খতমে নবুওয়াত/ রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ নবী :

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

বিষয়ঃ খতমে নবুওয়াত

লেখকঃ Masum Billah Sunny

(A) খতমে নবুওয়াত অর্থঃ
__________________
খাতমুন অর্থ সমাপ্তি বা শেষ। খাতমুন নবুওয়াত অর্থ নবুওয়াতের সমাপ্তি। পৃথিবীতে নবী রাসূলগণের আগমণের শেষকে খাতমে নবুয়াত বোঝায়।

(B) কুরআন, তফসীর, হাদিস ও অভিধানে পাওয়া শব্দগুলোঃ
_______________________________
1.
খাতাম (آلة الختم [সমাপ্তকরার যন্ত্র] – জালালাইন শরিফ দ্র:) এবং খাতিম ( آخر ) {উভয় ক্বেরাত প্রযোজ্য}/خاتم (কুরান- সূরা আহযাব ৪০)
2.
খাতাম/خاتم (সহিহ হাদিসের সকল গ্রন্থে)
3.
লা নাবিয়্যা বা’দী/ لا نبي بعدى (বুখারি মুসলিম-২/৬৩৩; ২/২৭৮)
4.
আনাল আ’কিব। انا العاقب (বুখারি শরিফ-১/৫০০)
5.
আনা আখিরুল আম্বিয়া। أنا آخر الأنبياء (মুসলিম শরিফ, হা/৩২৩৯)।
6.
খাতামা বিন নাবিয়্যীন। ختم بى النبيين (মুসলিম শরিফ)।
7.
আন্নার রিসালাতা ওয়ান নাবুওয়াতা ক্বদ ইনক্বাতা’আত। أن الرسالة و النبوة قد انقطعت (তিরমিযি শরিফ-২/৪৫৫; হাদিস নং ২২৭২)।
8.
লা-রাসূলা বা’দী। لا رسول بعدى (তিরমিযি শরিফ-২/৪৫৫)
9.
ফা-আনাল লুবনাতু। فأنا اللبنة (বুখারি-১/৫০১)।
10.
লাও কানা বা’দী নাবিয়্যুন…لو كان بعدى نبى (মুসনাদে আহমদ -৪/১৫৪; মুসতাদরিক আলা আস-সহীহাঈন, হা/৪৪৯৫)
11.
ফা-খাতামতুল আম্বিয়া। فختمت الأنبياء (মুসলিম শরিফ ২/২৪৮)
12.
খাতামুন নাবিয়্যীন অর্থ সর্বশেষ নবী : মুহাম্মদ (স)। ডক্টর মুহাম্মদ ফজলুর রহমান সংকলিত ‘আল-মু’জামুল ওয়াফী’ (আরবী বাংলা অভিধান) পৃষ্ঠা ৩৫৮; ৪র্থ সংস্করণ ২০০৭ ইং।
__________________
(C) দ্বীন ইসলাম পরিপূর্নঃ
__________________
“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতও পূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের জন্য জীবন বিধান হিসেবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম”। (আল মায়েদা-৩)

(D) রূহের জগতে খতমে নবুওয়াতঃ
_______________________________
হযরত আল-ইরবাদ্ব ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূল (সাঃ) বলেন,
“নিশ্চয় আমি আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বশেষ নবী হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিলাম তখন, যখন আদম আঃ মাটিতে মিশ্রিত ছিলেন। অপর সহিহ বর্ননায় আছে, যখন আদম (আ) রুহ ও দেহের মধ্যে ছিলেন।”
Reference :-
★সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৬৪০৪,
★মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭১৬৩,
★মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪১৯৯,
★মুসনাদুশ শামীন, হাদীস নং-১৪৫৫,
★শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২২২,
★মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদীস নং-৫৭৫৯,
★আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-৬৩১
★ইমাম হাকিমঃ আল-মুস্তাদরাক এ এই হাদিসটিকে “সহিহ” বলেছেন।

(E) এ ধরনীতে খতমে নবুওয়তঃ
_______________________
(I) কুরআনে পাকে খতমে নবুওয়াতঃ
_______________________________
(হে লোকেরা!) মুহাম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে কারোর পিতা নয় কিন্তু সে আল্লাহর রসূল এবং শেষ নবী আর আল্লাহ সব জিনিসের জ্ঞান রাখেন৷ (সুরা আহজাব ৩৩:৪০)।
আসুন কিছু আয়াতের সারমর্ম দেখে নেইঃ
– শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমনের পর বিগত সকল নবীর নবুঅত শেষ হয়ে গিয়েছে এবং কুরআন অবতরণের পর বিগত সকল ইলাহী কিতাবের হুকুম রহিত হয়ে গেছে। ঈসা (আঃ) সহ বিগত সকল নবীই শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়ে গেছেন।
★ (ছফ ৬১/৬) এবং
– তাঁরা শেষনবীর আমল পেলে তাঁকে সর্বান্তঃকরণে সাহায্য করবেন বলে আল্লাহর নিকটে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছিলেন
★(আলে ইমরান ৩/৮১)।
– এমনকি তওরাত ও ইনজীলে সর্বশেষ উম্মী নবীর আগমনের সুসংবাদ লিপিবদ্ধ ছিল।
★ (আ‘রাফ ৭/১৫৭)।
– সে হিসাবে মুহাম্মাদ (ছাঃ) কেবল আখেরী যামানার নবী নন, বরং তিনি ছিলেন বিগত সকল নবীর নবী। অনুরূপভাবে তাঁর আনীত কিতাব ও শরী‘আত বিগত সকল কিতাব ও শরী‘আতের সত্যায়নকারী। এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত দেখুনঃ
★ বাক্বারাহ ২/৪১, ৯১, ৯৭;
★ আলে ইমরান ৩/৩, ৫০;
★ নিসা ৪/৪৭;
★ মায়েদাহ ৫/৪৮;
★ ফাত্বের ৩৫/৩১;
★ আহক্বাফ ৪৬/৩০।

(II) তফসীরুল কুরআন ও ইমামগনের দৃষ্টিতে খতমে নবুওয়াতঃ
_______________________________________________
সূরা নিসা’র ৬৯ নং আয়াত এবং সূরা আ’রাফ এর ৩৫ নং আয়াতের সঠিক মর্মার্থঃ
*
১-
খাতাম শব্দের আভিধানিক অর্থ — শুধু আংটি, সীল, ছাপ এ ৩টি নয়, বরং শেষ ও সমাপ্তি এ ২টি অর্থও রয়েছে। শব্দটি বহুবচনে ﺧﻮﺍﺗﻢ (খাওয়াতিম)। ডক্টর মুহাম্মদ ফজলুর রহমান সংকলিত নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ ডিকশনারি المعجم الوافي থেকে দলিল দেয়া হল।
*
খাতাম/খাতিম শব্দের সঠিক অর্থ ইমাম ইবনে যাওজি রহঃ এর কিতাব থেকে জেনে নেব।
(★) যুগশ্রেষ্ঠ যশস্বী ইসলামি পণ্ডিত প্রখ্যাত ইমাম ইবনে যাওজী রহঃ (মৃত ৫৯৭ হিজরী) লিখেছেন –
خاتم بكسر التاء فمعناه : ختم النبيين. و من فتحها فالمعنى : آخر النبيين. قال ابن عباس رضي الله عنه: يريد: لولم أختم به النبيين لجعلت له ولدا يكون بعده نبياً
অর্থ : খাতিম (তা বর্ণে যের অবস্থায়) অর্থ : নবীগণের খতম বা শেষ। আর (খাতাম) তা বর্ণ যবর দ্বারা হলে তখন তার অর্থ : আখেরি নবী বা সর্বশেষ নবী। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন : (আল্লাহ তায়ালা সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতটি নাযিল করে যেন) বুঝাতে চাচ্ছেন যে, যদি আমি (আল্লাহ) তাঁর (নবুওতের) মাধ্যমে নবীগণের আগমন ধারা শেষ না করতাম, তখন অবশ্যই তাঁর সন্তানদের মনোনীত করতাম, যাতে সে তাঁর পরে নবী হতে পারে। (এ পর্যন্ত অনুবাদ শেষ হল)।
সূত্র : ইমাম ইবনে যাওজি রহঃ রচিত ‘যাদুল মাছীর ফী ইলমে তাফসীর- খন্ড নং ৫; পৃষ্ঠা নং ১৩৯।
(★) প্রাচীন আরবি অভিধান مجموع مقاييس اللغة -এর ২য় খন্ডের ২৪৫ নং পৃষ্ঠায় প্রখ্যাত অভিধানবেত্তা ‘ইমামুল লুগাত ওয়াল আদব’ আবুল হাসান ইবনে ফারিস রহঃ(৩২৯-৩৯৫ হিজরী) লিখেছেন –
والخاتم مشتق منه [الختم] لان به يختم. ويقال الخاتم و الخاتام و الخيتام. قال: أخذت خاتامى بغير حق والنبى صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء؛ لأنه آخرهم.
অর্থ : ‘খাতাম’ এটি ‘খতম’ (ক্রিয়ামূল) থেকে নির্গত। কেননা তদ্দারাই সমাপ্ত করা হয়। বলা হবে যে, খাতাম, খাতা-ম এবং খাইতা-ম।
নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি খাতামুল আম্বিয়া। কেননা তিনি তাঁদের (নবীদের) সর্বশেষ।’
*
(★) বিশ্ববিখ্যাত তাফসীরে তাবারী, যা চব্বিশ খণ্ডে রচিত। লেখক আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত-তাবারী (মৃত ৩১০হিজরী)। এখন আমরা মহামান্য তাফসীরকারক আল্লামা তাবারী রহঃ কর্তৃক ‘খাতামুন্নাবিয়্যীন’ এর ব্যাখ্যাঃ

সূরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতে মহান আল্লাহতালা হযরত মুহাম্মদ (সা)-কে শেষনবী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

পবিত্র কুরানের ভাষায় – ولكن رسول الله و خاتم النبیین -(অর্থ : তবে তিনি একজন আল্লাহ’র রাসূল এবং সর্বশেষ নবী।)’।

(III) হাদিসে পাকে খতমে নবুওয়াতঃ
_______________________________

হাদিস ১ :

কুতায়বা ইবনু সা’ঈদ (রহঃ) … আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নাবীগণের অবস্থা এরূপ, এক ব্যাক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সেই ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।
Reference :
★ সহীহ বুখারীঃ খন্ড ৪, অধ্যায় ৫৬ কিতাবুল মানাকিব, হাদিস ৭৩৫
★ সহীহ বুখারী (ইঃফাঃ) হাদিস নং-৩২৮৩
★ মুসলিমঃ খন্ড ৬: পৃ ১৭৯০ অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফাজায়েল, হাদিস ২২৮৬
★ সহিহ তিরমিযীঃ ৫:৫৮৬, কিতাবুল মানাকিব, হাদিস ৩৬১৩
★ মুসনাদে আহমদঃ ২: ৩১২,৩৯৮, হাদিস ৮১০১, ৯১৫৬
★ মুসনাদে আহমদঃ ৫:১৩৬, হাদিস ২১২৮১, ২১২৮২
★ সহিহ ইবনে হিব্বানঃ ১৪:৩১৫, হাদিস ৬৪০৫
★ মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদঃ ১:৯০, হাদিস ১৭২
★ নাসাঈঃ সুনান আল কুবরা, ৬:৪৩৬, হাদিস ১১৪২২
★ বায়হাকীঃ শুয়াবুল ইমানঃ ২:১৭৮, হাদিস ১৪৮৩
★ মাকদেসিঃ আল-আহাদিসুল মুখতারা, ৩:৩৯২, হাদিস ১১৯০,১১৯১
★ দায়লামীঃ আল-ফিরদাউসু বি মাছুরিল খাত্তাবঃ ৪:১২৮, হাদিস ১৩৯৩
★ ইবনে জাওযীঃ ছাফওয়াতুস ছাফওয়াঃ ১:১৮৫
★ তফসীরে ইবনে কাসীরঃ ৩:৫৯৮

হাদিস ২

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিত,
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘৩০ জন মিথ্যাবাদী আগমণের পূর্বে কখনো কিয়ামত হবেনা । তাদের সকলেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহর রাসূল’’।
Reference :
★ সহিহ বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মানাকিব, খন্ড ৯, হাদিস ২৩৭।
★ সহিহ মুসলিমঃ খন্ড ৪১, হাঃ ৬৯৮৮।

হাদিস ৩

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে এবং মূর্তি পূজায় লিপ্ত হওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। আর আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ ঘটবে। তারা সকলেই নবুওয়াতের দাবী করবে।অথচ আমি সর্বশেষ নবী। আমার পর কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবী আসবেনা।
★ সুনানে তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
হাঃ ২২০২,
ইমাম তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহিহ।
★ সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস 4252
★ মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং- ৫৪০৬

হাদিস ৪

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “বনী ইসরাইলকে পরিচালনা করতেন তাদের নবীগণ। এক নবী মৃত্যু বরণ করলে আরেক নবী তার স্থানে এসে দায়িত্ব পালন করতেন। তবে আমার পরে কোন নবী আসবে না, আসবে খলীফাগণ যারা সংখ্যায় বর্ধিত হবে।”
Reference :
★ সহিহ বুখারী : খন্ড ৪, অধ্যায়ঃ কিতাবু আহাদিসিল আম্বিয়া ৫৬, হাদিস ৩২৬৮
★ সহিহ মুসলিমঃ ৩:৪৭১, কিতাবুল ইমারাহ, হাঃ ১৮৪২
★ ইবনে মাজাহঃ ১:৯৫৮, কিতাবুল জিহাদ, হাঃ ২৮৭১
★ মুসনাদে আহমদঃ ১:২৯৭, হাঃ ৭৯৪৭
★ ইবনে হিব্বানঃ ১০: ৪১৮, হাঃ ৪৫৫৫
★ ইবনে আবি শায়বাঃ আল মুসান্নাফঃ ৭:৪৬৪, হাঃ ৩৭২৬০
★ মুসনাদে আবু ইয়ালাঃ ১১:৭৫, হাঃ ৬২১১
★ মুসনাদে আবু আওয়ানাঃ ৪:৪০৯, হাদিসঃ ৭১২৬
★ বায়হাকীঃ সুনান আল কুবরাঃ ৮:১৪৪

হাদিস ৫

আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, “পূর্ববর্তী অন্যান্য নবীদের উপর ৬ টি বিষয়ে আমাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।
১) আমাকে দেয়া হয়েছে অল্প শব্দে অনেক বেশী অর্থবোধক কথা বলার যোগ্যতা।
২) আমি অনেক দূর থেকে শত্রুবাহিনীর মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে বিজয় প্রাপ্ত হই।
৩) গনিমত তথা পরাজিত শত্রুবাহিনীর ফেলে যাওয়া সম্পদ আমার জন্যে বৈধ করা হয়েছে।
৪) যমিনের মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম এবং সেজদা প্রদানের স্থান বানানো হয়েছে।
৫) সমগ্র সৃষ্টিকুলের জন্য আমাকে নবী বানানো হয়েছে এবং
৬) আমার মাধ্যমেই নবী আগমনের ধারাকে সমাপ্ত করা হয়েছে।”
Reference :
★ সহিহ মুসলিম, খন্ড ৪, হাদীস নং- ১০৬২

হাদিস ৬

হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্নিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, রিসালাত ও নব্যুয়াত শেষ হয়ে গেছে এবং আমার পরে আর কোন রাসূল বা নবী আসবেনা”।
Reference :
★ সুনান তিরমিযী, 4:163, কিতাবুর রুইয়া, হাদীস # 2272, তিনি বলেন এটা “হাসান সহীহ”
★ মুসনাদে আহমেদ ইবনে হাম্বল, খন্ড 3, পৃষ্ঠা 267, হাদিস 13851
★ মোস্তাদরেক আল হাকিম, খন্ড 4, পৃঃ 433, হাদিস 8178
★ মাকদেসী, আল আহাদিসুল মুখতারা 7: 206, হাদিস 2645
★ কুরতুবীঃ আল জামেউ লি আহকামিল কুরআনঃ 4:163
★ তফসীরে ইবনে কাসীরঃ 3 : 598 হাদিস 3613
★ যুরকানীঃ শরহুল মুয়াত্তা 4 : 451

হাদিস ৭

হযরত সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী (রাঃ) কে লক্ষ করে বলেন, “মুসা (আঃ) এর নিকট হারুন (আঃ) যেমন তুমি আমার নিকট ঠিক তদ্রুপ। তবে আমার পরে কোন নবী নেই।”
Reference :
★ সহিহ বুখারীঃ ৪:১৬০২, কিতাবুল মাগাযীঃ হাদিস নং ৪১৫৪
★ সহিহ বুখারীঃ ৩:১৩৫৯, কিতাবুল মানাকিব,হাঃ ৩৫০৩
★ সহিহ মুসলিমঃ ৪:১৮৭০, কিতাবু ফাজায়িলুস সাহাবাঃ হাদীস নং ২৪০৪
★ ইয়াম আবু দাউদ , ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, ইমাম মুহাম্মাদ ইসহাক এটা বর্ননা করেছেন।
★ সহিহ তিরমিযীঃ ৫:৬৪০, আবওয়াবুল মানাকিব, হাদিসঃ ৩৭৩০, ৩৭৩১
★ ইবনে মাজাহঃ ১:৪২,৪৫, আল-মুকাদ্দামাহ, হাঃ ১১৫, ১২১
★ মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ১:১৭০, ১৭৩, ১৭৫, ১৭৭, ১৭৯, ১৮২, ১৮৪, ১৮৫, ৩৩০
★ মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ৩: ৩২, ৩৩৮
★ মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বলঃ ৬:৩৬৯, ৪৩৮
★ তাবারানীঃ আল মুজমাউল কবীরঃ ১: ১৪৬,১৪৮, হাদিসঃ ৩২৮, ৩৩৩

হাদিস ৮

হযরত উকবা ইবনে আমির (রাঃ) বর্ণনা করেন,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,“আমার পরে কেউ নবী হলে উমার ইবনুল খাত্তাব নবী হতেন।”
Reference :
★ সুনান তিরমিযীঃ অধ্যায় : কিতাব আল মানকিব, বাব : মানাকিবে উমর (রাঃ) : হাদীস নং- 3272
★ মুসনাদে আহমদঃ ৪:১৫৪
★ মুস্তাদরেক আল হাকিমঃ ৩:৯২, হাঃ ৪৪৯৫
★ রাওইয়ানীঃ আল মুসনাদঃ ১:১৭১, ১৭৪, হাঃ ২১৪, ২২৩
★ হাকিম তিরমিযীঃ ৩:৪৩৮
★ তাবারানীঃ আল মুজমাউল কবীরঃ ১৭: ১৮০, ২৯৮, হাঃ ৪৭৫, ৮২২
★ ইবনে হাজর হাইছামীঃ মুযমাউয যাওয়ায়িদঃ ৯:৬৮
★ ইবনে হাজর আসকালানীঃ ফতহুল বারীঃ ৭:৫১

হাদিস ৯

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন : (সুরা আহযাবের ৪০ নং আয়াতের ব্যাখ্যায়) বুঝাতে চাচ্ছেন যে, যদি আমি (আল্লাহ) তাঁর (নবুওতের) মাধ্যমে নবীগণের আগমন ধারা শেষ না করতাম, তখন অবশ্যই তাঁর সন্তানদের মনোনীত করতাম, যাতে তাঁরা ওনার পরে নবী হতে পারে।”
Reference :
★ ইমাম ইবনে যাওজি রহঃ রচিত ‘যাদুল মাছীর ফী ইলমে তাফসীর- খন্ড নং ৫; পৃষ্ঠা নং ১৩৯।

হাদিস ১০

হযরত জুবাইর ইবনুল মুতয়িম (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সাঃ) ফরমায়েছেন,
– আমি মুহাম্মদ, আমি আহমদ।
– আমি ধুলিসাৎকারী, যাকে দিয়ে আল্লাহ কুফরকে ধুলিসাৎ করেছেন।
– আমি সমবেতকারী, যার কদমের তলে সমুদয় মানব-গোষ্ঠী সমবেত হবে।
– আমি হলাম আক্বিব (সমাপনী), আক্বিব তিনি, যার পরে কোনো ধরণের নবী আসবে না।’
Reference :
★ সহিহ মুসলিমঃ ৪:১৮২৮, কিতাবুল ফাজায়েল, হাঃ ২৩৫৪
★ সহিহ বুখারীঃ ৩:১২৯৯, কিতাবুল মানাকিব, হাঃ ৩৩৩৯
★ সহিহ তিরমিযীঃ ৫:১৩৫, কিতাবুল আদব, হাঃ ২৮৪০
★ ইবনে আবী শায়বাঃ আল মুসান্নাফ, ৬:৩১১, হাঃ ৩১৬৯১
★ নাসাঈ, ইমাম মালেক, ইমাম আহমদ, আবু দাউদ, তায়ালসী, ইবনে সা’দ, তাবরানী, ইমাম বায়হাকী, ইমাম আবু নাঈম প্রমুখ ইমামগন এই হাদিসটি বর্ননা করেছেন।

হাদিস ১১

হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) ফরমায়েছেন,
.
و ارسلت الي الخلق كافة و ختم بي النبيون
.
অর্থাৎ “আমি প্রেরিত হয়েছি সমগ্র সৃষ্টির প্রতি। আমার মাধ্যমেই নবীগণের নবুওয়াতের ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে।”
Reference :
★ সহিহ মুসলিম

হাদিস ১২

হযরত ছাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) ফরমায়েছেন,
.
إنه سيكون في امتي كذابون ثلاثون كلهم يزعم انه نبي و أنا خاتم النبيين لا نبي بعده رواه مسلم.
.
অর্থাৎ আমার উম্মতের মধ্যে অচিরেই এমন ৩০ জন মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে, যাদের প্রত্যেকেই নিজেদের নবী দাবি করবে। অথচ আমিই হলাম খাতামুন্নাবিয়্যীন, আমার পর আর কোনো নবী নেই।
Reference :
★ সহিহ মুসলিম, খন্ড ৪ : হাদিস ১৭১৯
★ সহিহ তিরমিজীঃ ৪:৪৯৯, কিতাবুল ফিতান, হাঃ ২২১৯
★ সুনানে আবু দাউদঃ ৪:৯৭, কিতাবুল ফিতান, ৪২৫২
★ সুনানে ইবনে মাজাহঃ ২:১৩০, কিতাবুল ফিতান, হাঃ ৩৯৫২
★ মুস্তাদরেক আল হাকিমঃ ৪:৪৯৬, হাঃ ৮৩৯০
★ মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাঃ ৭:৫০৩, হাঃ ৩৫৬৫
★ তাবরানীঃ আল মুজমাউল আওসাদঃ ৯:২০০, হাঃ ৩৯৭
★ শায়বানীঃ আল আহাদু ওয়াল মাছানীঃ ৩:২৪, হাঃ ১৩০৯
★ দানীঃ আস সুনানুল ওয়ারিদাতু ওয়াল ফিতানঃ ৪:৮৬৩, হাঃ ৪৪৪
★ ইবনে হাজর আসকালানীঃ ফতহূল বারীঃ ৬:৬১৭
★ বায়হাকীঃ দালায়েলুন নবুওয়াতঃ ১:২২৫

হাদিস ১৩

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহ এমন কোন নবীকে প্রেরণ করেন নি যারা তাদের জাতিকে
দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেন নি কিন্তু এখন আমি সর্বশেষ নবী এবং তোমরা সর্বশেষ উম্মাহ। সে (দাজ্জাল) নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে থেকে উত্থান হবে।”
Reference :
★ সুনান ইবনে মাজাহ , হাদিস # 4067

হাদিস ১৪

হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“আমি সমস্ত নবীদের সর্দার, এতে আমার কোন গর্ব নেই এবং আমিই সর্বশেষ নবী, এতে আমার কোন অহংকার নেই।
Reference :
★ সুনানে দারিমীঃ হাদিস # 50]

হাদিস ১৫

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বিদায়ী মানুষের ন্যায় আমাদের সম্মুখে এলেন অতঃপর তিনবার এই উক্তি করলেনঃ
“আমি মুহাম্মাদ নবী আল-উম্মী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আমার পরে আর কোন নবী নেই।”
Reference :
★ মুসনাদে আহমদ বিন হাম্বল, খন্ড 2 , পৃষ্ঠা নং 172, 212, হাদিসঃ 2606, 2981 (তাখরীজ : শেখ আহমেদ শাকির: এই হাদীসটি হাসান)।
★ হায়ছামীঃ মুযমাউয যাওয়ায়িদ, ১:১৬৯
★ ইবনে রজবঃ জামেউল উলুম ওয়াল হিকামঃ ১:২৬১

হাদিস ১৬

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ
– আমার পরে আর কোন নবী নেই,
– তোমাদের পরে আর কোন উম্মাহ নেই, সুতরাং
– তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর,
– (রমজান) মাসে রোযা রাখ,
– দিনে ৫ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করো,
– তোমাদের নেতাদের মান্য করো এবং এইভাবে তোমরা প্রভুর রহমতের বাগান (জান্নাতে) প্রবেশ কর।
Reference :
★ ইমাম তাবারানীঃ মুজমাওল কবির, খন্ড 8, হাদিস # 7217
হাদিস ১৭
হযরত আবু যর (রাঃ) বর্ণনা করেন যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেনঃ (প্রেরনের দিক থেকে) প্রথম নবী আদম (আঃ) এবং শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
Reference :
★ কানজুল আমল হাদীস # 32269

হাদিস ১৮

হযরত আবু বকর (রাঃ) থেকে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার পাঁচটি নাম রয়েছেঃ
– আমি মুহাম্মাদ এবং আহমাদ;
– আমি আল-মাহী, যার মাধ্যমে আল্লাহ্ কুফর দূর করবেন,
– আমি আল-হাশির, যিনি পুনরুত্থিত হবেন প্রথম মানুষ হিসেবে এবং আমার পরে অন্যরা পুনরুত্থিত হবে এবং
– আমিই আল-আকিব (আমার পরে কোন নবী নেই)”।
Reference :
★ সহিহ বুখারী : খন্ড 4, অধ্যায় 56, হাদিস 732

হাদিস ১৯

ইসমাঈল (রাঃ) থেকে বর্নিত,
আমি আবু আউফা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুত্র ইব্রাহিমকে দেখেছেন? তিনি বলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু তিনি তাঁর শৈশবকালে মারা যান। যদি নবীজী (সাঃ) এর পর আর কোন নবী হতেন তবে তারা হয়ত বেচেঁ থাকতেন।
“কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর পর আর কোন নবী নেই।”
Reference :
★ সহিহ বুখারী : খন্ড 8, অধ্যায় 73, হাদিস 214
হাদিস ২০
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
– আমি আহমেদ, মুহাম্মদ, হাশির,
– মাখফী (যে সর্বশেষে প্রেরিত হয়েছে) এবং
– আমি “খাতিম (নবীগণের পরিসমাপ্তীকারী)”
Reference :
★ ইমাম তবরানীঃ , মও’জমা আস সগীর হাদিস # 152

হাদিস ২১

কাতাদা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে,
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আয়াতটি পাঠ করতেন
[তখন আমরা নবীগণ (আঃ) কাছ থেকে, আপনার (সাঃ) কাছ থেকে এবং নূহ (আঃ) এর কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,…..(দেখুন 33: 7) ] এবং তিনি (সাঃ) বলেন, আমার মাধ্যমে (প্রভুর) দয়ার সূচনা হয়েছে এবং আমাকে পাঠানো হয়েছে সকল নবীগণের শেষে।”
Reference :
★ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস # 31753

হাদিস ২২

আবু হুরায়রা (রাঃ) বলতেনঃ
মসজিদুল হারাম ব্যতীত, আল্লাহর নবীর মসজিদ (মসজিদ আল-নববীতে) নামাজ পড়া, অন্যান্য মসজিদ সমূহে হাজার হাজার নামাজ পড়ার চেয়েও বেশি আশীর্বাদপুষ্ট। এ কারণেই যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী (আখির) এবং তাঁর মসজিদে-নববী (ওনার নির্মিত) সর্বশেষ মসজিদ।
Reference :
★ সহিহ মুসলিম, কিতাব আল-হজ্ব, বাব ফাদল আল-সালাহ্ দ্বি মাজীদ মাকাহ্ ওয়া আল-মদীনা।

হাদিস ২৩

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,’
সুসংবাদের অগ্রদূত (বার্তাবাহী দূত) ব্যতীত আমার পরে আর নবুওয়াত অব্যাহত থাকবে না। ‘তারা জিজ্ঞেস করল, “হে আল্লাহর রসূল! সুসংবাদদাতা কে?” তিনি উত্তর দিলেন: “মুসলমানদের দেখা বা তাদের দেখানো ধার্মিক ও পবিত্র (সত্য) স্বপ্নগুলো।”
Reference :
★ ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলঃ মুসনাদ আল-আহমদ

হাদিস ২৪

হযরত আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) হতে বর্নিত,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি হলাম নবীগণের মধ্যে সর্বশেষ এবং তোমরা হলে উম্মতগণের মধ্যে সর্বশেষ।
Reference :
★ সুনান ইবনে মাজাহঃ ২:৬৩৫৯, কিতাবুল ফিতান, হাঃ ৪০৭৭
★ মুস্তাদরেক আল হাকিমঃ ৪:৫৮০, হাঃ ৮৬২০
★ তাবারানীঃ মুজমাউল কবীরঃ ৮:১৪৬, হাঃ ৭৬৪৪
★ তাবারানীঃ মুসনাদুশ শামিয়্যীন, ২:২৮, ৮৬১
★ রাওইয়ানীঃ আল মুসনাদ, ২:২৯৫, হাঃ ১২৩৯
★ ইবনে আবি আসেম ১:১৭১, হাঃ ৩৯১
★ বায়হাকিঃ কিতাবুল-রু’আইয়াহ

হাদিস ২৫

অন্য রেওয়াতে আছে বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে নবীজী (সাঃ) বলেন,
“হে লোক সকল! আমার পরে আর কোন নবী নাই। তোমাদের পরে আর কোন উম্মত নাই। “
Reference :
★ তাবারানীঃ আল মুজমাউল কবীরঃ ৮:১১৫, ১৩৬, ১৩৮, হাঃ ৭৫৩৫, ৭৬১৭, ৭৬২২
★ তাবারানীঃ আল মুজমাউল কবীরঃ ৮:৩০৩→ হাঃ ৮১৪৬; ২২: ৩১৫→হাদিস ৭৯৭
★ তাবারানীঃ মুসনাদুস সামিয়্যিনঃ ২:১৬, ১৯৩
★ সহিহ ইবনে হিব্বানঃ ১৫:১৯৬, হাঃ ৬৭৮৮
★ মুসনাদ আল হুমাইদঃ ১:২৭০
★ মুসনাদে রাওইয়ানীঃ ২:৩৪১৬
★ শায়বানীঃ আল আহাদু ওয়াল মাছানী, ৫:২৫২, হাঃ ২৭৭৯
★ হায়ছামীঃ মুজমাউল যাওয়ায়িদঃ ৩:২৬৮, ৭:১৮৪
★ দায়লামীঃ আল ফিরদাউসু বি মাছুরিল খাত্তাব, ২:২৩৩, হাঃ ৩১১৮
★ আজলুনীঃ কাশফুল খিফাঃ ২:৪১৭

হাদিস ২৬

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ
-“আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ,
– আমি নবী আল-উম্মী এবং
– অবিশ্বাসী আমার মধ্য থেকে মুছে ফেলব; আমি সমবেতকারী।” এবং – আমিই শেষ নবী আমার পরবর্তী অন্যকোন নবী অনুসৃত হবে না। “
Reference :
★ বুখারী ও মুসলিমঃ কিতাব – উল – ফাজায়েল , বাব: আসমাউন-নবী,
★ তিরমিযীঃ কিতাব-উল-আদব, বাব: আসমাউন নবী ‘,
★ মুয়াত্তায়ে ইমাম মালেকঃ কিতাবু আসমাউন নবী
★ আল মুস্তাদ্রাক হাকিমঃ কিতাব-উত-তারিখ, বাব: আসমা-উন-নবী।

হাদিস ২৭

হযরত জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিত,
আদম (আঃ) এর দু’স্কন্ধের মধ্যখানে কুদরতের কলমে লিপিবদ্ধ আছে,
[মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ খাতামুন্নাবীয়্যিন] অর্থাৎ
“মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবী।”
Reference :
★ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজাখান বেরলভী (রহঃ) লিখিত খতমে নবুয়াতঃ ৩২ পৃষ্ঠা।

হাদিস ২৮

হযরত ইবনে মাসউদ আমের শা’বী থেকে বর্ননা করেন,
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সহিফায় (১০৪ আসমানী কিতাবের মধ্যে একটি) ইরশাদ হয়েছে,
“নিশ্চই তোমার বংশধর সম্প্রদায়ের পর সম্প্রদায়, জাতির পর জাতি হবে অবশেষে নবী আল উম্মী, খাতেমুল আম্বিয়া (সাঃ) তশরীফ আনবেন।”
Reference :
★ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজাখান বেরলভী (রহঃ) লিখিত খতমে নবুয়াতঃ ৩৩ পৃষ্ঠা।

হাদিস ২৯

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ননা করেন,
পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে নবী করিম (সাঃ) এর এ নামসমূহ ছিলঃ
আহমদ, মুহাম্মদ, মাহী, মাকফী (নবীদের মধ্যে সর্বশেষ তশরীফ আনয়ন কারী)।”
Reference :
★ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজাখান বেরলভী (রহঃ) লিখিত খতমে নবুয়াতঃ ৩২ পৃষ্ঠা।
★ ইবনে আসাকির।

হাদিস ৩০

হযরত আনাস বিন মালেক (রাঃ) থেকে বর্নিত,
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, মেরাজের রজনীতে আমার রব আমার এতোটাই নিকটবর্তী হয়েছিলেন যে আমি ও আমার রবের মধ্যখানে দু’ধনুক পরিমান বরং তার চেয়ে কম দুরত্ব ছিল। তিনি বলেন,
হে মুহাম্মদ! আপনি কি দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়েছেন যে, আমি আপনাকে সর্বশেষ নবী করেছি? আমি নিবেদন করলাম, না। আপনার উম্মত কি এতে কষ্ট পেয়েছে যে, আমি তাদের সর্বশেষে পাঠিয়েছি? আমি বললাম, না। (অসম্পুর্ণ)
Reference :
★ আ’লা হযরত ইমাম আহমদ রেজাখান বেরলভী (রহঃ) লিখিত খতমে নবুয়াতঃ ৩৬ পৃষ্ঠা।
★ খতিবে বাগদাদী
_________________
(F) আখিরাতে খাতামুন্নাবীয়্যিনঃ
_______________________
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
“কিয়ামতের দিন তারা আমার কাছে আসবে এবং বলবে, হে মুহাম্মদ (সাঃ) ! আপনি আল্লাহর রসূল এবং “সমস্ত নবীদের মধ্যে সর্বশেষ নবী”। আল্লাহ আপনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পাপসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন (সুতরাং আপনি নিষ্পাপ, মাসুম)। আপনার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন।
Reference :
★ সহীহ বুখারী, খণ্ড 6, অধ্যায় 60, হাদিস 236

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment