবেন। অবশ্য যেখানে পারিশ্রমিকের আগে থেকেই নির্ধারিত অংক জানা থাকে, (যেমন, বাসের ভাড়া, কিংবা বাজারে বস্তা ভর্তি করা, বহন করে নিয়ে যাওয়ার অংক ইত্যাদি) সেখানে বারবার নির্ধারণ করার প্রয়োজন নেই। একথাও মনে রাখবেন, যখন হাফিয সাহিবকে (কিংবা যাকে যে কাজের জন্য) মজদূর নিয়োগ করেছেন, তখন একথা বলে দেয়া জায়িয নয়, আমরা যা উপযুক্ত হবে তাই দিয়ে দেবো, বরং সুস্পষ্টভাবে অংকের পরিমান বলে দিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ, আমরা আপনাকে বার হাজার টাকা দেবো। এটাও জরুরী যে, হাফেয সাহেবও সম্মতি প্রকাশ করবেন। এখন বারো হাজার দিতেই হবে, চাঁদা সংগ্রহ হোক কিংবা নাই হোক। অবশ্য, হাফিয সাহিবের দাবী ছাড়াও যদি নিজেদের ইচ্ছানুসারে নির্ধারিত অংকের চেয়ে বেশি দেন, তবেও জায়েয। যেসব হাফেয সাহেব কিংবা নাতখা পারিশ্রমিক ছাড়া তারাবীহ, কোরআন খানি কিংবা নাতখানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন না, লজ্জার কারণে তারা যেন না জায়িয কাজ করে না বসেন। সায়্যিদী আলা হযরত  رَحْمَةُ اللهِ تَعَالٰى عليه  এর বাতলানো পদ্ধতি অনুসারে কাজ করে পাক রুজি অর্জন করুন! আর যদি একেবারে বাধ্য হয়ে না যান তবে হীলা দ্বারা অর্থ উপার্জন করা থেকেও বিরত থাকুন। কারণ, “জিসকা আমল হো বে গরয, উস কী জাযা কুছ আওর হ্যায়।” অর্থাৎ যার কাজ হয় নিষ্টাপূর্ণ তার প্রতিদানই ভিন্ন ধরণের।

একটা পরীক্ষা হচ্ছে- যেই অর্থ নিশ্চিত পাওয়া যাবে, তা গ্রহণ না করলে যথেষ্ট বাহবা পাওয়া যায়। আর ওই বেচারাও জানিনা নিজেকে রিয়াকারী থেকে কিভাবে বাঁচায়। সৌভাগ্যক্রমে, এমন প্রেরণা অর্জিত হোক, বর্ণিত পদ্ধতিতে অর্থ নিয়ে নিন আর গোপনে তা সদকা করে দিন। কিন্তু নিজের নিকটাত্মীয় ইসলামী ভাই, বরং ঘরের এক সদস্যকেও বলবেন না। অন্যথায় রিয়াকারী থেকে বাচাঁ কঠিন হয়ে যাবে। মজাতো এতেই রয়েছে যে, বান্দা জানবে না কিন্তু তার মহান আল্লাহ জানবেন।

__________________________

লিখাটি আমীরে আহলে সুন্নাত হযরত মাওলানা ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযভী কর্তৃক লিখিত রযমান মাসের বিস্তারিত মাসাইল সম্পর্কিত “রমযানের ফযিলত” নামক কিতাব হতে সংগৃহীত।

সালাতুত তারাবীহ বা তারবীহ নামায:

তারাবীহ শব্দটি বহুবচন। একবচনে ‘তারবীহাতুন’। এর অর্থ হচ্ছে বিশ্রাম নেয়া বা আরাম করা। পাঁচ তারবীহাতুন মিলে এক তারাবীহ। অর্থাৎ, চার রাকাআত পর পর বসে দুআ, দুরূদ ও তাসবীহ পাঠের মাধ্যমে বিশ্রাম নিয়ে বিশ রাকাআত নামায আদায় করা হয় বলে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘তারাবীহ’।

১. মাসয়ালা: তারাবীহ্ নামায বিশ রাকাআত।

পুরুষ-মহিলা প্রত্যেকের জন্যই এ নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। বিশ রাকাআত থেকে কেউ যদি এক রাকাআতও কম পড়ে তাহলে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার কারণে ওয়াজিব তরকের গুনাহে গুনাহগার হবে।

২. মাসয়ালাঃ তারাবীহ নামায জামাআতে পড়া, তা খতম তারাবীহ হোক বা সূরা তারাবীহ হোক, উভয়টি-ই পৃথকভাবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া। খতমে তারাবীহ পড়িয়ে বা কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয। মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামাআত-এর সাথে তারাবীহ বা অন্যান্য নামায আদায় করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ।

৩.মাসয়ালাঃ সালাতুত তারাবীহ-এর নিয়ত-

نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر.

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা রকাআতাই ছলাতিত তারাবীহ সুন্নাতু রসূলিল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

অর্থ: আমি ক্বিবলামুখী হয়ে দু’রাকাআত তারাবীহ সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ নামাযের নিয়ত করছি। আল্লাহু আকবার।

৪.তারাবীহ নামায-এ দু’রাকাআত পর পর দুআঃ

তারাবীহ নামায-এর দু’রাকাআত পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তে হয় –

هذا من فصل ربى يا كريم المعروف يا قديم الاحسان احسن الينا باحسانك القديم ثبت قلوبنا على دينك برحمتك يا ارحم الرحمين.

উচ্চারণ: হা-যা মিং ফাদ্বলি রব্বী ইয়া কারীমাল মা’রূফ, ইয়া ক্বদীমাল ইহসান, আহসিন ইলাইনা বি ইহসানিকাল ক্বদীম। ছাব্বিত ক্বুলূবানা আলা দীনিকা বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন।

৫.তারাবীহ নামায-এ চার রাকাআত পর পর দুআঃ

তারাবীহ নামায-এ চার রাকাআত পর পর নিম্নোক্ত দুআ পড়তে হয় –

سبحان ذى الملك والملكوت سبحان ذى العزة والعظمة والهيبة والقدرة والكبرياء والجبروت . سبحان الملك الحى الذى لاينام ولا يموت ابدا ابدا سبوح قدوس ربنا ورب الملئكة والروح.

উচ্চারণ: সুব্হানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকূতি সুবহানাযিল ইযযাতি ওয়াল আযমাতি ওয়াল হাইবাতি ওয়াল ক্বুদরতি ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়াল জাবারূত। সুব্হানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযী লা-ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামূতু আবাদান আবাদা। সুব্বূহুন ক্বুদ্দূছুন রব্বুনা ওয়া রব্বুল মালা-য়িকাতি ওয়ার রূহ্।

৬.তারাবীহ নামায-এ চার রাকাআত পর পর মুনাজাতঃ

اللهم صل على سيدنا ونبينا وحبيبنا وشفيعنا ومولنا صلى الله عليه وسلم. رب ارحم هما كما ربيانى صغيرا. ربنا افرغ علينا صبرا وتوفنا مسلمين. ربنا اتنا فى الدنيا حسنة وفى الاخرة حسنة وقنا عذاب النار. اللهم انا نسئلك الجنة ونعوذبك من النار يا خالق الجنة والنار. برحمتك ياعزيز ياغفار ياكريم ياستار يارحيم يا جبار يا خالق يا بار. اللهم اجرنا من النار يا مجير يا مجير يا مجير برحمتك يا ارحم الراحمين. سبحان ربك رب العزة عما يصفون. وسلام على المرسلين. والحمد لله رب العلمين.

মুনাজাত: আল্লাহুম্মা ছল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা ওয়া নাবিয়্যিনা ওয়া হাবীবিনা ওয়া শাফী’য়িনা ওয়া মাওলানা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রর্ব্বিহাম হুমা কামা রব্বাইয়্যানী ছগীরা, রব্বানা আফ্রিগ্ আলাইনা ছব্রাওঁ ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া না’ঊযুবিকা মিনান নার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরহমাতিকা ইয়া আযীযু ইয়া গফ্ফারু ইয়া কারীমু ইয়া সাত্তারু ইয়া রহীমু ইয়া জাব্বারু ইয়া খালিক্বু ইয়া বা-র। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার। ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীরু ইয়া মুজীর। বিরহমাতিকা ইয়া আরহামার রহিমীন। সুবহানা রব্বিকা রব্বিল ইয্যাতি আম্মা ইয়াছিফূন-ওয়া সালামুন আলাল মুরসালীন। ওয়াল-হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment