পবিত্র কালেমাই তাওহীদ ও রিসালাতের বাণী

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

পবিত্র কালেমাই তাওহীদ ও রিসালাতের বাণী
  – ইমরান বিন বদরী

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
নাহমাদুহু ওয়া নুসল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম
আম্মা বা’দ

সৃষ্টির আদিকাল থেকে যুগে যুগে একত্ববাদের প্রচারে সত্য ও রিসালতের বাণী নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন অগণিত নবী ও রাসূল (আ:)। জগতের মহান প্রভু, রাব্বুল আলামীনের প্রতিনিধি বা খলীফা হয়ে বিশ্ব মানবতার মুক্তির জন্য এসেছিলেন তাঁরা। এঁদের মধ্যে কেউ ছিলেন নবী (আ:), আবার কেউ বা আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত রাসুল (আ:)। আল্লাহ ও রাসূল নাম দু’টি, তাওহীদ ও রিসালতের একে অপরের পরিপূরক।

কোনো ঈমানদারের জন্যে যেমন আল্লাহর একত্ববাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ফরয, তেমনি তাঁর প্রিয় রাসূল দো’জাহানের সরদার বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, হাবীবুল্লাহ নবী মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের সহকারে শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তাঁর আনুগত্য করা সমভাবে অত্যাবশ্যক।

◩ সৃষ্টি জগতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় হাবীবকে নিজেই মর্যাদা প্রদান করে বলেন –

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

অর্থাৎ, এবং আমি আপনার জন্য আপনার স্মরণকে সমুন্নত করেছি।
(সূরা আল ইনশিরাহ:০৪)

◩ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রের উত্তম প্রশংসা করে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন – وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ
অর্থাৎ, নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্র-বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত । (সূরা আল-কালাম: ০৪)

এই মানবজাতির জন্য তিনি (আল্লাহ) মানুষকে সৎপথে চালানোর উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনায় অতি উত্তম ও সুন্দর চরিত্রের নবী-রাসূল হিসেবে পৃথিবীতে যাঁদের প্রেরণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, তিনি-ই হলেন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল ‘মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ্‌’ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়া সাল্লাম।

যাঁর প্রশংসায় মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর নাম রেখেছেন আহমদ এবং মুহাম্মদ।
আহমদ হ’ল সর্বাধিক প্রশংসাকারী এবং মুহাম্মদ হ’ল প্রশংসিত।

➲ পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর প্রিয়তম বন্ধুকে (মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর পথে আহ্বানকারীস্বরূপ, ভয় প্রদর্শনকারী এবং সু-সংবাদদানকারী হিসেবে ব্যাপক প্রশংসামূলক আলোচনা করেছেন।

◩  প্রিয়তম বন্ধুকে সৃষ্টি জগতের রহমত হিসেবে আল্লাহ তাআলা আরো বলেন –

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

“হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)! আমি আপনাকে সমগ্র জগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।” (আম্বিয়া: ১০৭)

◩ আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবীবকে রাসূল হিসেবে আরো বলেন –

قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا

“হে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) ঘোষণা করে দিন: ওহে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি মহান আল্লাহর রাসূল।” (সূরা আরাফ: ১৫৮)

◩ আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবীব (দ:)-কে অনুসরণ করতে আরো বলেন –

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

“হে নবী (দ:)! লোকদের বলে দিন: তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমাকে অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের গুণাহসমূহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (সূরা আল-ইমরান: ৩১)

➲ মহান রাব্বুল আলামীন, তাঁর নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যেমন প্রশংসা করেছেন, তেমনি মহান আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রেমিক এবং তাঁরই বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে নিজের পরিচয় এবং প্রশংসাও গ্রহণ করেছেন, যা সারা পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান। এখানে সেই সব প্রশংসার কিছু আয়াত বিবৃত করতে সচেষ্ট হলাম।

◩ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে –

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
اللَّهُ الصَّمَدُ
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

“হে নবী! আপনি বলে দিন, আল্লাহ, তিনি এক। আল্লাহ, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনিও কারো থেকে জন্ম নেননি। এবং তাঁর সমতুল্য কেউ-ই নেই।” (সূরা ইখলাস)

◩ আল্লাহ তাআলা আরো বলেন –

اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ

“তিনি আল্লাহ! তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই (ইলাহ নেই)। তিনি চিরজীবী, চিরস্থায়ী। তাঁকে তন্দ্রা বা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্ত তাঁর-ই।” (সূরা বাকারা: ২৫৫)

◩ আরো ইরশাদ হচ্ছে –

وَهُوَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْحَمْدُ فِي الْأُولَى وَالْآخِرَةِ وَلَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ

“তিনি আল্লাহ! তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই (উপাস্য নেই)। তাঁরই জন্যে সমস্ত প্রশংসা দুনিয়া ও আখিরাতে। শাসন কর্তৃৃত্ব ও সার্বভৌমত্ব কেবলমাত্র তাঁর-ই। এবং তোমরা তাঁর-ই কাছে ফিরে যাবে।” (সূরা কাছাছ: ৭০)

➲ আসলে বন্ধুরা, বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুণাবলীর বর্ণনা একমাত্র আল্লাহর দ্বারাই শেষ হতে পারে, মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়।

সৃষ্টি জগতে মহান রাব্বুল আলামীনের একত্ববাদের বিকাশ ও পরিচয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই হয়েছে। তাই আল্লাহ তায়ালার নামের পাশে তার রাসূলের নামের সংযোজন।

আল্লাহ তা‘আলার একত্ববাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের সাথে সাথে তাঁর প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে রিসালতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

তাই শোভা পাচ্ছে কালিমায়ে তাইয়্যিবায় লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ (لاَ اِلهَ إِلاَّ اللهُ) আর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ) (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ)।

অর্থাৎ: আল্লাহ ভিন্ন কোনো মা’বুদ নাই, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল।

এক আল্লাহর একত্ববাদের পূর্ণ পরিচিতি কেবল নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব। কালেমা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসসম্বলিত কয়েকটি আরবি পংক্তির নাম। এর মাধ্যমেই ইসলামের প্রথম স্তম্ভ শাহাদাহ্‌ পূর্ণতা পায়।

لا اله الا الله محمد رسول الله

কালেমা শরীফের মূল শিক্ষা হচ্ছে আল্লাহ পাক রাব্বুল আ’লামীনকে ইলাহ বা মা’বুদ//স্রষ্টা হিসেবে মানা এবং তাঁর ওপর ঈমান আনা; সেই সাথে নুরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আল্লাহ পাকের রাসূল সে বিষয়েও ঈমান আনা।

◩ এ প্রসংঙ্গে স্বয়ং আল্লাহ পাক আরো ইরশাদ করেন –

إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ

অর্থ: নিশ্চয়ই প্রকৃত মুমিন তো তারাই, যারা আল্লাহর ও রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (সূরা নূর আয়াত: ৬২)

এই আয়াত থেকে বোঝা গেল, আল্লাহ পাক রাব্বুল আ’লামীনের সাথে সাথে তাঁর প্রিয় রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ঈমান আনাকে আল্লাহ শর্ত করে দিয়েছেন।

আর সে কারণেই মু’মিন মুসলমানদের ঈমান ও আক্বীদার মূল কালিমা হচ্ছে –

لا اله الا الله محمد رسول الله

কালেমা তাইয়্যেবা হচ্ছে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাঁর প্রিয় রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতগণকে চির সুখময় জান্নাত প্রদানের জন্য যে বেশ কিছু পথ ও পাথেয় নির্ধারণ করে রেখেছেন এগুলোর অন্যতম।

◩ কালেমায়ে তাইয়্যেবার একটা অতুলনীয় উদাহরণ দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা যেমন –

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللّهُ مَثَلاً كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاء

তুমি কি লক্ষ্য করো না, আল্লাহ তা’আলা কেমন উপমা বর্ণনা করেছেন: পবিত্র বাক্য হলো পবিত্র বৃক্ষের মতো। তার শিকড় মজবুত এবং শাখা আকাশে উত্থিত।

تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا وَيَضْرِبُ اللّهُ الأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন, যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।

وَمَثلُ كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اجْتُثَّتْ مِن فَوْقِ الأَرْضِ مَا لَهَا مِن قَرَارٍ

এবং নোংরা বাক্যের উদাহরণ হলো নোংরা বৃক্ষ। একে মাটির ওপর থেকে উপড়ে নেয়া হয়েছে। এর কোনো স্থিতি নেই।

يُثَبِّتُ اللّهُ الَّذِينَ آمَنُواْ بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللّهُ مَا يَشَاء

আল্লাহ তা’আলা মু’মিনদেরকে মজবুত বাক্য দ্বারা মজবুত করেন। পার্থিবজীবনে এবং পরকালে। এবং আল্লাহ জালেমদেরকে পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা, তা-ই করেন। (সূরা ইব্রাহীম: ২৪-২৭)

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করে সে অনুযায়ী আমল করা প্রত্যেকের প্রতি ফরজ।

◩ প্রসিদ্ধ হাদীসে জিব্রাইলে হজরত জিব্রাইল (আ:) যখন সাহাবীদের মাঝে এসে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে বসে একের পর এক প্রশ্ন করে সাহাবীদের শিক্ষা দিচ্ছিলেন, তখন জিব্রাইল (আ:) ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাইলে আল্লাহর হাবীব (দ:) বলেন –

فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه و سلم الْإِسْلَامُ

*** أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ***

“আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল”

এটাই তো কালেমা।

সহীহ মুসলিম শরীফের ঈমান অধ্যায়ে বর্ণিত হাদিসটিতে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে আমার পিতা উমর ইবনু খাত্তাব রাদিআল্লাহু আনহু হাদীসটি শুনিয়েছেন।

➲ উপরোক্ত হাদীসের মর্মার্থ-ই কালেমা তাইয়্যেবাকে অন্যান্য রোকন যথা নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত এবং কিয়ামতের শিক্ষার চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে; কালেমা তথা ইসলামের মূল বুনিয়াদের কথা এতে আলোচনা করা হয়েছে।

◩ মহান আল্লাহ পাক সূরাহ ফাতহ-এর ২৯ নং আয়াতটি শুরু করেছেন – مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ
“মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ” বাক্যটি দ্বারা।

◩ এছাড়াও তাওহীদ ও রিসালাতের ঘোষণায় ইসলামের ৫টি ভিত্তির মধ্যে ১টির অন্তর্ভুক্ত কালেমা:

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، قَالَ أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ

হজরত উবায়দুল্লাহ্ ইবনু মূসা (রা:) ইবনু উমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি:

১। لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ
আল্লাহ্ ছাড়া ইলাহ্ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্‌র রাসূল – এ কথার সাক্ষ্য দান।
২। সালাত (নামায/নামাজ) কায়েম করা
৩। যাকাত দেওয়া
৪। হাজ্জ (হজ্জ) করা, এবং
৫। রামাদান-এর সিয়াম পালন করা।
(সহীহ বুখারি/ঈমান)

◩ আবূ সালামা ইয়াহইয়া ইবনু খালাফ বাসরী (রহ:) আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি কোনো ইলাহ নেই আল্লাহ্ ছাড়া, আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
(জামে তিরমিজী /কাফন-দাফন)

◩ ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহ:) আনাস ইবনু মালিক রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

“যে কোনো বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল’, তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।
(সহীহ বুখারি (ইফা) ইলম বা জ্ঞান)

◩ আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহ:) আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত:

”আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।”
(সহীহ বুখারি (ইফা)সালাত)

#হজরত মু’আয বিন জাবাল রাদিআল্লাহু আনহুর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তাবুক অভিযানের আগে আল্লাহর রাসূল (দ:) লোকদেরকে নিয়ে (রাত্রিকালীন সময়ে) বের হন; অতঃপর ভোর হলে তিনি ফজরের সালাত আদায় করেন। (সালাত শেষে) কাফেলার লোকজন আরোহণ করে অগ্রসর হতে থাকে। অতঃপর সূর্য উদিত হওয়ার পর (লোকজন রাত্রি সফরের ক্লান্তিবশতঃ) তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে; কিন্তু হযরত মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ থেকে মুহূর্তের জন্যও বিচ্যুত হননি (বরং একনিষ্ঠভাবে তাঁর সংসর্গে থাকেন)। অথচ (ওই সময়) লোকজন তাদের পরিবাহী পশুদেরকে নিয়ে সমতল ও মসৃন রাস্তায় ও আশপাশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন; তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল পশুদেরকে খাবার খাওয়ানো ও ভ্রমণ করা। এদিকে হযরত মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণ অব্যাহত রাখেন। রাসূল (দ:)-এর উষ্ট্রী যখন ঘাস খাচ্ছিল এবং (আপনমনে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল), এমতাবস্থায় হযরত মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু-এর উষ্ট্রীর পা (হঠাৎ) পিছলে যায়, আর  তিনি লাগাম ধরে টান দেন। এতে তাঁর উষ্ট্রী দ্রুত চলতে থাকে, ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উষ্ট্রীও (ভয়ে) কিছুটা দূরে সরে যায়। এই পর্যায়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাওদার পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে তাকান। তিনি দেখতে পেলেন সৈন্যদের মধ্যে মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু-এর চেয়ে কাছে আর কেউই নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ডাকলেন এই বলে, ওহে মু’আয (এদিকে আস)। মু’আয বললেন, আমি হাজির ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ:)! তিনি বললেন, আরো কাছে আস। মু’আয কাছে এগিয়ে গেলেন, এমনকি তাঁদের বাহন দু’টি একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়ে যায়। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি চিন্তাও করিনি (সেনাবাহিনীর) লোকজন (আমার কাছ থেকে) এতো দূরে অবস্থান করছে। মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! লেকজন তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল, এই সুযোগে তাদের বাহনগুলো তাদেরকে নিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং (আপন মনে) ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমিও তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম। (এবার মু’আয যখন রাসূলের চেহারার ঔজ্জ্বল্য দেখতে পেলেন এবং নির্জনতার সুযোগ পেলেন, তখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে এমন একটি প্রশ্ন করবো, যা আমাকে রুগ্ন, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ও চিন্তাযুক্ত করে ফেলেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যা খুশী প্রশ্ন করো। মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে – এছাড়া আমি আপনার কাছে অন্য কোনো প্রশ্ন করবো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বাহ, বাহ, বাহ, নিশ্চয় তুমি অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছ। কথাটি তিনি তিনবার বললেন, (জেনে রাখ), এ বিষয়টি আল্লাহ যার মঙ্গল চান তাঁর জন্য খুবই সহজ। এর পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে যে কথাটি বলেছেন, তা তিনবার করে পুনরাবৃত্তি করেছেন, যেন কথাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু তা মহানবী (দ:) থেকে আত্মস্থ করে নেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর এবং সালাত কায়েম করো; ইবাদত করবে একমাত্র আল্লাহর, তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক করবে না, আর তোমার মৃত্যু পর্যন্ত তুমি এর ওপর অটল থাকবে। মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর নবী, আপনি পুনরায় বলুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাগুলো তিনবার বলে দিলেন। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মু’আয তুমি চাইলে আমি তোমাকে সর্বোৎকৃষ্ট আমলের সার-সংক্ষেপ বলে দিতে পারি। মু’আয রাদিআল্লাহু আনহু বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ (দ:), অবশ্যই, আপনার তরে আমার মা-বাবা কুরবান হোক; আপনি বলুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতঃপর বললেন, সারকথা হচ্ছে: তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে আল্লাহ ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক-ও নেই;  আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আর এ বিষয়ের মূলস্তম্ভ হচ্ছে সালাত কায়েম করা এবং যাকাত প্রদান করা। আর এর শীর্ষের বিষয় হচ্ছে জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ বা আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা। আমাকে অবশ্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যেন আমি কঠিন সাধনা করতে থাকি যতোক্ষণ পর্যন্ত না মানুষেরা সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে, এবং এই সাক্ষ্য প্রদান করে যে একমাত্র আল্লাহ ভিন্ন কোনো উপাস্য নেই, তাঁর কোনো শরীক-ও নেই; আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। যদি তারা এসব মেনে নেয়, তবে তারা তাদের জীবন ও সম্পদ (এর অধিকার ব্যতিরেকে) নিরাপদ করে নিল এবং তাদের (প্রকৃত) হিসেব-নিকেশ আল্লাহরই দায়িত্বে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন যাঁর হাতে, সেই সত্তার শপথ, জান্নাতে উন্নততর মর্যাদা লাভের উদ্দেশ্যে যেসব ক্লেশময় আমলের জন্য মানুষের চেহারা মলিন হয় এবং পদধুলিময় হয়, সে সবের মধ্যে ফরয সালাতের পর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের মতো অন্য আমল নেই এবং কোনো বান্দার মীযান (আখিরাতের মানদণ্ড)-কে এমন চতুষ্পদ জন্তুর চেয়ে অধিক ভারী আর কিছুই করতে পারে না, যাকে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা হয় অথবা আল্লাহর রাস্তায় তার ওপর আরোহণ করা হয়।

➲— মুসনদে আহমদ

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আবদুল কায়েস (রা:)-এর প্রতিনিধিদল যখন মদিনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আগমন করে, তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, কোন্ গোত্রের প্রতিনিধি দল (অথবা কোন্ সম্প্রদায়ের)? তারা বললেন, রাবীয়া (গোত্রের)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রতিনিধি দলকে স্বাগতম, অথবা বললেন, সম্প্রদায়কে যথাযোগ্য মর্যাদা ও সম্মান সহকারে স্বাগতম, তাঁরা যেন এতটুকু অপমানিত ও লজ্জিত না হন। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা অনেক দুরাঞ্চল থেকে আপনার দরবারে হাযির হয়েছি, আপনি এবং আমাদের মাঝে মুদার গোত্রের কাফিরদের বাধার প্রাচীর রয়েছে। তাই আমরা ‘শাহরে হারাম’ বা পবিত্র মাস ছাড়া (অন্য কোনো সময়) আপনার দরবারে আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আপনি (মেহেরবানী করে) আমাদেরকে এমন কিছু বিষয়ের কথা বলুন, যাতে আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি এবং আমাদের পেছনে যারা আছেন তাঁদের কাছেও সেই সংবাদ পৌঁছে দিতে পারি। প্রসঙ্গত তাঁরা পানীয় (ও পানীয় দ্রব্যের পাত্রাদি) সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে চারটি বিষয়ে আদেশ এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ প্রদান করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে ‘ঈমান বিল্লাহ’-এর নির্দেশ দান করেন এবং বলেন, তোমরা কি আল্লাহর প্রতি ঈমান-এর তাৎপর্য জানো? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই উত্তম জ্ঞাত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাক্ষ্য দেয়া এই মর্মে যে,
আল্লাহ ভিন্ন কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং তোমরা তোমাদের ‘গনীমত’ তথা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (অথবা প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ) থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে (আল্লাহর রাস্তায়)। এবং আল্লাহর রাসূল (দ:) তাদেরকে চারটি পানীয় পাত্রের ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। পাত্রগুলো হচ্ছে, ‘দুব্বা’ (কদুর শুকনো খোলের তৈরি), ‘হান্তাম’ (সবুজ রংয়ের তেলযুক্ত কলস), ‘মুযাফফাত’ (নাক্বীর বৃক্ষের কাণ্ড থেকে তৈরি) ও ‘মুকায়্যার’ (ধুনা লাগানো পাত্র) [এ পাত্রগুলো তৎকালীন আরবে বিশেষ করে মদ তৈরি ও মদের পাত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়গুলো যত্নসহকারে মনে রাখবে (পালন করবে) এবং এ বিষয়ে তোমাদের পেছনে যারা রয়েছে তাদেরকে জানিয়ে দেবে।

➲–মুসনদে আহমদ

✪ অতএব, এ কালেমা হতে আপনি সর্বপ্রথম জানতে পারেন যে আপনি আল্লাহর বান্দাহ, আর কারো বান্দাহ আপনি নন। আপনি আরো জানতে পারলেন যে আপনি যার বান্দাহ, দুনিয়ায় তাঁরই মর্জিমতো আপনাকে কাজ করতে হবে।

এ কালেমা আপনাকে আরো শিক্ষা দেয় যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল । এ কথা জেনে নেয়ার সাথে সাথে আপনি আরো জানতে পারলেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে যে মিষ্ট ফুল এবং ফলের বাগান রচনা করার নিয়ম দেখিয়ে দিয়েছেন, আপনাকেও ঠিক সেই নিয়মেই কাজ করতে হবে। আপনি যদি সেই নিয়ম অনুসরণ করেন, তবে পরকালে ঠিকই আপনি ফসল তুলতে পারবেন।

**আল্লাহুম্মা ছাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁও ওয়া আলা আলিহী ওয়া আস্‌হাবিহী ওয়া আহ্‌লিবাইতিহী আজমাঈন।

✪বন্ধুরা➲

আমরা প্রতিদিন যাতে উক্ত কালেমা পাঠ করতে পারি, আসুন সেদিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করি। পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের সবাইকে কালেমা শরীফ পাঠ করার তাওফীক দান করুন; মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন; মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ থেকে আমাদের উপকৃত হওয়ার তওফীক দান করুন, আমীন।

(সবাইকে অনুরোধ করছি আমার এই লেখাটিতে ভুল হলে আমাকে জানাতে ভুলবেন না প্লীজ, আপনার সঠিক মতামতে আমি উপকৃত হব)

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment