নামাযে পুরুষের হাত বাঁধার পদ্ধতি

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

মূল : শাহ তুরাবুল হক কাদেরী
অনুবাদ : মুহাম্মদ রুবাইয়াত বিন মুসা

সুন্নত হলো নামাযে ডান হাতকে বাম হাতের ওপরে রেখে নাভির নিচে বাঁধা।

ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺿﻊ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻳﺪﻱ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﺴﺮﺓ
– হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) ইরশাদ করেন, সুন্নত হলো (নামাযী) নিজ হাতকে হাতের ওপর রেখে নাভির নিচে বাঁধবেন। [১]

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺟُﺤَﻴْﻔَﺔَ، ﺃَﻥَّ ﻋَﻠِﻴًّﺎ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴُّﻨَّﺔِ ﻭَﺿْﻊُ ﺍﻟْﻜَﻒِّ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻜَﻒِّ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﺗَﺤْﺖَ ﺍﻟﺴُّﺮَّﺓِ
– হযরত আবূ জুহায়ফা (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) বলেন, নিশ্চয় হযরত আলী (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) ইরশাদ করেন , সুন্নত হলো (নামাযী) আপন হাতের তালু অন্য হাতের তালুর ওপর রেখে নাভির নিচে বাঁধবেন। [২]

ﺭﺃﻳﺖ ﺍﻟﻨﺒﻲّ ﷺ ﻳَﻀَﻊُ ﻳَﻤِﻴﻨَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺷِﻤَﺎﻟِﻪِ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﺗَﺤْﺖَ ﺍﻟﺴُّﺮَّﺓِ
– হযরত ওয়াইল বর্ণনা করেন, আমি নবী কারীমকে (দ:) দেখেছি, তিনি নামাযে বাম হাত ডান হাতের নিচে রেখে নাভির নিচে বেঁধেছিলেন ।[৩]

ﻭﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ – এটার সনদ বিশুদ্ধ । [৪]

হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) নাভির নিচে হাত বাঁধার পদ্ধতি ব্যক্ত করেন,
ﻗُﻠْﺖُ ﻟَﺄَﻧْﻈُﺮَﻥَّ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﻴْﻒَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ، ﻓَﻨَﻈَﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ، ﻓَﻘَﺎﻡَ ﻓَﻜَﺒَّﺮَ، ﻭَﺭَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﺣَﺎﺫَﺗَﺎ ﺑِﺄُﺫُﻧَﻴْﻪِ، ﺛُﻢَّ ﻭَﺿْﻊَ ﻳَﺪِﻩِ ﺍﻟْﻴُﻤْﻨَﻰ، ﻋَﻠَﻰ ﻛَﻔِّﻪِ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ، ﻭَﺍﻟﺮُّﺳْﻎِ ﻭَﺍﻟﺴَّﺎﻋِﺪِ
– একদিন আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কীভাবে নামায আদায় করেন, তা প্রত্যক্ষ করার ইচ্ছা পোষণ করলাম। দেখতে পেলাম, হুযুর আকরাম (দ:) দাঁড়ালেন এবং তাকবীর বললেন, আপন হস্তযুগল কর্ণ পর্যন্ত উত্তোলন করলেন; অত:পর তিনি ডান হাতকে বাম হাতের ওপর এমনভাবে রাখলেন যেন ডান হাতের দুই আঙ্গুল বাম হাতের জোড়াকে আকড়ে ধরে আর ডান হাতের অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল হাতের ওপর থাকে। [৫]

ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺍﺧﺬ ﺍﻻﻛﻒ ﻋﻠﻲ ﺍﻻﻛﻒ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺗﺤﺖ ﺍﻟﺴﺮّﺓ
– হযরত ওয়াইল বর্ণনা করেন, হযরত আবূ হুরায়রা বলেন, নামাযের মধ্যে এক হাতের তালুকে অন্য হাতের ওপর ধরে নাভির নিচে বাঁধবে। [৬]

কিছু হাদীসে নাভীর ওপর কিংবা বুকের ওপর হাত বাঁধার উল্লেখ আছে; মুহাদ্দীস ও ইমাম আল্লামা নায়মুবী ওই বর্ণনাগুলোর সনদ বিশ্লেষণ করে বর্ণনা করেন,
ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﻴﻤﻮﻱ ﻭﻓﻲ ﺍﻟﺒﺎﺏ ﺍﺣﺎﺩﻳﺚ ﺍﺧﺮ ﻛﻠﻬﺎ ﺿﻌﻴﻔﺔ
– উক্ত অধ্যায়ে, অর্থাৎ নামাযের মধ্যে বুকের ওপর হাত বাঁধার সকল হাদীসের সনদ দুর্বল।[৭]

স্পষ্টত যেহেতু বুকের ওপর হাত বাঁধার সকল হাদীস-ই দ্বয়ীফ (সনদ দুর্বল), তাই সেগুলো দলীল হিসেবে উ্পস্থাপন করা যায় না। অথচ নাভির নিচে হাত বাঁধার হাদীসগুলো সহীহ কিংবা হাসান সূত্রে এসেছে বলে সাব্যস্ত হয়েছে। ‘আছারুস সুনান’ গ্রন্থে গ্রন্থকার ইবনে আবূ শায়বা সূত্রে বর্ণিত সকল হাদীসকে সহীহ কিংবা হাসান বলা হয়েছে।
ﻋﻦ ﻋﻠﻘﻤﺔ ﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﺍﻟﺦ -এতে ﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ তথা এটার সনদ সহীহ বলে উল্লেখ আছে। এভাবে ﻋﻦ ﺣﺠّﺎﺝ ﺑﻦ ﺣﺴﺎﻥ ﺍﻟﺦ হাজ্জাজ বিন হাসসান (শেষ পর্যন্ত) এ হাদীসটিতেও উল্লেখ আছে যে ﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ অর্থাৎ, এর সনদ বিশুদ্ধ। ﻋﻦ ﺍﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﺍﻟﺦ ইবরাহীম সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিতে উল্লেখ আছে যে, ﺍﺳﻨﺎﺩﻩ ﺣﺴﻦ হাদীসটির বর্ণনাধারা হাসান পর্যায়ের।

অতএব, স্পষ্ট হলো যে, নাভির নিচে হাত বাঁধা যে হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে, তা সহীহ কিংবা হাসান। যেগুলোর ওপর আমল করা ওয়জিব সাব্যস্ত হয়, সেগুলো মুস্তাহাব কিংবা সুন্নত কেন হবেনা?

স্মর্তব্য যে, এখানে তিন ধরনের হাদীস, অর্থাৎ সহীহ, হাসান ও দ্বয়ীফকে বৈপরীত্যের কারণে একই সাথে অগ্রাধিকার দেয়া সম্ভব নয়; ফলে এখানে অন্য হুকুম প্রয়োগযোগ্য হবে, অর্থাৎ কোন্ হাদীসটি সনদের দিক থেকে সহীহ, কোনটি সহীহ নয় বা দ্বয়ীফ, তা বিশ্লেষণ করে যেটি সহীহ হবে সেটির ওপরই আমল করতে হবে, আর দ্বয়ীফটি ছেড়ে দিতে হবে।[৮]

তথ্যসূত্র:

১. ইবন আবী শায়বাহ: আল মুসান্নাফ, ১/৪২৭, ডান হাতকে বাম হাতের ওপর রাখা অধ্যায়।
২. আবূ দাঊদ: আস সুনান, বাবু ওদ্বয়িল ইয়াম্নি আলাল ইউসরা, ১/২০১, হাদীস ৭৫৬।
ক.আহমদ : আল মুসনাদ, মুসনাদে আলী ইবনে আবী ত্বালিব, ১/১১০।
খ.বায়হাক্বী : আস সুনান আল কুবরা, বাবু ওদ্বহিল ইয়াদাঈন, ২/৩১, হাদীস ২৪৩৬।
গ. যুজাজাতুল মাসাবীহ : ১/৫৮৪।
৩. ইবন আবী শায়বা : আল মুসান্নাফ, ১/৪২৭
ক.যুজাজাতুল মাসাবীহ : ১/৫৮৪ ।
৪. আছরারুস সুনান : ১৪৮।
৫. নাসায়ী: আস সুনান আল কুবরা, মাওদ্বাউল ইয়ামীন মিনাশ শিমাল ফী সালাতি, ১/৪৬৩, হাদীস ৯৬৫।
ক.যুজাজাতুল মাসাবীহ: ১/৫৮৩।
৬. আবূ দাঊদ : আস সুনান ইবনুল আরাবীর অনুলিপি, ১/২৮০।
৭. আছারুস সুনান : ১৪৫।
৮. নামাযে হাবীবে কিবরিয়া : ৯৭-১০২ পৃ

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment