ইমাম বুখারী (رحمة الله) থেকে উম্মাহর শিক্ষা ও ইসলামে মাযারের অস্তিত্ব।

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

বিষয়ঃ ইমাম বুখারী (رحمة الله) থেকে উম্মাহর শিক্ষা ও ইসলামে মাযারের অস্তিত্ব। 

🖋কৃতঃ Masum Billah Sunny (ব্লগার, সুন্নি-বিশ্বকোষ)

🔺মাযারের ছবিঃ 

—————————

[সহিহুল বুখারী] যেই বিশুদ্ধতম গ্রন্থের নাম জপে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ। সেই মহান ইমাম, সিহাহ সিত্তার অন্যতম হাদিস সংকলক ইমাম বুখারী (رحمة الله) এর পবিত্র মাযার শরীফ (স্থানঃ সমরকান্দ, উজবেকিস্তান)। 

🔺শিক্ষাঃ 

——————

❏ আল-কুরআনে বর্ণিত সকল নবী-রাসূল (অর্থাৎ ২৫ জনেরই) মাযার আছে। যা ১৫০০ বছরের অধিক পুরানো। বিশ্বাস না হলে Google এ সার্চ করে দেখুন। সমগ্র বিশ্বের মুসলমান কি শিরিকের উপর ইজমা করবে? কখনও না। 

❏ কোন মুসলমানকে মাযার পূজারী #ট্যাগ ব্যবহার করা বড়ই বেমানান। আল্লাহর কসম কোন মুসলিমকে মাযার জিয়ারতের কারণে পূজারী/মুশরিক ফতোয়া দেয়া মানে ১০০% সন্দেহ ব্যতীত ফতোয়াদান কারী মুশরিক। এই ফতোয়াতে তামাম হক্কানী উলামায়ে কেরাম ও উম্মাহর ০.০০০০০০১% সন্দেহ নেই। কারণ ফতোয়া হয় মূল শরীয়তের উপর ভিত্তি করে যেমন, ফ্ল্যাট ১০০ তালা হলেও এর ফাউন্ডেশন হল মূল ভিত্তি। তাই ফতোয়া যাই হোক মূল শরীয়ত কেউ কোন দিন কিয়ামত পর্যন্ত পরিবর্তন করার অধিকার রাখে না।

🔺হাদিস সংকলনে ইমাম বুখারী (رحمة الله)’র অবদানঃ

——————————————————————

❏ ইমাম বুখারী (রহঃ) প্রথমে কোরআন পাঠ শুরু করেন। মাত্র ৬ বছর বয়সে তিনি কুরআন মুখস্থ করেন। ১০ বছর বয়স থেকে তিনি হাদীস মুখস্থ করা শুরু করেন। 

[দুহাল ইসলাম (ইসলামের দ্বিপ্রহর) ২য় খন্ড, ডা: আহমাদ আমীন রচিত, ইসলামিক ফাউন্ডশন পৃষ্ঠা-১১৩]

❏ ইমাম বুখারী (رحمة الله) কত লক্ষ হাদিস জানতেন?

ইমাম বুখারী (رحمة الله) বলেন,

“আমার অন্তরে এক লক্ষ সহীহ হাদীছ ও দুই লক্ষ যঈফ হাদীস মুখস্ত রয়েছে।”

● ইবনে হাজর আসকালানী (রহ) হাদয়ুস সারী পৃ: ৭

● ইমাম যাহাবী সিয়ারু আলামিন নুবালা পৃ ১২/৪০২

● তবকাতুস- সুবকী ২/৭

● তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত ১/৭৪

●আল-কামিল, ইবনে আদী ১/১২৬, 

●তারীখে বাগদাদ, খতীবে বাগদাদীর প্রনীত ২/৮-৯, 

●শুরুতি আইম্মাতিল খামসা, হাযেমী ১৬০,১৮৫

🔺শিক্ষাঃ 

—————

❏ বোঝা গেল বুখারী শরীফ এমনকি সিহাহ সিত্তাহর বাইরেও গ্রহণযোগ্য হাদিস বিদ্যমান। ইমাম বুখারী (রহ) স্বয়ং ১ লক্ষ হাদিস জানতেন। ইমাম বুখারী (রহ) সহিহ সিত্তায় মাত্র ৭০০০ হাদিস এনেছেন। বাকি গুলো গেল কোথায়?

অন্যান্য ইমাম-মুহাদ্দিসগণ সেগুলো তাঁদের কিতাবে সযত্নে সংকলন করেছেন।

❏ যারা বলে যে, বুখারী-মুসলিম ছাড়া আর কোন হাদিস মানি না। এটা সাংঘাতিক কথা। যা তার ইমান হরণের জন্য যথেষ্ঠ। 

কারণ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যে থুথু মুবারক ফেলেছেন সেটাও হাদিস, তারপর সাহাবীদের কথা, কাজও হাদিস হিসেবে সংকলিত আছে।

তাহলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ২৩ বছর হায়াতে জিন্দেগীতে কি মাত্র ১৪ হাজার কথা বলেছেন?এটা বড় হাস্যকর অভিযোগ। 

বোঝা গেল এ যুক্তি যারা দেয় তারা ১০০ হাদিসও মুখস্ত জানে না কিন্তু লক্ষাধিক হাদিসের হাফেজের উপর বিশ্বাস না করার জন্য উৎসাহ প্রদান করে। মূলত তারা ৭৩ ফির্কার মধ্যে বাতিল ৭২ ফির্কার অন্তর্ভুক্ত।

❏ পূর্ববর্তী ইমামগণ এ কথার উপর একমত যে, সওয়াবের জন্য দ্বয়ীফ হাদিস আমল করা যায় তবে আকিদার ক্ষেত্রে দ্বয়ীফ হাদিসের বিপরীতে কোন সহিহ হাদিস পেলে তা অগ্রগন্য হবে।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment