বিংশ অধ্যায়ঃ গোসল ও কাফন দেওয়া

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

(১) গোসল দেওয়া ফরয
=====
عن ام عطیۃ قالت  دخل علینا   رسول اللّٰہ ﷺ ونحن نغسل ابنتہ فقال اغسلتھا ثلاثا او خمسا اواکثر من ذلک ان رایتن ذلک بماء وسدر واجعلن فی الاٰخرہ کافورا او شیئا من کافور فاذا فرغتن فاذننی ۔ فلما فرغنا اذناہ فالقی الینا حقوہ فقال اشعربھا ایاہ ۔ وفی روایۃ ۔ اغسلنھا وترا ثلاث او خمسا  او سبعا ۔ وابدان بمیامنھا ومواضع الوضوء منھا ۔ وقالت فضفرنا شعرنا  شعرھا ثلٰثۃ قرون فالقینھا خلفھا ۔ متفق علیہ (مشکوۃ فی غسل المیت)

অর্থঃ হযরত উম্মে আতিয়া রাদিয়াল্লাহু আন্হা বর্ণনা করেন- আমরা  হুযুর করিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর শাহ্জাদী হযরত যয়নাব রাদিয়াল্লাহু আন্হার জানাযার গোসলের কাজ করছিলাম- এমন সময় তিনি আমাদের কাছে আসলেন এবং কিছু নিয়ম বলে দিলেন। তিনি বললেন-শরীরে তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা তার বেশী পানি ঢালবে- যদি ভাল বা প্রয়োজন মনে করো- গোসলের পানির মধ্যে  বরই পাতা দিবে। শেষবারের পানিতে কাপুর অথবা কাপুর জাতীয় কিছু মিশাবে। যখন তোমরা গোসল দেয়া শেষ করবে- তখন আমাকে খবর দিও। অতঃপর আমরা যখন হযরত যয়নব (রাঃ)-এর গোসলের কাজ সমাধা করলাম- তখন হুযুর (ﷺ) কে খবর দিলাম। হুযুর (ﷺ) তাঁর পবিত্র জামার ভিতরের গেঞ্জী বিশেষ আমাদের দিকে ছুড়ে দিলেন এবং  এরশাদ করলেন- যয়নাবের কাফনের নীচে আমার এই কাপড়খানা পরিয়ে দাও”।  (তাবাররুক স্বরূপ)

অন্য   এক বর্ণনা মতে-  হুযুর  করিম  (ﷺ) বলেছিলেন- ”তিনবার অথবা পাঁচবার অথবা সাতবার শরীরে পানি ঢালবে এবং বিবি যয়নাবের ডানদিক থেকে শুরু করবে। বিশেষ করে তাঁর শরীরের অযুর  জায়গাগুলোতে পানি ঢালবে। হযরত  উম্মে  আতিয়া (রাঃ)  বলেন- আমরা রাসুলেপাকের ইঙ্গিতে বিবি  যয়নাবের মাথার চুল তিনটি বেনী বানিয়ে পিছনের দিকে ছেড়ে দিলাম”। (বুখারী, মুসলিম ও মিশকাত গোসলুল মাইয়েত ১৪৩ পৃষ্ঠা)

মাসআলাঃ মৃতব্যক্তির গোসল দেওয়া সর্বসম্মত ভাবে ফরয। কেননা, মৃত্যুর সাথে সাথে শরীরের সমস্ত গ্রন্থি ঢিলা হয়ে যায় এবং পেশাব পায়খানা বা অন্য নাপাক বস্তু পেট থেকে বের হয়ে শরীর নাপাক হয়।  ইহাই গোসল ফরয হওয়ার কারণ। নবীগণের অবস্থা ভিন্ন। (মিশকাত হাশিয়া নং ৫)

মাসআলাঃ হযরত যয়নাব রাদিয়াল্লাহু আন্হাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জামার নীচের যে গেঞ্জি বা ফতুয়া বিশেষ  দিয়েছিলেন- তা ছিল কাফনের অতিরিক্ত। ইহা ছিল তাবাররুক বিশেষ। তাই  আপন পীর বা অন্য কোন বুযুর্গ ব্যক্তির কোন স্মৃতিচিহ্ন তাবাররুক হিসাবে  কাফনের নীচে দেয়া বৈধ। এই হাদীস তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। কাফনের নীচে না রেখে কবরের ভিতরে তাকের  মধ্যে পীরের জামা বিশেষ রাখাও জায়েয। (দেখুন- মিশকাত ৮নং হাশিয়া অত্র হাদীস)

বিঃ  দ্রঃ ওমর ইবনে দীনার হতে সহীহ রেওয়ায়াত এসেছে। তিনি বলেন-মৃতব্যক্তি তার পরিবার   পরিজনকে দেখেন- তারা কিভাবে তাকে গোসল দিচ্ছে এবং কিভাবে কাফন পরিধান করাচ্ছে।  সে তখন তাদের দিকে চেয়ে থাকে।

(২) উত্তম কাফনে মূর্দা ফখর করেঃ
======
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত-
قال قال رسول اللّٰہ ﷺ حسنوا اکفان موتاکم ۔ فانھم یتباھون یتزاورون فی قبورھم ۔
অর্থঃ  “রাসুলকরিম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি এরশাদ করেছেন- তোমাদের মৃত ব্যক্তিকে উত্তম কাফন দিও। কেননা, এতে তাঁরা কবরে পরস্পর গৌরব করে এবং একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে”।

(৩) মুসলিম শরীফে হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত- “নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন- যখন তোমাদের মধ্যে আপন মুসলমান  ভাইকে কাফন পরানো হয়- তখন যেন উত্তম কাফন দেয়া হয়- যদি সাধ্য থাকে”।

(৪) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত-
قال قال رسول اللّٰہ  ﷺ البسوا من ثیابکم البیاض فانھا من خیر ثیابکم واکفنوا فیھا موتاکم۔ ابوداؤد والترمذی۔
অর্থঃ রাসুলকরিম (ﷺ)  এরশাদ করেছেন- “তোমরা সাদা কাপড়  পরিধান করো- কেননা, সাদা রং উত্তম।  আর তোমাদের  মৃত ব্যক্তিকেও সাদা কাপড় দিয়ে কাফন পরিধান করাইও” (আবু দাউদ ও তিরমিযি)।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment