তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

তাবিজ ও ঝাড় ফুঁক সম্পর্কে।

তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে তা অবশ্যই জায়িজ। একে নাজায়িজ ও শিরক বলা মুর্খতা বৈ কিছু নয়।

কেননা এসব তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই মনে করা হয়। যেমন ডাক্তার প্রদত্ত ঔষদের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত আল্লাহকে মনে করার কারণে তা নাজায়িজ নয়। যদি মুয়াসসার বিজজাত ঐ ঔষধকে মনে করলে ঔষধ সেবনও শিরক ও হারাম হবে।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দলিল

__________________

 عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ « أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ ». وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

হযরত আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলে আক্রাম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে,সে যেন أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত (বড়) সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।

[সূত্রঃ সুনানে আবু দাউদ, হা/ ৩৮৯৫]।

এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য তাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।

যারা বলে যে, সকল তাবিজই শিরক, তাহলে হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ কি শিরক করেছেন? নাউজুবিল্লাহ!

হাদীস দেখেই ফাতওয়া দেয়া যায় না। হাদীস সম্পর্কে প্রাজ্ঞতা থাকতে হয়। তাবীজ কবচ সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীসে সেসব তাবীজকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেসব তাবীজের কথা কুফরী থাকে।

ঝাড় ফুঁক ও তাবিজের অনুমোদন।

____________________

     عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ رَخَّصَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- لأَهْلِ بَيْتٍ مِنَ الأَنْصَارِ فِى الرُّقْيَةِ مِنَ الْحُمَةِ.

হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে কারিম صلى الله عليه و آله وسلمএক আনসার পরিবারের লোকদের বিষক্রিয়ার ঝাড়  ফুঁকের অনুমতি দিয়েছেন।

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৪; হা/ ৫৫৫৫ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম]।

    جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ أَرْخَصَ النَّبِىُّ -صلى الله عليه وسلم- فِى رُقْيَةِ الْحَيَّةِ لِبَنِى عَمْرٍو.

قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ وَسَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ لَدَغَتْ رَجُلاً مِنَّا عَقْرَبٌ وَنَحْنُ جُلُوسٌ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم-. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرْقِى قَالَ  مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, নবীয়ে দোজাহাঁ صلى الله عليه و آله وسلمবনু আমর গোত্রের লোকদের সর্প দংশনে ঝাড় ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন। হযরত আবু যুবাইর বলেন, আমি হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহকে রা. বর্ণনা করতে শুনেছি, আমাদের একজনকে বিচ্ছু দংশন করল। আমরা তখন রাসুল সা. এর কাছে বসা ছিলাম। এক ব্যাক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি ঝেড়ে দেই? তিনি বলেন, তোমাদের যে কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে পারে সে যেন তা করে।

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৭ হা. ৫৫৬৪ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম]।

    عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِىِّ قَالَ كُنَّا نَرْقِى فِى الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِى ذَلِكَ فَقَالَ اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ .

হযরত আউফ ইবনে মালেক আশজায়ী রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জাহেলিয়াতের যুগে আমরা ঝাড় ফুঁক করতাম। আমরা আরজ করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি বলেন তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার সামনে পেশ কর। ঝাড় ফুঁকে যদি শিরকের শব্দ না থাকে তাহলে এতে কোন সমস্যা নেই।

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৮ হা. ৫৫৬৯ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম]।

عَنْ جَابِرٍ قَالَ كَانَ لِى خَالٌ يَرْقِى مِنَ الْعَقْرَبِ فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الرُّقَى – قَالَ – فَأَتَاهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ نَهَيْتَ عَنِ الرُّقَى وَأَنَا أَرْقِى مِنَ الْعَقْرَبِ. فَقَالَ  مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَفْعَلْ

হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার এক মামা বিচ্ছুর বিষ ঝাড়তেন। অতপর রাসুলুল্লাহ صلى الله عليه و آله وسلمঝাড় ফুঁক করতে নিষেধ করেন। তিনি তার কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি তো ঝাড় ফুঁক করতে নিষেধ করেছেন। আমি বিচ্ছুর বিষ ঝেড়ে থাকি। তিনি বললেন তোমাদের যে কেউ তার ভাইয়ের উপকার করতে পারে সে যেন তার উপকার করে। 

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৭ হা. ৫৫৬৫ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম]।

عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَنِ الرُّقَى فَجَاءَ آلُ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ كَانَتْ عِنْدَنَا رُقْيَةٌ نَرْقِى بِهَا مِنَ الْعَقْرَبِ وَإِنَّكَ نَهَيْتَ عَنِ الرُّقَى. قَالَ فَعَرَضُوهَا عَلَيْهِ. فَقَالَ  مَا أَرَى بَأْسًا مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ أَنْ يَنْفَعَ أَخَاهُ فَلْيَنْفَعْهُ

হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলে আক্রাম صلى الله عليه و آله وسلم ঝাড় ফুঁক করতে নিষেধ করলেন। আমর ইবনে হাযম গোত্রের লোকেরা রাসুল রাসুল সা. এর কাছে এসে আরজ করল ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের কাছে কিছু মন্ত্র আছে। এ দিয়ে আমরা বিষ ঝেড়ে থাকি। আপনি তো ঝাড় ফুঁক করতে নিষেধ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারা মন্ত্রগুলো তাঁর সামনে পেশ করল। তিনি বললেন এতে খারাপ তো কিছু নেই। তোমাদের যে কেউ তাঁর ভাইয়ের উপকার করতে পারে সে যেন তা করে।

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৮ হা. ৫৫৬৮ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, বদ নজর, ফুসকুড়ি, ব্রণ, সাপ-বিচ্ছু ইত্যাদির দংশনে ঝাড় ফুঁক করানো উত্তম]।

স্বয়ং হযরত জিব্রাইল আ. রাসুলে খোদা صلى الله عليه و آله وسلم কে ঝাড় ফুঁক করেছেন।

      عَنْ أَبِى سَعِيدٍ أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ فَقَالَ  نَعَمْ . قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ.

হযরত আবু সাঈদ রা. বর্ণনা করেন, হযরত জিব্রাইল আ. নবীয়ে পাক صلى الله عليه و آله وسلمএর কাছে এসে বলেন, হে মুহাম্মাদ আপনি কি অসুস্থ? তিনি বলেন হ্যাঁ! জিব্রাইল আ. নিম্নোক্ত দোয়া পড়ে তাঁকে ঝেড়ে দেন।

بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৫৬ হা. ৫৫৩৭ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, চিকিৎসা রোগ এবং ঝাড় ফুঁকের বর্ণনা]।

ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদি করে বিনিময় গ্রহণও করাও বৈধ

________________

      عَنْ أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- كَانُوا فى سَفَرٍ فَمَرُّوا بِحَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَاسْتَضَافُوهُمْ فَلَمْ يُضِيفُوهُمْ. فَقَالُوا لَهُمْ هَلْ فِيكُمْ رَاقٍ فَإِنَّ سَيِّدَ الْحَىِّ لَدِيغٌ أَوْ مُصَابٌ. فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمْ نَعَمْ فَأَتَاهُ فَرَقَاهُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَبَرَأَ الرَّجُلُ فَأُعْطِىَ قَطِيعًا مِنْ غَنَمٍ فَأَبَى أَنْ يَقْبَلَهَا. وَقَالَ حَتَّى أَذْكُرَ ذَلِكَ لِلنَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم-. فَأَتَى النَّبِىَّ -صلى الله عليه وسلم- فَذَكَرَ ذَلِكَ لَهُ. فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا رَقَيْتُ إِلاَّ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ. فَتَبَسَّمَ و َقَالَ َ َ وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ . ثُمَّ قَالَ  خُذُوا مِنْهُمْ وَاضْرِبُوا لِى بِسَهْمٍ مَعَكُمْ

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. বর্ণনা করেন, রাসুলে মাকবুল صلى الله عليه و آله وسلمএর একদল সাহাবী সফরে ছিলেন। তারা আরবের কোন গ্রাম দিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তাদের কাছে আতিথ্য চাইলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করল। তারা বলল, তোমাদের কেউ কি ঝাড় ফুঁক জানে? আমাদের এই গ্রামের সরদারকে বিচ্ছু দংশন করেছে। এক সাহাবী বললেন, হ্যাঁ! আমি ঝাড় ফুঁক জানি। অতএব তিনি তাদের সাথে গেলেন এবং সুরা ফাতিহা পাঠ করে তাকে ঝাড়লেন। সে ভাল হয়ে গেল। তাকে এক পাল বকরী দেয়া হল। কিন্তু তিনি তা গ্রহন করলেন না এবং বললেন যে, নবী সা. কে জিজ্ঞেস করে নেই। অতএব তিনি নবীয়ে মুকার্রাম صلى الله عليه و آله وسلمএর কাছে এসে সবকিছু বর্ণনা করলেন এবং বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ! আল্লাহর শপথ! আমি সুরা ফাতেহা ছাড়া অন্যকিছু কোন মন্ত্র পড়িনি। তিনি মুচকি হেসে বললেন এটা যে মন্ত্র তা তুমি কিভাবে জানলে? অতপর তিনি বললেন, তাদের থেকে বকরি গ্রহণ কর এবং আমাকেউ একটা ভাগ দিও।

[সূত্রঃ মুসলিম শরীফ ৭/২৬৯ হা. ৫৫৭০ কিতাবুস সালাম, পরিচ্ছেদ, কুরআন এবং দুআর সাহায্যে ঝাড় ফুঁক করে বিনিময় নেয়া জায়েয]।

দেখুন বিজ্ঞ ওলামা ও ফক্বীহরা কী বলেন?

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বুখারী শরীফের ব্যাখ্যগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে লিখেন-

  والتمائم جمع تميمة وهي خرز أو قلادة تعلق في الرأس كانوا في الجاهلية يعتقدون أن ذلك يدفع الآفات والتولة بكسر المثناة وفتح الواو واللام مخففا شيء كانت المرأة تجلب به محبة زوجها وهو ضرب من السحر وإنما كان ذلك من الشرك لأنهم أرادوا دفع المضار وجلب المنافع من عند غير الله ولا يدخل في ذلك ما كان بأسماء الله وكلامه

তামায়েম শব্দটি তামীমা শব্দের বহুবচন। যা পুঁতি বা মালা সাদৃশ্য। মাথায় লটকানো হয়। জাহেলী যুগে বিশ্বাস করা হতো যে, এর দ্বারা বিপদমুক্ত হওয়া যায়, মহিলারা এসব ব্যবহার করতো স্বামীর মোহাব্বত অর্জন করতে। এটি জাদুরই একটি প্রকার। এটি শিরকের অন্তুর্ভূক্ত। কেননা এর দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের থেকে বিপদমুক্ত হওয়া ও উপকার অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। কিন্তু এ শিরকের অন্তুর্ভূক্ত হবে না যেসব তাবীজ কবচে আল্লাহর নাম বা কালাম থাকে।

[সূত্রঃ ফাতহুল বারী-১/১৬৬, ঝারফুঁক অধ্যায়]।

মোল্লা আলী কারী রহঃ বলেন-

  إذا كتب له النشرة وهي كالتعويذ والرقية والمراد بالضمير البارز في قوله فقال أي النبي هو من عمل الشيطان النوع الذي كان أهل الجاهلية يعالجون به ويعتقدون فيه وأما ما كان من الآيات القرآنية والأسماء والصفات الربانية والدعوات المأثورة النبوية فلا بأس بل يستحب سواء كان تعويذا أو رقية أو نشرة وأما على لغة العبرانية ونحوها فيمتنع لاحتمال الشرك فيها

যদি তাবীজের মত কাগজ লিখা হয়। রাসূল (صلى الله عليه و آله وسلم) এর বানী “এটি শয়তানী কর্ম” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল জাহেলী যুগে যদ্বারা চিকিৎসা করা হতো ও যার উপর নির্ভর করা হতো। আর যা কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, আল্লাহর সিফাত সম্বলিত, দুআয়ে মাসুরা হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই। বরং এটি মুস্তাহাব। চাই সেটি তাবীজ হোক, বা ঝারফুক হোক বা কাগজে লিখা হোক। আর যেসব ইবরানী ও অন্যান্য ভাষায় লিখা হয় তা নিষিদ্ধ। কারণ তাতে শিরকের সম্ভাবনা আছে।

[সূত্রঃ মিরকাতুল মাফাতীহ, ৮/৩২১]।

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ উল্লেখ করেন-

 إنما تكره العوذة إذا كانت بغير لسان العرب ، ولا يدرى ما هو ولعله يدخله سحر أو كفر أو غير ذلك ، وأما ما كان من القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به

নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়, বুঝা যায় না তাতে কি আছে? অথবা যাতে জাদু, কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসব তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয় তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই।

[সূত্রঃ ফাতওয়ায়ে শামী-৬/৩৬৩]।

কথিত আহলে হাদীস নামধারী, ওহাবীদের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মতামত

_________________

০১/ কথিত আহলে হাদীস নামধারী ওহাবীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ইবনে তাইমিয়ার মতে-

  يجوز أن يكتب للمصاب وغيره من المرضى شيئا من كتاب الله وذكره بالمداد المباح ويغسل ويسقى كما نص على ذلك أحمد وغيره

বিপদগ্রস্ত বা অসুস্থ লোকদের জন্য ক্বারি দ্বারা আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর জিকর লিখে দেয়া এবং ধুয়ে পান করা জয়েজ।

তারপর এ আলোচনার শেষদিকে তিনি তাবিজাত বৈধ হওয়ার পক্ষে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর একটি আছার পেশ করেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) কাগজের টুকরায় তাবিজ লিখে দিতেন, তা সন্তানসম্ভবা নারীদের বাহুতে বেঁধে দেয়া হত।

[সূত্রঃ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া-১৯/৬৪]।

০২/ আল্লামা শাওকানী ‘নাইলুল আওতারে’ ঝারফুক ও তাবীজের অধ্যায়ে স্পষ্ট ভাষায় উপরোক্ত শর্ত সাপেক্ষের তাবীজকে জায়েজ বলেছেন।

সকল প্রকার তাবীজ নাজায়িজ হলে ঝাড়ফুঁকও না জায়েজ হয়।

কথিত আহলে হাদীস ওহাবীরা তাবীজ কবচকে আমভাবে না জায়িজ বলার জন্য যেসব হাদীস দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে থাকে সেসব হাদীসের মাঝে একটি হাদীস হল-

 إن الرقى والتمائم والتولة شرك

অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও জাদু শিরক।

[সূত্রঃ সুনানে আবু দাউদ, হা/ ৩৮৮৬]।

এ হাদীসে ঝাড়ফুঁককেও শিরক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাহলে কি সকল প্রকার ঝাড়ফুঁক শিরক ও হারাম?

কথিত আহলে হাদীস ওহাবীরা স্বীকার করে যে, কুরআন ও দুআয়ে মাসুরা দ্বারা ঝাড়ফুঁক জায়েজ। এছাড়া হলে নাজায়িজ। তাহলে এ হাদীস দিয়ে তাবীজ নিষিদ্ধের দলিল দেয়া কি ঠিক হবে?

ঝাড়ফুঁক জায়েজের যেমন ব্যখ্যা দেয়া হয় যে, এখানে সর্বপ্রকার ঝাড়ফুঁক উদ্দেশ্য নয়, তেমনি তাবীজ নিষিদ্ধতার হাদীসে সব ধরণের তাবীজ নিষিদ্ধের কথা উদ্দেশ্য নয়। যেমনটি বিজ্ঞ আলেমগণ মতামত ব্যক্ত করেছেন।

ওহাবীদের একটি হাস্যকর দলিলের জবাব

_____________

কথিত আহলে হাদীস ওহাবীরা সকল প্রকার তাবীজ হারাম সাব্যস্ত করার জন্য কিছু হাস্যকর দলিলের অবতারণা করে থাকে।

তার মাঝে একটি হচ্ছে, তারা কুরআন ও হাদীসের সেসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপন করে থাকে, যাতে তাওয়াক্কুল তথা ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর করতে বলা হয়েছে। সেই সাথে সব কিছু করার ক্ষমতা আল্লাহর উপরই ন্যস্ত মর্মে বক্তব্য এসেছে।

এসব আয়াত ও হাদীস উপস্থাপন করে তারা বলতে চায় যে, তাবীজের উপর ভরসা করা মানে আল্লাহর সাথে শিরক করা তাই তা হারাম।

কিন্তু কথিত আহলে হাদীস ওহাবীরা ভরসা করা ও ওসীলা গ্রহণের অর্থ না জানার কারণে এমন বিভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে মূলত।

আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ভরসা করে মুক্তি বা আরোগ্য কামনা শিরক এর মাঝে কোন দ্বিমত নেই।

কিন্তু মূল ভরসা আল্লাহর উপর রেখে ওসীলা গ্রহণ করা জায়েজ এটা সর্বজন স্বীকৃত কথা।

যদি বলা হয় যে, ওসীলা গ্রহণ জায়েজ নয়। তাহলে অসুখ হলে অষুধ খাওয়া কি করে জায়েজ হয়? এক্ষেত্রেতো একই বিষয় আসছে যেমনটি তাবীজের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে।

এখানে যদি বলেন যে, ভরসা আল্লাহর উপর, আর বড়ি বা চিকিৎসা কেবল ওসীলা মাত্র, তাই তা নাজায়েজ নয়। তাহলে তাবীজের ক্ষেত্রে এ অহেতুক প্রশ্ন তোলাই অবান্তর।

সুতরাং বুঝা গেল যে, ডাক্তারী বড়িকে আরোগ্যের মূল কারণ সাব্যস্ত না করে আল্লাহর উপর ভরসা করে ওসীলা হিসেবে যেমন তা ব্যবহার করা বৈধ, তেমনি তাবীজ কবচও জায়েজ। না জায়েজের কোন কারণ নেই।

_________

একটি প্রশ্ন: ইমাম সাহেবরা শিশুরা অধিক কান্না করলে ঝাড়ফুক করা কালো সুতা পরাতে দেন।

এখন এ ঝাড়ফুক করা কালো সুতা পরা কি জায়েজ হবে?

 উত্তর: কান্না বন্ধের জন্য ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার যদি অষুধ খেতে বলতো, তাহলে সেই অষুধ খাওয়ানো জায়েজ হতো কি না?

যদি অসুখ সাড়াতে ওষুধ খাওয়া নাজায়েজ না হয়, তাহলে কুরআনের আয়াত লিখা বা দুআ দরূদ পড়া সূতা গলায় ঝুলানো নাজায়েজ হবে কেন?

সুপ্রিয় পাঠক, তথা-কথিত আহলে হাদীস নামধারী, ওহাবীদের প্রধান কাজ হলো মানুষদের বিদয়াতী ও মুশরিক বানানো।

তারা সব সময় বলে থাকে তাবিজ হলো শিরিক। যারা তাবিজ দেয় এবং যারা তাবিজ ব্যবহার করে সবাই মুশরিক।

এখন কথা হলো আমরা কি গলায় কুআনের আয়াত লিখে লটকালেও মুশরিক হয়ে যাবো?

আসুন দেখি এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের আমল কি বলে।

যখন সাহাবাদের আমলের দিকে তাকাই তখন আমরা দেখতে পাই সাহাবায়ে কিরামের কেউ কেউ তাবিজ ব্যবহার করেছেন। এবং অনেক বড় বড় মুহাদ্দিসীনে কিরামরাও কুরআনের আয়াত দ্বারা লিখিত তাবিজকে জায়েয মনে করতেন।

নিম্নে কিছু প্রমাণ পেশ করা হলোঃ

_______________

হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর (রা.)এর নিকট কেউ এসে তাবিজ চাইলে তিনি তাকে তাবিজ লিখে দিতেন।

[সূত্রঃ মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ২৩৫১১]।

বিখ্যাত তাবিঈ আতা ইবন আবী রাবাহ (রহ.) সাঈদ ইবন মুসাইয়াব (রহ.) ইবন সীরীন (রহ.) মুজাহিদ (রহ.)প্রমূখ ফতওয়া দিতেন, তাবিজ কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা দুআয়ে মাসুরা দ্বারা হলে কোনো অসুবিধা নেই।

[সূত্রঃ ইমাম নববীকৃত আলমাজমূ’ ৯/৭৪, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ৫/৪৩-৪৪, কিতাবুত্তিব্ব ৪৩৯/৩২৬১]।

 عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ ثُوَيْرٍ ، قَالَ : كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ للنَّاسَ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ.

অর্থাৎ, মুজাহিদ রহঃ মানুষদের তাবিজ লিখে দিতেন এবং গলায় লটকাতেন।

[সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/ ২৪০১১]।

  أَخْبَرَنِى نَافِعُ بْنُ يَزِيدَ أَنَّهُ سَأَلَ يَحْيَى بْنَ سَعِيدٍ عَنِ الرُّقَى وَتَعْلِيقِ الْكُتُبِ فَقَالَ : كَانَ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ يَأْمُرُ بِتَعْلِيقِ الْقُرْآنِ وَقَالَ لاَ بَأْسَ بِهِ.

অর্থাৎ, নাফে’ বলেন, আমি ইয়াইয়া বিন সাইদ কে ঝাড়ফুঁক এবং তাবিজ লটকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব কোরআন লিখে লটকানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, এতে কোন সমস্যা নেই।

[সূত্রঃ আস সুনানুল কুবরা, ৯/৩৫১ (২০১০০)]।

  عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ ، قَالَ : سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ عَنِ التَّعْوِيذِ يُعَلَّقُ عَلَى الصِّبْيَانِ ؟ فَرَخَّصَ فِيهِ.

অর্থাৎ, হযরত ইউনুস বিন খাব্বাব বলেন, আমি আবু যাফরকে শিশুর গলায় তাবিজ লটকনো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি অনুমতি দিলেন।

[সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/ ২৪০১৭]।

  عَنْ جَعْفَرٍ ، عَنْ أَبِيهِ ؛ أَنَّهُ كَانَ لاَ يَرَى بَأْسًا أَنْ يَكْتُبَ الْقُرْآنَ فِي أَدِيمٍ ، ثُمَّ يُعَلِّقُهُ.

অর্থাৎ, হযরত জাফর তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, পাকা চামড়াতে কোরআনের তাবিজ লিখে লটকাতে কোন সমস্যা নেই।

[সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/ ২৪০১২]।

[নামধারী সালাফী, তথা-কথিত আহলে হাদীস ওহাবীরা তাদের দাবী অনুযায়ী এ সব বড় বড় সাহাবী এবং বড় বড় মুহাদ্দিসদেরও মুশরিক বলে। নাউযুবিল্লাহ্!]

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ বিন সীরিন বলেন,

 ﻋَﻦْ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞَ ﺑْﻦِ ﻣُﺴْﻠِﻢٍ ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺳِﻴﺮِﻳﻦَ ؛ ﺃَﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻻَ ﻳَﺮَﻯ ﺑَﺄْﺳًﺎ ﺑِﺎﻟﺸَّﻲْﺀِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ .

অর্থাৎ, কোরআনের আয়াত লিখে তাবিজ লটকানোতে কোন অসুবিধা নেই।

[সূত্রঃ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, ২৪০১৪, শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা তাহকীককৃত]।

ইমাম মালিক রহঃ বলেন,

ﻗﺎﻝ ﻣﺎﻟﻚ ﻻ ﺑﺄﺱ ﺑﺘﻌﻠﻴﻖ ﺍﻟﻜﺘﺐ ﺍﻟﺘﻲ ﻓﻴﻬﺎ ﺍﺳﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻋﻠﻰ ﺃﻋﻨﺎﻕ ﺍﻟﻤﺮﺿﻰ

অর্থাৎ:আল্লাহর নাম লিখে অসুস্থ ব্যক্তির গলায় লটকাতে কোন অসুবিধা নেই।

[সূত্রঃ আল ইসতিযকার,৮/৩৯৭.শায়খ সালিম মুহাম্মাদ আতা তাহকীককৃত]।

ইমাম বায়হাকী বলেন,

 ﻭَﻗَﺪْ ﻳُﺤْﺘَﻤَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﻜُﻮﻥَ ﺫَﻟِﻚَ ﻭَﻣَﺎ ﺃَﺷْﺒَﻬَﻪُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﻬْﻰِ ﻭَﺍﻟْﻜَﺮَﺍﻫِﻴﺔِ ﻓِﻴﻤَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﺮَﻯ ﺗَﻤَﺎﻡَ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔِ ﻭَﺯَﻭَﺍﻝَ ﺍﻟْﻌِﻠَّﺔِ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﻳَﺼْﻨَﻌُﻮﻥَ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻘَﻬَﺎ ﻣُﺘَﺒَﺮِﻛًﺎ ﺑِﺬِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﻛَﺎﺷِﻒَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻭَﻻَ ﺩَﺍﻓَﻊَ ﻋَﻨْﻪُ ﺳُﻮَﺍﻩُ ﻓَﻼَ ﺑَﺄْﺱَ ﺑِﻬَﺎ ﺇِﻥْ ﺷَﺎﺀَ ﺍﻟﻠَّﻪُ .

অর্থাৎ, যে সমস্ত হাদীসে তাবিজ লটকানো নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে উদ্দেশ্য হল যে, মনে করবে তাবিজই তাকে রোগ থেকে মুক্তি দিবে। যেমনটা জাহেলী যুগে মানুষরা করত। কিন্তু যে বরকতের জন্য আল্লাহর নাম লিখে লটকাবে, আর সে জানে যে, এ তাবিজের কোন ক্ষমতা নেই, আল্লাহ ছাড়া কেউ রোগ থেকে মুক্তি দিতে পারবেনা, তাহলে তাবিজ লটকাতে কোন সমস্যা নেই।

[সূত্রঃ আস সুনানুল কুবরা, ৯/৩৫০, দায়িরাতুল মাআরিফ প্রকাশনি]।

আল্লামা আবেদ সিন্ধি বলেন,

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺴﻨﺪﻱ ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﺗﻤﺎﺋﻢ ﺍﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻣﺜﻞ ﺍﻟﺨﺮﺯﺍﺕ ﻭﺃﻇﻔﺎﺭ ﺍﻟﺴﺒﺎﻉ ﻭﻋﻈﺎﻣﻬﺎ ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺑﺎﻟﻘﺮﺁﻥ ﻭﺍﻷﺳﻤﺎﺀ ﺍﻹﻟﻬﻴﺔ ﻓﻬﻮ ﺧﺎﺭﺝ ﻋﻦ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﻜﻢ ﺑﻞ ﻫﻮ ﺟﺎﺋﺰ

অর্থাৎ, যে সমস্ত হাদীসে নিষেধ এসেছে সেগুলোতে উদ্দেশ্য হল, জাহেলী যুগের তাবিজ। যেমন- হিংস্র প্রাণির নখ এবং হাড্ডি দ্বারা। কিন্তু যদি তাবিজ হয়ে থাকে কোরআন অথবা আল্লাহর নাম দ্বারা, তবে সেগুলো জায়েজ। নিষেধের অন্তর্ভুক্ত নয়।

[সূত্রঃ আওনুল মা’বুদ, ১০/২৫০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বায়রুত]

ইমাম ইবনে আব্দিল বার মালেকী রহঃ দুই ধরণের হাদীসের উপর তাত্ত্বিক পর্যালোচনা করে বলেছেন,

জাহেলী যুগের মত তাবিজাতী শিরক। অন্যথায় জায়েজ।

[দেখুন- আত তামহীদ, ১৭/১৬২, শায়খ মুসতাফা বিন আহমদ তাহকীককৃত]।

নামধারী আহলে হাদীস, তথা-কথিত সালাফীদের বরণীয় ব্যক্তি আল্লামা মুনাবী বলেন,

 ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﻣﻦ ﻋﻠﻖ ﺗﻤﻴﻤﺔ ﻣﻦ ﺗﻤﺎﺋﻢ ﻟﺠﺎﻫﻠﻴﺔ ﻳﻈﻦ ﺃﻧﻬﺎ ﺗﺪﻓﻊ ﺃﻭ ﺗﻨﻔﻊ ﻓﺈﻥ ﺫﻟﻚ ﺣﺮﺍﻡ ﻭﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻻ ﺩﻭﺍﺀ ﻓﻴﻪ

ﻭﻛﺬﺍ ﻟﻮ ﺟﻬﻞ ﻣﻌﻨﺎﻫﺎ ﻭﺇﻥ ﺗﺠﺮﺩ ﻋﻦ ﺍﻻﻋﺘﻘﺎﺩ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭ ﻓﺈﻥ ﻣﻦ ﻋﻠﻖ ﺷﻴﺌﺎ ﻣﻦ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺼﺮﻳﺤﺔ ﻓﻬﻮ ﺟﺎﺋﺰ ﺑﻞ ﻣﻄﻠﻮﺏ ﻣﺤﺒﻮﺏ ﻓﺈﻥ ﻣﻦ ﻭﻛﻞ ﺇﻟﻰ ﺃﺳﻤﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﺧﺬ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻴﺪﻩ

অর্থাৎ, উদ্দেশ্য হল, যে জাহিলী যুগের মত তাবিজ লটকাবে এবং তার ধারণা তাবিজই তাকে রোগ তেকে মুক্তি দিবে। আর যদি উপরোক্ত আকিদা তার না হয় এবং আল্লাহ তায়ালার নাম লিখে লটকায়, সেটা জায়েজ আছে এবং উদ্দিষ্ট এবং প্রশংসনীয়।

