কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিদ’আত : البدعة

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

��বিদ’আত : البدعة��

সম্মানিত পাঠক!
স্মরণ রাখা একান্ত জরুরি,
কোন বিষয়ের নিষিদ্ধতা বা অগ্রহণযোগ্যতা প্রমানের জন্য অকাট্য-শক্তিশালী প্রমানের দরকার হয়।

কারণ, কোন বিষয়ে নিষিদ্ধতা না থাকা বা নীরবতাও সূন্নাহর অনুকূল।

নিচের হাদিস পাক পড়ুন :
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেছেন,
عن أَبي الدرداءِ قالَ: قالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلّم: «ما أَحلَّ الله في كتابهِ فهوَ حَلالٌ، وما حَرَّمَ فهوَ حَرامٌ، وما سَكَتَ عنهُ فهوَ عَفْوٌ، فاقْبَلوا مِنَ
الله عافِيَتَهُ، فِانَّ الله لم يَكُنْ ليَنْسَى شَيْئاً، ثمَّ تلا:وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا

رواه البزار والطبراني في الكبير، وإِسناده حسن ورجاله موثقون .
অর্থাৎ : আল্লাহ (سبحانہ و تعا لی) তাঁর কিতাবে যা আদেশ করেছেন তা বৈধ, যা নিষেধ করেছেন তা নিষিদ্ধ। আর যে বিষয়ে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন, তাতে ক্ষমা রয়েছে। অতএব তোমরা আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র কাছ থেকে তাঁর ক্ষমা গ্রহণ কর। কেননা আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) তো কোন কিছু ভুলে যান না-(কারণ তা থেকে তাঁর জাত-স্বত্ত্বা পবিত্র)। এ কথার প্রমাণ হিসেবে তিনি পাঠ করলেন, ‘‘তোমাদের প্রভু ভুলে যান না।’’ (সূরাহ্ মারইয়াম; আয়াত ৬৪)
[গ্রন্থ সূত্রঃ ইমাম হাইসামী রহ. কৃত মাজমাউজ যাওয়ায়িদ, ১/১৭১; হাদিস ৭৯৪।]

ইমাম হাইসামী রহ. বলেন : এ হাদিস ইমাম বাজ্জার রহ. বর্ণনা করেছেন; তাছাড়া ইমাম তাবরানী রহ. ‘হাসান’ সনদে বিশ্বস্ত সূত্রে তাঁর ‘কাবীর’ নামক গ্রন্থেও বর্ণনা করেছেন।

বিশুদ্ধ সনদের এই হাদিসটিকে আলবানী তার কৃত ‘সিলসিলা’-তে ‘সহিহ্’ উল্লেখ করেছেন।
[দেখুনঃ আলবানী; সিলসিলা, ৫/৩২৫।]

নুতন যেকোন কিছু, কলাকৌশল কিংবা ভিন্ন কর্ম পন্থা যা রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর ওফাতের পূর্বে চর্চা হয়নি তা বিদ’আত বা নব সূচনা।

বিদ’আহ্ বা নব সূচনা এর ক্ষেত্রে ‘ভাল সূচনা (البدعة الحسنة)’ কিংবা ‘মন্দ সূচনা ( البدعة السيئة )’ উভয়ই হতে পারে। এই সূচনাকে কেউ সীমাবদ্ধ করতে পারে না।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে কর্ম সম্পাদনে ভিন্ন পন্থা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা জরুরী হয়ে পরে।
যেমন বর্তমান আধুনিক শহুরে নগরিক জীবনে আমরা পৃথিবীতে বসবাসকারী ১৪৫০ বছর আগের মানুষের মত জীবনযাপন করতে পারি না।
দ্বীন হচ্ছে মানব জীবনের সমস্ত বিষয়ের বিধান সম্বলিত ব্যবস্থা। আর সে অর্থে ‘ইসলাম’-ই হচ্ছে সর্বযুগে প্রযোজ্য একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা বা বিধান।

এ পর্যায়ে
আমাদের ব্যবহার করতে হয় অধুনা পরিরহণ, যেমন মোটরগাড়ি, স্থল পথের নিম্নে/জল পথের নিম্নে দ্রুতগামী রেলগাড়ী; এবং আকাশ পথে যাত্রার উড়োজাহাজ।
আমরা উঁচু উঁচু বহুতলীক ভবনসমূহে বসবাস করি বানিজ্যিক যোগাযোগ সহ সর্বপ্রকার যোগাযোগে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি।
এ সকল সুবিধাসমূহ বিদ’আহ্ বা নব সূচনা যা রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর যুগে ছিল না।

অতএব ইসলামের মৌলনীতির ভিত্তিতে ভিন্ন পন্থায় আমলযোগ্য বা ব্যবহারযোগ্য যেকোন বিষয়াদি সর্বোতভাবে গ্রহণযোগ্য, অতীব প্রয়োজনীয় এবং ক্ষেত্র বিশেষ অপরিহার্য।
ইসলামি জাতিসত্তাকে বিদ’আতের অন্যায্য বিতর্কের মাধ্যমে ইতিহাসে আবদ্ধ করা যাবে না।

হযরত ইবনূ মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত :
রাসূলুন কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم)  ইরশাদ করেন : মুসলিমদের নিকট যা ভালো বলে গণ্য আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র নিকটও তা ভালো বলে গণ্য, মুসলিমদের নিকট যা মন্দ বিবেচ্য হয় আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র নিকটও তা মন্দ বলে বিবেচ্য।
[গ্রন্থ সূত্র :
*_* ইমাম আহমাদ # ৩৪১৮;
*_* ইমাম হাকিম, ৩/৭৮-৭৯, সহীহ্;
*_* তায়ালিসি (#২৪৩);
*_* তাবারানী : মুজাম আল কাবীর, ৯/১১৮;
*_* তাবারানী : মুজাম আল আউসাত, ৪/৫৮, #৩৬০২;
*_* বাজ্জার : যাওয়ায়িদ, ১/৮১, #১৩০;
*_* আবু নু’য়াইম, ১/১৩৫;
*_* বাগাবী # ১০৫;
*_* ইমাম বায়হাকী : আল ইতিকাদ, পৃ. ২০৮ = পৃ. ২৫১;
*_* শাখাভী : মাকাসিদ, #৯৫৯;
*_* আজলুনী : কাশফ আল খিফা, #২২১৪;
*_* হাইসামী : মাজমা’, ১/১৭৭-৭৮, #৮৩২; ইমাম হাইসামী রহ. ও ইমাম যাহাবী রহ. বলেন, এই হাদিসটি সহীহ্।]

রাসূলুন কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন : “এই উম্মাহ্ (আমার উম্মত) গুমরাহিতে কখনো এক (ইজমা) হবে না। আর আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র সমর্থন সর্বদাই জামা’আত (আহলুস সূন্নাহ্) এর সাথে থাকবে”।
[গ্রন্থ সূত্র :
*_* ইবনূ মাজাহ্ : সহিহ্ #৩৯৪০;
*_* সুয়ূতি : জামি’ সাগীর #২২২১;
*_* তিরমিযী, কিতাবুল ফিতান, #২০৯৩;
*_* আবু দাউদ #৩৭১১;
*_* নাসাঈ (সুনান আল কুবরা, #৩৪৮৩)
*_* বায়হাকী : আসমা’ ওয়া সীফাত, পৃ. ৩২২ সহীহ্)
*_* শুয়াব আল ইমান (৬/৬৭, #৭৫১৭)
*_* আবু নু’য়াইম (হিলইয়া-৩/৩৭, ৯/২৩৮)
*_* হাকিম (১/১১৫-১৬, ৪/৫৫৬ সহীহ্)
*_* আব্দ ইবনূ হুমাইদ (মুসনাদ, #১২১৮)
*_* আহমাদ (মুসনাদ, #২৫৯৬৬)
*_* দারিমী (#৫৪, দ্বয়ীফ)
*_* দীয়া’ আল মাকদিসী (৭/১২৯)
*_* কুদা’ই (১/১৬৭ #২৩৯);
*_* দারাকুতুনী : সূনান, ৪/২৪৫;
*_* ইবনূ আবি শায়বাহ্ (৮/৬০৪, ৬৭২, ৬৮৩)
*_* তাবারানী : মু’জাম আল কাবীর (১/১৫৩, ১/১৮৬, ৩/২০৯, ১২/৪৪৭ এবং ১৭/২৩৯-৪০)
*_* হাইসামী : মাজমা’ (৫/২১৮-২১৯)
*_* হাইসামী : মু’জাম আল আউসাত (৫/১২২, ৬/২৭৭, ৭/১৯৩)
*_* ইবনূ আবি ‘আসীম : কিতাব আস সূন্নাহ্ (পৃ. ৩৯-৪১ #৮০-৮৫, পৃ. ৪৪ #৯২), এছাড়া আরো অসংখ্য কিতাব।
হাদিসটি খুবই প্রসিদ্ধ ও সহীহ্।]

এ পর্যায়ে নিচের হাদিস পাক দেখুন :
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন :
مَنْ سَنَّ فِي اْلإِسْلاَمِ سُنَّةً حَسَنَةً فَلَهُ أَجْرُهَا وَأَجْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا بَعْدَهُ، مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْءٌ .ومَنْ سَنَّ فِي اْلإِسْلاَمِ سُنَّةً سَيِّئَةً كَانَ عَلَيْهِ وِزْرُهَا وَوِزْرُ مَنْ عَمِلَ بِهَا مِنْ بَعْدِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَنْقُصَ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْء
অর্থাৎ: হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলামে কোন উত্তম বিষয় বা আমলের প্রচলন করলো, তার জন্য প্রতিদান বা ছওয়াব রয়েছে এবং তার পরে যারা এই আমল করবে তাদের জন্য ছওয়াব বা প্রতিদান রয়েছে, অথচ এতে তাদের ছওয়াব থেকে কোন পরিমাণ কম করা হবে না; এবং যারা ইসলামে মন্দরীতি প্রচলন করে, এর জন্য তাদের পাপ হবে এবং যারা এর উপর আমল করবে, তাদেরও পাপ হবে, তবে তাদের পাপের বেলায় কোন পরিমাণ কম করা হবে না।’
[গ্রন্থ সূত্র :
*_* মুসলিম বাব ৫,  হাদিস ২২১৯;
*_* মুসলিম বাব ৩৪, হাদিস ৬৪৬৬,
*_* নাসাঈ হাদিস ২৫৫৪,
*_* ইবন মাযাহ হাদিস ২০৩, ২০৬, ২০৭;
*_* আহমাদ – খ. ৪ পৃ.-৩৫৮।]

নব্য ফিত্না ‘সালাফিয়্যাহ্’ এবং ‘দেওবন্দী’ লোকেরা নিচের হাদিস পাক ‘অপব্যবহার’ করে সরলপ্রাণ মুসলিমদের বিভ্রান্ত করে থাকে।
হাদিস পাকটি হলো :
হাযরাত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (رضئ اللہ تعالی عنہ) থেকে বর্ণিত : রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন,
মূল হাদিস পাক :
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ يَحْمَدُ اللَّهَ، وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ يَقُولُ : مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ ثُمَّ يَقُولُ: بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ السَّاعَةَ احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ وَعَلَا صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ كَأَنَّهُ نَذِيرُ جَيْشٍ يَقُولُ صَبَّحَكُمْ مَسَّاكُمْ ثُمَّ قَالَ: مَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِأَهْلِهِ وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَإِلَيَّ أَوْ عَلَيَّ وَأَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ  
খণ্ডিত আলোচ্য অংশ :
ٍ وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّار
অর্থ : “মন্দ বিষয় বা কর্মসমূহ (হচ্ছে) তাদের সূচিত বিদ’আহ্; এবং প্রত্যেক বিদ’আহ্ ভ্রষ্টতা; এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতা দোযখগামী”।
[গ্রন্থ সূত্রঃ মুসলিম বাব ৪ হাদিস ১৮৮৫।]
উক্ত মূল হাদিস পাকের খণ্ডিত অংশটুকু শুনিয়ে বা আলোচনা করে ভূঁয়া সালাফীরা প্রত্যেক নুতন বিষয় বা কর্মকে বিদ’আহ্ বলে সরলপ্রাণ মুসলিমদের সাথে হঠকারিতা করে থাকে।

অথচ উপরে উল্লেখিত হাদিস পাকে ‘মন্দ বিষয়সমূহ’ বা ‘মন্দ কর্ম’-কে বিদ’আহ্ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

উক্ত হাদিস পাকে ক্বুরআ’ন ও সূন্নাহর ভিত্তি বা মূলনীতি দ্বারা প্রমানিত নুতন বিষয় বা কর্মসমূহকে বিদ’আহ্ বলে অভিহিত করা হয় নি।

ক্বুরআ’ন ও সূন্নাহর ভিত্তি বা মূলনীতি বহির্ভূত বিষয় বা কর্মসমূহকে ‘শাররুল উমূর’ (মন্দ বিষয় বা কর্মসমূহ) বলার পরে তা বিদ’আহ্ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর ঐসমস্তকেই নিন্দা করা হয়েছে।

উপরে ইতিপূর্বে উল্লেখিত সহিহ্ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস পাকে রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন,
‘যে ব্যক্তি দ্বীন ইসলামে কোন উত্তম বিষয় বা আমলের প্রচলন করলো, তার জন্য প্রতিদান বা ছওয়াব রয়েছে এবং তার পরে যারা এই আমল করবে তাদের জন্য ছওয়াব বা প্রতিদান রয়েছে, অথচ এতে তাদের ছওয়াব থেকে কোন পরিমাণ কম করা হবে না’।

রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) সহিহ্ হাদিসে ইরশাদ করেন যে প্রত্যেক বিদ’আহ্ ভ্রষ্টতা; আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা দোযখাগামী।
এই খণ্ডিত হাদিস পাকের অংশটুকু সর্ববিষয়ক বা সার্বজনীন নয়; বরং উক্ত পূর্ণাঙ্গ হাদিস পাক এর পূর্বাপর বাক্যগুলীর দ্বারা হাদিস পাকের উদ্দেশ্য বা ইঙ্গিত সুস্পষ্ট।

যেমন বলেছেন যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম ইবন হাযার আল হাইসামী রহ. :

وفي الحديث “كل بدْعة ضلالة وكل ضلالة في النار” وهو محمول على المحرمة لا غي

অর্থাৎ : “হাদিস যে উল্লেখিত আছে : ‘প্রত্যেক বিদ’আহ্ ভ্রষ্টতা; আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতা দোযখে’-ইহার দ্বারা ‘বিদ’আহ্ মুহরিমা’ বা হারাম পর্যায়ের বিদা’আহ্ এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ্য”।
[গ্রন্থ সূত্রঃ ইমাম ইবন হাযার আল হাইসামী রহ. কৃত ‘ফাতাওয়া আল হাদিসিয়া; খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৯ প্রকাশণা: দার উল ফিকর্ বৈরুত লেবানান।]

শারি’আতে এই পরিভাষার ব্যাপকভাবে প্রয়োগ রয়েছে।
যেমন ক্বুরআ’নুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে :
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنْتُمْ لَهَا وَارِدُونَ
তোমরা আর তোমরা যাদের উপাসনা কর আল্লাহর পরিবর্তে, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।
[ক্বুরআ’নুল কারিম; সূরাহ্ আল আম্বিয়া; আয়াত ৯৮।]

আমারা প্রত্যেকেই জানি যে খ্রিস্টান সম্প্রদায় হাযরাত ঈসা আ. এর উপাসনা করে।

এ পর্যায়ে যদি উক্ত আয়াত পাককে ‘সাধারণ বা সার্বজনীন’ ধরে নেয়া হয় ‘নাউযুবিল্লাহ্’ তাহলে হাযরাত ঈসা আ.’কেও দোযখের “ইন্ধন” ধরা হয়ে যায় (আউযুবিল্লাহি মিন যালিক)।

সুতরাং রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর উক্ত কথাটির উদ্দেশ্য বাস্তবসম্মতভাবে বুঝে নিতে হবে।

‘বিদ’আহ্ (নুতন সূচনা)’ শব্দটি দ্বারা তাই উদ্দেশ্য বুঝে নিতে হবে যা শারি’আহর সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়। সহিহ্ বুখারী শরীফে ইহার দালীল বিদ্যমান রয়েছে।

আসুন দেখা যাক,
খণ্ড ৩, বাব ৪৯, হাদিস ৮৬১ সহিহ্ বুখারী : মুহসিন খাঁন ওহাবী অনূদিতঃ

আম্মাজান আয়িশা সিদ্দিকা রা. থেকে বর্ণিত : রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) ইরশাদ করেন,
অর্থ “যদি কেউ এমন কিছুর প্রচলন করল যা আমাদের দ্বীনের মৌলনীতির সাথে সামঞ্জস্যহীন, তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত”।

গুরুত্বপূর্ণ মৌলনীতি :
আমরা অনেক হাদিস পাক থেকে জানতে পারি যে, রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) দ্বীনে নুতন বিষয়ে অনুমোদন দিতেন।

যেমন, কিছু সাহাবী রা. সাপের কামড়ের প্রেক্ষিতে সূরাহ্ ফাতিহা পাঠ করেছিলেন।
[গ্রন্থ সূত্রঃ বুখারী খণ্ড ৩, বাব ৩৬ হাদিস ৪৭৬।]
তাঁরা রা. এই বিষয়ে রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) থেকে পূর্বে কোন নির্দেশনামূলক জ্ঞান পান নি।
পরবর্তীতে তাঁরা রা. সে ব্যাপারে রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কে অবহিত করলে তিনি (صلى الله عليه و آله وسلم) তাঁদেরকে নিন্দাবাদ বা তিরষ্কারের পরিবর্তে সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
দেখুন,
সাহাবায়ে ক্বিরাম রা.’গণ বিদ’আহ্ এর প্রকৃত ধারণা সম্পর্কে সঠিকভাবে অবগত ছিলেন বলে ঐরুপ কাজ করেছিলেন।
তথাপি কিছু লোক বর্তমানে ১৪৫০ বছর পরে বিতর্কের সূচনা করে বলে যে ঐরুপ রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর ওফাৎ এর আগে সম্পাদিত হয়েছিলো। কাজেই তিনি যা আদেশ বা নিষেধ করে গেছেন তাই অনূসরনযোগ্য।

এর জবাবে বলতে হয় যে,
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর কথা বা হাদিসসমূহ পরষ্পরবিরোধী নয়।
কেননা বিদ’আহ্ দ্বারা তিনি (صلى الله عليه و آله وسلم) যদি সকল বিষয়কে মন্দ অর্থাৎ সাধারণ বা সর্ববিষয়ক বা সার্বজনীন মৌলনীতি উদ্দেশ্য দাঁড় করাতেন তাহলে পূর্বে যে বিষয়ে নির্দেশনা ছিল না তা করার কারণে নিন্দা না করে নিজেই তা বৈধতা জ্ঞাপন করতেন না।

অতএব নুতন যে কোন বিষয় শারিঅাহ্ এর মৌলনীতির আলোকে বিচার-বিবেচনা করা আবশ্যক।

নুতন বিষয় প্রচলনের ক্ষেত্রে আরো একটি জবাব দেখুন :

রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর ওফাৎ পরবর্তীকালে হাযরাত উমর রা. সাহাবায়ে ক্বিরাম রা.’গণকে একজন ক্বারীর পিছনে একত্রিত করে রমজান মাসে তারাবিহ্ নামাযের ব্যবস্থা চালু করতঃ বলেছিলেন,
نعم البدعة هذه!
অর্থ ‘কি চমৎকার এই বিদ’আহ্!’
[গ্রন্থ সূত্রঃ সহিহ্ বুখারী, কিতাবুত তারাবিহ।]
এই ‘নস’ থেকে বলা যায় যে প্রত্যেক বিদ’আহ্ মন্দ নয়।

কোন লোক বিতর্ক করে বলতে পারে হাযরাত উমর রা. লুগভী (আভিধানিক) বিদ’আহ্ বুঝিয়েছেন, শারয়ী’ বিদ’আহ্ বুঝান নি।

যারা এরুপ বলবে তাদের থেকে বিদ’আহ্-কে ‘লুগভী বিদ’আহ্ ও শারয়ী বিদ’আহ্’ শাব্দিক প্রকারভেদ করে হাযরাত উমর রা. পার্থক্য করেছেন মর্মে সুস্পষ্ট হাদিসের প্রমাণ চাওয়া হবে।

সর্বোপরি
হাযরাত উসমান ইবনে আফ্ফান রা. পবিত্র জুমুঅা’র নামাযের জন্য নুতন করে দ্বিতীয় আযান (তথা ছানী আযান; যা প্রথম আযান হিসেবে দেয়া হয়) প্রচলন করেন।
এ জবাবের খণ্ডনে কথিত নব্য ফিত্না সালাফীয়্যার লোকেরা জবাব দিয়ে থাকে যে : তাঁরা হলেন খুলাফা আর রশিদীন; তাঁদের নির্দেশ মানতে আমরা বাধ্য। কারণ হাদিসে তাই বলা হয়েছে।

তাদের এই বিতর্কেও পূর্বের ন্যায় জবাব হবে যে,
প্রত্যেক বিদ’আহ্ (নুতন সূচনা) যদি মন্দ হয়ে থাকে তবে সিরত্বল মুস্তাকিমে অধিষ্ঠিত আমাদের পূর্ববর্তী অনূসরণীয়গণ নিজেদের কর্মকাণ্ডকে অসঙ্গতিপূর্ণ বা প্রশ্নবিদ্ধ করতেন না।

বিদ’আহ্ শব্দের দ্বারা যদি কেবলই মন্দকে বুঝাতো তবে সাইয়্যিদুনা হাযরাত উমর রা. نعم البدعة উচ্চারণ না করে نعم السنة শব্দগুচ্ছ উচ্চারণ করতেন।
কাজেই বিদ’আহ্ শব্দের দ্বারা ‘ভাল ও মন্দ’ উভয়ই বুঝায়। আর মন্দ বিষয় নিন্দনীয়।

বিদা’আত সম্পর্কে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া’র অভিমতঃ
“প্রত্যেক বিদাঅা’ত যা মুস্তহাব বা মুবাহ্ কিংবা ওয়াজিব’র অন্তর্ভূক্ত নয় তা বিদাঅা’ত এ সাইয়্যিয়াহ্ (মন্দ তথা নিন্দনীয় বিদাঅা’ত)। আর বিদাঅা’ত এ সাইয়্যিয়াহ্ উলামায়ে ক্বিরাম’র নিকট সর্বসম্মতিক্রমে গুমরাহি তথা ভ্রষ্টতা। কোন কোন বিদাঅা’তের ক্ষেত্রে যাঁরা বলেন যে, এটি `বিদাঅা’তে হাছানা`, ইহা তখনই প্রযোজ্য হবে যখন প্রমানিত হবে যে, তা (বিদাঅা’তটি) মুস্তাহাব। আর যখন কোন বিদাঅা’ত এমন হবে যে, তা (বিদাঅা’তটি) মুস্তাহাব কিংবা ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত নয়, সেটিকে কোন মুছলিম ‘বিদাঅা’ত এ হাছানা`র অন্তর্ভূক্ত করে না। যার মাধ্যমে আল্লাহ্’র নৈকট্য অর্জন করা যায়“।

☆ ক্বাইদাতুন জালিলা ফিত তাওওয়াসূলি ওয়াল ওয়াছিলা, পৃষ্ঠা ৪৬ (মাকতাবায়ে শামেলা)।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বিদাঅা’তকে সুস্পষ্টভাবে `বিদাঅা’ত এ হাছানা` ও `বিদাঅা’ত এ সাইয়্যিয়াহ্` হিসেবে দুই ভাগে classify করেছেন।
এবং কোন কোন বিদাঅা’ত “বিদাঅা’ত এ হাছানা“ হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে শর্ত দিয়েছেন, অন্যান্য উলামায়ে ক্বিরামও একই শর্ত দিয়ে থাকেন।

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া তাঁর “মাজমুউল ফাতাওয়া“তে লিখেছেন :
“যাঁরা বিদাঅা’তকে বিদাঅা’ত এ হাছানা ও বিদাঅা’ত এ সাইয়্যিয়াহ্ হিসেবে ভাগ করেছেন, তাঁদের নিকট কোন বিদাঅা’ত বিদাঅা’ত এ হাছানা হওয়ার জন্য আবশ্যক হল, অনূসরনীয় কোন আ’লিম ইহাকে মুস্তাহাব মনে করেন এবং ইহা মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে শরিঅা’তের আলোকে দলিল পাওয়া যায়।
আর যারা বলে যে, শারিআ’তের সকল বিদাঅা’তই নিন্দনীয়; কেননা রছুলে কারিম ছল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া ছাল্লাম ছহিহ্’র রাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদিছে বলেছেন, “প্রত্যেক বিদাঅা’তই ভ্রষ্টতা“, আর তারাবিহ্ এর ক্ষেত্রে যে হাযরাত উমর ফারুক রা. বলেছেন, “এটি উত্তম একটি বিদাঅা’ত“, তিনি বিদাঅা’ত শব্দটি শাব্দিক অর্থে বিদাঅা’ত বলেছেন, তাঁদের (ছাহবা রা.’দের) নিকটও বিদাঅা’ত হল, এমন কর্ম (আ’মাল) যার মুস্তাহাব (জায়িয) হওয়ার ব্যাপারে শারিআ’তের কোন দলিল নেই“।

☆ মাজমুউল ফাতাওয়া, খণ্ড ২৭, পৃষ্ঠা ১৫২।

বিদআতের সংজ্ঞা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনঃ
��
০১. আরবীতে বিদআত বলতে বুঝানো হয় নব-আবিস্কৃত বিষয়কে।
ইসলামিক পরিভাষায় বিদআত বলা হয় এমন সব কাজকে, যার কোনো ভিত্তি বা ধ্যাণ-ধারণা কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে নেই।
যেমন বিতিরের নামাজ চার রাকাত বা মাগরিবের ফরজ নামাজ দুই রাকাত পড়া।
কিন্তু কেউ যদি কোনো নফল কাজ (যেমন হাদীছে বর্ণিত তাহাজ্জুদের নামাজ, সকাল-সন্ধ্যার তাসবীহ-তাহলীল এবং বিভিন্ন দোয়া ও আযকার) হাদীছে বর্ণিত সংখ্যা বা পরিমাণের চেয়ে বেশি করে, তাহলে সেটা বিদআত হবে না।
এ ব্যাপারে সালাফী/ওয়াহাবীগণও সম্ভবত একমত।
অর্থাৎ, যেসব কাজের ভিত্তি বা ধ্যাণ-ধারণা কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে রয়েছে, সেগুলো কেউ করলে বিদআত হবে না।
আর এ কথা শুধু নফল কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; ফরজের ক্ষেত্রে নয়।
কারণ, শরীয়ত মতে যে কেউ নফল কাজ কমবেশি করার অধিকার রাখেন।
কিন্তু ফরজ কাজের পরিমাণে মুসাফির ও মাযুর ছাড়া কারো জন্য কমবেশি করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে এক ফরজ দুইবার করলে শেষেরটা নফল হয়ে যায়।
বর্তমান মুসলিম সমাজে যে দুইটি শব্দ সবচেয়ে বেশি অপব্যবহারের শিকার, তাহলোঃ জিহাদ ও বিদআত।

আর শব্দ দু’টির অপব্যবহারের কাজটা যাদের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সম্পন্ন হচ্ছে, তারা হলো আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) ও শয়তানের শিং قرن الشيطان হিসেবে খ্যাত শায়খে নজদীর (মৃত্যু ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দ) ভক্তদের মাধ্যমে।

মধ্যপন্থী হিসেবে ওলামায়ে দেওবন্দের অনুসারীদের অনেকের মাঝেও এ প্রবণতা লক্ষণীয়।

ওলামায়ে দেওবন্দের অনুসারীদের অনেকে জিহাদ ও বিদআত নিয়ে মনগড়া, স্ববিরোধী ও বাড়াবাড়ি পর্যায়ের বক্তব্য দিচ্ছে।

সত্য হলো, বিদআতের সংজ্ঞা নিয়ে ওলামায়ে দেওবন্দেরও একক কোনো বক্তব্য নেই।

এ নিয়ে যে যার মত করে কথা বলছে।

অনেকেইতো একেবারে আরব বিশ্বের পরগাছা সালাফী/ওয়াহাবীদের সুরেই কথা বলছে।

তাদের এই সুর মিলানোর কারণ হিসেবে বলা যায়, সমগ্র দুনিয়ার বিগত উলামায়ে অাহলুস সূন্নাহ্ কে উপেক্ষা করে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) ও শয়তানের শিং قرن الشيطان হিসেবে খ্যাত শায়খে নজদীর (মৃত্যু ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দ) প্রতি অন্ধভক্তি, দুনিয়া লোভ আর পেট পূঁজাই মূল উদ্দেশ্য।

এর কারণ হলো, আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু ৭২৮ হিজরী) ও শয়তানের শিং قرن الشيطان হিসেবে খ্যাত শায়খে নজদীর (মৃত্যু ১৭৯২ খ্রিষ্টাব্দ) মতাদর্শ প্রচার করা না হলে সৌদী সরকারের মদদপুষ্ট তাদের মাদ্রাসাগুলো, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান, দয়া-দক্ষিণা, বিভিন্ন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয়।

অনেকে হয়তো জানেন, জীবনের শেষ দিকে এসে আল্লামা ইবনে তাইমিয়ার কিতাব পড়ে দেওবন্দী ক্বওমী আলেম মুফতী ফয়জুল্লাহ সাহেব ফরজ নামাযের পর মুনাজাত ও জিকরে জলীসহ এমন কিছু বিষয়কে বিদআত বলেছেন, যা দেওবন্দী আলেমদের ৯৯% প্রত্যখ্যান করেছেন এবং পটিয়ার প্রয়াত মুফতী ইব্রাহীম ও হাতিয়ার মুফতী ইদ্রিসসহ অনেকে তাঁর যুক্তি খন্ডন করে কিতাবও লিখেছেন।

০২. “সকল বিদআত পথভ্রষ্টতা” শীর্ষক হাদীছের বাক্যকে কেন্দ্র করে কিছু আবেগী লোক যে বলে বেড়ায় কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে স্পষ্ট উল্লেখ নেই এমন সকল বিষয় বিদআত, এ ক্ষেত্রে তারা দলীল হিসেবে পেশ করে এই আলোচনায় পূর্বে উল্লেখিত ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত নবী-পত্নী আমাদের মা আম্মা আয়েশা সিদ্দিকা  رضي الله عنها থেকে বর্ণিত এই হাদীছ, من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد “যে আমাদের এ বিষয়ে (শরীয়তে) এমন কিছু আবিষ্কার করলো, যা এর (শরীয়তের) মধ্য থেকে নয়, তাহলে সেটি প্রত্যাখ্যাত হবে।”

এ হাদীছের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয় যে,
এক/ যেই কাজটির ধ্যান-ধারণা কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে নেই, সেটিই কেবল প্রত্যাখ্যাত হবে।
কিন্তু
দুই/ যে কাজটির ধ্যান-ধারণা কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে রয়েছে, সেটি গ্রহণযোগ্য হবে।

প্রথমটির উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যায় ইমামতিতে (সামাজিক নেতৃত্বও এর অন্তর্ভূক্ত) নারীদের নিয়োগ করা।
এ ধরণের কাজগুলোই মূলত বিদআত।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ হিসেবে পেশ করা যায় আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন তরীকা ও ওয়াজায়েফের আবিষ্কার, কোরআন ও হাদীছের তাফসীর লেখা, নাহু-ছরফসহ আরবী ভাষার ব্যাকরণ আবিষ্কার, তাজভীদ তথা কোরআন তেলাওয়াতের নিয়ম-কানুন আবিষ্কার, ফিকাহ তথা কোরআন ও হাদীছ থেকে মাসআলা তথা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করা, উছূলে ফিকাহ তথা কোরআন ও হাদীছ থেকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করার নিয়ম-নীতি উদ্ভাবন।

নির্দিষ্ট নিয়ম-শৃঙ্খলা ভিত্তিক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা, ওয়াজ মাহফিল করা, রবিউল আউয়াল মাসে মীলাদ ও সীরাতের আলোচনা বা স্মারক বের করা, নির্দ্দিষ্ট নিয়ম-কানুন কেন্দ্রিক কোনো দল, সংগঠন, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান করা, দীনি কাজের বিনিময়ে বেতন গ্রহণ করা, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিভিন্ন পদ-পদবি সৃষ্টি, দীনি কাজে মাইক ও অডিও-ভিডিও রেকর্ডারের ব্যবহার, কারো কবরের সংরক্ষণার্তে তাতে দেওয়াল বা ছাদ দেওয়া এবং যুদ্ধক্ষেত্রে ঢাল-তরবারী ও ঘোড়ার পরিবর্তে আধুনিক যুদ্ধোপকরণ ব্যবহার করা ইত্যাদি।
কারণ, এসব কাজ কোরআন, হাদীছ ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের আমলে না থাকলেও এর ধ্যান-ধারণা ও বৈধতার ভিত্তি সেখানে পাওয়া যায়।

০৩. উপরোক্ত কারণে আলেমগণ বিদআতকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করেছেন।

ইমাম শাফেয়ী বলেছেনঃ
المحدثات ضربان:
1- ما أحدث يُخالفُ كتاباً أو سنةً أو أثراً أو إجماعاً فهذه بدعة الضلال،
2- وما أحدث من الخير لا يخالف شيئا من ذلك فهذه محدثة غير مذمومة. [مناقب الشافعي للبيهقي (1/469)، حلية الأولياء لأبي نعيم (9/113)].
অর্থঃ “নব আবিষ্কৃত কাজ দুই ভাগে বিভক্ত।
০১. যা কোরআন, হাদীছ, ছাহাবীর বাণী ও ইজমার পরিপন্থী। এটি হলো পথভ্রষ্টতার বিদআত।
০২. যা কোরআন, হাদীছ, ছাহাবীর বাণী ও ইজমার পরিপন্থী নয়। তো এ ধরণের নব আবিষ্কৃত কাজ নিন্দনীয় নয়।”
গ্রন্থ সূত্রঃ
*_* ইমাম বাইহাকীর মানাকিবুশ শাফেয়ী: ১/৪৬৯ ও
*_* ইমাম আবু নুয়াইমের হিলয়াতুল আউলিয়া: ৯/১১৩।

ইমাম নবভী রহঃ তাঁর রচিত ছহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে “সকল বিদআতই পথভ্রষ্টতা” শীর্ষক হাদীছের ব্যাখ্যায় বলেনঃ
قال العلماء البدعة خمسة أقسام: واجبة ومندوبة ومحرمة ومكروهة ومباحة. [شرح صحيح مسلم (6/154)].
অর্থঃ আলেমগণ বলেছেন, বিদআত পাঁচভাগে বিভক্ত। ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হারাম, মকরুহ ও মোবাহ।”
গ্রন্থ সূত্র :
*_* ইমাম নবভী কৃত ছহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আদ-দীবাজঃ ৬/১৫৪।

সুলতানুল উলামা খ্যাত ইমাম ইজ্জুবনে সালাম (মৃত্যুঃ ৬৬০ হিজরী) বলেছেনঃ
(البدعة فعل ما لم يعهد في عصر رسول الله ﷺ .
وهي منقسمة إلى: بدعة واجبة، وبدعة محرمة، وبدعة مندوبة، وبدعة مكروهة، وبدعة مباحة،
والطريق في معرفة ذلك أن تعرض البدعة على قواعد الشريعة:
فإن دخلت في قواعد الإيجاب فهي واجبة،
وإن دخلت في قواعد التحريم فهي محرمة،
وإن دخلت في قواعد المندوب فهي مندوبة،
وإن دخلت في قواعد المكروه فهي مكروهة،
وإن دخلت في قواعد المباح فهي مباحة). [قواعد الأحكام في مصالح الأنام (2/204)].
অর্থঃ “বিদআত হলো এমন সব বিষয়, যা রসূলুল্লাহ ছঃ এর যুগে করা হয়নি। এ বিদআত ওয়াজিব, হারাম, মুস্তাহাব, মকরুহ ও মোবাহে বিভক্ত। এ বিদআত যদি ওয়াজিবের নীতির মধ্যে পড়ে, তাহলে ওয়াজিব, যদি হারামের নীতির মধ্যে পড়ে, তাহলে হারাম, যদি মুস্তাহাবের নীতির মধ্যে পড়ে, তাহলে মুস্তাহাব, যদি মকরুহের নীতির মধ্যে পড়ে, তাহলে মকরুহ, যদি মোবাহের নীতির মধ্যে পড়ে, তাহলে মোবাহ।”
গ্রন্থ সূত্র :
*_* কওয়ায়েদুল আহকাম ফী মছালিহিল আনামঃ ২/২০৫।

ইমাম নবভীর শায়খ ইমাম আবু শামা আল-মাকদেসী (মৃত্যুঃ ৬৬৫ হিজরী) বলেছেনঃ
(فالبدع الحسنة متفق على جواز فعلها.
وهي: كل مبتدع موافق لقواعد الشريعة غير مخالف لشيء منها ولا يلزم من فعله محذور شرعي). [الباعث على إنكار البدع والحوادث لأبي شامة (ص23)].
অর্থঃ “বিদআতে হাসানা জায়েয হওয়ার ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। আর তাহলো, সেসব নব-আবিষ্কৃত বিষয়, যা শরীয়তের নিয়ম-নীতি সমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ; কোনোটির পরিপন্থী নয় এবং ওইসব করতে গেলে শরীয়তে নিষিদ্ধ কোনো বিষয়ও সঙ্ঘটিত হয় না।”
গ্রন্থ সূত্র :
*_* আল-বায়েছ আলা ইনকারিল বিদায়ি ওয়াল হাওয়াদিছঃ পৃষ্টা-২৩।

�� সার কথা, নবী কারিম (صلى الله عليه و آله وسلم) ও ছাহাবা-তাবেয়ীনের যুগে কোনো কাজ/বিষয় সম্পন্ন হয়ে না থাকলেই সেটি মন্দ তথা নিন্দনীয় বিদআত হয় না।

তবে জাহেল ও ফাসেক টাইপের মুসিলম লোকগুলো একে অপরকে গালাগালি ও তাকফীরে সময় নষ্ট করবেই।

উল্লেখ্য, রবিউল আউয়াল মাসে মীলাদ নাম দিয়ে মাহফিল করাকে অনেকে অপছন্দ করলেও সীরাত নাম দিয়ে করাকে তারা পছন্দ করে।

তবে সালাফী নামধারী চরমপন্থীরা উভয়টাকে বিদআত মনে করে।

সাম্প্রদায়িক মন-মানসিকতার কারণে নিরীহ মিলাদ শব্দটাকে আজো অনেকে সহজ ভাবে গ্রহণ করতে পারে না।

তবে প্রসিদ্ধ সুন্নী আলেমগণের অনেকে রবিউল আউয়াল মাসে শর্ত সাপেক্ষে মীলাদ/সীরত অনুষ্ঠানের বৈধতার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এ আলেমদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন :
০১. ইমাম আবু শামা আল-মাকদেসী (মৃত্যু ৬৬৫ হিজরী),
০২. ছহীহ বোখারীর অদ্বিতীয় ব্যাখ্যাকার ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী,
০৩. অবিসংবাদিত ইমাম ও লেখক আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী,
০৪. ছহীহ বোখারীর আরেক ব্যাখ্যাকার আল্লামা কসতলানী,
০৫. আবদুল হক মুহাদ্দিছে দেহলবী,
০৬. শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী ও
০৭. পীরে ওলামায়ে দেওবন্দ শায়খ ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহঃ।
তবে দুঃখের বিষয়, কিছু লোক এটাকে বিদআত ও ভন্ডামি বলে ঠাট্রা-বিদ্রুপ করছে।
মূলত তারা বাড়াবাড়িতে লিপ্ত।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে মধ্যপন্থায় অবিচল থাকার তৌফীক দান করুন।

প্রিয় পাঠক! এবার দেখুন, বিদা’আত অভিযোগকারীদেরই অসম নীতির কতিপয় নমুনা চিত্রঃ
আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) ইরশাদ করেন :
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
অর্থাৎ : আমি মানব ও জ্বীনদেরকে সৃষ্টি করেছি কেবলই আমার ‘ইবাদত (গোলামী/সন্তুষ্টি/নিয়্যাত/উদ্দেশ্য) এর জন্যই।
[সূত্রঃ ক্বুরআ’নুল কারিম; সূরাহ্ আয যারিয়াত (৫১): আয়াত শরীফ ৫৬।]
অন্যত্র আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) ইরশাদ করেন :
قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

অর্থাৎ : আপনি বলুন : আমার নামাজ, আমার ক্বুরবাণী, আমার জীবন, আমার মরণ আমার সমস্ত কিছুই কেবলই বিশ্ব জগতের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে।
[সূত্রঃ ক্বুরআ’নুল কারিম; সূরাহ্ আনআম (৬): আয়াত শরীফ ১৬২।]

উপরোক্ত আয়াতুল কারিম থেকে সুষ্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে একজন মানব কিংবা একজন জ্বীনের কোন সময়ই বা কোন কর্মকলাপই আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র সন্তুষ্টি নিহীত এরুপ কাজ ব্যতীত হতে পারে না।
আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র সন্তুষ্টি ব্যতীত কোনো মুহূর্ত (a single moment)-ও কাটানোর সুযোগ নেই।
কাজেই আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র সন্তুষ্টির বিপরীত হলে তা হবে প্রবৃত্তি (হাওয়া) এর অনূসরণ। প্রবৃত্তিকে ইলাহ্ মানা।
আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) ইরশাদ করেন :
أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَٰهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَىٰ سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَىٰ بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ

অর্থাৎ : আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে তার খেয়াল-খুশী (প্রবৃত্তি)-কে ইলাহ্ বানিয়েছে? (প্রবৃত্তির অনূসারী হওয়ার কারনে) আল্লাহ জেনে শুনে তাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, তার কান, আর তার অন্তরে মহর এঁটে দিয়েছেন এবং তার চোখের উপর রেখেছেন পর্দা। অতএব, আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) এর পরে কে তাকে পথ প্রদর্শন করবে? তোমরা কি চিন্তাভাবনা কর (করবে) না?
[সূত্রঃ ক্বুরআ’নুল কারিম; সূরাহ্ আল জাসিয়া (৪৫): আয়াত শরীফ ২৩।]

বর্তমানকালে কিছু এইরুপ প্রবৃত্তির অনূসারী বাতীল মতবাদের কর্মকলাপ সম্পাদনে অভিন্ন নিয়ম বা আদর্শ বা Motto হলো উক্ত কর্মকলাপের ভিত্তি ক্বুরআ’নুল কারিম ও হাদিসুল কারিমে থাকুক বা না থাকুক অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই; সাওয়াবের নিয়্যাতে করা না হলেই জায়েজ।
পক্ষান্তরে
অনূরুপ (similar or identical) কর্মসমূহ কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা (somebody or others) ক্বুরআ’নুল কারিম ও হাদিসুল কারিম এর উসূল বা system বা নিয়ম বা মূলনীতি প্রয়োগের আলোকে তারই ভিত্তিতে একমাত্র আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) এর সন্তুষ্টির মানসে করলে তা নাজায়েজ বা অবৈধ।
ইহা তাদের এক আজব উসূল বা system বা নিয়ম বা মূলনীতি!
তাদের বেলায় বিলকূল ইহা আদাত; অপরের বেলায় বিলকূল ইহা বেদাত।

একটি উদাহরণ :
সন্দেহ নেই যে, জালিম শাসকের করায়ত্ব থেকে কোন ভূখণ্ডের স্বাধীনতা বা বিজয় অর্জন আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) এর পক্ষ থেকে সে অঞ্চলের আপামার জনতার জন্যে বিশেষ করুণা বা নিয়ামাতপ্রাপ্তি। নিয়ামাতপ্রাপ্তির সে দিনটি সে জাতির জীবনে অতীব মর্যাদার, আনন্দ (Joy/Happiness = Eid = খুশি)-র, এক মহান অবিস্মরণীয় দিন (Day of ever remembered).

সে উদ্দেশ্য সে জাতি যে কোন বৈধ পন্থায় সে আনন্দ (Joy/Happiness = Eid = খুশি)-র দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন আলোচনা কর্মসূচির আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন বা পালন বা celebrate করতে পারে।
কারণ, ক্বুরআ’নুল কারিম ও হাদিসুল কারিমে ইহার ভিত্তি (Basis) রয়েছে।

প্রিয় পাঠক!
দেখে থাকবেন, আমাদের প্রাণের এই বাংলাদেশে একটি বাতীল মতবাদের দু’টি শাখা দেশের স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জনের আনন্দ (Joy/Happiness = Eid = খুশি)-তে মহাসমারোহ (জশন মানায় = with great splendour) এর ব্যবস্থা করে থাকে।
সে উদ্দেশ্যে তারা আনন্দ বা বিজয় জুলুস (মিছিল = Rally) শিরোনামে “জাশন জুলুস“ পালন করে; পুরো দেশবাসীই এ ধরনের জাশন জুলুস আয়োজন (Arrange) করে খুশি (Joy/Happiness = Eid = আনন্দ) উদযাপন করে।
পক্ষান্তরে
এই বিশ্ব ভূবনে আইয়্যামে জাহিলিয়াত খ্যাত মানব জাতীর ক্রান্তিকালে আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) তাঁর সম্মানিত তাৎপর্যপূর্ণ, মর্যাদাবান, অতীব গুরুত্বপূর্ণ রহমাতুল্লিল ‘আলামীন নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (selected one) (صلى الله عليه و آله وسلم) কে প্রেরন করে মানব জাতীকে সেই জাহিলিয়াত থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র হাবীব, সম্মানিত তাৎপর্যপূর্ণ, মর্যাদাবান, অতীব গুরুত্বপূর্ণ রহমাতুল্লিল ‘আলামীন নাবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা (selected one) (صلى الله عليه و آله وسلم) এর মানব জাতিভূক্ত হয়ে পয়দায়েশ বা শুভাগমন বা মীলাদ বা Birth এর দিন মানবজাতির জন্য আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی)-র কুদরাত প্রকাশের দিন। এই বিশ্ব ভূবনে সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামাত প্রকাশের দিন। মানবতার মুক্তির দিন। আইয়্যামে জাহিলিয়াতের সূর্য্যদয়ের দিন। এই দিনটি সমগ্র বিশ্ব ভূবনের খুশি (Joy/Happiness = Eid = আনন্দ) প্রকাশের দিন।
অথচ
দ্বিমুখী নীতিতে বিশ্বাসী সেই বাতীল মতবাদ এই দিনের তাৎপর্যকে অস্বীকার করে। সকল প্রকার আলোচনা, আয়োজনকে অস্বিকার করে। বৃটিশ উপনিবেশকালীন সৃষ্ট ইসলামের নামে এ এক আযব মতবাদ।

তাদের এই দ্বিমুখী নিয়ম বা উসূলই বিদা’আত।

এই উসূলের স্বপক্ষে তাদের কাছে ক্বুরআ’নুল কারিম ও হাদিসুল কারিম থেকে কোন আয়াতুল কারিম বা হাদিসুল কারিম নেই।
ইহা তাদের মনগড়া কথা (মুহাদাসা); যা তারা ব্যবহার করে চলেছে এবং দ্বীনে চরম ফিত্না সৃষ্টি করছে।

তাদের দ্বিমুখী নীতির চিত্র :
০১. https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1711522922496479&id=100009163649667&refid=17&_ft_=og_action_id.
০২. https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1711524302496341&id=100009163649667&refid=17&_ft_=og_action_id.

অথচ
সেই দ্বিমুখী নীতিবাজদের নিকট অনূরুপ (similar or identical) কর্মসমূহ, যেমন দেখুন : [ https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=1711551939160244&id=100009163649667&refid=17&_ft_=og_action_id. ] কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা (somebody or others) ক্বুরআ’নুল কারিম ও হাদিসুল কারিম এর উসূল বা system বা নিয়ম বা মূলনীতি প্রয়োগের আলোকে তারই ভিত্তিতে একমাত্র আল্লাহ্ (سبحانہ و تعا لی) এর সন্তুষ্টির মানসে করলে তা নাজায়েজ বা অবৈধ।

বিদ’আতের অপব্যাখ্যাকারীদের কতিপয় বিদ’আত :

বিদা’আত নং. ১ :
তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য সৌদীতে আযান প্রচলন। রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কিংবা সাহাবায়ে ক্বিরামগণ রা. এর কেউই সম্পূর্ণ জীবনে ইহা করার প্রমাণ নেই। তাহাজ্জুদ আযান বিদ’আহ্।

বিদ’আত নং. ২ :
আব্দুল আজীজ বিন বাজ এর সৃষ্ট বিদ’আহ্ – نكاح المسيار ভ্রমণকারিদের জন্য চুক্তি বা মেয়াদী বিবাহ।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কিংবা সাহাবায়ে ক্বিরামগণ রা. এর পবিত্র জীবনে ইহার দৃষ্টান্ত নেই।

বিদ’আত নং. ৩ :
মহান আল্লাহ্ পাক সম্পর্কিত দেহবাদী ধারণা। যেমন তিনি কেবল আসমানে। তাঁর হুবহু বাস্তব হাত, পা, চোখ ইত্যাদি রয়েছে। ক্বুরআ’ন ও হাদিস পাকে এসবের কোন প্রমাণ নেই। এই আক্বিদা বিদ’আহ্। সালফে সালেহীনদের এই আক্বিদা ছিল না।

বিদা’আত নং. ৪ :
নামাযে প্রতিবার যেকোন সূরাহ্ পড়ার প্রারম্ভে ‘বিসমিল্লাহ্‌’ বলা। রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কিংবা সাহাবায়ে ক্বিরামগণ রা. এইরুপ করেন নি।

বিদ’আত নং. ৫ :
ইয়াযিদ-এর ক্ষেত্রে ‘রাদ্বীয়াল্লহু তা’আলা আনহু’ বা ‘রহমাতুল্লহি ‘আলাইহি’ বা ‘রহিমাহুল্লহু’ বলা। তাকে ‘সালাফ’ ভূক্ত আক্বিদা রাখা।
কোন সাহাবী, সালফে সালেহীন রা. তার ব্যপারে ভাল ধারনা রাখেন নি। ইতিহাসে সে ফাসেক হিসেবে চিহ্নিত।

বিদ’আত নং. ৬ :
মৃতদেহ সামনে না রেখে অর্থাৎ ‘গায়িবা সালাত এ জানাযা’ পড়া বিদ’আত।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর পবিত্র জীবনে একবার মাত্র দূরদেশে হাযরাত নাজাশী রহ. এর গায়িবানা জানাযা পড়িয়েছিলেন। সাহাবায়ে ক্বিরামগণ রা. কিংবা কোন সালফে সালেহীন রহ. আর কোন গায়িবানা জানাযা পড়ান নি।

বিদা’আত নং. ৭ :
বিতর নামাযের ভিতরে হাত তুলে দুআ’ করা এবং মুক্তাদীদের পিছনে ‘আমীন আমীন’ বলা।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কিংবা সাহাবায়ে ক্বিরামগণ রা. এর জীবনে এর কোন অস্থিত্ব নেই।
বিদা’আত নং. ৮ :
নামাযে আত্তাহিয়্যাতু পড়ার সময়ে শাহাদাৎ আঙ্গুলি বারবার নাড়াতে থাকা।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর হাদিস দ্বারা এইরুপ করা প্রমানিত নয়। ইহা নুতন সৃষ্টি।

বিদা’আত নং. ৯ :
মৃতের জন্য নামাযে ইমাম জোরে নামায পড়ে, আর তার পিছনের লোকেরা জোরে আমীন বলতে থাকে।

বিদা’আত নং. ১০ :
ঈদ ও রমজান মাসের রোজার জন্য সৌদী আরবকে অনূসরণ।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم), সাহাবায়ে ক্বিরাম রা.’গণ এবং সালফে সালেহীন রহ.’গণ স্থানীয় চাঁদ অনূসরণ করেছেন; ৫০০০ মাইল দূরের চাঁদ অনূসরণ করেন নি।

বিদা’আত নং. ১১ :
৮ রাকাআত তারাবীহ (তাহাজ্জুদ নামায নয়) বিদা’আত। ইহার কোন হাদিস পাকের প্রমাণ নেই; কিংবা সালফে সালেহীন বা মুসলিমদের ইতিহাসে কেউ কখনো রমজান মাসে ৮ রাকাআত তারাবীহ পড়েন নি।
৮ রাকাআত তারাবীহ নামাযের কোন হাদিস পাক নেই। যে হাদিস পাক পাওয়া যায় তা তাহাজ্জুদ নামাযের হাদিস।
তারাবীহ নামায ২০ রাকাআত। ইহাই প্রমানিত।

বিদা’আত নং. ১২ :
পবিত্র দু’টি মসজিদ ও অন্যান্য মসজিদে তারাবীহ নামাযের পরে তাহাজ্জুদ নামায জামাআত এর সাথে পড়ানো।
বিদা’আত নং. ১৩ :
তারাবীহ নামাযে এবং তাহাজ্জুদ নামাযেও ক্বুরআ’নুল কারিম খতমের সাথে নামায পড়া।
বিদা’আত নং. ১৪ :
সৌদের আরবের পবিত্র দুই মসজিদে রমজান মাসে ক্বুরআ’নুল কারিম এর সম্পূর্ণ তিলাওয়াত খতমের জন্য ২৭শে রমজানকে পূর্ব নির্ধারণ করা।
বিদা’আত নং. ১৫:
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর সম্পূর্ণ জীবনে ‘নামাযে বারবার হাত উঠানো’-র দৃষ্টান্ত নেই; এর স্বপক্ষে একটি হাদিস পাকও নেই; কোন মুসলিমের ইহা করা বা এইরুপ আক্বিদা ছিল না।
বিদা’আত নং. ১৬ :
নামাযে নর-নারী উভয়ই বুকের উপর হাত বাঁধা। ইহা একটি বিদা’আত। এই বিষয়টি প্রমাণে সুস্পষ্ট কোন সহিহ্ হাদিস নেই।
বিদা’আত নং. ১৭ :
নামাযে এক হাতের উপর অপর হাত রেখে গোড়ালী ধরা; ইহা একটি বিদ’আহ্ – রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) থেকে প্রমানিত এরুপ কোন হাদিস নেই।
বিদা’আত নং. ১৮ :
টুপি বা পাগড়ী ছাড়া নামায পড়া একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) থেকে এরুপ নিয়মের কোন প্রমানিত হাদিস নেই।
বিদা’আত নং. ১৯ :
নামাযে পা চেগানো অবস্থায় দাঁড়ানো একটি বিদ’আত।
ক্বুরআ’নুল কারিমে কিংবা রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) এর কোন সহিহ্ মারফূ হাদিসে ইহার প্রমাণ নেই।

বিদ’আত নং. ২০ :
ইসলামে একটি সম্প্রদায় বা ফির্কা বুঝাতে ‘সালাফী’ শব্দের ব্যবহার।
রাসূলে কারীম (صلى الله عليه و آله وسلم) কিংবা সাহাবায়ে ক্বিরাম রা.’গণ কিংবা সালফে সালেহীন রহ.’গণ নিজেদের ‘সালাফী’ শব্দে কখনো পরিচিত করার নিয়ম ছিল না। ইহা একটি বিদা’আত।

বিদা’আত নং. ২১ :
হাদিসের কিতাবে জাল করা কিংবা হাদিসের অংশবিশেষ অপসারণ।
যেমন- ইমাম নববী রহ.-এর ‘রিয়াদুস সালেহীন। ইমাম বুখারী রহ.-এর ‘আল আদাবুল মুফরাদ’।
১৪৫০ বছর পরে নুতন করে সালফে সালেহীন রহ.’গণের রায়ে তাহকিক হয়ে যাওয়া হাদিসকে পুনরায় তাহকিকের নামে ‘দ্বয়ীফ হাদিস’-কে ‘জাল’ বলে দেয়া।
আবার ‘দ্বয়ীফ হাদিস’-কে ‘সহিহ্’ বলে দেয়া।
অনূরুপে ‘সহিহ্’-কে ‘জাল; দ্বয়ীফ’ বলে দেয়া।
তাছাড়া ‘জাল হাদিস রচনা করা’।
সালফে সালেহীন রহ.’গণের কিতাবে জাল করা, অধ্যায়, পৃষ্ঠা অপসারণ; অনুবাদে বিকৃতি সাধন, ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনার নামে বিকৃত ব্যাখ্যা উপস্থাপন, ইত্যাদি সুস্পষ্টভাবে ‘বিদ’আহ্’।
ইলমের খিয়ানাত।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment