মুসলিম দেশ হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ। পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আমাদের মাতৃভূমি। এই দেশ যুগযুগ ধরে শাসন-শোষণ রক্তে মিশ্রিত মুসলিম ঐতিহ্য। বাংলা চিরকাল ধর্মকে প্রাধান্য দিয়েছে। এদেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম বিবাদ ভুলে নিজেদের ধর্মীয় উৎসবে কখনোই দানবিকতা দেখায়নি। বাংলার মাটিতে ইসলামের সুমহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন হজরত শাহজালাল (রহ:), শাহ পরান, শাহ আমানত, খান জাহান আলী, বায়েজিদ বোস্তামিসহ অসংখ্য সুফি সাধক। ত্যাগ, ভালোবাসা এবং রক্তের বিনিময়ে বাংলার মাটিতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথমে রাজ্য শাসন, ইংরেজ শাসন সর্বশেষ পাকিস্তান শাসনের পর বাংলা আজ মুক্ত। এই স্বাধীন দেশের ইতিহাসে শতকরা ৮৫ভাগ কৃতিত্বই যাবে মুসলমানদের উপর। অথচ নিয়তির পরিহাস আজ মুসলিম ঐতিহ্যকে নিয়েই এই দেশের মিডিয়ায় হচ্ছে ঠাট্টা তামাশা।
দেশের গণমাধ্যম শাখা দখল করে রেখেছে ধর্ম বিরোধী নাস্তিক সমাজ। পদে পদে চলছে ইসলামকে অপমান করার গভীর ষড়যন্ত্র। ইসলামী আইন-কানুনকে বলা হচ্ছে ব্যাকডেটেড। আপনি যদি বর্তমান দেশের পরিস্থিতি চিন্তা করেন তাহলেই দেখতে পাবেন কিভাবে ইসলাম বিরোধী নীতি অনুসরণ করে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে এদেশ। একটা সময় ছিল যখন বাংলা মুসলিম ঐতিহ্যে পূর্ন ছিল। তখন কী খুব একটা ধর্ষণ, খুন, লুন্ঠনের খবর শোনা যেত? কিন্তু আজ! আজ তা একেবারেই উলটো। পদে পদে ধর্ষিত হচ্ছে নারীরা। হত্যা করা হচ্ছে নিরীহ মানুষদের। লুন্ঠন করা হচ্ছে গরিবের সর্বস্ব। এটা কি ইসলাম বিরোধী নিদর্শন নয়? টিভির পর্দায় বসে এক শ্রেণীর মানুষ আমাদের তরুণ প্রজন্মের নিকট ইসলাম বিরোধী বিষ ঢুকাচ্ছেন। তাদের বোঝাতে চাচ্ছেন ধর্ম বলতে কিছুই নেই, সব কিছুই বিজ্ঞানের প্রয়াস। অথচ বিজ্ঞান কি ধর্মের আগে প্রবর্তিত হয়েছে?
প্রতিটি প্রহরে আলেম সমাজ ধর্মের পথে মানুষদের নিয়ে যেতে ছুটে চলেন অবিরাম। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে করেন ইসলামের প্রচার। তবে দিনশেষে এদের নামেই লাগে ব্যাকডেটেড, ধর্ম ব্যবসায়ী, প্রতারক এসব ট্যাগ। খোদা মালুম। আমরা নির্লজ্জ্বতার চরম সীমায় পৌঁছে যাচ্ছি। সেদিন বেশি দূরে নেই যখন বাংলাদেশ পশ্চিমা সংস্কৃতি অবলম্বন করে দেশকে নিয়ে যাবে জাহেলিয়াতের দিকে। শত শত বছরের সুফিসাধকদের ত্যাগ নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিবে তারা। আধুনিক শিক্ষার ছায়াতলে ধর্ম বিরোধী নাস্তিক, জঙ্গিবাদের দিকে এগিয়ে যাবে তারুণ্যের বড় একটি অংশ।
এইসব খোদা বিরোধী অপকর্ম থেকে বাঁচতে ইসলামী রীতিনীতি অনুসরণ এবং ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই। আজ আমাদের বাঙালি নিজেস্ব সংস্কৃতিও পালিত হচ্ছে পশ্চিমাদের অবলম্বন করে। এর চেয়ে লজ্জাজনক বিষয় কিছুই নেই। নাস্তিকরা আমাদের মুসলিম ঐতিহ্য কোরবানি-রোজাসহ অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে প্রশ্ন তুলছে। কেউ যদি পর্দা সম্পর্কে বক্তব্য দেন তাহলে তাকে বেহায়া-নির্লজ্জ্ব বলে ধিক্কার জানানো হচ্ছে। এর সায় দিচ্ছেন শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষরা। তাদের থেকে সঠিক ইসলামিক পথ লুকিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা চালালো হচ্ছে। যারা সেই পথে পা দিয়ে চলছেন মৃত্যুর পর তাদের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।
তাই আসুন, বর্জন করি আমাদের সমাজ থেকে নাস্তিকতার ভাইরাস। ধুলোয় মিশিয়ে দিই নাস্তিকদের প্রচার মাধ্যম। জোট গঠন করি মুসলিম হয়ে। বাংলাদেশ মুসলিম দেশ, সে ঐতিহ্য আমরা ফিরিয়ে আনি। মহান আল্লাহ আমাদের শক্তি দিন। আমিন।



Users Today : 350
Users Yesterday : 357
This Month : 32387
This Year : 171864
Total Users : 287727
Views Today : 27008
Total views : 3401259