[সূত্রঃ ফয়জুল কাদীর, ৩/২৫০, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ]।

উল্লিখিত মুহাদ্দিসীনে কিরামদের উক্তির আলোকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, কুরআন হাদীস দ্বারা লিখিত তাবিজ ব্যবহার করাতে কোন সমস্যা নাই।

তা সম্পূর্ণ জায়েয।

হাদীসগ্রন্থ অধ্যায়ন করলে এ কথা প্রতিয়মান হয় যে, জাহেলী যুগে বিভিন্ন অসুস্থতা বালা মুসিবাত ইত্যাদির জন্য ঝাড় ফুঁক করা, তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করার প্রচলন ছিল।

তখন অনেকে শিরিকী কথা ইত্যাদি দ্বারা ঝাড় ফুঁক করত। শিরিকী কথাযুক্ত তাবিজ ইত্যাদি গলায় ঝুলিয়ে রেখে তার উপর ভরসা করত।

আল্লাহর প্রতি আরোগ্যের বিশ্বাস না রেখে শুধুমাত্র তাবিজটির উপর বিশ্বাস রাখত। তারা মনে করত এই তাবিজই তাকে আরোগ্য দান করবে। এ জন্য রাসুল সা. এ ধরণের ঝাড় ফুঁক ও শিরিকী কথাযুক্ত তাবিজ ইত্যাদি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিলেন।

দেখুন-

     عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَلا أَتَمَّ اللَّهُ عَلَيْهِ

হযরত উকবা ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি রক্ষাকবচ ঝুলিয়ে রাখল, আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্পন্ন করবেন না। অর্থাৎ তাকে সুস্থ করবেন না।

[সূত্রঃ মুসনাদে আবী ইয়ালা ৩/২৯৫ হা. ১৭৫৯; মুসনাদে উকবা ইবনে আমের জুহানী]।

হাদীসটির সনদে একজন বর্ণনাকারী হলেন খালেদ ইবনে উবায়দ। তিনি মাজহুল অপরিচিত। অতএব হাদীসটি সহীহ নয়।

যেহেতু অসুস্থতা ও বিভিন্ন বালা মুসিবত আল্লাহর তরফ থেকেই আসে এবং তার আরোগ্যও তিনিই করেন। যেহেতু রক্ষাকবচ ব্যবহার করা হয় এবং তার উপর ভরসা করা হয়, সেহেতু বলেছেন তাকে আল্লাহ আরোগ্য করবেন না।

وفي الحديث من علق تميمة فلا اتم الله له. ويقال هي خرزة. وأما المعاذات إذا كتب فيها القرآن وأسماء الله عز وجل فلا بأس بها.

হাদীসে বর্ণিত,

من علق تميمة فلا أتم الله له

তামীমাহকে পুঁথি বলা হয়। তবে তাতে যদি কুরআন বা আল্লাহর নাম লেখা হয়, তবে তাতে কোন প্রকার অসুবিধা নেই।

[সূত্রঃ মুকতারুস সিহাহ ১/৮৩; আস সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিসাহুল আরাবিয়্যাহ ৭/১৮০]।

এ ছাড়াও হাদীসটি ত্রুটিযুক্ত।

عن عقبة (من تعلق تميمة فلا أتم الله له) أعله ابن حبان بأنه له أحاديث مناكير يتفرد بها عن عقبة, فمثله لا يحمل تفرده عن عقبة, فيعل هذا الخبر بمثل هذه العلة, ومنهم من يعله بأنه سيء الحفظ يصيب ويخطيء, وهناك غير ذلك.

হযরত উকবা ইবনে আমের রা. থেকে বর্ণিত। যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলায় আল্লাহ তায়ালা তাকে সুস্থ করবেন না।

ইবনে হিব্বান রহ. হাদীসটিকে মুআল্লাল তথা ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। কেননা তার অধিক মুনকার হাদীস রয়েছে। আর উকবা রা. থেকে এই হাদীসটি একক বর্ণনা। এ জাতীয় একক বর্ণনা উকবা রা. থেকে গ্রহণ করা যায়না। আর তা এই ত্রুটিতে ত্রুটিযুক্ত। অনেকে একে মুখস্থ শক্তির দুর্বলতা কখনও সঠিক আর কখনও বেঠিক হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত মনে করেন। অথচ এখানে এমন নয়।

[সূত্রঃ শরহুল মুকিযা ১/২৭]।

অন্যত্র-

    عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ  إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলে খোদা صلى الله عليه و آله وسلمকে বলতে শুনেছি যে, নিশ্চয় ঝাড় ফুঁক করা, রক্ষাকবচ ব্যবহার করা ও স্বামী বা স্ত্রীকে (ঝাড় ফুঁক বা রক্ষকবচের মাধ্যমে) বশিভুত করা শিরক।

[সূত্রঃ আবু দাউদ ৪/১১, হা/ ৩৮৮৫ চিকিৎসা অধ্যায়, তাবিজ ঝুলিয়ে রাখা পরিচ্ছেদ]।

হাদীসের পরিপূর্ণ অংশ দেখলে বুঝা যায় যে, তিনিও (অর্থাৎহযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.ও) ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদি করা জায়েয মনে করতেন। যেহেতু তার স্ত্রীর চোখে সমস্যা দেখা দেয়ার কারণে একজন ইহুদী ব্যক্তির কাছ থেকে ঝাড় ফুঁক করেছেন। সে কারণে তিনি এমন বলেছেন।

পরবর্তী হাদীসের অংশ হল,

قَالَتْ قُلْتُ لِمَ تَقُولُ هَذَا وَاللَّهِ لَقَدْ كَانَتْ عَيْنِى تَقْذِفُ وَكُنْتُ أَخْتَلِفُ إِلَى فُلاَنٍ الْيَهُودِىِّ يَرْقِينِى فَإِذَا رَقَانِى سَكَنَتْ. فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنَّمَا ذَاكِ عَمَلُ الشَّيْطَانِ كَانَ يَنْخَسُهَا بِيَدِهِ فَإِذَا رَقَاهَا كَفَّ عَنْهَا إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِى كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ  أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِى لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

হযরত আব্দল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এর স্ত্রী যায়নাব বললেন, আমি বললাম- আপনি এমন [নিশ্চয় ঝাড় ফুঁক করা তাবিজ করা ও স্বামী বা স্ত্রীকে (ঝাড় ফুঁক বা তাবিজের মাধ্যমে) বশিভুত করা শিরক] বললেন কেন? আল্লাহর কসম! আমার চোখের সমস্যায় ময়লা নির্গত হয়। চক্ষু লাফালাফি করে। এ সমস্যা অনুভব হলে ওমুক ইহুদীকে আমাকে ঝাড় ফুঁক করতে বলি, সে আমাকে ঝাড় ফুঁক করলে আমার চক্ষু শান্ত হয়। ভাল হয়। তখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, ইহা শয়তানের কাজ। সে তার হাত দিয়ে চোখে গুতাগুতি করে। যখন ঝাড় ফুঁক করে তখন সে বিরত থাকে। আর তাই তোমার জন্যে যথেষ্ট হল যে, তুমি বলবে যেভাবে রাসুল صلى الله عليه و آله وسلمবলতেন এই দুআ’টি।

أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِى لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আর তাই হযরত আব্দল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ঝাড় ফুঁককে অপছন্দ করতেন। কারণ তিনি তার স্ত্রীকে বলেছেন-

إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكِ أَنْ تَقُولِى كَمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- يَقُولُ أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِى لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا

আর তাই তোমার জন্য যথেষ্ট হল যে, তুমি বলবে যেভাবে রাসুলে পাক صلى الله عليه و آله وسلمবলতেন এই দুআটি।

أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِى لاَ شِفَاءَ إِلاَّ شِفَاؤُكَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا.

তবে তিনিও কুরআন বা আল্লাহর যিকির দ্বারা ঝাড় ফুঁক করাকে জায়েয মনে করতেন।

তবে যেহেতু তার স্ত্রী যায়নাব ইহুদী থেকে ঝাড় ফুঁক করিয়েছিলেন। সুতরাং তা শিরকি শব্দ বা যাদু ইত্যাদি হওয়ার কারণে তিনি এটি শয়তানের আমল বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা তখন সাধারণত সকলেই শিরকি কালাম দ্বারা ঝাঁড়, ফুঁক, তাবিজ ইত্যাদি করত। যেমন বর্ণিত হয়েছে-

وروى ابن وهب عن يونس بن يزيد عن ابن شهاب قال بلغني عن رجال من أهل العلم أنهم كانوا يقولون إنه نهى عن الرقي حتى قدم المدينة وكان الرقي في ذلك الزمن فيها كثير من كلام الشرك فلما قدم المدينة لدغ رجل من أصحابه قالوا يا رسول الله قد كان آل حزم يرقون من الحمة فلما نهيت عن الرقى تركوها فقال ادعوا لي عمارة وكان قد شهد بدرا قال اعرض علي رقيتك فعرضها عليه ولم ير بها بأسا وأذن له فيها

ইবনে ওয়াহহাব থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ থেকে তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আহলে ইলমের অনেক ব্যক্তি আমার নিকট পৌঁছিয়েছে যে, তারা বলতেন, তাদেরকে ঝাঁড়, ফুঁক ইত্যাদি থেকে নিষেধ করা হয়েছে মদিনায় আগমন করা পর্যন্ত। আর সে যুগে ঝাঁড় ফুক, তাবিজ ইত্যাদিতে শিরকি কালাম থাকত, যখন মদিনায় এলেন, তাদের সাথীদের মধ্যে একজন ব্যক্তি বিষক্রিয়ায় দংশন করা হল, তারা বলল ইয়া রাসূলুল্লাহ!

আমর ইবনে হাযম গোত্রের লোকেরা বিচ্ছুর দংশনে ঝাঁড় ফুঁক ইত্যাদি করতে পারে। আপনি নিষেধ করা থেকে তারা তা ছেড়ে দিয়েছে। তখন রাসুল সা. বললেন, আমার নিকট উমারা কে ডাক, তিনি বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন, অতপর রাসুলে কারিম صلى الله عليه و آله وسلمবললেন, তোমার মন্ত্রগুলোকে পেশ কর, তিনি তা পেশ করলে তাতে খারাপ কিছু দেখলেন না। অতপর অনুমতি দিলেন।

[সূত্রঃ উমদাতুল কারী ৩১/৩৬৮ চিকিৎসা অধ্যায়, বিচ্ছু দংশন পরিচ্ছেদ]।

অতএব বুঝা গেল সে যুগে যেহেতু শিরকি কালাম দ্বারা তাবিজ করা হত, সে কারণেই হযরত ইবনে মাসউদ রা. তা থেকে নিষেধ করেছেন।

     عن ابن مسعود رضي الله عنه أنه كان يكره الرقي إلا بالمعوذات قلت قال الطبري هذا حديث لا يجوز الاحتجاج بمثله إذ فيه من لا يعرف ثم إنه لو صح لكان إما غلطا أو منسوخا بقوله وما أدراك أنها رقية

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ঝাড় ফুঁক তাবিজ ইত্যাদিকে অপছন্দ করতেন। তবে আল্লাহর নাম বা রাসুল সা. এর শিক্ষা দেয়া দুআসমুহ পড়াকে পছন্দ করতেন।

আমি বলি- ইমাম তবরী রহ. বলেন এই হাদীস দ্বারা দলিল দেয়া জায়েয নয়। কেননা এতে বর্ণনাকারী অপরিচিত। এরপরও যদি একে সঠিক ধরাও হয়, তবে তা ভুল হবে বা রাসুল صلى الله عليه و آله وسلمএর কথা

وما أدراك أنها رقية “

এটা যে মন্ত্র তা তুমি কিভাবে জানলে?” দ্বারা রহিত হয়ে গেছে।

[সূত্রঃ উমদাতুল কারী ৩১/৩৫৭]।

সালাফী ও গায়রে মুকাল্লীদগণের দলীল ও তার জাওয়াব

_______________

সালাফীগণ তাবীজ-কবজ নাজায়েজ হওয়া সম্পর্কে পুস্তিকাও প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি পুস্তিকা হল “আক্বীদাহ’র মানদণ্ডে তাবীজ”।

তাদের দলীল প্রথমতঃ

ওই সব আয়াত যার মধ্যে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদ দূর করাকে আল্লাহ’র শান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন –

(ক) আল্লাহ্‌ তোমাকে ক্লেশ দিলে তিনি ব্যতীত কেউই তা দূর করার নেই। আর তিনি যদি তোমার মঙ্গল চান তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউই নেই। (সূরা-ইউনুস, আয়াত-১০৭)

(খ) আল্লাহ’রই ওপর তোমরা ভরসা করো যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো। (সূরা মায়েদা:২৩)

(গ) মু’মিনগণ যেন আল্লাহ’র ওপর-ই ভরসা করে। (সূরা ইব্রাহীম:১১)

জাওয়াব

________

তাবীজ গ্রহণ করা উল্লেখিত আয়াতগুলোর পরিপন্থী হতো যদি তাবীজ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শুধু তাবীজের ওপরই ভরসা করা হতো। কিন্তু যদি ভরসা আল্লাহ’র ওপর থাকে এবং তাবীজকে ওসীলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় যেমনটি করা হয় ওষুধ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে, তাহলে আদৌ তা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী হবে না। নতুবা বলতে হবে বৈধ পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ করাও উক্ত আয়াতগুলোর পরিপন্থী। এ জাতীয় আয়াত দ্বারা তাবীজ নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল দেয়া অনেকটা ছেলেমানুষী এবং ভাষা জ্ঞানে অপরিপক্কতারই পরিচায়ক।

দ্বিতীয়তঃ

ওই সব আয়াত যা’তে শিরকের নিন্দাবাদ করা হয়েছে।

ক) নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাঁর সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন না। অন্য গুণাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। (সূরা নিসা:১১৬)

খ) যে ব্যক্তি আল্লাহ’র সাথে শরীক করে সে যেন আকাশ থেকে পড়ে, অতঃপর পাখি তাকে ছোঁ মেরে নিয়ে যায় কিংবা বায়ু তাকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে দূরবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করে। (সূরা হজ্ব:৩১)

জাওয়াব

__________

তাবীজের ওপর নিজস্ব প্রভাব বা ক্ষমতা আছে মনে করলে শিরকের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ রকম মনে না করলে শিরকের প্রশ্ন অবান্তর। আগেই উল্লেখ করেছি যে তাবীজ গ্রহণ করা জায়েয, তাও শর্ত সাপেক্ষে; এর মধ্যে তাবীজের নিজস্ব ক্ষমতা আছে বিশ্বাস না রেখে আল্লাহ’র রহমতের ওপর বিশ্বাস রাখা শর্ত।

তৃতীয়তঃ

ঐ সব হাদীছ যা’তে ঝাড়ফুঁক ও তাবীজেকে শিরক বলা হয়েছে –

ক) যে তাবীজ (পুতি) লটকালো সে শিরক করলো।

খ) অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও যাদু শিরক।

গ) এক হাদীছে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে একদল লোক উপস্থিত হলো। অতঃপর তিনি নয় জনকে বাই’আত করান, কিন্তু একজনকে বাই’আত করেন নি। তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজনকে বাদ রাখলেন কেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, তার সাথে একটি তাবীজ রয়েছে। তখন তাঁর হাত ভিতরে ঢুকালেন এবং তাবীজটি ছিঁড়ে ফেললেন। অতপর তাকেও বাই’আত করালেন এবং বললেন, যে ব্যক্তি তাবীজ ব্যবহার করলো সে শিরীক করলো।

জাওয়াব

__________

কিছু উত্তর আগেই দেয়া হয়েছে। এখানে প্রথম হাদীছ দুটোতে যে তাবীজের কথা বলা হয়েছে, তার দ্বারা শিরকপূর্ণ তাবীজ উদ্দেশ্য। তার প্রমাণ হল এখানে উল্লেখিত দ্বিতীয় হাদীছে ঝাড়ফুঁককেও শিরক বলা হয়েছে, অথচ সব ঝাড়ফুঁক শিরক নয়; স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং ছাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমও ঝাড়ফুঁক করতেন, যা পূর্বে সহীহ হাদীছের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব, এখানে ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দেয়া হবে তাবীজের ব্যাপারেও একই ব্যাখ্যা দেয়া হবে। এ ব্যাখ্যা করতে আমরা বাধ্য এ কারণেও যে, সহীহ ছাহাবা ও তাবেয়ীনসহ পরবর্তী যুগ পরম্পরায় তাবীজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃতীয় হাদীছে তাবীজ থাকার কারণে যে ব্যক্তির বাই’আত না করা এবং তার তাবীজ খুলে ফেলার কথা বলা হয়েছে, এ দ্বারা কোনোভাবেই সব ধরনের তাবীজ নিষিদ্ধ হওয়ার দলীল দেয়া যায় না। কারণ সে লোকটি ইসলাম গ্রহণের জন্যই এসেছিলো। তাই মুসলমান হওয়ার আগে সে যে তাবীজ লাগিয়েছিলো তা অবশ্যই শিরক-পূর্ণ তাবীজ ছিলো। যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষিদ্ধ বলেছেন ও শিরক বলেছেন।

আশা করি দীর্ঘ দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা ইসলামে তাবীজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের বিষয়ে সঠিক ফয়সালা বুঝতে কারো অসুবিধা হবে না। অর্থাৎ, বৈধ উদ্দেশ্যে বৈধ কালাম দ্বারা তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁক জায়েয। কুফুরী বাক্যাবলী দ্বারা তা জায়েয নেই। ওয়াল্লাহু ওয়া রাসূলাহু আ’লামু।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment