কোরবানীর পশুর চামড়া কোথায় দিবেন?

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া আন্জুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া ট্রাস্ট এর পরিচালনাধীন মাদ্রাসাগুলোতে দিতে পারেন।এই ট্রাস্ট একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং সেবাদানমূলক সংস্থা । বাংলাদেশে এর রয়েছে ১০০টিরও বেশি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । তন্মধ্যে ৩টি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান হলো-

.জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা,চট্টগ্রাম
কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা,ঢাকা।
কাদেরিয়া তাহেরিয়া আলিম মাদ্রাসা,ঢাকা।

এখনআপনার মনে যে প্রশ্নগুলো জাগতে পারে !


প্রশ্নঃ এত মাদ্রাসা থাকতে এই মাদ্রাসা গুলোতে কেনদিব?

উত্তরঃ কারণ এই সকল মাদ্রাসা সহীহ ঈমান-আক্বিদা তথা  আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত‘র উপর প্রতিষ্ঠিত । এই ফিত্‌নার সময়ে এমন মাদ্রসার সংখ্যা খুবই অপ্রতুল । তাছাড়া পশুর চামড়াটি গরীব মিসকীনদের হক্ব, মাদ্রাসার হক্ব নয়। তাই এই মাদ্রাসা সমূহে আছে গরীব ছাত্রদের জন্য স্বতন্ত্র মিসকীন ফান্ড । যা কিনা অধিকাংশ মাদ্রাসাতে নাই; যদিওবা তারা বলে যে তাদের মিসকিন/লিল্লাহ ফান্ড আছে । এর ফলে আপনার টাকা সঠিক খাতে ব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম । এখানে আপনার দানকৃত কোরবানীর পশুর চামড়া বা তার সমপরিমাণ টাকা দ্বারা গরীব এবং ইয়াতিম ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রী’ তে পড়ানো হবে ।

প্রশ্নঃ এতে আমার কীলাভ হবে ?

উত্তরঃ আপনার দানকৃত কোরবানীর পশুর চামড়া বা তার সমপরিমাণ টাকা দ্বারা এ সকল গরীব এবং ইয়াতিম ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রী’ তে পড়ানো হবে। যার ফলে তারা পড়ালেখা শেষে যখন দ্বীনি খিদমাতে নিয়োজিত হবে, তখন তাদের দ্বীনি কাজের সাওয়াবের সমপরিমাণ সাওয়াব আপনিও পেতে থাকবেন । অর্থাৎ আপনি আজীবন সাদকায়ে জারিয়ার সাওয়াব পেতে থাকবেন; যা কিনা আপনার পরকালীন জীবনে নাজাতের মাধ্যম হয়ে যাবে ইনশা’আল্লাহ্‌ ।

প্রশ্নঃ আমি এ সকল মাদ্রাসা সমূহেকীভাবে কোরবানীর চামড়া দিব?

উত্তরঃ দুইটি পদ্ধতিতে আপনি আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া দিতে পারবেন,

ক. সরাসরি হ্যান্ড টু হ্যান্ড (হাতে-হাতে)
খ. ব্যাংকএর মাধ্যমে

ক. সরাসরি হ্যান্ড টু হ্যান্ড (হাতে-হাতে)

এক্ষেত্রে আপনি আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া বা তার বিক্রিত মূল্য আঞ্জুমানের চামড়া সংগ্রহকারী প্রতিনিধির হাতে দিতে পারবেন । এজন্য আপনাকে তাদের সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে হবে । ফোন করার পরেই তারা এসে আপনার কোরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য আপনার কাছ থেকে রিসিটের মাধ্যমে নিয়ে যাবে । রিসিট ব্যতীত কাউকে চামড়া দিবেন না । নীচে নম্বরগুলো দেওয়া হল-

১. জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া, বিবিরহাটষোলশহর, চট্টগ্রামঃ-

চট্টগ্রামআঞ্জুমান অফিসঃ   ০৩১-৬৩৪২৪১,৬২৪৩২২,২৮৬৩৮৩৭
সরাসরি মাদ্রাসাঃ ০৩১-৬৫৫৪৭৬,৬৫৫৪৭৮

২. কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা, জয়েন্টকোয়ার্টারমোহাম্মদপুর, ঢাকাঃ-

ঢাকা আঞ্জুমান অফিসঃ ৯১১৯৪০০, ৮১৪২৭০৯

প্রিন্সিপ্যালঃ ০১৮১৯৮৭১২৭৭

৩. কাদেরিয়া তাহেরিয়া আলিম মাদ্রাসা,খিলগাও, ত্রিমোহনী, ঢাকাঃ-
সরাসরি মাদ্রাসাঃ ০১৮১৭-০৮৪৬৮৪ (মুহাম্মদআব্দুররহিম)

মোহাম্মদহুসাইন(সেক্রেটারি) ০১৫৫৬৩৪১৬৯৭

বিঃদ্রঃ যারা চটগ্রাম আছেন, তারা জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া এবং যারা ঢাকায় আছেন, তারা কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা বা কাদেরিয়া তাহেরিয়া আলিম মাদ্রাসায় যোগাযোগ করলেই সবচেয়ে বেশি ভালো হয়।

খ. ব্যাংকএর মাধ্যমে

এ পদ্ধতিতে আপনি আপনার কোরবানীর পশুর চামড়ার বিক্রিত টাকা বাংলাদেশ সহ বিশ্বের যেকোন দেশ হতে আঞ্জুমানের মিসকীন ফান্ডের ব্যাংক একাউন্টে জমা দিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে তিনটি মাদ্রাসারই মিসকীন ফান্ড একাউন্ট এখানে দেওয়া হল।

১. জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়াঃ

# একাউন্ট নং- ১৩২৫ চলতি হিসাব, রুপালি ব্যাংক লিমিটেড, দেওয়ান বাজার শাখা ।
# অনলাইন একাউন্ট : 0012100004780, Shahjalal Islami Bank ltd. Muradpur Branch, a/c type: M.S.D saving

২. কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলীয়া মাদ্রাসাঃ একাউন্ট নং- ১৩৩০০০০০০৪২, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যেবিয়া আলীয়া মাদ্রাসা শাখা।

৩. কাদেরিয়া তাহেরিয়া আলিম মাদ্রাসাঃ সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০৪৫০৪১০৯৯৩০০৭, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, বাসাবো শাখা।

প্রশ্নঃ আমি তো কোরবানী দিচ্ছিনা । তাহলে আমি কীভাবে সাওয়াব পেতে পারি ?

উত্তরঃ জ্বি,ভাই  ! আপনি যদি কোরবানী না দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার অন্য ভাই-বোনদেরকে এ সকল মাদ্রাসার মিসকীন ফান্ডে চামড়া দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন । অথবা এই পোস্টটি অনলাইনে শেয়ার করে দিন । আপনার আহবানে বা শেয়ার করা লেখা পড়ে যতজন এই মাদ্রাসা সমূহে কোরবানীর চামড়া দান করবেন, তাদের সমপরিমাণ সাওয়াব আপনিও পেতে থাকবেন।

কেননা হুজুর পুরনূর সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

“কেউ হেদায়াতের দিকে (বা পূণ্য কাজের দিকে) আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে, প্রত্যেকের সমান সাওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সাওয়াবের কোন কমতি হবেনা” (সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪)

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment