হযরত হাসান রাঃ ও হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর মধ্যকার আপোষনামা

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ইমাম হাসান (রাঃ) এবং আমির মুওয়াবিয়া (রাঃ) এঁর মধ্যকার আপোষনামার হুবহু অনুবাদ

————————————————————–

সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী

অনেকেই আমার কাছে ইমাম হাসান ইবনে আলি রাঃ এবং আমির মুওয়াবিয়া রাঃ এঁর মধ্যকার যে আপোষনামা হয়েছিল তা রেফারেন্সসহ চেয়েছেন। তাদের জন্য দিলাম।

ذكر أهل العلم أن الحسن بن علي اشترط على معاوية أن لا يعهد لأحد من بعده بالخلافة ، إنما يكون الأمر من بعده شورى بين المسلمين .

“আহলে ইলমগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম হাসান ইবনে আলি রাঃ আমির মুওয়াবিয়া রাঃ কে শর্ত দিলেন যে, আপনি কাউকে আপনার পর “ওয়ালিউল আহদ” বা ক্রাউন প্রিন্স (হবু খলিফা) বানিয়ে যেতে পারবেন না। বরং তা হবে মুসলমানদের মধ্যকার শুরা বা মন্ত্রণা পরিষদের মাধ্যমেঃ

قال ابن حجر الهيتمي رحمه الله :

” ولما تصالحا كتب به الحسن كتابا لمعاوية صورته :

بسم الله الرحمن الرحيم هذا ما صالح عليه الحسن بن علي رضي الله عنهما معاوية بن أبي سفيان :

صالحه على أن يسلم إليه ولاية المسلمين ، على أن يعمل فيهم بكتاب الله تعالى وسنة رسول الله ، وسيرة الخلفاء الراشدين المهديين

ইবনে হাজার হাইতামী রাহঃ উল্লেখ করেন, ” যখন দুজনের মাঝে সুলহ বা আপোষ হলো, ইমাম হাসান রাঃ মুয়াবিয়া রাঃ কে একটা চিঠি লিখলেন, যা নিম্নরুপঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। এটা ইমাম হাসান ইবনে আলী ও মুয়াবিয়া রাঃ এঁর মধ্যকার সুলেহনামা বা আপোষনামা। (শর্তগুলো নিম্নরুপঃ)

১. আমির মুওয়াবিয়া রাঃ রাজত্ব ইমাম হাসান রাঃ কে ফিরিয়ে দেবেন না। কিন্তু রাজত্ব পরিচালনা করবেন কুরআন মাজিদ ও প্রিয় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামার সুন্নাতের মাধ্যমে এবং খুলাফায়ে রাশিদিন মাহদিয়্যিনের আদর্শ অনুযায়ী চলবে।

، وليس لمعاوية بن أبي سفيان أن يعهد إلى أحد من بعده عهدا ، بل يكون الأمر من بعده شورى بين المسلمين

২.মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাঃ কোনভাবেই উনার পর কাউকে “ওয়ালিউল আহদ” বা ক্রাউন প্রিন্স (হবু খলিফা) বানিয়ে যেতে পারবেন না। বরং তা হবে মুসলমানদের মধ্যকার শুরা বা মন্ত্রণা পরিষদের মাধ্যমে।

، وعلى أن الناس آمنون حيث كانوا من أرض الله تعالى ، في شامهم وعراقهم وحجازهم ويمنهم ، وعلى أن أصحاب علي وشيعته آمنون على أنفسهم وأموالهم ونسائهم وأولادهم حيث كانوا

৩.মানুষ শান্তি ও নিরাপত্তার মাধ্যমে বসবাস করবে তারা আল্লাহর দুনিয়ায় যে যেখানেই থাকুক। সিরিয়াতে থাকুক, ইরাকে থাকুক, হেজাজে থাকুক, ইয়েমেনে থাকুক।

৪.বিশেষ করে মাওলা আলির সাথী ও অনুসারীরা শান্তি ও নিরাপদে থাকবে, তাদের জান, মাল এবং স্ত্রী সন্তান নিরাপদে থাকবে যেখানেই থাকুক তারা।

، وعلى معاوية بن أبي سفيان بذلك عهد الله وميثاقه ، وأن لا يبتغي للحسن بن علي ولا لأخيه الحسين ولا لأحد من أهل بيت رسول الله غائلة سرا ولا جهرا ، ولا يخيف أحدا منهم في أفق من الآفاق .

৫. এসব বিষয়ে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান রাঃ আল্লাহর কসম নিলেন এবং অংগীকার করলেন যে, তিনি ইমাম হাসান এবং তাঁর ভাই হোসাইন রাঃ অথবা আহলে বায়তে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার কোন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য কোন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবেন না। এবং তিনি তাঁদের কাউকে কোথাও ভয় দেখাবেন না।

أشهد عليه فلان ، وفلان بن فلان ، وكفى بالله شهيدا

এর ওপর স্বাক্ষ্য থাকলেন অমুক অমুক অমুক। আর আল্লাহ পাকই উত্তম স্বাক্ষী।

انتهى من “الصواعق المحرقة على أهل الرفض والضلال والزندقة” (2 /399) .

وانظر كتاب : “الحسن بن علي رضي الله عنه” للدكتور الصلابي (ص 253) .

তথ্যসূত্রঃ 

১.আস সাওয়ায়ি’কুল মুহরিকাহ,  ইমাম ইবনে হাজার হাইতামি,  ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা নং-৩৯৯.

২.ইমাম হাসান ইবনে আলি রাঃ,  ড. আস সাল্লাবি, পৃষ্ঠা নং-২৫৩।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment