আল-কুরআন ও তফসীরের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

==আল-কুরআন ও তফসীরের আলোকে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)==

মিলাদুন্নবী বিষয়ক আয়াতসমূহ এক নজরেঃ

  • আল-ইমরান ৮১, ১৬৪
  • আল-আম্বিয়া ১০৭
  • সূরা আহযাব ৫৬ (দুরুদ পড়ার হুকুম)
  • আল-মায়েদা ১৫, ২০ (মূসা আ. এর মিলাদ)
  • সূরা তওবা ৩৩, ১২৮
  • সূরা সাফ ৬,৮
  • জুমুয়া ২
  • বালাদ ১-২
  • আল-ইব্রাহীম ৫ (মূসা আ. এর মিলাদ), ২৮ (বুখারী শরীফে শানে নুযুল), ৩৪
  • সূরা নাহল ৮৩
  • আল-ইনশিরাহ ১-৪
  • ক্বাফ ২
  • আনফাল ৩৩
  • আদ-দ্বোহা ১১
  • আল-আরাফ ১৫৭
  • সূরা হিজর ১৭২
  • সূরা ফাতহ ৮,৯, ২৮
  • আন-নিসা ৫৯, ১৬৪, ১৭৫

সর্বজন সমাদৃত বিখ্যাত (→) তফসীরগ্রন্থ থেকে আয়াত সমূহের ব্যাখ্যা সংযুক্ত করা হল।

আয়াত ১

আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,

اللهم ربنا انزل علينا ماءدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا واخرنا

অর্থ : আয় আমাদের রব আল্লাহ পাক ! আমাদের জন্য আপনি আসমান হতে (বেহেশতী) খাদ্যসহ একটি খাঞ্চা নাযিল করুন | খাঞ্চা নাযিলের উপলক্ষটি অর্থাৎ যেদিন খাঞ্চা নাজিল হবে সেদিনটি আমাদের জন্য, আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ স্বরূপ হবে !”

(সূরা মায়িদা ১১৪)

ব্যাখ্যা :

উক্ত আয়াত শরীফে কি বুঝা গেল ?

হযরত ঈসা (আলাইহিস সালাম) উনার উম্মতের জন্য আসমান থেকে একটি খাঞ্চা ভর্তি খাবার চাইলেন, এবং এই নিয়মত পূর্ন খাবার নাযিল হওয়ার দিনটা উনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য ঈদ হবে বললেন | এই খাদ্য সহ খাঞ্চা নাযিল হওয়ার দিন যদি ঈদের দিন হয়, তাহলে যার উসীলায় জগৎ সৃষ্টি, যিনি সমগ্র জগৎ এর নিয়মাত, সকল নিয়মতের মূল , নি’মাতুল কুবরা হুজুর পাক (ﷺ) উনার আগমনের দিন কি আনন্দ বা ঈদ হতে পারে না? খুশি করা যাবে না ?

অবশ্যই হুজুর পাক (ﷺ) উনার আগমনের দিন ইমানদারদের জন্য খুশির দিন আর শয়তানের কান্নার দিন।

আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ করার হুকুম :

আয়াত ২ :

আল্লাহ পাক বলেন, اذكروا نعمة الله عليكم

অর্থ : তোমাদের যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে, তোমরা সে নিয়ামতকে স্মরন করো !” (সূরা আল ইমরান ১০৩)

আয়াত ৩ :

وأما بنعمة ربك فحدت

অর্থ : আপনার রবের নিয়ামতের কথা প্রকাশ করুন। (সূরা আদ-দ্বোহা ১১)


সেই নিয়ামত কে?

দুনিয়ায় আল্লাহর নিয়ামতের শেষ নেই কিন্তু রাসূল (ﷺ) শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। হাদিসে আছে, 
হযরত মুহম্মদ (ﷺ) হলেন, আল্লাহ পাকের নিয়ামত!” (বুখারী শরীফ ১/২২১)


আয়াত ৪ :

وماارسلناك الا رحمة للعالمين

অর্থ : (হে রাসূল)! আমি আপনাকে সমস্ত জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি।
(সূরা আম্বিয়া ১০৭)

আয়াত ৫ :

قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِمَّا يَجْمَعُون

অর্থ : হে হাবিব! আপনি বলে দিন আল্লাহর অনুগ্রহ (ইলম) ও তার রহমত (রহমাতাল্লিল আলামিন) এর প্রাপ্তিতে তাদের মু’মিনদের খুশি উদ্যাপন করা উচিত এবং তা তাদের জমাকৃত ধন সম্পদ অপেক্ষা শ্রেয়।”(সূরা ইউনূছ ৫৮)

সূরা ইউনূছ ৫৮ আয়াতের ব্যাখ্যায়ঃ

ইমাম সুয়ূতী (রহঃ) বলেন,

وَأخرج أَبُو الشَّيْخ عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا فِي الْآيَة قَالَ: فضل الله الْعلم وَرَحمته مُحَمَّد صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الله تَعَالَى (وَمَا أَرْسَلْنَاك إِلَّا رَحْمَة للْعَالمين) (الْأَنْبِيَاء الْآيَة ১০৭)

“সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, এখানে আল্লাহর (ফল) বা অনুগ্রহ দ্বারা ইলমকে এবং (রহমত) দ্বারা নবী করিম (ﷺ) কে বুঝানাে হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন- হে হাবিব আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ব-জগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্ররেণ করেছি।
(সুরা আম্বিয়া, ১০৭)।” 1

আওলাদে রাসূল (ﷺ) ইমাম আবু জাফর বাকের (রাঃ) বলেন, এখানে (ফদ্বল) দ্বারাও নবী পাক (ﷺ) কে উদ্দেশ্য। 2

ইমাম ইবনুল জাওযী নিজ ‘তাফসীর’গ্রন্থে সূরা ইউনূসের উক্ত ৫৮ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, “আদ্ দাহাক হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এই আয়াতে ‘ফযল’ বলতে জ্ঞান (অর্থাৎ, আল-কুরআন ও তাওহীদ)-কে বুঝিয়েছে; আর ‘রহমত’ বলতে মহানবী (ﷺ) -কে বোঝানো হয়েছে।” 
[ইবনে জাওযী কৃত ‘যা’দ আল-মাসীর ফী এলম আত্ তাফসীর’, ৪:৪০]

ইমাম আবু হাইয়ান আন্দালুসী (রহঃ) এ সম্পর্কে বলেন, “ফযল বলতে জ্ঞানকে, আর রহমত বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।” [তাফসীর আল-বাহর আল-মুহীত, ৫:১৭১]

ইমাম জালালউদ্দীন সৈয়ুতী (রহঃ) বলেন, “আবু শায়খ হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর ফযল বলতে জ্ঞানকে, আর রহমত বলতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, (হে রাসূল) আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি জগতসমূহের জন্যে আমার রহমত (করুণা) করে (সূরা আম্বিয়া, ১০৭ আয়াত)।” [আস্ সৈয়ুতী প্রণীত দুররে মনসূর, ৪:৩৩০]

আল্লামা আলূসী ব্যাখ্যা করেন যে এমন কি ‘ফযল’ (অনুগ্রহ) বলতেও হযূর পাক (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যেমনিভাবে বর্ণিত হয়েছে আল-খতীব ও ইবনে আসাকির থেকে যে আয়াতোক্ত ‘ফযল’ হলেন মহানবী(ﷺ) । [আলূসী রচিত রূহুল মাআনী, ১১:১৪১]

1.
১.ইমাম সূয়ূতীঃ তাফসীরে দূররুল মানছুরঃ৪/৩৬৭প : সূরা ইউনূছ ৫৮ এর ব্যাখ্যা।
২.ইমাম আলূসী বাগদাদীঃ তাফসীরে রুহুল মায়ানীঃ সূরা ইউনূছ ৫৮ এর ব্যাখ্যা।

2.
ক.সুয়ূতী, তাফসীরে দুররুল মানসূর, ৪/৩৬৭.
খ.ইমাম আলুসী, তাফসীরে রুহুল মায়ানী, ১১/১৮৩পৃ.
গ.ইমাম তিরমিজী, মাজমাউল বায়ান, ৫/১৭৭-১৭৮পৃ.,
ঘ.হাইয়্যনি, তাফসীরে বাহারে মুহিত, ৫/১৭১,
ঙ.ইমাম জওজী, তাফসীরে যাদুল মাইসীর, ৪/৪০পৃ.

উক্ত আয়াত আদেশ সূচকঃ

আদেশ সূচক বাক্য দ্বারা ফরজ এবং ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। যেমন সকল ফিক্বাহের কিতাবে আছে-
الامر للوجوب
অর্থাৎ, আদেশ সূচক বাক্য দ্বারা ফরজ ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় ! (বাদায়েউস সানায়ে)

দেখুন, আল্লাহ পাক এরশাদ করেন-
اقيموا الصلوة

অর্থ : তোমরা নামাজ আদায় করো।”
কুরআন শরীফের এই নির্দেশ সূচক বাক্য দ্বারা নামাজ ফরজ হয়েছে।

তদ্রুপ সূরা ইউনূছের ৫৮ আয়াতের فليفرحوا বা খুশি প্রকাশ করো (ঈদ পালন করো) এটা আদেশ সূচক বাক্য।
[আশরাফ আলী থানভী : শরীয়তের দৃষ্টিতে ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ)]

তাহলে এই দিকে খেয়াল করলে, এ আদেশের দ্বারা রাসুলের আগমনে কৃতজ্ঞ হয়ে আল্লাহর প্রতি খুশি প্রকাশ করা উত্তম বলে প্রমানিত হয়!

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাহাত্ম্য বর্ণনার নির্দেশ :

إنا أرسلناك شاهدا ومبشر ونذير لتؤمنوا بالله و رسوله و تعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة وأصيلا

৪৮:৮ – নিশ্চয় আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি হাযির (উপস্থিত) নাযির (প্রত্যক্ষ সাক্ষীস্বরূপ), সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী করে;

৪৮:৯ – যাতে হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহ্‌ ও তার রসূলের উপর ঈমান আনো এবং রসূলের মহত্ব বর্ণনা ও (তাঁর প্রতি) সম্মান প্রদর্শন করো আর সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ঘোষণা করো। (সূরা ফাতাহ ৮,৯)

আল্লাহ পাক নবীগণের মজলিশে পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বে সর্বপ্রথম মিলাদুন্নবীর [ﷺ] আলোচনা করেন (শানে নুযুল দেখতে পারেন) :

وإذ أخذ الله ميثاق النبيين لما اتيتكم من كتاب و حكمة ثم جاءكم رسول مصدق لما معكم لتؤمنن به ولتنصرنه قال أأقررتم وأخذتم علي ذلكك إصري قالوا أقررنا قال فاشهدوا وأنا معكم من الشاهدين

অর্থ: স্মরণ করুণ! যখন আল্লাহ পাক নবীগণের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, আমি আপনাদেরকে যে কিতাব ও হিকমত প্রদান করবো।  অতঃপর তশরীফ আনবেন একজন রসূল [মুহাম্মদ (ﷺ)] ! তিনি আপনাদের প্রদত্ত কিতাবগুলোর সত্যায়ন করবেন। তখন আপনারা নিশ্চই উনার প্রতি ঈমান আনবেন এবং উনাকে (পেলে) সহযোগিতা করবেন ! মহান আল্লাহ বললেন, আপনারা কি এ অঙ্গীকার স্বীকার ও গ্রহণ করলেন? উনারা বললেন, হ্যাঁ, আমরা স্বীকার করে নিলাম। তখন আল্লাহ পাক বললেন, তাহলে আপনারা সাক্ষী থাকুন এবং আমিও আপনাদের সাথে সাক্ষী রইলাম !” (সূরা আল ইমরান ৮১)

আয়াত : সূরা ছাফ ৬ : 

আল্লাহ পাক বলেন,

قال عيسي ابن مريم يبني اسراءيا اني رسول الله اليكم مصدقا لما بين يدي من التورة و مبشرا برسول ياتي من بعدي اسمه احمد

অর্থ :হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হে বনী ইসরাঈল ! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল হিসাবে প্রেরিত হয়েছি ! আমার পূর্ববর্তী তাওরাত শরীফের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদ দানকারী। যিনি আমার পরে আগমন করবেন, উনার নাম মুবারক হচ্ছে আহমদ (ﷺ) !” (সূরা ছফ ৬)

ব্যাখ্যাঃ

উক্ত আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)  নিজেই নিজের মীলদ শরীফ বর্ননা করেন,

“আমি তোমাদেরকে আমার পূর্বের কিছু কথা জানাবো ! তা হলো :

– আমি হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর দোয়া,

– আমি হযরত ঈসা (আঃ) তার জাতিকে দেয়া সুসংবাদ এবং

– “আমার আন্মাজানের (স্বপ্নে) দেখা সেই নূর যা ওনার দেহ থেকে বের হয়ে শাম দেশের প্রাসাদ সমুহকে আলোকিত করেছিল।”

[তথ্যসূত্রঃ

  • ১.ইমাম তাবারী : তফসীরে তাবারী : খ ১ : প ৫৫৬
  • ২.ইমাম তাবারী : তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক : খ ১ : প ৪৫৮
  • ৩.ইমাম কুরতুবী : তফসীরে কুরতুবী : খ ২ : প ১৩১
  • ৪.ইমাম ইবনে কাসীর : তফসীরে ইবনে কাসীর : খ ৪ : প ৩৬০
  • ৫.ইমাম আবু লাইস সমরকানী : তফসীরে সমরকানী : খ ৩ : প ৪২১
  • ৬.ইমাম সূয়ূতী : তফসীরে দুররে মনসূর : খ ১ : প ৩৩৪
  • ৭.ইমাম আহমদ : মুসনাদে আহমদ খ ৪ : প ১২৭ : হাদিস ১৬৭০১
  • ৮.ইমাম বায়হাকী : দালায়েলুন নবুওয়াত : খন্ড ১ : পৃ ৮৩, প ১১০
  • ৯.ইমাম ইবনে ইসহাক : সিরাতুন নবী : খ ১ : প ২৮
  • ১০.ইমাম ইবনে হিশাম : সিরাতুন নবী : খ ১ : প ১৫৬
  • ১১.ইমাম ইবনে সা’দ : তাবাকাত আল কুবরা : খ ১ : প ১৫০
  • ১২.ইমাম ইবনে হিব্বান : সহীহ ইবনে হিব্বান : খ ৯ : প ১০৬
  • ১৩.ইমাম বাগবী : মিশকাতুল মাসাবিহ : প ৫১৩
  • ১৪.ইমাম হাকিম : মুস্তাদরেক আল হাকিম : খন্ড ২ : পৃ ৬০০ : হাদিস ৪১৭৫
  • ১৫.ইমাম ইবনে জাওজী : আল ওয়াফা : প ৯১
  • ১৬.ইমাম ইবনে হাজর হায়সামী : মাজমাউল যাওয়াইদ : (৮:২২১/৪০৯)
  • ১৭.ইমাম ইমাম হিন্দি : কাঞ্জুল উম্মাল : খ ১১ : প ১৭৩
  • ১৮.ইমাম হালাভী : সিরাতে হালাভিয়্যাহ : খ ১ : প ৭৭]


এই হাদিসটি বিভিন্ন রেওয়াতে বর্ণিত আছে। 

[সুত্রসমূহঃ

  • ১. হযরত কা’ব আল আহবার (রাঃ)
  • ২. হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রাঃ) এর মাতা শিফা বিনতে আমর ইবনে আউফ (রাঃ)
  • ৩. হযরত ইরবাদ ইবনে সারিয়া (রাঃ)
  • ৪. হযরত মু’য়াজ বিন জাবাল (রাঃ)
  • ৫. হযরত আবু উমামা (রাঃ)
  • ৬. হযরত উসমান ইবনে আবিল আস (রাঃ)
  • ৭. হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)
  • ৮. হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ)
  • ৯. হযরত ইকরামা (রাঃ)]
পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment