নামাজের পূর্বে ইন্নি ওয়াজ্জাহ্তু পাঠ করা কি বিদআত?

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

নামাজের পূর্বে ইন্নি ওয়াজ্জাহ্তু পাঠ করা কি বিদআত?

লেখক, অনুবাদকঃ মাসুম বিল্লাহ সানি

❏ হাদিস ১:

হজরত আলী (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, রসুল (ﷺ) এর অভ্যাস ছিল যে, তিনি (ﷺ) যখন সালাতের জন্য যখন দাঁড়াতেন, তখন তিনি (ﷺ) এই আয়াতটি পড়তেন [নিয়াত ও তাকবির তাহরিমার পূর্বে]

إِنِّى وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِى فَطَرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

উচ্চারণঃ ইন্নি ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস্ সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিক্বীন।

অর্থঃ “আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।”  (সূরা আনআম ৭৯)

 তথ্যসূত্রঃ

● ইমাম ইবনে আবী শায়বা (رحمة الله): আল-মুসনাদে ইবনে আবী শায়বা, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা ২১০, হাদীস ২৩৯৯

● ইমাম ইবনে খুজাইমা (رحمة الله): আস-সহীহ ইবনে খুজাইমা, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৬৪, হাদীস ৪৬২, অধ্যায় (৪২): তাকবীর ই তাহরিমা ও কিরাতের মধ্যে দুয়া ও জিকির।

● ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (رحمة الله): আল-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৯

● ইমাম তাবারানী (رحمة الله): আল-মুজামুল আওসাত, হাদীস ৪৫৫২

● ইমাম দারেমী (رحمة الله), সুনানে আদ-দারেমী, ইমাম মুসলিম (رحمة الله) এর শিক্ষক, হাদীস ১২৭৪।

● ইমাম নাসায়ী (رحمة الله): আস-সুনান আন নাসায়ী, হাদীস ৮৯৭

● ইমাম নাসায়ী (رحمة الله): আস-সুনান আল-কুবরা, হাদীস ৯৭৩

● ইমাম বাগবি (رحمة الله): শরহুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ৩৪, হাদীস ৫৭২, অধ্যায়: [সালাত শুরুর আগে দু’আ (পড়া)]

 ❏ সনদমানঃ

এই হাদিসের সমস্ত রাবী সিকাহ। তাবেয়ী উবায়দুল্লাহ (رحمة الله) হলেন বুখারী ও মুসলিমের রাবি। (হাদীসটি সহীহ)

❏ হাদিস ২:

ইমাম বাইহাকী (رحمة الله) এটি সংগ্রহ করেছেন,

ইমাম শাফেয়ী (رحمة الله) বর্ণনা করেছেন, হজরত আলী (رضي الله عنه) থেকে হাদীসটি আমাদের নিকট পৌঁছেছে যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সালাত শুরু করার আগে এই আয়াতটি পড়েন –

إِنِّى وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِى فَطَرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

উচ্চারণঃ ইন্নি ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস্ সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিক্বীন।

অর্থঃ “আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।”  (সূরা আনআম ৭৯)

 তথ্যসূত্রঃ

● ইমাম বায়হাকী (رحمة الله): আল-মারিফাতুল সুনানী ওয়াল আসার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৪৫, হাদীস ২৯৯২

❏ হাদিস ৩:

ইমাম তাবারানী (رحمة الله) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (رضي الله عنه) থেকে অন্য একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, রসুলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাতের জন্য যখন দাঁড়াতেন, তখন তিনি (ﷺ) সালাত শুরু করার পূর্বে পড়তেন,

إِنِّى وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِى فَطَرَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَآ أَنَا۠ مِنَ ٱلْمُشْرِكِينَ

উচ্চারণঃ ইন্নি ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস্ সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিক্বীন।

অর্থঃ “আমি এক মুখী হয়ে স্বীয় আনন ঐ সত্তার দিকে করেছি, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরেক নই।”  (সূরা আনআম ৭৯)

তথ্যসূত্রঃ

● ইমাম তাবারানী (رحمة الله): কিতাবুত-দুআ: ১/১১, হাদিস ৫০০।

❏ তাবেয়ী হযরত আতা (رحمة الله) তিনিও সালাতের পূর্বে এই দুআ পড়তেন।

● ইমাম বুখারী (رحمة الله) এর দাদা উস্তাদ ইমাম আবদুর রাজ্জাক ইবনে হুমাম (رحمة الله): আল-মুসান্নাফ: ২/৮২ পৃষ্ঠা, হাদীস ২৫৭১।

❏ ইমাম তাহাবী (رحمة الله) [২২৯-৩২১ হিজরি] এই হাদিস সম্পর্কে অনেক আলোচনা।

● ইমাম তাহাবীঃ শরহে মাআনিল আছার: ১/১৯, হাদীস ১১৮১-১১৮৫।

❏ ইমাম ইউসুফ (رحمة الله) যিনি ইমাম আবু হানীফা (رحمة الله) এর অন্যতম সেরা শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তাবে-তাবেয়ীও ছিলেন তিনিও এটি বর্ণনা করেছেন।

● ইমাম শায়খ ইব্রাহিম হালাবী হানাফি (رحمة الله): হালাবী কবিরিতে ২৯ পৃষ্ঠা।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment