৬ষ্ঠ অধ্যায়ঃ কবর বাসীদের শ্রবণ ও দর্শন শক্তি

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

প্রশ্নঃ কবরবাসীরা কি যিয়ারতকারীদেরকে চিনেন এবং সালামের জবাব দেন?

উত্তরঃ হাঁ, কবরবাসীগণ যিয়ারতকারীকে চিনেন এবং সালামের জওয়াব দেন।

প্রমাণ সমূহঃ
=====
(১) ইবনে আবদুল বার নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লামের একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন-
قال النبی ﷺ مامن ملسم یمر علی قبر اخیہ کان یعرفہ فی الدنیا فیسلم علیہ الارد اللّٰہ علیہ روحہ حتی یرد علیہ السلام
অর্থ- “রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন- কোন মুসলমান ব্যক্তি তার পরিচিত কোন মুসলমান ভাইয়ের কবরের পাশে গিয়ে তাকে সালাম দিলে আল্লাহ্ তায়ালা তার রূহ্ দেহের সাথে সংযুক্ত করে দেন, অতঃপর কবরবাসী তার সালামের জওয়াব দেন”। বুঝা গেল- কবরবাসী তাকে চিনতে পারেন এবং সালামের জওয়াব দেন।

২। বুখারী ও মুসলিম শরীফে বিভিন্ন সনদে ও সুত্রে বর্ণিত হয়েছে-
انہ ﷺ امر بقتلی بدر فالقوا فی قلیب ۔ ثم جا ء حتی وقف علیھم وناداھم باسماء ھم یا فلان بن فلان ویافلان بن فلان ھل وجدتم ما وعدکم ربکم حقا۔ فانی وجدت ما وعدنی ربی حقا ۔ فقال لہ عمر یا رسول اللہّٰ ﷺ ما تخاطبوا من اقوام قد جیفوا ۔ فقال  والذی بعثنی بالحق ما انتم باسمع لما اقول منھم  ولکنھم لا یستطیعون جوابا۔
অর্থ- “রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদরের যুদ্ধে নিহত ৭০ জন কোরাইশ নেতার লাশ একটি গর্তে ফেলার নির্দেশ দিলেন। এর কিছুদিন পর (৩ দিন) তিনি ঐ গর্তের নিকট এসে দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে নাম ধরে ধরে সম্মোধন করে বললেন- হে অমুকের পুত্র   অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক! আল্লাহ্পাক  তোমাদের  ব্যাপারে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- তোমরা কি তা সত্য পেয়েছো? আমি তো আমার সাথে আল্লাহর প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি সত্য পেয়েছি। হযরত ওমর (রাঃ) আরয করলেন- ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আপনি কি এমন মৃত লাশের সাথে কথা বলছেন- যারা পঁচে দুর্গন্ধময় হয়ে গেছে? রাসুল  করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- আমি ঐ পবিত্র যাতের (সত্বার) শপথ করে বলছি- যিনি আমাকে সত্য ধর্মসহ প্রেরণ করেছেন- তোমরা আমার কথা তাদের চেয়ে বেশী শুনতে  পাচ্ছোনা- কিন্তু তারা জওয়াব দিতে অক্ষম” (বুখারী ও মুসলিমঃ অক্ষম।  (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬৯৫৮, ইসলামিক সেন্টার ৭০১৬)।

ব্যাখ্যাঃ বুঝা গেল- নিহত আবু জাহেল, ওত্বা, ওলীদ, শাইবা- প্রমূখ কোরাইশ নেতারা পঁচে যাওয়া সত্যেও নবীজীর কথা   জীবিতদের চেয়ে বেশী শুনতে পেয়েছিল। যে হযরত ওমর (রাঃ) মদিনা শরীফ থেকে ইরানের  নিহাওন্দ শহরে যুদ্ধরত সেনাপতি ছারিয়া (রাঃ) -এর সাথে কথা বলতেন ও তার কথা শুনতেন- সেই ওমর (রাঃ)-এর চেয়ে বেশী শুনেছিল গর্তবাসী আবু জাহেলরা।  তাহলে পরিষ্কার বুঝা  যাচ্ছে- কবরবাসী  মোমেন ব্যক্তিরা এবং আল্লাহর ওলীরা যিয়ারতকারীদের কথা আরও বেশী শুনতে পান।

(৩) ফত্হুল কবীর ১ম খন্ড ১৬৯ পৃষ্ঠায় হাদীস বর্ণিত হয়েছে-
روی عبد اللّٰہ بن عباسص انہ ﷺ قال ان المیت اذا دفن سمع خفق نعالھم اذا  ولوا منصر فیلن۔
অর্থ- হযরত  আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেছেন-রাসুলেপাক  সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন- ”যখন  লোকেরা মৃত ব্যক্তিকে কবর দিয়ে বাড়ী ফিরে যায়- তখন  কবরবাসী তাদের জুতার মৃদু শব্দও শুনতে পায়”। বুঝা গেল -মৃতদের শ্রবণশক্তি বেড়ে যায়।

(৪) রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া  সাল্লাম উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন- যখন তারা কবরবাসীকে সালাম দিবে, তখন   যেন সম্বোধন করে বলে- “আচ্ছালামু আলাইকুম  দারা  কাওমিম মুমিনীন” (মুসলিম শরীফ ১ম খন্ড ১৫০-১৫১ পৃষ্ঠা)।

ব্যাখ্যাঃ এ ধরণের সম্বোধন করা হয় শ্রবণকারী  ও বিবেকবান লোককে। কবরবাসীরা যদি না শুনতো- তাহলে এই সম্বোধন হতো অনর্থক এবং  নির্জিব পাথরকে সম্বোধন করার ন্যায়।  তাই  অতীতের বুযর্গানেদ্বীন  কবরবাসীর শ্রবণের বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষন করেছেন। কবরবাসীগণ যে জীবিত লোকদের যিয়ারত সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং যিয়ারতের মাধ্যমে যে তারা খুশী ও আনন্দিত হন-  এ বিষয়ে অনেক মোতাওয়াতির হাদীস বর্ণিত আছে।

৫। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাদিয়াল্লাহু  আন্হার বর্ণনায়- রাসুলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন-
مامن رجل یزور قبر اخیہ ویجلس عندہ الا استأنس بہ ورد علیہ حتی یقوم ۔
অর্থঃ “কোন মুসলমান অপর মুসলমান ভাইয়ের কবর যিয়ারত করলে কবরবাসী শান্তনা পায়  এবং তার সালামের জওয়াব  দেয়- যতক্ষণ  না সে উঠে দাঁড়ায়”।

(৬) হযরত আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু  আনহু বর্ণনা করেন-
اذا مر الرجل بقبر اخیہ فسلم علیہ رد علیہ السلام وعرفہ واذا مر بقبر لا یعرفہ فسلم علیہ  رد علیہ السلام
অর্থ- “যখন কোন ব্যক্তি আপন পরিচিত ব্যক্তির কবরে গমন করে এবং সালাম দেয়- তখন কবরবাসী তাকে চিনে এবং তার সালামের জওয়াব দেয়। আর যদি  অপরিচিত লোকের  কবরে গমন করে এবং সালাম দেয়- তাহলে শুধু তার সালামের জওয়াব দেয়”।

ব্যাখ্যাঃ বুঝা গেল- কবরে যাওয়ার পর পূণঃ জীবিত হয়ে যায় এবং বিবেক শক্তি ফিরে পায়। কবরে যেতে হলে মৃত্যুর মাধ্যমেই যেতে হয়। এর বিকল্প  পথ নেই। মৃত্যু এবং পূনঃজীবন লাভের মধ্যখানে সামান্য বিরতিমাত্র। এ সময়ে  শরীর ও রূহ্ পৃথক পৃথক থাকে। এটাকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে প্রস্থান করা বা ইনতিকাল বলা হয়। মৃত্যুর পর শরীরের  সাথে রূহের পূণঃ সংযোগ স্থাপিত হয়- তবে আমাদের মতো নয়।

৭। কবরবাসীগণ কবর থেকে আত্মীয়দের কার্যকলাপ দেখেন

হযরত আবু  আইউব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত- “জীবিত  ব্যক্তিদের সার্বিক আমল  কবরবাসীকে দেখানো হয়। যদি কবরবাসীগণ ভাল কাজ দেখেন- খুশী হন এবং উৎফুল্ল হন। আর  যদি খারাপ কাজ দেখেন- তাহলে বলেন- হে আল্লাহ্! তুমি তাকে এ কাজ থেকে ফিরাও”।

(৮) মোল্লা আলী ক্বারী (রহঃ) মিরকাত গ্রন্থে লিখেছেন- “পবিত্র আত্মাগণ পৃথিবীময় ভ্রমণ করেন এবং সবকিছু দেখেন ও শুনেন”।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment