কুরআন-হাদিস পড়ে কেউ হেদায়াত পাবে, কেউ বা পথভ্রষ্ট হবেঃ

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।
  • ★ হাদিস জানার আগে তার চেয়ে বেশি জরুরী হল তার ব্যাখ্যা জানা।– ইমাম ইবনে সীরিন (রহঃ) [ওফাত ১১০ হি]


  • ★ আল্লাহ পাক আল কুরআনে ইরশাদ করেন,



هُوَ الَّذِيَ أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُّحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ في قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاء الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاء تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلاَّ اللّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِّنْ عِندِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلاَّ أُوْلُواْ الألْبَابِ 
07
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।
সুরা আল-ইমরান ৭

  • ★ এ (কুরআন) দ্বারা আল্লাহ তা’আলা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন। তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকেও বিপথগামী করেন না। [সুরা বাকারা: ২৬]



  • ★ হাদিসে এসেছে –



عن أبي سعيد الخدري ، أنه كان إذا رأى الشباب قال : مرحبا بوصية رسول الله صلى الله عليه وسلم ، أوصانا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نوسع لكم في المجلس ، وأن نفهمكم الحديث . فإنكم خلوفنا ، وأهل الحديث بعدنا

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. হইতে বর্ণিত, তিনি যখন কোন যুবককে দেখতেন তখন বলতেন- তোমাদের জন্য রাসুল সা. এর অসিয়ত সম্পন্ন ধন্যবাদ, রাসুল সা. আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে আমরা যেন তোমাদের জন্য মজলিস প্রসস্ত করি এবং তোমাদেরকে
 যেন হাদীস শিক্ষা দিই। তোমরা আমাদের পরবর্তী অনুসারী এবং আমাদের পরে তোমরা আহলে হাদীস।

** মুসতাদরাকে হাকেম১/৮৮, 
** শরফে আসহাবে হাদীস ২১

এই হাদিস দ্বারা আহলে হাদিস ফির্কা গুলো তাদেরকে সঠিক প্রমান করতে ফতোয়া দেয়। অথচ তারা বুখারী মুসলিম ছাড়া অন্যান্য বিভিন্ন হাদিসের কিতাব গুলোকে তেমন গুরুত্ব দেয় না। তাদের দৃষ্টিতে লক্ষ লক্ষ হাদিস মুখস্ত করেও ইমামগন জাল হাদিস চিনে নি তাই সেসকল জাল হাদিস তাদের কিতাবে নিয়েছে। তারা সহিহ হাদিস এর কথা বলে বলে জয়ীফ হাদিস গুলোকে ত্যাগ করে বসে অথচ সেগুলোও হাদিস যা স্বয়ং নবীজীর কথা। তাদের বিরোদ্ধে কোন হাদিস গেলেই তাকে জাল জয়ীফ প্রমান করায় উঠে পড়ে লাগে।
৪ মাযহাবের ইমামগনকে পর্যন্ত অনুসরণ করে না এই বলে যে তারা নাকি শুধু কুরআন হাদিস মানে। আর মাযহাব মানা বিদাত।

(A) গোলাম আহমদ ক্বাদিয়ানী : নবুয়্যতের মিথ্যা দাবীদারঃ


  • ★ কোরআন দিয়ে তার নবুওয়াত প্রমান করার অপপ্রয়াস-


َمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ

এবং মরিয় পুত্র ঈসা বলল হে বনি ইসরাঈল আমি আল্লাহর রাসূল আমি বিদ্যমান থাকা তাওরাতের সত্যতা স্বীকারকারী এবং এমন এক নবীর সুসংবাদদানকারী যিনি আমার পরে আসবেন এবং যার নাম হবে আহমদ।সুরা আসসাফ/৬। 

গোলাম আহমদ দাবী করে এখানে আমি আহমদের কথা বলা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ।

(B) এমনিভাবে শিয়া, খারেজী, মুতাযিলা, বাহাই, কদরিয়া, জবরিয়া, কবরপুজারী, মাজারপুজারী ভন্ড, গোমরাহ, পথভ্রষ্ট সকল দলই কোরান দিয়ে তাদের দলকে উন্নিত করতে চায়।

(C) নামধারী আহলে হাদীসদের দাবী যদি সত্যি হয় তাহলে, 


  • হাদীস অস্বিকারকারী নামধারী আহলে কোরআনরদের দাবী- 

যে আমাদের প্রসংসা করা হয়েছে হাদীস শরীফে তা সত্যি হবে না কেন? যেমন-


عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” إِنَّ لِلَّهِ أَهْلِينَ مِنَ النَّاسِ “، فَقِيلَ: مَنْ أَهْلُ اللهِ مِنْهُمْ ؟ قَالَ: ” أَهْلُ الْقُرْآنِ هُمْ أَهْلُ اللهِ وَخَاصَّتُهُ “

আনাস রা. হইতে বণ্যিত রাসূল সা. বলেন- নিশ্চয় মানুষে মধ্যে কতেক মানুষ আল্লাহর পরিবার ভুক্ত [নৈকট্য প্রাপ্ত]। জিজ্ঞাস করা হলো মানুষের মধ্যে কারা আহলুল্লাহ? রাসুল সা. বললেন “আহলে কোরান” তারা হলো আল্লাহর আহল ও আল্লাহর বিশেষ বান্দা।দেখুন- মুসনাদে আহমদ ১৯/২৯৬

আহলে কুরআন তো এমন এক মারাত্মক ফির্কা যারা কোন হাদিসই মানে না তারা শুধু কুরআন মানে।
অথচ আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করা ইমানদার দের জন্য ফরজ। বিস্তারিত দেখুন সুরা নিসা ৫৯ নং আয়াতে।
হাদীসে উল্লেখিত আহলে কোরআন মানে নামধারী আহলে কোরআন [মুনকারীনে হাদীস] নয়, বরং হোফফাজে কোরআন ও আমেলে কোরআন।দেখুন-মুসনাদে আহমদ ১৯/২৯৬

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment