পর্দার মাসআলা (সপ্তম পর্ব) মহিলাদের চাকরী করা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

পর্দার মাসআলা (সপ্তম পর্ব)
মহিলাদের চাকরী করা সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন:- মহিলারা কি চাকরী করতে পারবে?
উত্তর:- পাঁচটি শর্তাবলী সহকারে অনুমতি রয়েছে। যেমনিভাবে- আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “এখানে পাঁচটি শর্তাবলী রয়েছে; ১। কাপড় যেন পাতলা না হয়, যা দ্বারা মাথার চুল অথবা হাতের কব্জি ইত্যাদি এবং সতরের কোন অংশের রং প্রকাশ পায়।
২। কাপড় যেন আঁটোসাঁটো না হয়, যা দ্বারা শরীরের অবস্থাদি (অর্থাৎ বুকের উত্থান অথবা রানের গোলাকৃতি) ইত্যাদি প্রকাশ পায়।
৩। চুল অথবা গলা কিংবা পেট বা হাতের কব্জির বা পায়ের গোড়ালীর কোন অংশ যেন প্রকাশ না পায়।
৪। কখনও যেন কোন পর-পুরুষের সাথে সামান্য সময়ের জন্যও একাকীত্বে অবস্থান করতে না হয়।
৫। তার (মহিলার) সেখানে চাকরী করাতে বা বাহিরে আসা যাওয়াতে কোন ফিতনার আশংকাও যেন না হয়। যদি এই পাঁচটি শর্তাবলী পূরণ হয় তবে কোন সমস্যা নেই, আর যদি এর মধ্যে থেকে একটিও কম হয় তবে চাকরী করা হারাম।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ২৪৮ পৃষ্ঠা)
বর্তমান যুগ মুখর্তা ও কপটতার যুগ, বর্ণিত পাঁচটি শর্তাবলীর উপর আমল করাটা বর্তমানে খুবই কঠিন। আজকালঅফিসগুলোতে পুরুষ ও মহিলা ﻣَﻌَﺎﺫَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ (আল্লাহর পানাহ! ) একত্রে কাজ করে আর এমনিভাবেই উভয়ের জন্য বেপর্দা, অন্তরঙ্গতা আর কুদৃষ্টি দেয়া হতে বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব। এজন্য মহিলাদের উচিত, ঘর ও অফিস ইত্যাদিতে চাকরী না করে অন্য কোন ঘরোয়া উপার্জনের মাধ্যম অবলম্বণ করা।
ঘরে কাজের মেয়ে রাখতে পারবে কিনা?
প্রশ্ন:- ঘরে কাজের মেয়ে রাখতে পারবে কি?
উত্তর:- রাখতে তো পারবে কিন্তু পূর্বে যে পাঁচটি শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে সেগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত। যদি কাজের মেয়ে বেপর্দা হয় তবে ঘরের পুরুষদের কুদৃষ্টি এবং জাহান্নামে নিক্ষেপকারী কাজগুলোর থেকে বেঁচে থাকা খুবই কঠিন হয়ে যাবে। বরং ﻣَﻌَﺎﺫَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ (আল্লাহর পানাহ্! ) পরিবারের পর্দানশীন মহিলাদের চরিত্রকেও নষ্ট করে দিবে। পর-নারীর সাথে পুরুষের সামান্যতম অর্থাৎ ক্ষনিকের জন্যও একাকী অবস্থান করা হারাম, আর ঘরে অবস্থানকৃত পুরুষদের জন্য বর্তমানে এটা থেকে বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভব। এজন্য ঘরে কাজের মেয়ে না রাখাতেই নিরাপত্তা রয়েছে।
বিমানবালার চাকরী করা কেমন?
প্রশ্ন:- বিমানবালার চাকরী করা কি জায়িয?
উত্তর:- বর্তমান যুগে বিমানবালার চাকরী করা হারাম এবং জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ। কেননা, এতে বেপর্দা হওয়াই শর্ত হয়ে থাকে। তাছাড়া তাকে তার স্বামী অথবা মাহরাম ছাড়া পর-পুরুষের সাথে সফর করতে হয়।
পুরুষের জন্য বিমানবালার সেবা নেয়া কেমন?
প্রশ্ন:- উড়োজাহাজে সফরকারী পুরুষেরা কি বিমানবালার সেবা নিতে পারবে?
উত্তর:- প্রত্যেক লজ্জাশীল ও আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মুসলমান এই প্রশ্নের উত্তর তার বিবেক থেকে নিন। প্রকাশ্য যে, একজন বেপর্দা মহিলা যার প্রশিক্ষণের মধ্যে পর-পুরুষের সাথে নমনীয় ও কোমল পদ্ধতিতে কথাবার্তা বলা অন্তর্ভূক্ত, তার কাছ থেকে অতীব প্রয়োজন ব্যতীত পানি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চা, কফি, অথবা খাবার ইত্যাদি চেয়ে নেয়া বিপদের সম্মুখীন করতে পারে। তবে হ্যাঁ! যদি সে নিজে থেকেই এসে খাবার ইত্যাদি দিয়ে যায় তবে নেয়া যাবে। অথবা নিজে এসে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তবে দৃষ্টিকে একেবারে নত করে অথবা চোখ বন্ধ করে এক দুই শব্দে উত্তর দিয়ে পিছু ছাড়িয়ে নিন। কখনও তাদের সাথে প্রশ্নোত্তর করবেন না, তাকে দিয়ে কিছু আনাবেনও না, নয়তো সে যদি কিছু দিতে আসে তবে কথাবার্তা বলার অথবা দৃষ্টি পড়ার সমস্যা হতে পারে। এমতাবস্থায় যখন নফস বিভিন্ন ধরনের বাহানা দিয়ে বেপর্দা মহিলাকে দেখার ও কথাবার্তা বলায় উৎসাহিত করবে তখন এই বর্ণনাটি স্মরন করে নেয়াটা খুবই উপকারী। যেমনিভাবে- বর্ণিত আছে: “যে ব্যক্তি যৌন উত্তেজনা সহকারে কোন পর-নারীর সৌন্দর্য্য ও মাধুর্য্যতাকে দেখবে কিয়ামতের দিন তার চোখে গলিত সীসা ঢেলে দেয়া হবে।” (হিদায়া, ২য় খন্ড, ৩৬৮ পৃষ্ঠা)
মহিলাদের একাকী সফর করা কেমন?
প্রশ্ন:- ইসলামী বোনেরা মাহরাম ছাড়া ভ্রমন করা কি গুনাহ্?
উত্তর:- জ্বী হ্যাঁ! স্বামী অথবা মাহরাম ছাড়া মহিলাদের জন্য তিন দিনের দূরত্বে অবস্থিত কোন স্থানে যাওয়া হারাম আর এটাই গ্রহণযোগ্য বর্ণনা। শুধু তাই নয় যদি মহিলার নিকট হজ্বে গমন করার সামর্থ্য আছে কিন্তু স্বামী অথবা কোন নির্ভরশীল মাহরাম সাথে না থাকে তবে হজ্বের জন্যও যেতে পারবে না। যদি যায় তবে গুনাহ্গার হবে, যদিওবা হজ্বের ফরয আদায় হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে বর্তমান সময়ের ফুকাহাগণ একদিনের দূরত্বেও মহিলাকে স্বামী অথবা মাহরাম ব্যতিত যাওয়াকেও নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন। (সংগৃহিত রদ্দুল মুখতার, ৩য় খন্ড, ৫৩৩ পৃষ্ঠা, ইত্যাদি থেকে) মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত “বাহারে শরীয়াত” ১ম খন্ডের ৭৫২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে: “মহিলাদের জন্য মাহরাম ব্যতিত তিন দিন অথবা এর চেয়ে বেশি রাস্তা ভ্রমন করা নাজায়েয বরং একদিনের দুরত্বে ভ্রমন করাও নাজায়েয। নাবালক ছেলে অথবা ﻣَﻌْﺘُﻮْﻩ (একটু পাগল জাতীয় লোকের) সাথেও ভ্রমন করতে পারবে না, সম্মিলিতভাবে ভ্রমনেও স্বামী অথবা বালিগ মাহরাম থাকাটা আবশ্যক।” (আলমগিরী, ১ম খন্ড, ১৪২ পৃষ্ঠা। ফতোওয়ায়ে রযবীয়া সংকলিত, ১০তম খন্ড, ৬৫৭ পৃষ্ঠা) মাহরামের জন্য আবশ্যক যে, সে যেন মারাত্মক ফাসিক ও নির্ভিক এবং অবিশ্বাসযোগ্য না হয়।
প্রশ্ন:- তিন দিনের দুরত্ব দ্বারা কি উদ্দ্যেশ্য ?
উত্তর:- স্থল পথে সফরে তিন দিনের দূরত্ব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাড়ে সাতান্ন মাইলের দূরত্ব। (ফতোওয়ায়ে রযবীয় সংশোধিত, ৮ম খন্ড, ২৭০ পৃষ্ঠা) কিলোমিটারের হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৯২ কিলোমিটার।
প্রশ্ন:- উপরোক্ত উত্তরে আপনি যে “গ্রহণযোগ্য বর্ণনা” পরিভাষাটি ব্যবহার করছেন। দয়া করে তার ব্যাখা করে দিন।
উত্তর:- ফিক্হী হানাফীতে “গ্রহণযোগ্য বর্ণনা” সেই মাসয়ালাগুলোকে বলা হয়, যা হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান শায়বানী ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর ছয়টি কিতাব: ১। জামে সগীর, ২। জামে কবীর, ৩। সিয়ারে কবীর, ৪। সিয়ারে সগীর , ৫। যিয়াদাত, ৬। মাবসুত এর মধ্যে বর্ণিত রয়েছে।
প্রশ্ন:- “বাহারে শরীয়াতে”র অংশে যে ﻣَﻌْﺘُﻮْﻩ শব্দটি বর্ণনা করেছেন এর দ্বারা উদ্দ্যেশ্য কি, সে আবার কে?
উত্তর:- যে ব্যক্তি কম বুঝশক্তি সম্পন্ন হয়, কথার ঠিক থাকে না, কখনো জ্ঞানীদের মতো কথা বলে, কখনো মদ্যপায়ীদের মতো কথা বলে, যদিও সে পাগলের সীমায় পৌছে না, লোকদের অকারণে মারপিট, গালি গালাজও করে না, তাকে ﻣَﻌْﺘُﻮْﻩ বলা হয়। শরীয়াতে তার হুকুম বুদ্ধিমান ছেলের মতোই। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১৯তম খন্ড, ৬৩৬ পৃষ্ঠা)
উড়োজাহাজে মহিলাদের একাকী সফর করা কেমন?
প্রশ্ন:- যদি অন্য কোন শহরে বা দেশে মহিলার মাহরাম অথবা স্বামী থাকে, আর তারা তাকে সেখানে ডাকে তবে কি মহিলা বাস, কার, রেলগাড়ি, নৌকা অথবা উড়োজাহাজ ইত্যাদির মাধ্যমে একাকী সফর করতে পারবে?
উত্তর:- করতে পারবে না।
প্রশ্ন:- তবে কি তাকে স্বামীর অবাধ্য বলা হবে না?
উত্তর:- জ্বী, না। আমীরুল মু’মিনীন হযরত মওলায়ে কায়েনাত শেরে খোদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ থেকে বর্ণিত; রহমতে আলম, রাসুলে আকরাম, হুযুর পুরনূর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “ ﻟَﺎ ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻓِﻰ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﻄَّﺎﻋَﺔُ ﻓِﻰ ﺍﻟﻤَﻌْﺮُﻭْﻑِ ” অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানি করাতে কারো আনুগত্য করা জায়েয নেই, আনুগত্য তো শুধুমাত্র নেক কাজ সমূহে করা হয়।” (সহীহ্ মুসলিম, ১০২৩ পৃষ্ঠা, হাদীস: ১৮৩০) বর্ণিত হাদীসে পাকে ইরশাদকৃত শব্দ “ ﻣَﻌْﺮُﻭْﻑِ ” এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে প্রখ্যাত মুফাস্সীর, হাকীমুল উম্মত হযরত মুফতী আহমদ ইয়ার খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন:“ ﻣَﻌْﺮُﻭْﻑِ ” সেই কাজ যা করা থেকে শরীয়াত নিষেধ করে না আর গুনাহ্ “ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺖ” সেই কাজ যা করা থেকে শরীয়াত বাঁধা প্রদান করে। (মিরাআতুল মানাজিহ্, ৫ম খন্ড, ৩৪০ পৃষ্ঠা)
চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মহিলাদের গলিতে পায়চারি করা কেমন?
প্রশ্ন:- ডাক্তার প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ হাঁটার জন্য বলেছেন আর তা ঘরে সম্ভব নয়। তবে কি করবে?
উত্তর:- পর্দার সমস্ত বিধানাবলী পূর্ণ করে ঘরের বাইরে হাঁটাতে কোন সমস্যা নেই। যদি অন্য কোন শরয়ী নিষেধাজ্ঞা না থাকে।
আমরা এখন শুধুই মাদানী চ্যানেল দেখি
ইসলামী বোনেরা! সুন্নাতে ভরা সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকুন। ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ বরকত আর সফলতাই পাবেন। সমাজের অসংখ্য বিপথগামী পরিবার দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফেলার বরকতে ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ সঠিক পথের দিশা পেয়েছে। শাহদাদপুর (বাবুল ইসলাম সিন্ধু প্রদেশ) এর এক ইসলামী বোনের (বয়স প্রায় ৪৫ বছর) বর্ণনার সারংশ হলো: আমাদের ঘরে নামাযের কোন ব্যবস্থা ছিলো না, ক্যাবলের মাধ্যমে টিভিতে সিনেমা আর নাটক দেখায় ব্যস্ত থাকতাম, ইলমে দ্বীন থেকে বঞ্চিত ও সৎসঙ্গ থেকে দূরে থাকার কারণে পুরো পরিবার বিপথগামী হয়ে গিয়েছিল। আমাদের সৌভাগ্য যে, এপ্রিল ২০০৯ সালে এ আমাদের এলাকায় ইসলামী বোনদের একটি মাদানী কাফেলা আগমন করে। ‘নেকীর দাওয়াতের মাদানী দাওরা’ করাবস্থায় মাদানী কাফেলার ইসলামী বোনেরা আমাদের ঘরেও আগমন করলেন, তাদের দাওয়াতে আমি মাদানী কাফেলার অবস্থান স্থলে অনুষ্ঠিত বয়ানে অংশগ্রহণ করি সেই বয়ানটি আমার মনের অবস্থা বদলে দিলো। আমি চিন্তার সাগরে ডুবে গেলাম, আফসোস! আমি পুরো জীবনটাই গুনাহে কাটিয়ে দিয়েছি। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ ইসলামী বোনদের মাদানী কাফেলার বরকতে আমার তাওবা করার সৌভাগ্য অর্জিত হলো। শুধু আমি নয় বরং আমার সকল মেয়েরাও পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা শুরু করে দিয়েছে আর এখন আমাদের পরিবারে অন্য কোন চ্যানেল নয় বরং শুধু মাদানী চ্যানেলই দেখা হয়।
দিল কি কালক দুলে সুখ ছে জীনা মিলে,
আও আও চলে কাফেলে মে চলো।
ছুটেঁ বদ আদতে সব নামাযী বনে,
পাওগে রহমতে কাফেলে মে চলো।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
নামায অশ্লীলতা থেকে বাঁচায়
ইসলামী বোনেরা! আপনারা দেখলেন তো! মাদানী কাফেলার বরকত, আল্লাহ্ তাআলার ইবাদত থেকে দূরে থাকা পরিবারে ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ নামাযের বসন্ত এসে গেলো! প্রত্যেক মুসলমানের নামায আদায় করা উচিত। ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ নামাযের বরকতে অশ্লীলতা দূর হয়ে যাবে, যেমন আল্লাহ্ তাআলা ২১তম পারার সূরা আনকাবুতের ৪৫ নং আয়াতে ইরশাদ করেন:
ﺍِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻠٰﻮﺓَ ﺗَﻨْﻬٰﻰ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻔَﺤْﺸَﺂﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤُﻨْﻜَﺮِ ﻁ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: নিশ্চয় নামায অশ্লীল ও ঘৃনিত কাজ থেকে বিরত রাখে; (পারা: ২১, আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)
নবীর অনুসরনে গাছের শুকনো ডালকে নাড়ালেন
নামাযের ফযীলতের কথা কি বলব! দা’ওয়াতে ইসলামীর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ৭৪৩ পৃষ্ঠা সম্বলিত কিতাব “জান্নাত মে লে জানে ওয়ালে আমাল” এর ৭৬ নং পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে; “হযরত সায়্যিদুনা আবু ওসমান ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ বলেন: আমি হযরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসি ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ এর সাথে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম হঠাৎ) তিনি ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ ) সেই গাছের একটি শুকনো ডালকে ধরে নাড়তে লাগলেন এমনকি সেটার পাতাগুলো ঝরে পড়তে লাগলো অতঃপর বললেন: ‘হে আবু ওসমান! তুমি কি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেনা যে, আমি এরূপ কেন করলাম?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম: ‘আপনি এরূপ কেন করলেন?’ তদুত্তরে তিনি বললেন: একবার আমি রহমতে আলম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর সাথে একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ঠিক এইভাবে সেই গাছের একটি শুকনো ডালকে ধরে নাড়াতে লাগলেন এমনকি সেই গাছের পাতাগুলো ঝরে পড়লো, অতঃপর ইরশাদ করলেন: “হে সালমান! তুমি কি আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না যে, আমি এরূপ কেন করলাম?” আমি আরয করলাম: আপনি এরূপ কেন করেছেন? ইরশাদ করলেন: “নিঃসন্দেহে যখন মুসলমান ভাল ভাবে অযু করে আর পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, তখন তার গুনাহ্ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে এই পাতাগুলো ঝরে যায়।” অতঃপর হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এই আয়াতটি পাঠ করলেন:
ﻭَﺃَﻗِﻢِ ﺍﻟﺼَّﻠٰﻮﺓَ ﻃَﺮَﻓَﻲِ ﺍﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻭَﺯُﻟَﻔًﺎ ﻣِّﻦَ ﺍﻟﻠَّﻴْﻞِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨٰﺖِ ﻳُﺬْﻫِﺒْﻦَ ﺍﻟﺴَّﻴِّﺎٰﺕِ ۚ ﺫَٰﻟِﻚَ ﺫِﻛْﺮٰﻯ ﻟِﻠﺬّٰﻛِﺮِﻳﻦَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: নামায প্রতিষ্ঠিত রাখো দ্বীনের দু’প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে এবং সৎ কর্মসমূহ অসৎ কর্মসমূহকে মিটিয়ে দেয়। এই উপদেশ হলো; উপদেশ আদেশ মান্যকারীদের জন্য। (পারা: ১২, সূরা: হুদ, আয়াত: ১১৪) (মুসনাদে আহমদ, ৯ম খন্ড, ১৭৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৩৭৬৮)
মহিলারা কি ডাক্তারের কাছে যেতে পারবে?
প্রশ্ন:- মহিলারা কি পুরুষ ডাক্তারকে শিরা দেখাতে পারবে?
উত্তর:- যদি মহিলা ডাক্তার থেকে চিকিৎসা করা সম্ভব না হয়। তখন পুরুষ ডাক্তারকে দেখানোর অনুমতি রয়েছে। প্রয়োজনবশতঃ সেই পুরুষ ডাক্তার রোগীনিকে দেখতেও পারবে আর রোগের স্থান স্পর্শও করতে পারবে। কিন্তু পুরুষ ডাক্তারের সামনে মহিলা শুধুমাত্র শরীরের প্রয়োজনীয় অংশটুকু খুলবে। ডাক্তারও যদি অপ্রয়োজনীয় অংশে ইচ্ছাকৃত ভাবে দৃষ্টি দেয় বা স্পর্শ করে তবে সে গুনাহগার হবে। ইনজেকশন ইত্যাদি মহিলাদের মাধ্যমেই লাগাবেন। কেননা, সাধারণত এতে পুরুষের প্রয়োজন হয় না।
মহিলারা পুরুষ দ্বারা ইনজেকশন লাগানো
প্রশ্ন:- যদি সেবিকা না থাকে আর ইনজেকশন নেয়াও জরুরী হয় তাহলে মহিলা কী করবে?
উত্তর:- সঠিক অপারগ অবস্থায় পর-পুরুষ দ্বারা লাগিয়ে নিবে।
পুরুষেরা নার্স দ্বারা ইনজেকশন লাগানো
প্রশ্ন:- পুরুষ কি নার্স দ্বারা ইনজেকশন লাগাতে পারবে?
উত্তর:- না ইনজেকশন লাগাতে পারবে এবং না বেন্ডিস করাতে পারবে আর না ব্লাডপ্রেশার মাপাতে পারবে, না পরীক্ষা করানোর জন্য রক্ত বের করাতে পারবে, মোটকথা শরীয়াতের বিনা অনুমতিতে পুরুষ ও মহিলারা পরস্পরের শরীর স্পর্শ করা হারাম ও জাহান্নামে নিক্ষেপকারী কাজ।
মাথায় লোহার পেরেক
প্রিয় নবী, রাসূলে আরবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেন: “তোমাদের মধ্যে কারো মাথায় লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেয়া তা থেকে উত্তম যে, সে এমন মহিলাকে স্পর্শ করবে, যা তার জন্য হালাল নয়।” (আল মু’জামুল কবীর, ২০তম খন্ড, ২১১ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪৮৬)
নার্সের চাকরী করা কেমন?
প্রশ্ন:- তাহলে কী মহিলারা নার্সের চাকরীও করতে পারবে না?
উত্তর:- এই কিতাবের ১৩২নং পৃষ্ঠায় মহিলাদের চাকরী করার যে পাঁচটি শর্তাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, যদি সেগুলো সঠিকভাবে আদায় হয় তবে নার্সের চাকরী করা জায়েয। কিন্তু বর্তমান যুগে নার্সের জন্য এই শর্তাবলী পালন করা খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। শরীয়াতের বিধানাবলী পালন করা ব্যতিত নার্সের চাকরী করা গুনাহ আর নিজের জন্য অসংখ্য ফিতনার দরজা খোলে যায়।
আহতদের খিদমত ও মহিলা সাহাবীগণ
প্রশ্ন:- জিহাদের মধ্যে কি মহিলা সাহাবীয়াদের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ আহতদের সেবা করার প্রমান নেই? যদি প্রমাণ থাকে তবে নার্সদেরকে রোগীর সেবা করার অনুমতি কেন দেয়া হচ্ছে না?
উত্তর:- মহিলা সাহাবীয়াদের ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻦَّ (সেবা করার) উদ্দেশ্য জান্নাত অর্জন করা আর নার্সদের উদ্দেশ্য সম্পদ অর্জন করা। সেখানে অনেক কড়া পর্দার ব্যবস্থা ছিলো, আর এখানে সাধারণত বেপর্দা হওয়াটাই শর্ত হয়ে থাকে। তাছাড়াও জিহাদ আর হাসপাতালের মধ্যে জমিন ও আসমানের পার্থক্য। যদি আজও জিহাদ করা ফরয আইন হয়ে যায় আর বালিগ পুরুষদের পিতামাতা ও স্ত্রী তার স্বামীকে জিহাদে যেতে বাঁধা প্রদান করে তারপরও জিহাদে যাওয়া তাদের জন্য আবশ্যক হয়ে যাবে। কিন্তু হাসপাতালের পরিস্থিতি এরূপ নয়। তারপরও যদি শরীয়াতের সম্পূর্ণ বিধানাবলী আদায় হয় তবে নার্স হওয়ার অনুমতির অবস্থাদি বর্ণনা করা হলো।
নার্সের চাকরী করার একটি জায়েয পন্থা
প্রশ্ন:- নার্সের চাকরী করার কোন জায়েয দিকও রয়েছে কি?
উত্তর:- মনে করুন যদি এমন হাসপাতাল হয় যেখানে কোন পর্দাহীনতা না হয়ে থাকে। পর পুরুষকে স্পর্শ করা, ইনজেকশন দেয়া, বেন্ডিস ইত্যাদি বাঁধারও প্রয়োজন না হয়, তাছাড়া যদি অন্য কোন শরীয়াতের নিষেধাজ্ঞা না থাকে, তবে সেখানে নার্সের চাকরী করা জায়েয।
আব্বুর বিদেশে চাকরী হয়ে গেলো
ইসলামী বোনেরা! দা’ওয়াতে ইসলামীর বরকতে চারদিকে সুন্নাতের সাড়া জেগেছে, আসুন দা’ওয়াতে ইসলামীর একটি ঈমান তাজাকারী বাহার শুনে নিজের মন ও প্রাণকে পুষ্প বাগানে পরিণত করুন। বাবুল মদীনা করাচীর একজন ইসলামী বোনের বর্ণনার সারাংশ হচ্ছে; কিছুদিন পূর্বে আমরা আমাদের আব্বুর রোজগারহীনতার কারণে খুবই কষ্টে পড়ে গিয়ে ছিলাম, পরিবারের এতোগুলো খরচ বহন করার জন্য আব্বু অনেক দিন যাবত দেশের বাইরে চাকরির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনরূপ কাজ হচ্ছিল না। একদিন কোন ইসলামী বোন আম্মাকে বললো: ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ দা’ওয়াতে ইসলামী সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণকরীনীদের দোয়া কবুল হওয়ার অনেক ঘটনা রয়েছে, তাই আপনিও ইজতিমায় অংশগ্রহণ করে নিজের সমস্যার জন্য দোয়া করুন। এটা শুনে আম্মা ইজতিমায় অংশ্রগ্রহণ করলেন আর সেখানে আব্বুর চাকরীর জন্য দোয়া করলেন। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার বরকতে অল্প কিছু দিনের মধ্যে বাইরের দেশে আব্বার চাকরির ব্যবস্থা হয়ে গেলো, তা দেখে আমাদের পরিবারের সবার অন্তরে দা’ওয়াতে ইসলামীর ভালবাসা গেথেঁ গেলো। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ এই দা’ওয়াতে ইসলামীর সদকা যে, আমাদের পুরো পরিবারে মাদানী পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে গেলো, আর আমি একজন নগন্য মুবাল্লিগা হয়ে মাদানী কাজ করার কাজে রত আছি।
গায়বী আমদাদ হো ঘর ভি আবাদ হো, লুতফে হক দেখলে ইজতিমাআত মে।
চল কে খোদ দেখলে, রিযক কে দর খুলে, বরকতে ভি মিলে ইজতিমাআত মে।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
ইসলামী বোনেরা! সুন্নাতে ভরা ইজতিমা সমূহে উভয় জাহানের বরকতের বারিধারা বর্ষণের কথা কি বলব! মাদানী আক্বা, প্রিয় মুস্তফা ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর আশিকাদের নৈকট্যে করা দোয়া কেন কবুল হবে না। সৎ সঙ্গ তো সৎ সঙ্গই। সৎ লোকদের নৈকট্য মারহাবা! শত কোটি মারহাবা! এই ব্যাপারে উত্তম প্রতিবেশী সম্পর্কে একটি ঈমান তাজাকারী বর্ণনা পড়ুন– আর ঈমানকে সতেজ করুন: রাসূলে আকরাম, নূরে মুজাস্সাম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ ইরশাদ করেছেন: “আল্লাহ্ তাআলা নেককার মুসলমানের কারণে তার প্রতিবেশীর মধ্যে ১০০টি ঘর থেকে বিপদাপদ দূর করে দেন” (আল মু’জামুল আওসাত লিত তাবরানী, ৩য় খন্ড, ১২৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৪০৮০)
সহ-শিক্ষার শরয়ী হুকুম
প্রশ্ন:- সহ-শিক্ষা (CO-EDUCATION) ব্যাপারে হুকুম কি?
উত্তর:- প্রাপ্ত বয়স্ক নারী পুরুষের একত্রে পড়াশুনার যে প্রচলিত রীতি রয়েছে, তা একেবারে নাজায়েয ও হারাম এবং জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ।
মহিলা ও কলেজ
প্রশ্ন:- বর্তমান যুগে মহিলাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষা গ্রহণ করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়?
উত্তর:- মহিলারা যখন থেকেই স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে (UNIVERSITY) যাওয়া শুরু করে তখন থেকেই ফিতনার দরজা খুলে যায়। ﺍَﻟْﺎَﻣَﻦُ ﻭَﺍﻟْﺤَﻔِﻆ (আল্লাহর পানাহ!) প্রথমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারীত পোশাক বেপর্দা সম্পন্ন আর যদি কোথাও বোরকা ইত্যাদি থাকেও তবে সেটা দৃষ্টিনন্দন হওয়ার কারণে অনুপযুক্ত। অতঃপর যুবতী মেয়েদের স্বাধীনভাবে ঘরের বাইরে চলাফেরা করা হাজারো ফিতনা সৃষ্টি করে থাকে। কলেজের সেই ছাত্রীগণ যারা কলেজের মধ্যে ছেলেদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ হয়ে যায়, তাদের মধ্যে মনে হয়না যে কারো সম্ভ্রম নিরাপদ থাকে! তাদের প্রেম পিড়িতের কাহিনী প্রতিদিনই পত্রিকা সমূহে ছাপানো হচ্ছে। নিজের পছন্দের বিয়ে করার মধ্যে যদি পিতা মাতা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তবে রাগের বশবর্তী হয়ে অনেক ছেলে মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মেয়েরা যদি লেখাপড়া করে অফিসে চাকরী করে তাহলে এতে গুনাহের ধারাবাহিকতা আরো প্রচন্ড বেগে বেড়ে যায়। অফিসগুলোতে পর্দাহীনতা ও পর-পুরুষের সাথে অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বাঁচা প্রায় অসম্ভব। প্রত্যেক আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন মুসলমান এর দুনিয়াবী ও আখিরাতের ক্ষতিসমূহ বুঝতে পারে। আকবর ইলাহাবাদী কি সুন্দর না বলেছেন:
তালিমে দুখতারাঁ সে ইয়ে উম্মিদ হে জরুর
নাচে দুলহান খুশি সে খুদ আপনি বারাত মে
পর্দানশীন মেয়েদের বিয়ে হয় না
প্রশ্ন:- পরিবারের লোকেরা এজন্যই পর্দা করা থেকে বাঁধা প্রদান করে যে, কলেজের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, ফ্যাশন থেকে দুরে, সাদাসিদে ও শরয়ী পর্দানশীন মেয়েদের বিয়ে হয় না। একথাটা কি সঠিক?
উত্তরঃ এই ধারণাটি একবারে ভুল! লৌহে মাহফুযে যেখানেই জোড়া লিখা রয়েছে, যেকোন অবস্থায় সেখানেই বিয়ে হবে। আর যদি লিখা না থাকে, তবে হাজারো পড়ালেখা করলেও অথবা ফ্যাশন্যাবল হলেও দুনিয়ার কোন ক্ষমতাই বিয়ে করাতে পারবে না। আর যদি ভাগ্যে দেরীতে বিয়ে লিখা থাকে তবে দেরীতেই বিয়ে হবে। প্রতিদিন না জানি কত শিক্ষিতা নারী ও ফ্যাশন পূঁজারি যুবতী দুর্ঘটনায় অথবা অসুস্থতার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘাট অতিক্রম করছে আর কতোযে যুবতী মেয়ে সমুদ্রে সাঁতার কাটার শখে ডুবে মরছে। অথবা বেপর্দা ও ফ্যাশন পূঁজারির কারণে “অবৈধ প্রেমের” ফাঁদে নিজেকে ফাঁসিয়ে দেয় আর নিজের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে না হওয়াতে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়! কখনও এই ভ্রান্ত ধারণা রাখা উচিত নয় যে, বেপর্দা ও ফ্যাশন পূঁজা ইত্যাদি গুনাহের পন্থা অবলম্বন করলেই কাজ হবে। আমার কথাটি এই শিক্ষা মুলক ঘটনা দ্বারা বুঝার চেষ্টা করুন।
আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমাম আহলে সুন্নাত মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ উদ্ধৃত করেন:
বিচারপতির চাকরী
হযরত সায়্যিদুনা ইমাম সুফিয়ান ছওরী ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এক ব্যক্তিকে বিচারপতির চাকরী করতে বারণ করলেন। কেননা, রাজ কর্মচারী হওয়াতে অত্যাচার ও গুনাহ হতে বেঁচে থাকা কঠিন। এটা শুনে সেই ব্যক্তি বললো: তাহলে স্ত্রী পুত্রদের কি করবো! তিনি সবইকে উদ্দেশ্য করে বললেন: একটু শুনো! এই ব্যক্তি বলছে যে, আমি আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানী করলে তখন তো তিনি আমার স্ত্রী পুত্রকে রিযিক প্রদান করবেন। আর যদি আমি তার আনুগত্য করি তবে তিনি আমাকে রোজগারহীনতায় রাখবেন। (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৩ খন্ড, ৫২৮ পৃষ্ঠা)
পরীক্ষায় ভয় পাবেন না
চাই যত বড় পরীক্ষাই সামনে আসুক না কেন ইসলামী বোনদের উচিত, তারা যেন শরয়ী পর্দা ত্যাগ না করে। আল্লাহ্ তাআলা শাহাজাদিয়ে কাওনাইন, বিবি ফাতেমা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ ও উম্মুল মু’মিনীন বিবি আয়েশা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ এর সদকায় সহজতা দান করবেন। ৩০ পারার সূরা আলাম নাশরাহর মধ্যে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন:
ﻓَﺈِﻥَّ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﻌُﺴْﺮِ ﻳُﺴْﺮًﺍ ‏( 5 ‏) ﺇِﻥَّ ﻣَﻊَ ﺍﻟْﻌُﺴْﺮِ ﻳُﺴْﺮًﺍ ‏( 6 ‏)
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: সুতরাং নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে, নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। (পারা: ৩০, সূরা: আলাম নাশরাহ্, আয়াত: ৫,৬)
উপন্যাস পড়া কেমন?
প্রশ্ন:- আজকাল মহিলারা গল্পগুচ্ছ ও উপন্যাস ইত্যাদি পড়ে থাকে এ ব্যাপারে কিছু বলুন।
উত্তর:- পত্রিকায় বিষয়াদি, গল্পগুচ্ছ ও উপন্যাস সমূহে অনেক কুফরী বাক্য দেখা যায়। এতে বদমাযহাবীদের বিষয়াদিও থাকে যা পড়ার দ্বারা দ্বীন ও ঈমান ধ্বংসের আশংকা থাকে। শরীয়াতের দৃষ্টিতে বদমাযহাবীদের ধর্মীয় কিতাব এবং তাদের লিখিত প্রসিদ্ধইসলামী বিষয়াদী পড়া, পুরুষ ও মহিলা উভয়ের জন্য হারাম। তবে হ্যাঁ! সুন্নী আলিম প্রয়োজনবশতঃ তা দেখতে পারবে। যাই হোক মহিলাদের বিষয়াদি খুবই স্পর্শকাতর। আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মুজাদ্দীদে দ্বীন ও মিল্লাত, মাওলানা শাহ্ ইমাম আহমদ রযা খাঁন ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত যে, মেয়েদেরকে সূরা ইউসুফের অনুবাদ ও তাফসীর পড়াবে না। কেননা, এতে মহিলাদের ধোকা দেওয়ার ব্যাপারে বর্ণনা রয়েছে।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২৪তম খন্ড, ৪৫৫ পৃষ্ঠা।) চিন্তার বিষয় যে, মেয়েদের কে কোরআনে মজীদের একটি সূরা সূরা ইউসুফের অনুবাদ ও তাফসীর পড়তে এজন্য নিষেধ করা হয়েছে যে, তারা যেন এর বিপরীত অর্থ গ্রহণ না করে। এখন আপনিই অনুমান করুন, তাদেরকে বিচিত্র ছবি ও নির্লজ্জ সিনেমা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি হাজারো ধ্বংসাত্বকতায় ভরপুর পত্রিকা, বাজারের মাসিক ম্যাগাজিন, উপন্যাস, গল্পগুচ্ছ পড়ার অনুমতি কিভাবে দেয়া যায়! স্মরণ রাখবেন! এই বিষয়াদি পাঠ করা পুরুষদের আখিরাতের জন্যও কম ধ্বংসাত্বক নয়।
প্রশ্ন:- ছোট মেয়েদের কোন সূরা শিক্ষা দেব?
উত্তর:- ছোট মেয়েদেরকে সূরা নুরের শিক্ষা দেবেন আর এই সুরার অনুবাদ ও তাফসীর পড়াবেন। যেমনিভাবে- রহমতে আলম, নূরে মুজাস্সাম, হুযুর ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর নূর বর্ষণকারী বাণী হচ্ছে: “নিজের মহিলাদেরকে সুতাকাটা (পুরোনো যুগে কাপড় ঘরে বোনা হত সেটাকে সুতা কাটা বলে। এই হাদীসের উদ্দেশ্য এই যে, তাদেরকে সেলাই কাজ) শিক্ষা দাও এবং তাদেরকে সূরা নুরের শিক্ষা দাও।” (আল মুস্তাদরাক, ৩য় খন্ড, ১৫৮ পৃষ্ঠা, হাদীস: ৩৫৪৬) বর্ণিত আছে: “হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ্ বিন আব্বাস ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤْﺎ সূরা নূরকে হজ্বের মৌসুমে মিম্বরের উপর তিলাওয়াত করেন এবং সেটার এমন মনোরম পদ্ধতিতে ব্যাখা করলেন যে, যদি রুমি (রোমের বাদশাহ) সেটা শুনতো, তবে সে মুসলমান হয়ে যেত।” (তাফসীরে মাদারিক, ৭৯৩ পৃষ্ঠা) সূরা নূর আঠারো পারায় রয়েছে, এতে ৯টি রুকু এবং ৬৪ আয়াত রয়েছে। মেয়েদেরকে এই সূরা অবশ্যই শিক্ষা দিবেন বরং সব ইললামী ভাই ও ইসলামী বোনদের এইসুরাটির অনুবাদ ও তাফসীর পড়া উচিত।
প্রশ্ন:- সূরা নূরের তাফসীর কোনটি পড়বে?
উত্তর:- খাযায়িনুল ইরফান অথবা নূরুল ইরফান থেকে পড়–ন, আরো বিস্তারিত তাফসীর যদি পড়তে চান তবে খলিলুল ওলামা, হযরত খলিলে মিল্লাত, মুফতী মুহাম্মদ খলিল খাঁন কাদেরী বারাকাতী মারাহরাবী ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর সূরা নূরের তাফসীর “চাদর আউর চার দিওয়ারী” অধ্যয়ন করুন। এই তাফসীরের বিশেষত্ব হলো, এতে কানযুল ঈমান শরীফ থেকে অনুবাদ নেয়া হয়েছে।
আমি ফ্যাশন পূঁজারী ছিলাম
ইসলামী বোনেরা! সুন্নাতে ভরা সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সর্বদা সম্পৃক্ত থাকুন। এক মুবাল্লিগাতে দা’ওয়াতে ইসলামী, দা’ওয়াতে ইসলামীতে নিজের সম্পৃক্ততার যে কারণগুলো বর্ণনা করেছেন তা শুনার মতো। এক ইসলামী বোনের লিখিত বর্ণনার সারাংশ কিছুটা এরকম, আমি নিত্য নতুন ফ্যাশনের কাপড় পরিধান করতাম আর বেপর্দা হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যেতাম। একবার কয়েকজন ইসলামী বোন আমাদের ঘরে আসল এবং দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকত সমূহ বর্ণনা করে আমাদের ঘরে সুন্নাতে ভরা ইজতিমা করার অনুমতি চাইল। আমরা স্বানন্দে অনুমতি দিয়ে দিলাম। অবশেষে ইজতিমার দিনও এসে গেলো। আমি নিজেও সেই ইজতিমায় অংশগ্রহণ করলাম। ইসলামী বোনদের সরলতা, সুন্দর চরিত্র এবং মাদানী কাজের ধরন আমার খুব ভাল লাগল। বিশেষ করে ভাবাবেগপূর্ণ দোয়ায় আমি অনেক প্রভাবিত হলাম। এমন দোয়া আমি জীবনে প্রথম বার শুনেছি। এমনিভাবে উক্ত ইজতিমার বরকতে আমার গুনাহ থেকে তাওবা করা নসীব হলো। আর আমি মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলাম। ফ্যাশন ত্যাগ করে আমি সাদাসিদে জীবন যাপন করাকে আপন করে নিলাম আর এখন যেলী পর্যায়ের যিম্মাদার হিসাবে দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাজ করে নিজের আখিরাত সুন্দর করার চেষ্টায় রত আছি। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক জারিকৃত বয়ানের ক্যাসেট প্রতিদিন শুনার সৌভাগ্য অর্জন করছি। আমি আল্লাহ্ তাআলার দরবারে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি যে, তিনি আমাকে এতো প্রিয় মাদানী পরিবেশ দান করেছেন, আহ! যদি প্রত্যেক ইসলামী বোন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যেতো।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
মুচকি হেসে কথা বলা সুন্নাত
ইসলামী বোনেরা! এ কথাটি প্রসিদ্ধ যে, “তৃষ্ণার্ত ব্যক্তিকেই কূপের নিকট যেতে হয়” কিন্তু মাদানী বাহারটিতে এই বৈশিষ্ট্য রয়েছে যে, কূপ নিজে এগিয়ে এসে তৃষ্ণার্তের ঘরে পৌঁছলো অর্থাৎ ইসলামী বোনেরা নিজে এসে এই মর্ডান ইসলামী বোনের ঘরে সুন্নাতে ভরা ইজতিমা করলো। যা তার ভাগ্য পরিবর্তন ও মাদানী রঙ্গে রঙ্গিন হওয়ার কারণ হলো! নিঃসন্দেহে ঘরে গিয়ে গিয়ে সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে মুচকি হেসে মাদানী ফুল পেশ করা, অনেক বিপথগামীকে সংশোধন করে দেয়। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ মুচকি হেসে কথা বলা সুন্নাত। যদি কেউ এমনিতেই অভ্যাসের কারণে মুচকি হেসে কথা বলে, তবে সে সুন্নাত পালনের সাওয়াব পাবে না। কথা বলার সময় অন্তরে এই নিয়্যত থাকতে হবে যে, আমি সুন্নাত পালনের নিয়্যতে মুচকি হেসে কথা বলছি। আহ! আমাদের যদি সুন্নাত পালনের নিয়্যতে মুচকি হেসে কথা বলার অভ্যাস নসীব হয়ে যেতো। এই ব্যাপারে একটি মাদানী ফুল লক্ষ্য করুন: “হযরত সায়্যিদাতুনা উম্মে দারদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ হযরত সায়্যিদুনা আবু দারদা ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻪُ সম্পর্কে বলেন যে, তিনি প্রতিটি কথা মুচকি হেসে বলতেন। যখন আমি তাকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম, তদুত্তরে তিনি বললেন: আমি নবী করীম ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ কে দেখেছি, তিনি কথা বলার সময় মুচকি হাসতেন।” (মাকারিমুল আখলাক লিত তাবারানী, নং- ২১)
আজকাল কি পর্দা করা জরুরী নয়?
প্রশ্ন:- “আজকাল পর্দা করা জরুরী নয়” এরূপ বলা কেমন?
উত্তর:- এরূপ বলা খুবই বোকামী ও মূর্খতা এবং অত্যন্ত কঠিন বাক্য। এ ধরনের বাক্য দ্বারা সামগ্রিকভাবে পর্দার ফরয হওয়াকে অস্বীকার করা প্রকাশ পায়, আর প্রকাশ্যভাবে পর্দার ফরয হওয়ারই অস্বীকার করা কুফরী। অবশ্য যদি কেউ পর্দার ফরয হওয়াকে মান্য করে, কিন্তু কোন নির্দিষ্ট নিয়মকে অস্বীকার করে, যার সম্পর্ক “দ্বীনের আবশ্যকীয় বিষয়” এর মধ্যে নেই তবে কুফরীর হুকুম লাগবে না।
আপনি তো ঘরের মানুষ!
প্রশ্ন:- “পীরের সাথে আবার কিসের পর্দা! ” এরূপ বলা কেমন! “পীর সাহেবের সাথেও কি আবার পর্দা হয় নাকি! ” অথবা পর-পুরুষ, আত্মীয়, প্রতিবেশী অথবা ঘরে আসা যাওয়াকারী বিশেষ লোকদের সম্পর্কে এভাবে বলা যে, “আপনি তো ঘরের মানুষ, আপনার সাথে আবার কিসের পর্দা করবো।”
উত্তর:- এটাও বোকামী ও মুখর্তা। এরূপ শব্দ উচ্চারনকারীরা তাওবা করুন। না-মাহরাম পীর সাহেবের সাথে এবং প্রত্যেক পর-পুরুষ আত্মীয়ের সাথে, বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীর সাথেও পর্দার হুকুম রয়েছে।
পুরুষের হাত দ্বারা চুড়ি পরিধান করা
প্রশ্ন:- মহিলারা অপরিচিত ফেরিওয়ালার মাধ্যমে নিজের হাতে চুড়ি পরিধান করতে পারবে কিনা?
উত্তর:- যে মহিলা এমন করবে সে গুনাহগার ও জাহান্নামের শাস্তির হকদার হবে। যদি স্বামী অথবা মাহরাম এতে লজ্জা না করে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাধাঁ প্রদান না করে তবে সেও দাইয়্যুস, আর জাহান্নামের ভাগিদার হবে। যদি স্বামী তার স্ত্রীকে এ অবস্থায় দেখে নেয় যে, অন্যকোন পুরুষ তার হাত স্পর্শ করেছে, তবে মারার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়। কিন্তু শত কোটি আফসোস! সেই স্ত্রী যখন চুড়ি পরিধান করার জন্য পর-পুরুষের হাতে হাত দেয় তখন স্বামীর সেই রাগ আর উতলে উঠে না। আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ এর কাছে যখন ফেরিওয়ালার হাতে চুড়ি পরিধান করার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলো, তদুত্তরে তিনি বললেন: “হারাম, হারাম, হারাম। পর-পুরুষকে হাত দেখানো হারাম, তার হাতে হাত দেয়া হারাম। যে পুরুষ নিজের স্ত্রীর এরূপ আচরণ মেনে নেয়, সে দাইয়্যুস।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২ খন্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা)
পর্দা করার ক্ষেত্রে সমাজের লোকদেরকে ভয় করা
প্রশ্ন:- লোকেরা বলে: যুবতী মেয়েকে পর্দা করাতে এই ভয় লাগে, আত্মীয় স্বজন বিভিন্ন ধরনের কথা বলে!
উত্তর:- মুসলমানকে সমাজ নয় বরং আল্লাহ্ তাআলাকে ভয় করা উচিত। কোরআনে পাকের প্রথম পারার সূরা বাকারা’র চল্লিশতম আয়াতে করীমায় ইরশাদ হয়েছে: ﻭَﺍِﻳَّﺎﻱَ ﻓَﺎﺭْﻫَﺒُﻮْﻥِ কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: এবং বিশেষ করে, আমারই ভয় (অন্তরে) রাখো। (পারা: ১, সূরা: বাকারা, আয়াত: ৪০)
যারা আল্লাহ্ তাআলাকে প্রকৃত পক্ষে ভয় করে, আল্লাহ্ তাআলা তাকে অদৃশ্য থেকে সাহায্য করেন আর লোকদের অন্তরে তার প্রভাব প্রবেশ করিয়ে দেন।
ঘটনা: একজন বুযুর্গকে ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ কাফিররা ঘিরে নিলো আর তলোয়ারের আঘাতে তাকে শহীদ করতে চাইল, কিন্তু সবার তলোয়ার ওয়ালা হাত অবশ হয়ে গেলো আর আক্রমন করতে পারলো না। এ অবস্থা দেখে সেই বুযুর্গ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেলো, কাফিরেরা হতবাক হয়ে বলল: কেন কান্না করছেন? আপনার তো খুশি হওয়া উচিত যে, আপনার প্রাণ বেঁচে গেছে। বললেন: আমাকে এই কথাটি কান্না করিয়ে দিলো যে, আমি শাহাদাতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলাম! যদি তোমরা আমাকে হত্যা করতে, তবে আমার ঈদ হয়ে যেতো। কেননা, আল্লাহ্ তাআলার রহমতে জান্নাতের হকদার হয়ে যেতাম। এই ঈমান তাজাকারী কথা শুনে ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ সকল কাফির মুসলমান হয়ে গেলো। আল্লাহ্ তাআলা ব্যতিত অন্য কাউকে ভয় না করা এই বুযুর্গ ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ তাদের প্যারালাইসিস যুক্ত হাতের উপর নিজের হাত মোবারক বুলিয়ে দিলেন, তখন আল্লাহ্ তাআলা সকলের হাতকে ঠিক করে দিলেন।
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।
ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ
নিকাল জায়ে দিলো সে মেরে খওফে দুনিয়া, তুঝিসে ডরো মে সদা ইয়া ইলাহী!
তেরে খওফ সে তেরে ডর সে হামেশা, মে থর থর রহো কাঁপতা ইয়া ইলাহী!
ঘরে যদি কেউ মারা যায় তখনও কি পর্দা জরুরী?
প্রশ্ন:- যদি ঘরে কেউ মারা যায় এবং সমবেদনা জানানোর জন্য লোকদের আসা যাওয়া হয়, এমন বিশেষ মুহুর্তেও কি পর্দার খেয়াল রাখা জরুরী?
উত্তর:- এমন অবস্থায় নিজের মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করা উচিত। যখন মৃত্যুর স্মরণ বেশি হবে, গুনাহ থেকে বিরত থাকারও মানসিকতা বেশি হবে। যেহেতু বেপর্দা হওয়া গুনাহ, হারাম এবং জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার মতো কাজ। এজন্য এমন অবস্থায়ও আত্মসম্মানবোধ ও খোদাভীতি সম্পন্ন মহিলাদের পর্দা আরও অধিক কঠোর হয়ে যায়।
যেমনিভাবে সন্তান হারিয়েছি লজ্জাতো হারায়নি
হযরত সায়্যিদাতুনা উম্মে খাল্লাদ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ এর সন্তান যুদ্ধে শহীদ হয়ে যায়, তাই সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য তিনি ঘোমটা দিয়ে পর্দা সহকারে প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর দরবারে উপস্থিত হলেন, তা দেখে কেউ অবাক হয়ে বললো: এ মুহুর্তেও আপনি চেহারায় ঘোমটা দিয়ে রেখেছেন? তখন তিনি ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ বললেন: “নিশ্চয় আমি সন্তান হারিয়েছি, কিন্তু লজ্জা তো হারায়নি।” (সুনানে আবু দাউদ, ৩য় খন্ড, ৯ পৃষ্ঠা, হাদীস: ২৪৮৮)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের গুনাহ ক্ষমা হোক।
ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ
আপনারা দেখলেন তো! সন্তান শহীদ হওয়া সত্ত্বেও সায়্যিদাতুনা উম্মে খাল্লাদ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬَﺎ পর্দা বহাল রেখেছেন। সত্য কথা হলো; যদি অন্তরে খোদাভীরুতা ও শরীয়াতের বিধানাবলীর উপর আমল করার প্রেরনা থাকে তবে কঠিন থেকে কঠিনতর কাজও সহজ হয়ে যায়, আর যে নফসের চালবাজিতে এসে যায়, তার জন্য সহজ থেকে সহজতর কাজও কঠিন হয়ে যায়। নিশ্চয় যদি আল্লাহ্ তাআলার আযাবকে ভয় করে অল্প কিছু কষ্ট সহ্য করে পর্দা করা হয় তবে এটা কোন বেশি কষ্টসাধ্য কাজ নয়। তা না হলে জাহান্নামের আযাবের কষ্ট কখনও সহ্য করা যাবে না। যদি কেউ আল্লাহ্ তাআলার হুকুমের উপর আমল করার দৃঢ় সংকল্প করে তবে নিশ্চয় আল্লাহ্ তাআলা তার জন্য তা সহজ করে দিবেন।
আমার মেয়ের গলার ব্যথা চলে গেলো
ইসলামী বোনেরা! শরীয়াতের বিধি-বিধানের উপর আমল করার প্রেরণা পাওয়ার একটি উত্তম পন্থা হলো তবলীগে কোরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক সংগঠন দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী কাফেলায় প্রিয় নবী ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ এর আশিকাদের সাথে সফর করাও। যদি সফর করার সত্যিকার নিয়্যত করা হয় আর কোন কারণে সফর করা নসীব নাও হয়, তবে ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ তরী পার হয়ে যাবে। মাদানী কাফেলার সফরের নিয়্যতকারীনী একজন সৌভাগ্যবতীর ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন আর আনন্দে মেতে উঠুন; বাবুল ইসলাম সিন্ধু প্রদেশের একজন ইসলামী বোনের বর্ণনা কিছুটা এরকম, আমার মেয়ে গলার ব্যথায় আক্রান্ত ছিলো। অনেক চিকিৎসা করালাম কিন্তু কোন ফল হয়নি। আমি ইসলামী বোনদের সাথে মাদানী কাফেলায় সফর করার নিয়্যত করে নিলাম। আমার সুধারণা যে, সেই নিয়্যতের বরকতে আমার মেয়ের স্বাস্থ্য ভাল হয়ে গেলো। অতঃপর আমি নিজের নিয়্যতানুযায়ী ইসলামী বোনদের মাদানী কাফেলায় সফরও করলাম।
ফযল কি বারিষেঁ রহমতে নে’মতে,
গর তুমহেঁ চাহিয়ে কাফিলে মে চলো।
দুর বিমারিয়াঁ আউর পেরেশানিয়াঁ,
হুঁগি বস চল পড়ে কাফিলে মে চলো।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
না-মাহারিমাকে সমবেদনা জানাতে পারবে কিনা
প্রশ্ন:- যদি কারো না-মাহারিমার আত্মীয় ইন্তেকাল করে তবে না-মাহরাম পুরুষ তাকে সমবেদনা জানাতে পারবে কিনা?
উত্তর:- জ্বী, না। সদরুশ শরীয়া, বদরুত তরিকা হযরত আল্লামা মাওলানা মুফতী মুহাম্মদ আমজাদ আলী আযমী ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “মহিলাকে তার মাহারিমই সমবেদনা জানাবে।” (বাহারে শরীয়াত, ৪র্থ অংশ, ২০১ পৃষ্ঠা)
না-মাহারিম রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করা কেমন?
প্রশ্ন:- না-মাহরাম ও না-মাহারিমা একে অপরের অসুস্থাবস্থায় সেবা শুশ্রুষাও কি করতে পারবে না?
উত্তর:- জ্বী, না। এভাবে করাতে একে অপরের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে, যা ধ্বংসাত্মক।
সন্তান প্রসব সম্পর্কিত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন:- পুরুষ দ্বারা কি প্রসব করাতে পারবে?
উত্তর:- স্বামী ব্যতিত অন্য কোন পুরুষ প্রসব করাতে পারবে না। কেননা, এ কাজে খুবই পর্দাহীনতা হয়ে থাকে। যদি সম্ভব হয় তবে ঘরেই মুসলমান ধাত্রীর (MIDWIFE) মাধ্যমে সেবা নেয়া উচিত। তা না হলে এমন হাসপাতালে ব্যবস্থা করুন যেখানে শুধুমাত্র মুসলমান নারীরাই সেবা করে। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পূর্বেই জেনে নেয়া উচিত, তা না হলে অধিকাংশ হাসপাতালে পুরুষ ডাক্তার আর বিশেষ করে সরকারী হাসপাতালে মেডিকেলের ছাত্ররাও প্রসব (DELIVERY) কাজে অংশ নেয়। মনে রাখবেন! কাফির মহিলার সাথে মুসলমান মহিলার তেমনই পর্দা, যেমন পর-পুরুষের সাথে।
কাফির ধাত্রী দ্বারা সন্তান প্রসব করানোর মাসয়ালা
প্রশ্ন:- অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্টের দেশে অধিকাংশ ধাত্রীই কাফির হয়ে থাকে। এমতাবস্থায় প্রসব করানোর বিষয়ে অনেক কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। পথ প্রদর্শন করে আল্লাহর নিকট থেকে প্রতিদান এবং লোকদের নিকট থেকে কৃতজ্ঞতা গ্রহণ করুন।
উত্তর:- মুসলমান মহিলার জন্য কাফির মহিলার সামনে সতর খোলা বৈধ নয়। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমান ধাত্রী পাওয়া যায় আর সে সঠিকভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারে ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির ধাত্রী দ্বারা কখনও এ কাজ করাবেন না। তবে হ্যাঁ! যদি অপারগ হয় আর মুসলমান ধাত্রী পাওয়া না যায়, যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ রয়েছে। তবে এমন কঠিন অপরাগ অবস্থায় কাফির ধাত্রী দ্বারা প্রসব করানোতে কোন সমস্যা নেই।
প্রশ্ন:- ভাবীর সন্তান প্রসব হওয়ার সময় দেবর অথবা ভাসুর দেখতে অথবা সন্তানের মোবারকবাদ দেওয়ার জন্য যেতে পারবে কী না?
উত্তর:- ভাবী এবং অন্য কোন না-মাহারিমাকে দেখতে যাওয়া ও মোবারকবাদ দিতে যাওয়াতে কঠিন ফিতনার দরজা খুলে যায়।
শুধু অন্তরের পর্দা কি যথেষ্ট?
প্রশ্ন:- কিছু বেপর্দা মহিলা বলে: “শুধুমাত্র অন্তরের পর্দা থাকা উচিত” এর বাস্তবতা কী?
উত্তর:- এটা শয়তানের অনেক বড় এবং মন্দ আক্রমন। আর এই নিকৃষ্ট বাক্য দ্বারা কোরআনে পাকের সেই সকল আয়াতকে অস্বীকার করা সাব্যস্ত হয়, যাতে শরীরকে পর্দায় গোপন করার হুকুম রয়েছে। যেমন; ২২ পারার সূরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে: কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: “আর নিজেদের ঘরসমূহে অবস্থান করো এবং বেপর্দা থেকো না যেমন পূর্ববর্তী জাহেলী যুগের পর্দাহীনতা।” এই সুরার ৫৯ নং আয়াতে রয়েছে: কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: “হে নবী! আপন বিবিগণ, সাহেবযাদীগণ ও মুসলমানদের নারীগণকে বলে দিন যেন তারা নিজেদের চাদরের একাংশ স্বীয় মুখের উপর ঝুলিয়ে রাখে।” সূরা নূরের ৩১নং আয়াতে রয়েছে: কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: “আর নিজেদের সাজ-সজ্জাকে প্রদর্শন না করে।” যে ব্যক্তি দেহের পর্দাকে সম্পুর্ণরূপে অস্বীকার করবে আর বলবে যে, “শুধুমাত্র অন্তরের পর্দা যথেষ্ট” তার ঈমান চলে যাবে। যদি বিবাহিত হয় তবে বিয়ে ভঙ্গ হয়ে যাবে। যদি কারো মুরিদ হয় তবে বাইয়াতও শেষ হয়ে যাবে। যদি ফরয হজ্ব করে থাকে তবে তাও শেষ হয়ে যাবে। এ ছাড়া পূর্বের জীবনের সমস্ত নেক আমল নষ্ট হয়ে যাবে। সে যেন তার কুফর থেকে তাওবা করে নতুন করে মুসলমান হয় এবং প্রথম স্বামীর সাথে নতুন করে বিয়ে করে। (তবে হ্যাঁ! যদি প্রথম স্বামী তাকে বিয়ে করতে না চায় তবে অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে) আর যদি মুরিদ হতে চায় তবে যে কোন শরীয়াতের অনুসারী পীরের নিকট বাইয়াত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে যদি কেউ পর্দার ফরয হওয়াকে স্বীকার করে কিন্তু পর্দার বিশেষ কোন অংশকে অস্বীকার করে যার সম্পর্ক “দ্বীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াবলীর” মধ্যে নেই তবে কুফরের হুকুম লাগবে না। কুফর থেকে তাওবা এবং নতুনভাবে ঈমান আনা ও নতুনভাবে বিয়ে করার পদ্ধতি মাকতাবাতুল মদীনা কর্তৃক প্রকাশিত ১৬পৃষ্ঠা সম্বলিত রিসালা “২৮টি কুফরী বাক্য” থেকে দেখতে পারবেন। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের ঈমান সালামত রাখুন।
ﺍٰﻣِﻴﻦ ﺑِﺠﺎ ﻩِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻰِّ ﺍﻟْﺎَﻣﻴﻦ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠﮧُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﯽ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺍٰﻟِﮧٖ ﻭَﺳَﻠَّﻢ
বাস্তবতা তো এটাই যে, বাহ্যিকতাই অন্তরের প্রতিনিধি। যদি অন্তর ভাল হয় তবে তার প্রভাব বাইরেও প্রকাশ পাবে। এজন্য পর্দা সেই করবে যার অন্তর ভাল এবং আল্লাহ্ তাআলার আনুগত্যের প্রতি আগ্রহী হবে। আমার আক্বা আ’লা হযরত ﺭَﺣْﻤَﺔُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻠَﻴْﻪِ বলেন: “এই ধারণা করা যে, বাত্বিন (অর্থাৎ অন্তর) পরিষ্কার হওয়া উচিত, জাহির (বাহ্যিক) যেমনই হোক না কেন, এটা ভ্রান্ত ধারণা। হাদীসে পাকে বলা হয়েছে: “যদি তার অন্তর ঠিক থাকে তবে জাহির (বাহ্যিক) নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ২২তম খন্ড, ৬০৫ পৃষ্ঠা)
মানসিক রোগী সুস্থ হয়ে গেলো
ইসলামী বোনেরা! দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের বরকতের কথা কি বলব! এর বরকত লুফে নেয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য আপনিও দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করুন। ﺍِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আপনার সমস্যাও অদৃশ্যভাবে সমাধান হয়ে যাবে, এবং আল্লাহ্ তাআলার কৃপা ও করুনায় অদৃশ্য থেকে সাহায্য পাবেন। কেহরোড় পাক্কা (পাঞ্জাব) এর একজন ইসলামী বোনের লিখিত বর্ণনার সারাংশ কিছুটা এরকম: আমার ছোট ভাই পারিবারিক বিষন্নতা, অভাব-অনটন ইত্যাদির পেরেশানে সর্বদা চিন্তায় মগ্ন থাকতো, একারণে ধীরে ধীরে মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছিল এবং আবোল-তাবোল বলতে থাকতো। এমনকি ﻣَﻌَﺎﺫَ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞ নিজের হাতে নিজের প্রাণ নিয়ে নেয়ার অর্থাৎ আত্মহত্যা করার ব্যাপারে ভাবতে লাগলো। তার এ অবস্থার প্রতি আমার খুবই দয়া হতো। কিন্তু আমি তো অসহায় নারী, আমি কিইবা করতে পারি! ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ আমি আগে থেকেই দা’ওয়াতে ইসলামীর সুন্নাতে ভরা ইজতিমায় অংশগ্রহণ করতাম, সেখানে আমি আমার ভাইয়ের জন্য কেঁদে কেঁদে দোয়া করা শুরু করে দিই, কিছুদিন যাওয়ার পর আমার ভাইকে আল্লাহ্ তাআলা সুস্থতা দান করলেন। ﺍَﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻋَﺰَّﻭَﺟَﻞّ এখন সে আব্বু ও আম্মুকে সম্মান করে এবং সেই সম্মানের কারণে তাদের নয়নের তারা হয়ে গেলো।
এ্যয় রযা হার কাম কা এক ওয়াক্ত হে, দিল কো ভী আরাম হোহি জায়ে গা।
ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﺤَﺒِﻴﺐ ! ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻋَﻠﻰ ﻣُﺤَﻤَّﺪ
——–

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment