তাফসীরঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, প্রসঙ্গ- শানে রিসালাত, মীলাদ বা আবির্ভাব।

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

সউদি বাদশাহের অর্থায়নে মুদ্রিত ও অনুমোদন কৃত দেওবন্দের অন্যতম আকাবীর মুফতী মাওলানা মুহাম্মদ শফীর তাফসীরকৃত ও অপর আকাবীর মাসিক মদিনা পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন খানের অনূদিত তাফসীরে মাআরেফুল কোরআন এর সংক্ষিপ্ত তাফসীর সংষ্করণ থেকে সংগৃহীত।

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আন্ নুরের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৯৪৪-৯৪৫-এ “নবী করিম (সাঃ)-এর নুর” শিরোনামের আলোচনায় রয়েছেঃ

“ইমাম বগাভী বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে আছে, একবার হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) কা’ব আহবারকে জিজ্ঞেস করলেনঃ এই আয়াতের তাফসীরে আপনি কি বলেন? কা’ব অাহবার তাওরাত ও ইঞ্জিলে সুপণ্ডিত মুসলমান ছিলেন। তিনি বললেনঃ এটা রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পবিত্র অন্তরের দৃষ্টান্ত। মিশ্কাত তথা তাক মানে তাঁর বক্ষস্থল, زُجَاجَةٍ তথা কাঁচপাত্র মানে তাঁর পুতঃপবিত্র অন্তর এবং مِصْبَاحٌ তথা প্রদীপ মানে নুবুয়্যাত। এই নুবুয়্যাতরুপি নুরের বৈশিষ্ট্য এই যে, প্রকাশিত ও ঘোষিত হওয়ার পূর্বেই এতে মানবমণ্ডলীর জন্যে আলো ও ঔজ্জল্য ছিল। এরপর ওহী ও ঘোষণা এর সাথে সংযুক্ত হলে এটা এমন নুরে পর্যবসিত হয়, যা সমগ্র বিশ্বকে আলোকজ্জল করে দেয়।
রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নুবুওয়াত প্রকাশ বরং তাঁর জন্মেরও পূর্বে তাঁর নুবুওয়াতের সুসংবাদবাহী অনেক অত্যাশ্চর্য ঘটনা পৃথিবীতে সংঘটিত হয়েছে। হাদীসবিদগণের পরিভাষায় এসব ঘটনাকে ‘এরহাসাত’ বলা হয়। কেননা, ‘মুজেযা’ শব্দটি বিশেষভাবে এমন ঘটনাবলী বোঝাবার জন্যে প্রয়োগ করা হয়, যেগুলো নবুওয়তের দাবীর সত্যতা প্রকাশ করার জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন পয়গম্বরের হাতে প্রকাশিত হয়। পক্ষান্তরে নবুওয়ত দাবীর পূর্বে এ ধরনের অনেক অত্যাশ্চর্য ঘটনা প্রকাশ পেলে তার নাম দেয়া হয় ‘এরহাসাত’। এ ধরনের অনেক অত্যাশ্চর্য ঘটনা সহীহ্ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। শায়খ জালালুদ্দীন সুয়ূতি (রঃ) ‘খাসায়েসে কোবরা’ গ্রন্থে, অাবু নায়ীম ‘দালায়েল-নবুওয়াত’ গ্রন্থে এবং অন্যান্য আলেমগণও স্বতন্ত্র গ্রন্থাদিতে এসব ঘটনা সন্নিবেশিত করেছেন। তাফসীরে মাযহারীতেও অনেক তথ্য বর্ণিত হয়েছে।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আন্ নুরের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৯৪৪-৯৪৫-এ “নবী করিম (সাঃ)-এর নুর” শিরোনামের আলোচনা।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, আয়াত ৭-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১০৭২-এ ডান কলামে লাইন ২৩ থেকে লাইন ২৯-এ রয়েছেঃ

” وَمِنكَ وَمِن نُّوح-
সাধারণভাবে সমস্ত নবীগণের কথা উল্লেখের পর পাঁচ জনের নাম বিশেষভাবে এজন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবীকূলের মধ্যে তাঁরা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। এঁদের মধ্যে রসুলে মকবুল (সাঃ)-এর আবির্ভাব সকলের শেষে হয়ে থাকলেও وَمِنك শব্দের মাধ্যমে নবীজীকে সর্বাগ্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যার কারণ হাদীসে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ আমি (নবীকূলের মাঝে) সৃষ্টিগত দিক দিয়ে আগে, কিন্তু আবির্ভাব ও নবুওয়াত প্রাপ্তির দিক দিয়ে সকলের পরে।-(মাযহারী)
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, আয়াত ৭-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১০৭২-এ ডান কলামে লাইন ২৩ থেকে লাইন ২৯।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল-আনআম, পৃষ্ঠা ৪২৮, ডান কলামে লাইন ৮ থেকে লাইন ১৫-এ রয়েছেঃ

“আর আমি সর্বপ্রথম মুসলমান। উদ্দেশ্য এই যে, এ উম্মতের মধ্যে সর্বপ্রথম মুসলমান আমি। কেননা, প্রত্যেক উম্মতের প্রথম মুসলমান স্বয়ং ঐ পয়গম্বরই হন যাঁর প্রতি ওহী অবতরণ করা হয়। প্রথম মুসলমান হওয়া দ্বারা এদিকেও ইঙ্গিত হতে পারে যে, সৃষ্টজগতের মধ্যে সর্বপ্রথম রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নুর সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর সমস্ত নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল ও অন্যান্য সৃষ্টজগত অস্থিত্ব লাভ করেছে। এক হাদীসে বলা হয়েছেঃ
আল্লাহ্ তাআলা সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেছেন।- (রুহুল-মা’আনী)
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল-আনআম, পৃষ্ঠা ৪২৮, ডান কলামে লাইন ৮ থেকে লাইন ১৫।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা বাকারাহ-এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৬৪ এর বাম কলামে “রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর জন্মের বৈশিষ্ট্য” শিরোনামের আলোচনায় রয়েছেঃ

“রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর জন্মের বৈশিষ্ট্যঃ মুসনাদে আহমদ গ্রন্থে উদ্ধৃত এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (সাঃ) বলেনঃ ‘আমি আল্লাহর কাছে তখনও পয়গম্বর ছিলাম, যখন আদম (আঃ)-ও পয়দা হয়নি; বরং তাঁর সৃষ্টির জন্য উপাদান তৈরি হচ্ছিল মাত্র। আমি আমার সূচনা বলে দিচ্ছিঃ আমি পিতা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর দোয়া, ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদ এবং স্বীয় জননীর স্বপ্নের প্রতীক। ঈসা (আঃ)-এর সুসংবাদের অর্থ তাঁর এ উক্তি وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِن بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ (আমি এমন এক পয়গম্বরের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আসবেন। তাঁর নাম আহমদ। ৬১/৬।) তাঁর জননী গর্ভাবস্থায় স্বপ্নে দেখেন যে, তাঁর পেট থেকে একটি নুর বের হয়ে সিরিয়ার প্রাসাদসমূহ আলোকোজ্জল করে তুলেছে। কোরআনে হুযুর (সাঃ)-এর আবির্ভাবের আলোচনা প্রসঙ্গে দু’জায়গায় সুরা আলে-ইমরানের ১৬৪ তম আয়াতে এবং সুরা জুমু’আয় ইবরাহীমের দোয়ায় উল্লেখিত ভাষারই পূনরাবৃত্তি করা হয়েছে। এভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) যে পয়গম্বরের জন্যে দোয়া করেছিলেন, তিনি হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা বাকারাহ-এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৬৪-এর বাম কলামে “রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর জন্মের বৈশিষ্ট্য” শিরোনামের আলোচনা।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল আহজাবের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১০৮৮-এ বাম কলামের লাইন ২৬ থেকে লাইন ৩৮-এ রয়েছেঃ

“سراج
অর্থ প্রদীপ منير অর্থ জোতির্ময়। রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর পঞ্চম গুণ ও বৈশিষ্ট্য এই বলা হয়েছে যে, তিনি জোতিষ্মান প্রদীপ বিশেষ। আবার কতক মনিষী سراج منير এর মর্মার্থ কোরআন পাক বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু কোরআন পাকের বর্ণনাধারা ও প্রকাশভংগী দ্বারা এই কথায় বোঝা যায় যে, ইহাও হযরত (সাঃ)-এরই বৈশিষ্ট্য ও গুণ বিশেষ।
কোরআনে বর্ণিত রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর এই গুণাবলী তাওরাতেও উল্লেখ রয়েছে। যেমন, ইমাম বুখারী (রঃ) উদ্ধৃত করেছেন যে, হযরত আতা ইবনে ইয়াসার (রাঃ) এরশাদ করেন যে, আমি একদিন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আসের (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে অনুরোধ করলাম যে, তাওরাতে রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর যেসব গুণাবলীর উল্লেখ রয়েছে মেহেরবাণী পূর্বক আমাকে সেগুলো বলে দিন। তিনি এরশাদ করলেন, আমি তা অবশ্যই বলবো। আল্লাহর কসম! রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর যেসব গুণাবলীর বর্ণনা কোরআনে রয়েছে তা তাওরাতেও রয়েছে।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল আহজাবের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১০৮৮-এ বাম কলামের লাইন ২৬ থেকে লাইন ৩৮।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা ইউনুস, আয়াত ৯৩ এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৬১৬-এ ডান কলামের লাইন ২০ থেকে শেষ লাইন পর্যন্ত রয়েছেঃ

“বিস্ময়ের বিষয় যে, মহানবী (সাঃ)-এর আবির্ভাবের পূর্বে তো এরা শেষ নবীর উপর বিশ্বাস পোষণ করত, তার নিদর্শনসমূহ ও তাঁর আগমনের সময় নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদ লোকদেরকে বলত, নিজেরাও দোয়া করতে গিয়ে শেষ যামানার নবীর ওসীলা দিয়ে দোয়া করত, কিন্তু যখন শেষ যমানার নবী (সাঃ) তাঁর যাবতীয় প্রমাণাদি এবং তওরাতের বাতলানো নিদর্শনসহ আগমন করলেন, তখন এরা পরষ্পর মতবিরোধ করতে লাগল এবং কিছু লোক ঈমান আনলেও অন্যান্য সবাই অস্বীকার করল। এ আয়াতে রাসুলে কারিম (সাঃ)-এর আগমনকে جَاءَهُمُ الْعِلْم শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। এখানে ُ الْعِلْم বলতে ‘নিশ্চিত বিশ্বাস’ও উদ্দেশ্য হতে পারে। তাহলে অর্থ হবে এই যে যখন প্রত্যক্ষ করার সাথে সাথে বিশ্বাসের উপকরণসমূহ সংযোজিত হয়ে গেল, তখন তারা মতবিরোধ করতে লাগল।
কোন কোন তাফসীরবিদ একথাও বলেছেন যে, এখানে الْعِلْم অর্থ যখন সে সত্তা সামনে এসে উপস্থিত হল, যা তওরাতে ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে পূর্বাহ্নেই জানা ছিল, তখন তারা মতবিরোধ করতে আরম্ভ করল।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা ইউনুস, আয়াত ৯৩ এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ৬১৬-এ ডান কলামের লাইন ২০ থেকে শেষ লাইন পর্যন্ত।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩০২-এ ডান কলামের লাইন ১ থেকে লাইন ৮ পর্যন্ত রয়েছেঃ

“আলোচ্য আয়াত نور (নুর) শব্দ দ্বারা কোরআন শরীফকে বোঝানো হয়েছে।-(রুহুল-মা’আনী) যেমন, সুরা মায়েদার আয়াত قَدْ جَاءكُم مِّنَ اللّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ অর্থাৎ, তোমাদের কাছে আল্লাহ্ তাআলার পক্ষ থেকে এক উজ্জল আলো তথা এক প্রকৃষ্ট কিতাব অর্থাৎ, কোরআন এসেছে।- (বয়ানুল কোরআন)
আবার নুর অর্থ রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এবং কিতাব অর্থ আল-কোরআনও হতে পারে।- (রুহুল মা’আনী) তবে তার অর্থ এই নয় যে, রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) মানবীয় দৈহিকতা থেকে পবিত্র শুধু নুর ছিলেন।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা ৩০২-এ ডান কলামের লাইন ১ থেকে লাইন ৮ পর্যন্ত।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আত্ তাগাবুনের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১৩৭৭-এ ডান কলামের লাইন ২৩ থেকে লাইন ২৬ এ রয়েছেঃ

“মানব হওয়া নবুওয়তেরও পরিপন্থী নয় এবং রেসালাতের উচ্চ মর্যাদারও প্রতিকূল নয়। রসুল (সাঃ) নুর হলেও মানব হতে পারেন। তিনি নুরও এবং মানবও। তাঁর নুরকে প্রদীপ, সূর্য ও চন্দ্রের নুরের নিরীখে বিচার করা ভুল।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আত্ তাগাবুনের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃষ্ঠা ১৩৭৭-এ ডান কলামের লাইন ২৩ থেকে লাইন ২৬।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা বনী ইসরাঈলের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃৃষ্ঠা ৭৯৩-এ বাম কলামের লাইন ২ থেকে লাইন ৫-এ রয়েছেঃ

“প্রশ্ন হয় যে, রসুল ও উম্মতের সমজাতি হওয়া যখন শর্ত, রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) জ্বিন জাতির রসুল নিযুক্ত হলেন কিরুপে! জ্বিন তো মানুষের সমজাতি নয়। উত্তর এই যে, রসুল শুধু মানবই নন; বরং তিনি ফেরেশ্তাসূলভ ব্যক্তিত্ব এবং মর্যাদারও অধিকারী  এ কারণে তাঁর সাথে জ্বিনদেরও সম্পর্ক থাকতে পারে।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা বনী ইসরাঈলের তাফসীর প্রসঙ্গে পৃৃষ্ঠা ৭৯৩-এ বাম কলামে লাইন ২ থেকে লাইন ৫।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল্ মুনাফিকুন এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃৃষ্ঠা ১৩৭১-এ রয়েছেঃ

“কা’ব ইবনে লুবাই রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পূর্বপুরুষদের অন্যতম। আল্লাহ্ তায়ালা মুর্খতাযুগেও তাঁকে প্রতিমা পুঁজা থেকে রক্ষা করেন এবং একত্ববাদের বিশ্বাস রাখার তৌফীক দান করেন। তিনি রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর আবির্ভাবের সুসংবাদও মানুষকে শুনিয়েছিলেন। কোরাইশ গোত্র তাঁকে একজন মহান ব্যক্তি হিসেবে সম্মান করত। ফলে রসুলুল্লাহ্ (সাঃ) নবুওয়ত লাভের পাঁচশত ষাট বছর পূর্বে যেদিন তাঁর মৃত্যু হয়, সেদিন থেকেই কোরাইশরা তাদের বছর গণনা শুরু করে। শুরুতে কা’বা গৃহের ভিত্তি স্থাপন থেকে আরবদের বছর গণনা আরম্ভ করা হত। কা’ব ইবনে লুবাই- এর মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যুদিবস থেকেই বছর গণনা প্রচলিত হয়ে যায়। এরপর রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর জন্মের বছর যখন হস্তিবাহিনীর ঘটনা সংঘটিত হয়, তখন এদিন থেকেই তারিখ গণনা আরম্ভ হয়। সারকথা এই যে, ইসলাম পূর্বকালেও কা’ব ইবনে লুবাই -এর আমলে শুক্রবার দিনকে গুরুত্ব দান করা হত। তিনিই এই দিনের নাম জুমুআর দিন রেখেছিলেন।- (মাযহারী)”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, সুরা আল্ মুনাফিকুন এর তাফসীর প্রসঙ্গে পৃৃষ্ঠা ১৩৭১।]

তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১৫-এ “মহানবী (সঃ)-এর আগমন সমগ্র মানবতার জন্য সর্ববৃহৎ অনুগ্রহ” শিরোনামের আলোচনায় রয়েছেঃ

“মহানবী (সঃ)-এর আগমন সমগ্র মানবতার জন্য সর্ববৃহৎ অনুগ্রহঃ  لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ আয়াতে বর্ণিত বিষয়বস্তুর প্রায় অনুরূপ বিষয়েরই একটি আয়াত সূরা বাক্বারায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ আয়াতে একটি শব্দ অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে-
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ
এ প্রসঙ্গে প্রথম লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, কুরআন কারীমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী মহানবী (সঃ) হচ্ছেন সমগ্র বিশ্বের জন্য সবচাইতে বড় নেয়ামত ও মহা অনুগ্রহ। কিন্তু এখানে এই আয়াতে শুধুমাত্র মু’মিনেদের জন্য নির্দিষ্ট করাটা কুরআনের অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে কুরআন সমগ্র বিশ্বের জন্য হিদায়াত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত থাকা সত্ত্বেও هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ বলারই অনুরূপ যে, কোন কোন ক্ষেত্রে তাকে মুত্তাকীনেদের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে। তার কারণ, উভয় ক্ষেত্রেই এক। তা হল এই যে, যদিও রসূলে মকবূল (সঃ)-এর অস্তিত্ব মু’মিন-কাফের নির্বিশেষে সমগ্র বিশ্বের মহা নেয়ামত এবং বিরাট অনুগ্রহ, তেমনিভাবে কুরআন কারীমও সমগ্র বিশ্ব-মানবতার জন্য হিদায়াত, কিন্তু যেহেতু এই হিদায়াত ও নেয়ামতের ফল শুধু মু’মিন-মুত্তাকীরাই উপভোগ করছে, সেহেতু কোন কোন স্থানে একে তাঁদেরই সাথে সম্পৃক্ত করে বর্ণনা করা হয়েছে।”
[সূত্রঃ তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১৫-এ “মহানবী (সঃ)-এর আগমন সমগ্র মানবতার জন্য সর্ববৃহৎ অনুগ্রহ” শিরোনামের আলোচনা।]

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment