✔ হাদীসঃ-
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ : عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ السُّكَّرِىُّ بِبَغْدَادَ أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ حَدَّثَنَا عَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ التَّرْقُفِىُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى حَدَّثَنَا أَبِى عَنْ غَيْلاَنَ عَنْ أَبِى إِسْحَاقَ عَنْ مَوْلَى عُمَرَ يَسَارِ بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ : كَانَ عُمَرُ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا بَالَ قَالَ: نَاوِلْنِى شَيْئًا أَسْتَنْجِى بِهِ قَالَ فَأُنَاوِلُهُ الْعُودَ وَالْحَجَرَ أَوْ يَأْتِى حَائِطًا يَتَمَسَّحُ بِهِ أَوْ يُمِسُّهُ الأَرْضَ وَلَمْ يَكُنْ يَغْسِلُهُ. وَهَذَا أَصَحُّ مَا رُوِىَ فِى هَذَا الْبَابِ وَأَعْلاَهُ. (رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِى الْسُنَنِ الْكُبْرى فِىْ بَابِ مَا وَرَدَ فِي الِاسْتِنْجَاءِ بِالتُّرَاب)
অনুবাদঃ- ইয়াসার বিন নুমাইর রহ. বলেন: হযরত উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) পেশাব করতে গিয়ে বলতেন: আমাকে এমন কিছু দাও যা দিয়ে ইস্তিঞ্জা করতে পারি। ইয়াসার বলেন: অতঃপর আমি তাঁকে এক টুকরো কাঠ বা পাথর দিতাম অথবা তিনি দেয়ালের নিকটে এসে তাতে মুছে ফেলতেন কিংবা মাটিতে স্পর্শ করাতেন; আর ধুতেন না।
রেফারেন্সঃ- সুনানুল কুবরা লিল-বায়হাকী, হাদীস নং-৫৪০।
👉 হাদীসটির স্তর : সহীহ। ইমাম বাইহাকী রহ. বলেন: হাদীসটি এ অধ্যায়ের সবচেয়ে সহীহ ও শ্রেষ্ঠ। এ হাদীসের রাবীগণের মধ্যে ইয়াসার বিন নুমাইর ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: রাবী নম্বর- ৮৮০০) আব্বাস বিন আব্দুল্লাহ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (তাকরীব: রাবী নম্বর- ৩৫১৫) ইসমাঈল বিন মুহাম্মাদ ثقةٌ “নির্ভরযোগ্য”। (তারীখে বাগদাদ রাবী নম্বর- ৩৩৪৪) আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া صدوق “সত্যনিষ্ঠ”। (তারীখে বাগদাদ রাবী নম্বর- ৫৩৪৭) আর অবশিষ্ট রাবীগণ সবাই বুখারী/মুসলিমের রাবী।
👉 সারসংক্ষেপ : হযরত উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর আমল দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, পেশাবের পরে কুলুখ ব্যবহার জরুরী এবং কুলুখ ঠিকমতো ব্যবহার করার পরে পানি ব্যবহার আবশ্যক নয়। তবে অন্যান্য বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, পরিচ্ছন্নতার জন্য পানি ব্যবহার করা উত্তম। পেশাবের পরে কুলুখ ব্যবহারের সময় হাঁটা-চলা বা ওঠা-বসা করা বা কাশি দেয়া ভালো। হাঁটা-চলা করার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নেই যে, এত কদম হাঁটতে হবে। তবে এতটুকু সময় হাঁটা-চলা করা উচিত যাতে নতুন করে পেশাবের ফোঁটা বের হওয়ার সম্ভাবনা আর না থাকে। কুলুখ ব্যবহারের সময় লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার চেষ্টা করা বাঞ্ছনীয়। জনসম্মুখে নির্লজ্জের মতো চলাফেরা না করা এবং সতরের প্রতি খুব খেয়াল রাখা যেন কুলুখ ব্যবহারের সময় মানুষের সামনে তা প্রকাশ না পায়।
✔ হাদীসঃ-
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِحَائِطٍ مِنْ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ أَوْ مَكَّةَ، فَسَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذَّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ” يُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ ، ثُمَّ قَالَ ” بَلَى، كَانَ أَحَدُهُمَا لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الآخَرُ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ”. ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَكَسَرَهَا كِسْرَتَيْنِ، فَوَضَعَ عَلَى كُلِّ قَبْرٍ مِنْهُمَا كِسْرَةً. فَقِيلَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ فَعَلْتَ هَذَا قَالَ ” لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ تَيْبَسَا أَوْ إِلَى أَنْ يَيْبَسَا ”.(رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ فِىْ بَابٌ: مِنَ الكَبَائِرِ أَنْ لاَ يَسْتَتِرَ مِنْ بَوْلِهِ)
অনুবাদঃ- হযরত ইবনে আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার মদীনা বা মক্কার কোন এক বাগানের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় দু’জন ব্যক্তির আর্তনাদ শুনতে পেলেন যাদেরকে কবরে শাস্তি দেয়া হচ্ছিলো। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেন: এদেরকে আজাব দেয়া হচ্ছে। তবে তা বড় কোন কারণে নয়। অতঃপর ইরশাদ করলেন: তাদের একজন পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। আর অপরজন চোগলখুরী করত (একের কথা অপরের নিকট অসদুদ্দেশ্যে বলত)। তারপর তিনি খেজুরের একটি ডাল আনিয়ে তা ভেঙ্গে দু’খন্ড করে প্রত্যেক কবরের ওপর এক এক খন্ড রাখলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করা হলো: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি এমনটি কেন করলেন? জবাবে তিনি ইরশাদ করলেন: এতে ডালটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত হয়তো তাদের আজাব কিছুটা লাঘব হবে।
রেফারেন্সঃ- বুখারী শরীফ, হাদীস নং-২১৬।
👉 হাদীসটির স্তর : সহীহ। শাব্দিক কিছু তারতম্যসহ এ হাদীসটি মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ইবনে মাজাহ ও তিরমিজী শরীফেও বর্ণিত হয়েছে। (জামিউল উসূল: ৮৬৯৩)
👉 মাস’আলাঃ-
১) পেশাবের পরে কুলুখ ব্যবহারের নির্দেশ মারফু’ হাদীসে সরাসরি না পাওয়া গেলেও কবর আজাব থেকে বাঁচার জন্য পেশাব থেকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) নিজ আমলের মাধ্যমে আমাদেরকে পেশাব থেকে সতর্কতা অবলম্বনের পদ্ধতি দেখিয়েছেন।
২) আল্লাহ’র হাবীব রাসূলে আরাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েব জানতেন, যা এই হাদীস থেকে প্রমাণিত। যদি আমাদের প্রিয় আক্বা গায়েব না জানতেন তাহলে কি ভাবে বললেন কবরে আজাব হচ্ছে? কেন হচ্ছে? আলমে দুনিয়ায় থেকে আলমে বরযখের খবর বলা কি গায়েব নয়? আবার একজন পেশাব থেকে পবিত্র হয় নাই আরেকজন চোগলখোরি করতো নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি ভাবে জানেন? নবীজি কি তাদের সাথে ছিলেন যখন পেশাব থেকে পবিত্র হয় নাই এবং যখন চোগলখোরি করা হয়েছিল? তখন জিবরাঈলও আসেন নাই। এতেই প্রমান হয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতায় গায়েব জানেন।
৩) কবরে তরুতাজা গাছ কাটতে নেই কারন, গাছ আল্লাহ’র তাসবীহ পরে যার বরকতে কবরে আজাব হালকা হয়।
৪) পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়া এবং চোগলখোরি করা কবিরা গুনাহ, তাই আমাদের উচিত উভয় প্রকার পাপ থেকে সতর্ক হওয়া।



Users Today : 345
Users Yesterday : 357
This Month : 32382
This Year : 171859
Total Users : 287722
Views Today : 23397
Total views : 3397649