বিস্মময়কর মিরাজ ও বিজ্ঞান [এক]

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ড. এ. এস. এম. ইউসুফ জিলানী

……………………………

الحمد لله الذي ارتضي حبيبه في الارض والسماء والصلوة والسلام علي سيد الانبياء و المرسلين محمد المصطفي وعلي اله صحبه اجعين- اما بعد فاعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم- سبحان اسري بعبده ليلا من المسجد الحرام الي المسجد الاقصي الذي بركنا حوله لنريه من اياتنا انه هو السميع البصير-

বিজ্ঞানের মহাকাশ যাত্রার প্রেক্ষাপটে মিরাজুন্নবী (দ.)। এ আলোকেই আমি শবে আসরার দুলহা, তাজেদারে দুজাহান, সরওয়ারে মুরসালা, তাজেদারে কাওন ও মকান, ইমাম আম্বিয়া, হাবিবে কিবরিয়া মুহামম্মদ মুস্তাফা দ. এর মিরাজ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করার চেষ্টা করবো। বিজ্ঞানের মহাআকাশযাত্রার প্রেক্ষাপটে মিরাজুন্নবীর আলোচনা করতে চাইলে আমাদের জানতে হবে মহাকাশটা কি? এর ভিতরে কি আছে? আর মহাকাশ যাত্রায় কত সময়ের প্রয়োজন।

মহাকাশ বলতে সাধারণত বুঝায় আমাদের মাথার উপর যে মহাশূন্য বা খালিস্থান দেখা যায় সেটাকে মহাকাশ বলা হয়। কিন্তু এটা একবারে শূন্য নয়। এখানে আছে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাস্কি, কোয়াসার সহ হাজার কোটি আল্লাহর মহাকুদরতের নির্দশন। এখানে আরো অনেক কিছু আছে যা এখনো কোন মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।

আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের গ্রহ সূর্য। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মাইল [প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার] আর সূর্য পৃথিবী থেকে তের লক্ষগুণ বড়। একশো ত্রিশটি পৃথিবী পাশাপাশি জোড়া দিলেই কেবল সূর্যের একপাশ থেকে অন্য পাশে পাড়ি দেয়া সম্ভব। আর মহাকাশে সূর্যের চেয়েও শত শত কোটিগুণ বড় লক্ষ লক্ষ নক্ষত্র রয়েছে। বেটেলজিওস বা আদ্রা একটি নক্ষত্র যেটি আমাদের পৃথিবী থেকে একশো নব্বই আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এবং এর ব্যাস হচ্ছে একুশকোটি মাইল। কয়েক কোটি সূর্যকে এর ভেতর পুরে রাখা যায়। অমিক্রনসিটি আরো একটি নক্ষত্র যার ভিতর তিনকোটি সূর্যকে পুরে রাখা যায়। আন্টারিস নামে একটি অতিকায় জলন্ত লাল নক্ষত্র আছে যার দূরত্ব পৃথিবী থেকে একশ পচিশকোটি আলোকবর্ষ। আর এর ব্যাস উনচল্লিশ কোটি মাইল। এটি সূর্যের চেয়ে দশ কোটি গুণ বড় অর্থাৎ এর মধ্যে দশকোটি সূর্য ঢুকিয়ে রাখা যায়। [ইঞ্জিনিয়ার শফি হায়দার সিদ্দিকি, মডার্ণ সায়েনন্স টেকনোলজি এন্ড আলকুরআন, পৃ. ৩০।] গ্যালাক্সির মধ্যে মিল্কওয়ে গ্যালাক্সি খুব বিশাল। মহাবিশ্বে এমন গ্যালাক্সি আছে কয়েক কোটি। এ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এম-৩১ পৃথিবী থেকে ২.৯ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এতে রয়েছে দশহাজার কোটি নক্ষত্র। পৃথিবী থেকে পঞ্চাশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে সেন্ট্রাস-এ নামে একটি ছায়াপথ আছে। এর একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের দূরত্ব ত্রিশ লক্ষ আলোকবর্ষ অর্থাৎ এর আয়োতন আমাদের ছায়াপথের আয়োতনের তিনগুণ। ছায়াপথটির ভর সূর্যের ভরের চেয়ে ত্রিশহাজার কোটি গুণ বেশি। প্রায় দশহাজার কোটি নক্ষত্র বিশিষ্ট ছায়াপথও আছে। এতে সূর্যের চেয়েও দশকোটি গুণ বড় নক্ষত্র রয়েছে কয়েক কোটি। এ ছায়াপথটি পৃথিবী থেকে প্রায় আঠোরশ কোটি আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। সুর্যের চেয়ে সাতাশ শো কোটি গুণ বড় নক্ষত্র আছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এ রকম অসংখ্য-অগণিত বড় বড় নক্ষত্র পৃথিবী থেকে এতোদূরে অবস্থিত যে, আজ থেকে প্রায় ১৫০০ (পনেরশত) কোটি বছর আগে যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা হয়েছে তখন হতে আজ পর্যন্ত পূর্বোল্লিখিত গতিতে তাদের আলো পৃথিবীতে আসছে কিন্তু অধ্যবদি পর্যন্ত এসে পৌছে নি। এরপরও আরো মহাশূন্য জায়গা পড়ে আছে। [আল কুরআন দ্য চ্যালেঞ্জ (মহাকাশ পর্ব -১) কাজী জাহান মিয়া, ১৮১।]

এই মহাকাশ বা মহাবিশ্বে যে মহাশূন্য জায়গা পড়ে আছে সেই শূন্য জায়গাকে যদি প্রশান্ত সাগর মনে করা হয় তবে সেখানে রয়েছে দশহাজার কোটিরও বেশি মহাবিশ্ব যার প্রতিটি বিশ্বে রয়েছে দশহাজার কোটি নক্ষত্র, যার কোন কোন নক্ষত্র সুর্যের চেয়েও দুই হাজার সাতশো কোটি গুণ বড়। এ বিশ্বগুলো একত্র করে মহাশূন্যের অনন্ত খালি সাগরে ভাসিয়ে দিলে একটা টিকটিকির ডিমের খোসার মত ভাসতে থাকবে। আর বাকি সমস্ত খালি জায়গা খালিই পড়ে থাকবে। আবার দশহাজার কোটি নক্ষত্রভরা একটি ছায়াপথ থেকে থেকে নজর করলে অন্য একটি ছায়াপথকে এতোই ক্ষুদ্র মনে হয় যে, তার অস্তিত্ব কোন রকমে ধরা পড়ে। মিল্কিওয়ে গ্ল্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে দৃষ্টিপাত করলে সূর্যকে একটা সূচের মাথা পুড়িয়ে লাল করলে যেমন দেখা যায় তেমন একটা সুক্ষè বিন্দুর মত হয়। ছায়াপথের এক প্রান্ত থেকে তাকালে সূর্যের কোন অস্তিত্বই ধরা পড়ে না।

এ গুলো আপনাদের কল্পনার মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু এগুলো আমার কথা নয়। এগুলো বিজ্ঞানের কথা। এখন কি বুঝতে পেরেছেন এ মহাকাশ কত বিশাল আর এ মহাকাশ অতিক্রম করতে কত সময়ের প্রয়োজন। এ রকম হাজার কোটি গ্রহ নক্ষত্র ও মহাশূন্যেরও আরো অনেক উপরে প্রথম আকাশের অবস্থান। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

انا زينا السماء الدنيا بزينة الكواكب-

আমি দুনিয়ার আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি। [সূরা সাফফাত, আয়াত ৬।]

চলবে….

[বিস্তারিত আমার লিখিত মিরাজ ও বিজ্ঞান বই দেখুন]

ড. এ. এস. এম. ইউসুফ জিলানী

৮/০২/ ২০২৪ইং

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment